Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – সপ্তদশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – সপ্তদশ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- সপ্তদশ পর্ব

    হকপন্থী ইসলামী দলের সারিতে অংশগ্রহণ


    সমাজবদ্ধ হওয়া ছাড়া মানুষের সার্বিক অবস্থা ও সামগ্রিক জীবন পরিশুদ্ধ হয় না। পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহ মানুষের জন্য এমনটাই চেয়েছেন ও নির্ধারণ করেছেন আর কোনো অবস্থায় এমনটা কল্পনা করাও সম্ভব নয় যে, মানুষ নিজে নিজেই সমাজবদ্ধ হবে। সমাজের প্রতিটা সদস্য একে অপরের থেকে অমুখাপেক্ষী থাকবে। প্রত্যেকে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকবে। নিজের সব কাজ নিজেই সম্পাদন করতে সক্ষম হবে।

    প্রাচীন ও আধুনিক যুগে মানব সমাজের নানা চিত্র দেখা গেছে। একেক সমাজের জীবনের রূপ ছিল একেক রকম। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ছিল এক একটি সমাজ। কখনও কখনও সমাজ ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে। কখনো তা ছিল বৃহৎ গ্রামভিত্তিক বসতি। আবার কখনো ছিল যাযাবর গ্রামীণ গোত্রীয় কাঠামোর অধীনে। তবে এত বিচিত্র বৈশিষ্ট্যের মাঝেও প্রতিটি সমাজে যে বিষয়টি সর্বদাই বিদ্যমান ছিল, তা হচ্ছেনির্দিষ্ট কিছু গুণাবলী সম্পন্ন এমন এক ব্যক্তি, যাকে সকলেই মান্য করবেসর্ব মান্যবর ওই ব্যক্তি এমন হবে যে, সকলেই তার নেতৃত্ব মেনে নেবে। সে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং যে নীতি প্রণয়ন করবে, সেসব নির্দেশ তারা শ্রবণ করে চোখ বন্ধ করে তার প্রতি অকুণ্ঠ আনুগত্য প্রদর্শন করবে।

    উসমানী খিলাফত ও খলীফাতুল মুসলিমিনের পতনের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বের শূন্যস্থান তৈরি হয়। শূন্যস্থান পূরণের জন্য বিচিত্র ধরনের বহু ইসলামী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব সংগঠনের উদ্ভব ও প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল, দুর্যোগ কবলিত জীবন বাস্তবতায় অবিকল খিলাফতে রাশেদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং মুহাম্মাদ -এর উম্মাহকে হারানো সিংহাসনে পুনরায় অধিষ্ঠিত করা সেই সিংহাসনে যা প্রাচীন রোমকদের উত্তরসূরী ক্রুসেডাররা দখল করে নিয়েছে। এবং উম্মাহর গৌরবের আসন পুনরুদ্ধারের পথে ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে দিয়েছে।

    ইসলামী জামাতগুলোর আবির্ভাবের পর থেকেই মুসলিম সন্তানদের মাঝে সেসব জামাতে যুক্ত হওয়া এবং তাদের পতাকাতলে আশ্রয় গ্রহণ করার হিড়িক পড়ে যায়। কারণ, তারা নিশ্চিত ছিল যে, ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে হলে এমন একটি জামাত প্রয়োজন, মুসলিমরা যার পতাকাতলে আশ্রয় গ্রহণ করবে যার তত্ত্বাবধানে দ্বীনের কাজ করবে। আর এভাবেই ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠাতার প্রথম পর্যায়- মুসলিম সমাজ নির্মাণে সফলতা আসবে

    মুসলিম জামাতের কাতারে শামিল হওয়া ছাড়া ভূ-পৃষ্ঠে আল্লাহর হুকুম প্রতিষ্ঠা করা একপ্রকার অলীক স্বপ্ন ও আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন স্বপ্নচারী ব্যক্তি অচিরেই তার একাকীত্ব আবিষ্কার করবে আর তখন তার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। তিক্ত বাস্তবতার প্রস্তরাঘাতে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। যে মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি সুবাসিত সুফল লাভের আশায় বহুলোক জীবন ব্যয় করেছে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সকল শ্রম পণ্ড হয়ে যাবে। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মর্যাদা বোধসম্পন্ন প্রতিটি মুসলিম মাত্রই এটা জানেন।

    আমরা বাস্তবতার নিরিখে এই সত্য জানতে পারলাম যেমুসলিম জামাতের কাতারে শামিল হওয়া এবং তার তত্ত্বাবধানে কাজ করা ছাড়া কোনো ইসলামি সমাজ অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না তো এখন সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন দেখা দেয়, মুসলিম জামাতের পরিচয় কী? মুসলিমদের জামাতে শামিল হওয়ার আবশ্যকতা কোন দলীল-প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত? তাইফা আল মানসূরা বা ঐশী সাহায্যপ্রাপ্ত জামাতে সামর্থ্য অনুযায়ী যুক্ত হওয়া এবং তার সদস্য বৃদ্ধি করা প্রতিটি মুসলিমের ওপর ওয়াজিব এই জামাতের প্রধান গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী? ইসলামী অঙ্গনে সক্রিয় দলগুলোর মধ্যে কোনটির মাঝে এসব গুণ ও বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়?



