Announcement

Collapse
No announcement yet.

মুসলিমদের রক্তের পবিত্রতা সম্পর্কে আল-কায়েদার অবস্থানের ব্যাপারে আপত্তিসমূহের জবাব || মুনশি আব্দুর রহমান

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • মুসলিমদের রক্তের পবিত্রতা সম্পর্কে আল-কায়েদার অবস্থানের ব্যাপারে আপত্তিসমূহের জবাব || মুনশি আব্দুর রহমান

    মুসলিমদের রক্তের পবিত্রতা সম্পর্কে আল-কায়েদার অবস্থানের ব্যাপারে আপত্তিসমূহের জবাব
    -মুনশি আব্দুর রহমান​​​





    (১)

    সম্প্রতি একজন একটিভিস্ট (গত ৭ মে, ২০২৬ ইং, রাত ১০:৪১ মিনিটে ফেসবুকে পোস্টকৃত) তাঁর একটি লেখায় ‘জিহাদ’-এর নাম ব্যবহার করে উগ্রবাদের (আল-কায়েদায়ীজম) কৌশলগত দ্বন্দ্ব এবং মুসলিম হত্যার দায়ভার মূলধারার মুজাহিদদের ঘাড়ে চাপানোর অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। তিনি শাইখ আদাম ইয়াহইয়া গাদান রহিমাহুল্লার নাম উল্লেখ করে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) এবং আল-কায়েদাকে একই পাল্লায় মাপার একটি বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করেছেন। এখানে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত যে, ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া 'আদাম ইয়াহয়া গাদান' ১৭ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করে আল-কায়েদায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি “শাইখ আজ্জাম আল-আমরিকি” নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ'র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং আল-কায়েদার ভিডিও বার্তা ইংরেজিতে অনুবাদ, প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি শহীদ হন।

    শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহর অ্যাবোটাবাদের বাড়ি থেকে উদ্ধারকৃত ডায়েরি, চিঠিপত্র ও নথিপত্রের সংকলন “ওসাইকু আবুতাবাদ” গ্রন্থে শাইখ আদাম ইয়াহয়া গাদান রহিমাহুল্লাহর (আজ্জাম আল-আমরিকি) একটি দীর্ঘ চিঠি স্থান পেয়েছে। আল-কায়েদার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কাছেও এই চিঠিগুলো অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত। উক্ত একটিভিস্ট সেই শাইখ আজ্জাম আল-আমরিকি রহিমাহুল্লাহর রেফারেন্স টেনেই উগ্রবাদের দায় মুজাহিদদের ওপর চাপাতে চাইছেন। অথচ সেই চিঠিতে শাইখ আদাম ইয়াহয়া গাদান রহিমাহুল্লাহ নিজেই বিভিন্ন ভুল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, এই গোষ্ঠীগুলো জিহাদের নামে নির্বিচারে গণহত্যা, মসজিদে ও বাজারে হামলা, ছিনতাই এবং ডাকাতির মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে টিটিপির এসব অপকর্মের সমালোচনা করে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এসব হামলা আল-কায়েদার নির্দেশনার বাইরে পরিচালিত হয়েছে এবং কোনোভাবেই আল-কায়েদা এর দায় নেবে না।



    (২)

    খারেজি গোষ্ঠীগুলোর সাথে মুজাহিদদের আদর্শিক পার্থক্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তাদের বিকৃত মানসিকতা। সমকালীন উগ্রবাদের নিকৃষ্টতম উদাহরণ আইএস (ISIS)-এর মতো খারেজি গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে সাধারণ মুসলিমদের রক্তপাত ঘটায়, প্রকাশ্যে তার দায় স্বীকার করে এবং উল্লাস প্রকাশ করে। অন্যদিকে, টিটিপির মতো কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা কখনো কখনো এমন কিছু হামলা করেছে, যেগুলো শরিয়ার মাপকাঠিতে সঠিক নয়। শাইখ আজ্জাম আল-আমরিকি রহিমাহুল্লাহ তাঁর চিঠিতে এসব জঘন্য অপরাধের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণও তুলে ধরেছেন, যা একটিভিস্ট নিজেই উল্লেখ করেছেন।

    এই প্রমাণগুলো সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট করে যে, টিটিপির কিছু ভুল কর্মকাণ্ড তাদের কিছু সদস্যের চরমপন্থী মানসিকতারই ফসল। আল-কায়েদা এই গোষ্ঠীগুলোকে "অগোছালো ও দায়িত্বহীনভাবে কাজ করা" গোষ্ঠী আখ্যা দিয়েছে।



