Announcement

Collapse
No announcement yet.

কাবুল বিজয়: আফগানিস্তানে পশ্চিমাদের রক্তাক্ত ও অবৈধ আগ্রাসন সমাপ্তির চতুর্থ বার্ষিকী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • কাবুল বিজয়: আফগানিস্তানে পশ্চিমাদের রক্তাক্ত ও অবৈধ আগ্রাসন সমাপ্তির চতুর্থ বার্ষিকী

    কাবুল বিজয়: আফগানিস্তানে পশ্চিমাদের রক্তাক্ত ও অবৈধ আগ্রাসন সমাপ্তির চতুর্থ বার্ষিকী



    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর, আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। ঐবছর ১৪ নভেম্বরের মধ্যে আগ্রাসী বাহিনী ও তাদের সমর্থিত স্থানীয় মিলিশিয়ারা তালিবান প্রশাসনের কাছ থেকে রাজধানী কাবুল দখল করে। অতপর দীর্ঘ ২০ বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ত্যাগের পর ২০২১ সালের আগস্টে তালিবানরা মার্কিন ও ন্যাটো জোটের এই দখলদারিত্ব অবসানে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্ট তালিবান মুজাহিদিনরা তাওহিদের পতাকা উঁচিয়ে রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করেন। তালিবানদের এই বিজয়ে সাথে সাথে, পশ্চিমাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কাবুল প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। আফগানিস্তানে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় ইমারতে ইসলামিয়া প্রশাসন।

    কাবুলের পথে তালিবান:

    তালিবানদের ঝটিকা আক্রমণ আর ইস্তেশহাদী হামলার ফলে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালের অক্টোবরে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য তালিবানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করে। এই ধারাবাহিকতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০-এ দোহা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। চুক্তিতে ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। কিন্তু ২০২০ সালের নভেম্বরে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চুক্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং চুক্তিটি নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও চুক্তি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। আর তখনই তালিবান মুজাহিদিন মার্কিন সমর্থিত কাবুল প্রশাসনের সাথে যুক্ত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেন, এসময় বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনারাও মুজাহিদদের ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়ে।

    এদিকে ১লা মে অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুযায়ী তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, তখন তালিবান মুজাহিদিনরা দেশজুড়ে লড়াইয়ের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই লক্ষ্যে তালিবান মুজাহিদিনরা প্রথমে সমস্ত গ্রামীণ অঞ্চল এবং এসব অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন, যেখানে দেশটির ৭৩ শতাংশ জনগণই বসবাস করেন এসকল গ্রামীণ এলাকায়। আর বৃহৎ এই গ্রামীণ এলাকার উপর ভিত্তি করে ক্লাসিক গেরিলা কৌশলের মাধ্যমে তালিবান মুজাহিদিনরা মার্কিন সমর্থিত কাবুল সরকারকে কঠিন এক পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়।

    গ্রামীণ এলাকায় অগ্রগতি সম্পন্ন করার পর, তালিবান মুজাহিদিনরা জেলা কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন। এই পর্যায়ে মুজাহিদিনরা মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে, প্রায় ২০০টি জেলা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেন। এসময় সামরিক অগ্রগতির পাশাপাশি, তালিবানরা স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতাকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে বিনা লড়াইয়ে অনেক এলাকা ও গুরত্বপূর্ণ পয়েন্ট তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এতে পতনের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছায় প্রাদেশিক কেন্দ্রগুলো। কেননা বেশিরভাগ গ্রামীণ এলাকা মুজাহিদদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসার পর, কেন্দ্রীয় শহর ও প্রাদেশিক রাজধানীর দিকে মনোযোগী হোন মুজাহিদিনরা। ফলে গ্রামাঞ্চলে শুরু হওয়া আক্রমণ সময়ের সাথে সাথে জেলা এবং প্রাদেশিক কেন্দ্রগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে।

    এরপর আগস্টের শুরুতে তালিবানদের আক্রমণগুলি ভিন্ন এক রূপ নেয় এবং প্রাদেশিক কেন্দ্রগুলি একে একে পতন হতে শুরু করে। যার ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো নিমরুজ প্রদেশের কেন্দ্রীয় রাজধানী জেরেঙ্ক শহরের নিয়ন্ত্রণে নেন মুজাহিদিনরা, যদিও এর আগে কুন্দুজ প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন মুজাহিদগণ, কিন্তু জননিরাপত্তার কারণে তালিবানরা তখন শহরটির নিয়ন্ত্রণ অস্থায়ীভাবে ছেড়ে দেন। আর এভাবেই ৬-১২ আগস্টের মধ্যে, তালিবানরা আফগানিস্তানের সমগ্র দক্ষিণ ও পশ্চিম এবং উত্তরের প্রায় পুরোটাই অর্থাৎ দেশের ৩৪টি প্রদেশের ১৬টির কেন্দ্রীয় শহরের নিয়ন্ত্রণ নেন। এসময়ের মধ্যে আরও ৫টি প্রাদেশিক রাজধানী অবরুদ্ধ করে বিজয়ের লক্ষ্যে আক্রমণ অব্যাহত রাখেন তালিবান মুজাহিদিনরা। এই শহরগুলো পরবর্তী ১৩ আগস্টের মধ্যে পুরোপুরি তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