    মুসলিম জামাতের পরিচয়


    পারিভাষিক অর্থে জামাত হচ্ছে দ্বীনের হকপন্থী অনুসারীরা; যারা নবী করীম -র আদর্শ ধারণকারী। যদিও তারা মানুষের মাঝে অপরিচিত স্বল্প সংখ্যক লোক হয়, এতেও কোনো অসুবিধা নেই। নবী-রাসূলদের অবস্থা এবং মানুষদের মাঝে তাঁদের একনিষ্ঠ উত্তরসূরীদের অবস্থা এমনই ছিল। হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

    ঐ সত্তার শপথ যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, সুন্নাহ'র অবস্থান হচ্ছে সীমালংঘন ও শৈথিল্যের মাঝামাঝিতে। অতএব, তোমরা তা আঁকড়ে ধরে থাকোআল্লাহ তোমাদের ওপর অনুগ্রহের বারিধারা বর্ষণ করুনকারণ অতীতেও আহলে সুন্নাহ ছিলেন মানুষদের মাঝে অতি অল্প। আর ভবিষ্যতেও তাঁরা সংখ্যায় নগণ্যই হবেন। তাঁরা বিলাসিতায় বিলাস প্রিয়দের সঙ্গ দেন না। বিদাতপন্থীদের বিদ‘আতের মাঝে অংশ নেন না। তারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে থেকেই নিজেদের রবের সঙ্গে মিলিত হন। আর আল্লাহ চাহেন তো ভবিষ্যতেও এমনটাই হবে। অতএব, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হবার চেষ্টা করো।

    উম্মাহর উলামায়ে কেরাম -আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন - জামাতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে এবং তার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মতানৈক্যের সম্মুখীন হয়েছেন।

    আমাদের শাইখ আব্দুল হাকিম হাসসান হিদায়াতুল মুজাহিদীন ইলা ওয়াসিয়্যাতিন নাবিয়্যিল আমীননামক তাঁর অনবদ্য গ্রন্থে জামাত সম্পর্কে লিখেছেন,

    কেউ কেউ বলেন, জামাতের উদ্দেশ্য হলো- সত্য পথ ও আল্লাহর আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা, যদিও একজন ব্যক্তির মাধ্যমেই তা হয়। কারণ, অনুসরণ তো কেবল সত্য পথেরই হওয়া উচিত, অন্য কোনো কিছুর নয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন, জামায়াত হচ্ছে বিপুল সংখ্যক লোক অর্থাৎ অধিকাংশ মুসলিমের অংশগ্রহণ। কারণ, আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ -এর পুরো উম্মতকে কখনো পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে দেন না। অপরশ্রেণী বলেন, জামায়াত বলতে বোঝায় মুসলিমদের ওই দল, যারা একজন আমীরের নেতৃত্বে সঙ্ঘবদ্ধ। যেখানে সকলেই আমীরের নির্দেশ শ্রবণ করে এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে। এতগুলো মতামতের মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত হলো- জামাত হচ্ছে হক বা সত্য পন্থা, যদিও তার ওপর মাত্র একজন প্রতিষ্ঠিত থাকে। তবে আল্লাহর প্রশংসা যে, অধিকাংশ সময় মুসলিমদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যক লোক সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।

    যদি অধিকাংশ মানুষ- যাদের মাঝে থাকবেন উলামায়ে কেরাম- তারা সকলে মিলে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ইমামের পতাকাতলে সমবেত হন, তখন তাদেরকে জামাত বলা হবে। তবে এটা তাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে নয়, বরং তাদের সত্যানুসরণের কারণে। আর যদি অধিকাংশ লোক সত্যের বিরোধিতা করে, তবে তাদেরকে জামাত বলা হবে না। জামাত বলা হবে হকপন্থীদেরকে, যদিও তারা সংখ্যায় স্বল্প হয়। অতীতকালে এবং বর্তমানেও আমরা বহুবার দেখেছি, সাধারণভাবে অধিকাংশ মানুষ সত্য ও হেদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তাদের মাঝে স্বল্প সংখ্যক লোকই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, যারা রাসূল -এর ইলম, হেদায়েত ও দ্বীনে হকের পুরোপুরি অনুসারী

    অতঃপর শাইখ হাফিজাহুল্লাহ নিজ গ্রন্থে এ বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন। তিনি নিজের এই মাযহাবের বিশুদ্ধতা প্রমাণে অনেক দলীল হাজির করেন যার মূল কথা হলো: সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং সত্যের সঙ্গে চলার অর্থই জামাতএটাই বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকার পথ এবং এ পথেই মুক্তি।

    এ বিষয়ে বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যা সত্যের অনুকূল তাই জামাত, যদিও তুমি একা হও।এ বিষয়ে কেউ আরো বেশি জানতে চাইলে উপরোক্ত গ্রন্থখানা অধ্যয়ন করতে পারেন। তাতে রয়েছে অন্তর শীতলকারী ও হৃদয় প্রশান্তকারী বিস্তারিত আলোচনা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের অন্তরসমূহ সত্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করে দিক। (আমীন)






    আরও পড়ুন
    ষোড়শ পর্ব
Working...
X