    (৩)

    শাইখ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবি রহিমাহুল্লাহ তাঁর এক বার্তায় মুজাহিদদের উদ্দেশে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, মুজাহিদদের লক্ষ্যহীন খুনি হিসেবে চিত্রিত করা এবং মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর অপরাধে অভিযুক্ত করা মূলত ক্রুসেডার শত্রুদের একটি ধূর্ত চক্রান্ত। ক্রুসেডাররা যখন আফগানিস্তানের মাটিতে অপদস্থ হয়ে পশ্চাদপসরণের পথ খোঁজে, তখন তারা দুর্নীতির বিস্তার ঘটাতে 'Scorched Earth' বা পোড়ামাটি নীতি অনুসরণ করে। যাওয়ার সময় তারা শস্য ও গবাদিপশু পুড়িয়ে দেয় এবং মানবতা বা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কোনো পরোয়াই করে না। বাতাস যখন পলায়নপর শত্রুর ধুলায় ধূসরিত থাকে, ঠিক তখনই বাজার বা মসজিদে সন্দেহজনক আক্রমণগুলো ঘটে। এই মিথ্যা অপবাদের অবসান ঘটাতে আল-কায়েদার নেতৃবৃন্দ ও মুখপাত্ররা বারবার দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তারা মুসলিমদের টার্গেট করে পরিচালিত যেকোনো অপারেশন (হোক তা মসজিদ, বাজার, পরিবহণ রুট অথবা জনসমাগমের স্থান) থেকে নিজেদের মুক্ত ঘোষণা করছেন।

    মুজাহিদদের পবিত্র জিহাদের উদ্দেশ্য হলো- মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, সত্যের বিজয়, ইসলাম ও মুসলমানদের উপর কাফেরদের আগ্রাসনের অবসান এবং জনগণের স্বাধীনতা। তারা বিশ্বাস করেন, অত্যাচারী মুরতাদ শাসক, বিশ্বাসঘাতক, ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ও পশ্চিমা জোটের দালালদের দ্বারা শাসিত সাধারণ জনগণও মুসলিম। তাদের বাঁচানো, স্বাধীন করা ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া মুজাহিদদের ওপর ফরজ; তাদের হত্যা বা লুণ্ঠন করা কিংবা কষ্ট বৃদ্ধি করা নয়। শত্রুদের জুলুম যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, আল্লাহর শরীয়াহ লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে মানুষ হত্যা হারাম; কারণ আল্লাহ দুর্নীতি ও ধ্বংস অপছন্দ করেন। শাইখ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবি রহিমাহুল্লাহ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উক্তির আলোকে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন: “একজন মুসলিম হত্যার চেয়ে সমগ্র পৃথিবী ধ্বংস হওয়া আল্লাহর কাছে কম অপছন্দনীয়। পৃথিবী ধ্বংস হোক, ধ্বংস হোক আমাদের সংগঠন, দল এবং অস্তিত্ব। কিন্তু আমাদের হাত যেন বেআইনীভাবে মুসলমানের রক্ত ঝরার কারণ না হয়”।



    (৪)

    শামে যখন নানাবিধ ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, তখনও আল-কায়েদা মুসলমানদের রক্তের পবিত্রতার গুরুত্ব নিয়ে লাগাতার নসিহত করে গিয়েছেন। আমরা দেখেছি যে, খারেজি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ভিন্ন মতের মুসলিমদের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করা। ওই সময় আস-সাহাব মিডিয়া থেকে প্রকাশিত (ও আন-নাসর মিডিয়া কর্তৃক বাংলায় অনূদিত) এক নসিহতে কায়েদাতুল জিহাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শামের উমারা ও মুজাহিদদের প্রতি লড়াই বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। উক্ত বার্তা থেকে কিছু চুম্বুকাংশ নিচে তুলে ধরা হচ্ছে-

    এক. পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ৯৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বেচ্ছায় কোনো মুসলমানকে হত্যার ভয়াবহ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:

    وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا

    অর্থ: “যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম; সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য এক ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।” (সূরা নিসা: ৯৩)

    দুই. কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত রক্তের পবিত্রতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সূরা আনফালের ৪৬ নম্বর আয়াতের আলোকে তারা মুজাহিদদের নিজেদের প্রভাব ও শক্তি শত্রুদের বিরুদ্ধে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

    وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ

    অর্থ: “আর তোমরা নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, তাহলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিনষ্ট হয়ে যাবে।” (সূরা আনফাল: ৪৬)