    আর দীর্ঘ ২০ বছর যুদ্ধের পর, তালিবানরা শেষ এক সপ্তাহে দেশের বাকি অর্ধেক প্রাদেশিক শহরের নিয়ন্ত্রণ নেন। অর্থাৎ ১৫ আগস্টের মধ্যে, দেশের প্রায় সবগুলো প্রাদেশিক শহরের কেন্দ্র তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

    সাফল্যের মূল উপাদান:

    আফগানিস্তানের এই শহরগুলি তালিবানদের হাতে দ্রুত পতন ঘটেছে এমনটা ভাবা হয়তো ভুল হবে। কেননা মুজাহিদিনরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কর্তন করা একটি গাছকে আগস্টের শেষ আঘাতে শুধু এর পতন নিশ্চিত করেছেন। আফগানিস্তানে ২০০১ সাল থেকে যুদ্ধ চলছে, আর ২০০৯ সাল থেকে তালিবান ও এর মিত্র আল-কায়েদার মুজাহিদিনরা মার্কিনীদের দাঁড় করানো গাছে আঘাতের পর আঘাত হেনে এটি কর্তন করে গেছেন। অর্থাৎ ২০ বছরের এই যুদ্ধে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ভয়াবহ লড়াইয়ের ফলে আগস্টে মার্কিন সমর্থিত প্রশাসন ধ্বসে পড়েছে।

    আর তালিবান আফগানিস্তানের অন্য সব অভিনেতাদের থেকে ভিন্ন। কেননা তালিবানদের একটি সুসংহত চেইন অব কমান্ড রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চল, উপজাতি এবং ব্যক্তিত্বের উপর ভিত্তি করে তালিবানদের ক্ষমতার একাধিক কেন্দ্র ছিল। কিন্তু “একতাবদ্ধ” এবং আমিরের প্রতি “আনুগত্য” আর ধর্মীয় তাৎপর্যের কারণে তালিবানরা বিভাজন এড়াতে চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখতো। পাশাপাশি দেশজুড়ে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালানোর জন্য যথেষ্ট কর্মক্ষমতার পাশাপাশি বিরুধী মতের বিষয়ে নমনীয় ছিল। এটি ছিলো তালিবানদের চূড়ান্ত সাফল্যের মূল উপাদান।

    ২০১৩ সালে মোল্লা ওমরের মৃত্যুর পরে বা মোল্লা আখতার মনসুরের মতো নেতাদের শাহাদাতের পরেও চেইন অব কমান্ডের প্রতি মুজাহিদদের আনুগত্য অব্যাহত ছিলো। কখনো কখনো মতপার্থক্য দেখা দিলেও এবং তা যদি ব্যাপকও হতো, তবুও তারা সিস্টেমকে ছিন্ন করতো না। এমনকি গুরত্বপূর্ণ নেতাদের শাহাদাতের পর যখন আইএসের ফেতনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখনও তাঁরা শক্ত হস্তে এর মোকাবিলা করেছেন এবং বিচ্ছিন্ন না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকেছেন। তাই “সুসংহত চেইন অফ কমান্ড” এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে “আনুগত্য” কে তালিবান সরকারের অন্যতম শক্তি মনে করা হয়।

    তালিবানদের গেরিলা কৌশল:

    তালিবানদের শেষ পদক্ষেপ এত দ্রুত কার্যকর হওয়ার আরেকটি কারণ হল, তালিবানরা ক্লাসিক গেরিলা মানসিকতা নিয়ে কাজ করেন। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা গেরিলা কৌশল ব্যবহার করেছেন। এই কৌশলে তাঁরা মার্কিন সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে ব্যাপকভাবে দুর্বল করেছেন এবং শহুরে কেন্দ্রগুলিতে পিছু হটতে বাধ্য করেছেন।

