Announcement

Collapse
No announcement yet.

উম্মাহ নিউজ || ২২ রজব, ১৪৪৭ হিজরি || ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উম্মাহ নিউজ || ২২ রজব, ১৪৪৭ হিজরি || ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ঈসায়ী

    ত্রিপুরায় পুলিশের উপস্থিতিতেই মুসলমানদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ




    গত ১০ জানুয়ারি ত্রিপুরার ফটিকরায় বিধানসভায় মুসলমানদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী। ঐদিন ফটিকরায় অঞ্চলের সায়দুর পাড়া-শিমুলতলা ও কুমারঘাট এলাকায় একটি হিন্দু ধর্মীয় সভা আয়োজনের উদ্দেশ্যে চাঁদা সংগ্রহে নামে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা। সেসময় চাঁদা সংগ্রহের অজুহাতে নানাভাবে মুসলমানদের হেনস্থা করেছে উগ্রবাদীরা। একই সাথে তারা বেশ কয়েকজন মুসলমানদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদ জ্বালিয়ে দিয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি, ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

    সহিংসতায় আহত মুসাব্বির আলী বর্ণনা করেন, শনিবার সকালে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা তার দোকানে চাঁদা চাইতে আসে। তাদের হাতে লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন অস্ত্র বা সরঞ্জামাদি ছিল। তিনি তাদের বললেন, আমি ইতিমধ্যে চাঁদা দিয়েছি এবং কিছুদিনের মধ্যে আবার দেবো। কিন্তু তারা আমার অনুরোধ শোনেনি, ঐ মুহূর্তে যেভাবেই হোক চাঁদা দেওয়ার জন্য উগ্রবাদীরা আমার উপর জোরজবস্তি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে মারধর শুরু করে।

    গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী আলী হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি আরও বর্ণনা করেন, উগ্রবাদীরা কেবল তার উপর নিপীড়ন চালিয়ে ক্ষান্ত হয় নি, তারা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, ফলে ট্রাক্টর ও কৃষিকাজের সরঞ্জামাদিও পুড়ে যায়।

    আলী অভিযোগ করেন, অগ্নিসংযোগের সময় পুলিশ কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, কিন্তু তারা কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাড়িঘর পোড়ানো হচ্ছিল।

    বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পুলিশ গুলি চালানো শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে সবকিছুই পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

    মুসাব্বির আলী ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় মুসলমানের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দেয় হিন্দুত্ববাদীরা। আগুন ধরিয়ে দেয় সাইদুর পাড়া মসজিদে। এছাড়া আগুনে কবরস্থান, বাইক, গাড়ি, ট্রাক্টরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এই অগ্নিসংযোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেকে তাদের বাড়িঘর ও জীবিকা উপার্জনের সম্বল উভয়ই হারিয়েছে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী আক্ষেপ করে বলেন, আমরা বারবার অভিযোগ করে যাচ্ছি, মুসলিম বলেই কি আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? সংখ্যালঘু হওয়ার অর্থ কি এই যে, এই দেশে আমাদের কোন নিরাপত্তা বা ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নেই? মুসলমানদের সাথেই বারবার এই ধরনের সহিংসতা ঘটছে।

    উক্ত নির্বাচনী এলাকায় প্রতিনিধিত্বকারী বিধায়ক সুধাংশু দাসের এলাকায় এই সহিংসতা ঘটেছে। তাই এই ঘটনায় ত্রিপুরা প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসন বা পুলিশের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার ব্যাপারে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


    তথ্যসূত্র:
    1. https://tinyurl.com/2meuf9hr

    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org
Working...
X