    তিন. মুজাহিদ নেতৃত্বকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন দুনিয়াবি বিষয়, দলীয় অবস্থান এবং রাজনৈতিক চিন্তাধারার কারণে মুসলমানদের রক্তকে সস্তা মনে না করেন। অনুসারীদের অন্য মুসলমান ভাইদের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষের পরিবর্তে রক্তের পবিত্রতার দীক্ষা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুজাহিদদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে শাহাদাত বা নুসরাহর বাসনায় ঘর ছেড়েছেন, কোনো মুসলমান ভাইকে হত্যা করতে নয়।

    চার. সূরা আম্বিয়ার ৪৭ নম্বর আয়াতের ন্যায়বিচারের মানদণ্ডের কথা উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন কোনো আমীর বা জামাআহ সাথে থাকবে না; যাকে হত্যা করা হয়েছে, সে তার মাথা হাতে নিয়ে আল্লাহর কাছে এই হত্যার বিচার চাইবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

    وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا

    অর্থ: “আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব, সুতরাং কারও প্রতি সামান্য পরিমাণ অবিচার করা হবে না।” (সূরা আম্বিয়া: ৪৭)

    পাঁচ. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একাধিক হাদিস দিয়ে এই সতর্কতাকে আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে:

    সহীহ বুখারী (৭০৭২) ও মুসলিম (২৬১৭) অনুসারে, কোনো ভাইয়ের দিকে অস্ত্র উত্তোলন করে ইশারা করাও নিষেধ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন:

    مَنْ أَشَارَ إِلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَةٍ، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَلْعَنُهُ، حَتَّى يَدَعَهُ وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لِأَبِيهِ وَأُمِّهِ

    অর্থ: “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দিকে (আক্রমণের উদ্দেশ্যে) কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইশারা করে, ফেরেশতারা তাকে অভিসম্পাত করতে থাকে যতক্ষণ না সে তা নামিয়ে ফেলে; এমনকি সে যদি তার আপন ভাইও হয়।”
    কারণ, শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে সামান্য অসতর্কতায় সে এক মুসলমানকে হত্যার অপরাধে জাহান্নামের গর্তে নিপতিত হতে পারে।

    মুসনাদে আহমাদ (১৬৯০৭) অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা সব পাপই ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু দুটি অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

    كُلُّ ذَنْبٍ عَسَى اللهُ أَنْ يَغْفِرَهُ إِلَّا مَنْ مَاتَ مُشْرِكًا أَوْ مُؤْمِنٌ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا

    অর্থ: “আশা করা যায় আল্লাহ সকল গুনাহই ক্ষমা করে দেবেন, তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে মুশরিক অবস্থায় মারা যায়, অথবা যে মুমিন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে।”

    সহীহ বুখারী (৬৮৬২, ৬৮৬৩) অনুসারে, অবৈধভাবে হত্যা এমন এক অপরাধ, যার ধ্বংস থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন:

    لَنْ يَزَالَ الْمُؤْمِنُ فِي فُسْحَةٍ مِنْ دِينِهِ، مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا

    অর্থ: “মুমিন ব্যক্তি তার দ্বীনের ব্যাপারে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশস্ততায় (নিরাপদ) থাকে, যতক্ষণ না সে হারাম রক্তপাতে লিপ্ত হয়।”

    সহীহ বুখারী (৬৮৭৫)-তে হযরত আহনাফ ইবনে কায়স ও আবূ বাকরা (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় এসেছে, দু'জন মুসলমান তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে উভয়েই জাহান্নামে যাবে। হাদিসে এসেছে:

    إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ

    অর্থ: “যখন দু’জন মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামে যাবে।”
    সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হত্যাকারীর বিষয়টি তো স্পষ্ট, কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ?” রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বললেন:

    إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ

    অর্থ: “নিশ্চয়ই সেও তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।”




    (৫)

    আলোচনার এই পর্যায়ে এখানে আল-কায়েদার অপারেশন-নীতিমালা সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়। উগ্রপন্থীরা যেখানে যথেচ্ছভাবে আত্মঘাতী হামলা চালায়, সেখানে মুজাহিদিনদের নীতি অত্যন্ত কঠোর। আল মালাহেম মিডিয়া পরিবেশিত আল-কায়েদার আরব উপদ্বীপ শাখার (AQAP) এক বিবৃতিতে (২৬ মে, ২০১৮) শায়খ হারিস আন নাজারি রহিমাহুল্লাহ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, লক্ষ্য যাই হোক না কেন, মসজিদ, মার্কেট বা খেলার মাঠের মতো সাধারণ জায়গায় যেকোনো পদ্ধতি বা বিস্ফোরণ ব্যবহার করে গণহত্যা বৃদ্ধি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জিহাদকে সঠিক পথে রাখতেই এই কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    কুফফার শত্রুরা যখন সাধারণ মুসলিমদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তখন উগ্রপন্থীরা যথেচ্ছ হামলা চালালেও মুজাহিদরা তা করেন না। শায়খ হারিস আন নাজারির মতে, নির্ভরযোগ্য আলেমদের মতামত এবং নিতান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই ফতোয়া ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শাইখ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবি রহিমাহুল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, এমন অপারেশন কঠোর শৃঙ্খলায় করতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা যেন অবাধে কাজ না করে এবং আমীরকে যাচাই করতে হবে যে শত্রুপক্ষের বড় ক্ষতি করা যাবে কি না এবং এই সুযোগ আর আসবে কি না।

    শাইখ আতিয়াতুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আল-কায়েদার নিয়ম অনুযায়ী বিস্ফোরক জাতীয় অপারেশনের দায়িত্ব বিশ্বস্ত আলিম ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের দ্বারা গঠিত বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তারাই প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    শায়খ হারিস আন নাজারি রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট করেছেন, শরীয়াহর ফিকহ, এর উদ্দেশ্য এবং অপারেশনের বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা ছাড়া কেউ এই ফতোয়া দিতে পারবে না। মুজাহিদ আমীরদের দায়িত্ব হলো শাহাদাতপিয়াসী ভাইদের সঠিকভাবে শিক্ষা দেওয়া ও ইখলাসের প্রয়োজনীয়তা বোঝানো। তারা যেন কখনো সন্দেহজনক, দ্বিধাপূর্ণ বা বিতর্কিত কোনো লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর না হন এবং শতভাগ নিশ্চিত হয়েই হামলা করেন।

    শাইখ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবি রহিমাহুল্লাহ সতর্ক করেছেন যে, সূক্ষ্মদৃষ্টি, নিশ্চয়তা এবং জ্ঞান ছাড়া কোনো শাহাদাতপিয়াসী ভাই যদি এগিয়ে যায়, তবে সে অবহেলা ও নিন্দনীয় কাজ করল। এটি আন্তরিকতার প্রকাশ নয়, বরং আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দেওয়ার বদলে শাস্তি দেবেন। অনেক মানুষ ভালো প্রত্যাশা করে যুদ্ধক্ষেত্রে মারা গেলেও তা অর্জন করতে পারে না। প্রকৃত মুজাহিদরা সম্পদ ও জীবন ব্যয় করে এই ব্যর্থতা মেনে নিতে পারেন না। শায়খ হারিস আন নাজারিও স্মরণ করিয়ে দেন যে, যাচাই-বাছাই বা দূরদর্শিতা ছাড়া পরিচালিত এমন অপারেশন শরীয়তে উপেক্ষিত হবে। ইসলামি দ্বীন সর্বদা জ্ঞান, কাজ এবং নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।



    (৬)

    উপরোক্ত অকাট্য দলিল ও দলীল-প্রমাণের আলোকে এটি সুস্পষ্ট যে, আল-কায়েদার উপর আরোপ করা উক্ত একটিভিস্টের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইতিহাস বিকৃতির নামান্তর। তাঁর প্রতি আমাদের কিছু সাদামাটা প্রশ্ন রইল। সৎ সাহস থাকলে উত্তর দিয়ে বাঁধিত করবেন:

    প্রথম প্রশ্ন: আপনি টিটিপির অপরাধের দায় আল-কায়েদার ওপর চাপাচ্ছেন এবং শাইখ আজ্জাম আল-আমরিকি রহিমাহুল্লাহ'র রেফারেন্স দিচ্ছেন। অথচ অ্যাবোটাবাদের নথিতে সেই আজ্জাম আল-আমরিকি নিজেই মসজিদ, বাজার ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার সমালোচনা করে লিখেছেন যে, এসব হামলা আল-কায়েদার নির্দেশনার বাইরে পরিচালিত হয়েছে এবং এর দায় আল-কায়েদা নেবে না। আপনি কি সচেতনভাবেই এই দালিলিক প্রমাণটি এড়িয়ে গিয়ে সত্য গোপন করছেন না?

    দ্বিতীয় প্রশ্ন: টিটিপির বেশ কিছু ভুল অপারেশনে সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছিল, তখন আল-কায়েদা এর কঠোর সমালোচনা করেছিল। তাদের এই ভুল কর্মকাণ্ডকে আপনি কীভাবে মূলধারার শরীয়াহভিত্তিক জিহাদের সাথে গুলিয়ে ফেলছেন?

    তৃতীয় প্রশ্ন: শাইখ আতিয়াতুল্লাহ আল লিবি রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, মুসলমানদের টার্গেট করার অপবাদ মূলত ক্রুসেডারদের 'পোড়ামাটি নীতি'র অংশ এবং একটি ধূর্ত প্রোপাগান্ডা। যেখানে মুজাহিদদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, "পৃথিবী ধ্বংস হোক, ধ্বংস হোক আমাদের সংগঠন, দল এবং অস্তিত্ব। কিন্তু আমাদের হাত যেন বেআইনীভাবে মুসলমানের রক্ত ঝরার কারণ না হয়"। এরপরও খারেজি ও ভুল অপারেশনে লিপ্ত দলগুলোর কাজের দায়ভার মুজাহিদদের ওপর চাপিয়ে আপনি কি পরোক্ষভাবে ক্রুসেডারদের সেই পশ্চিমা প্রোপাগান্ডারই ফাঁদে পা দিচ্ছেন না?

    চতুর্থ প্রশ্ন: উগ্রবাদ ও খারেজি মানসিকতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আপনি অত্যন্ত সুকৌশলে আইএস (ISIS)-এর নাম ও প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। টিটিপি তো অতীতে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার পর কখনো কখনো ভুল স্বীকার বা দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু সমকালীন খারেজি গোষ্ঠী আইএস নিয়মিতভাবে মসজিদে, বাজারে বা সাধারণ মুসলিমদের ওপর হামলা চালায়, আলিমদের হত্যা করে, নির্লজ্জভাবে তার দায় স্বীকার করে এবং তা উদযাপন করে। সমকালীন উগ্রবাদের সবচেয়ে বড়, নির্মম ও সুস্পষ্ট এই উদাহরণটিকে আড়াল করে আপনি কি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার স্বার্থ রক্ষা করছেন না?

    শেষ কথা হল- ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মানহায হলো মুসলিমদের জান-মালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মুজাহিদরা সর্বত্র ভাইদের স্মরণ করিয়ে দেন যেন তারা মুসলিম রক্তের পবিত্রতার প্রতিরক্ষা ও সংরক্ষণে সর্বদা সতর্ক হন। গুটিকয়েক পথভ্রষ্ট, খারেজি বা শত্রুদের ইন্ধনপুষ্ট গোষ্ঠীর অপরাধের দায়ভার সামগ্রিকভাবে মূলধারার ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ওপর চাপানো একটি ঘোরতর অন্যায় অপবাদ। যুদ্ধ বা ঘৃণার পারিপার্শ্বিক অবস্থাও যেন মুজাহিদদের শরীয়াহ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে, সে ব্যাপারে আল-কায়েদা আপসহীন। পরিশেষে শায়খ হারিস আন নাজারি রহিমাহুল্লাহ-এর ভাষায় আমরাও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই: “পরিশেষে আমরা আল্লাহ্‌র কাছে বলতে চাই যে এমন কোন রক্তপাতের জন্য আমরা দায়ী নই যা ইসলামে হারাম এবং ভুল পথে পরিচালিত হওয়া থেকে আমরা আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় চাই”।

    *****


    সংশ্লিষ্ট টীকা ও লিংক-
    ​​​

    ১. টিটিপি ও আ/ল-কা/য়ে/দা: জি'হাদের নাম ব্যবহার করে আলকায়েদায়ীজমের (উগ্রবাদ ) কৌশলগত দ্বন্দ্ব ও মুসলিম হত্যার প্রশ্ন - https://archive.ph/Ocexx

    ২. মুসলিম রক্তের পবিত্রতার গুরুত্ব – শায়খ আতিয়াতুল্লাহ আল-লিবি রহিমাহুল্লাহ - https://archive.ph/ZDKb4

    ৩. মুসলিম রক্তের পবিত্রতা সম্পর্কে উম্মাহ ও মুজাহিদিনের প্রতি নসিহত - https://archive.ph/f1BiO

    ৪. ইসলামে মুসলিমদের রক্তের পবিত্রতা – শায়খ হারিস আন নাজারি রহিমাহুল্লাহ - https://archive.ph/yLJ2c


    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 15 hours ago.
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ
Working...
X