    আর গ্রামীণ এলাকা প্রায় পুরোপুরি পরিত্যাগের ফলে সরকারি বাহিনী সম্পূর্ণরূপে বেষ্টিত এবং শহুরে কেন্দ্রগুলিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অপরদিকে তালিবান গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সরকারি বাহিনী তালিবানদের গেরিলা ধাঁচের আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে ধরে রাখতে না পেরে উন্নত প্রতিরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় পয়েন্টে পশ্চাদপসরণ করে।

    শত্রুর এই পশ্চাদপসরণ তালিবানদের জন্য ৩টি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল:

    – তালিবানরা গ্রামাঞ্চলে খুব সহজেই চলাচল করতে পারেন।
    – গ্রামীণ এলাকার দিকে সরকারি বাহিনীর অগ্রসর হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
    – কঠিন পরিস্থিতিতে গ্রামীণ এলাকা থেকে তালিবানের ব্যাকআপ শক্তি ও জনবল আদায় করতে পারা।

    আর এইভাবে, তালিবানরা গ্রামীণ জনবসতিগুলি ও এর আশেপাশের এলাকায় গুরুতর শক্তির কেন্দ্রগুলি অর্জন করেন। ফলে এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে তালিবান মুজাহিদিনরা সম্পূর্ণরূপে বেষ্টিত শহরগুলিকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয়। এই গ্রামীণ আধিপত্য প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ, যা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল, তা ৩ মাসের মধ্যে তালিবানকে শহরাঞ্চলগুলি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম করে তুলে।

    ব্যাপক জনসমর্থন:

    আগস্টে তালিবানদের অগ্রগতির সম্ভব করার অন্যতম কারণের মধ্যে নিঃসন্দেহে দেশটির জনগণের ব্যাপক সমর্থনও ছিল। তালিবানরা পুরো যুদ্ধকালীন সময়ে গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন। এই গ্রামীণ জনগণ তালিবান নেতাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি, তালিবানদের জন্য ক্ষমতার বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কেননা দেশের ৭৭ শতাংশ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করেন, এই বিবেচনায় এই পরিস্থিতি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

    এছাড়াও, দখলকৃত শহরগুলোতেও তালিবানদের প্রতি জনসমর্থন স্পষ্ট ছিল। এর একটি বড় উদাহরণ ঘটেছে হেরাত শহরে। যদিও তৎকালীন কাবুল সরকার এবং মিলিশিয়া গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরটি সরকারের অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিলো, তবুও যে জিনিসটি তালিবানদের শহরে প্রবেশ করতে দিয়েছিল, তা হল শহরে বসবাসকারী তালেবান-সমর্থক লোকজন। তালিবান শহরটিতে ঢুকার আগেই জনগণ তালিবানদের জন্য শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়কগুলো নিরাপদ করেন এবং বিশিষ্টজনেরা তালিবানদের আসার অপেক্ষায় বসে থাকেন। প্রদেশটির কোনো কোনো শহর মাত্র ১ জন থেকে ৩ জন মুজাহিদের প্রবেশের মধ্য দিয়ে বিজয় হয়েছিল। ক্যামেরায় ধারণ করা অনেক ভিডিওতে তখন দেখা যায়, স্থানীয় লোকেরা শহরে প্রবেশকারী তালিবান সদস্যদের অভ্যর্থনা জানাতে সড়ক এবং বাড়ির বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তাকবির ধ্বনি দিচ্ছেন এবং মুজাহিদদের উপর ফুলের পাপড়ির বৃষ্টি ঝরিয়েছিলেন।
    তালিবানদের প্রতি জনগণের এই জনপ্রিয় সমর্থনের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে একটি ছিল; স্থানীয় শক্তি ও নেতাদের প্রতি তালিবানের দৃষ্টিভঙ্গি। সেই সাথে সমাজের সমস্ত জাতিগত অংশ থেকে সদস্য এবং নেতাদেরকে তালিবান প্রশাসনে যুক্ত করা। সেই ধারাবাহিকতায় তালিবানরা প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় উপজাতীয় এবং গোত্রীয় নেতা, সম্মানীত আলেম, রাজনীতিবিদ এবং এখানকার ক্ষমতার অন্যান্য কেন্দ্রগুলির সাথে মজবুত সম্পর্ক স্থাপন করেন। তালিবান এই সমস্ত নেতাদেরকে আশ্বাস দিয়েছে যে, তাদের অবস্থান এবং শক্তির উপর মুজাহিদিনরা হস্তক্ষেপ করবেন না, ভুল থেকে ফিরে আসলে অতীত ভুলের জন্য কাউকে শাস্তি দিবেন না। বরং ইসলামি শরিয়াহ্ অনুযায়ী তাদেরকে সবধরনের সহায়তা করা হবে। এমন আশ্বাসের ফলে অনেক শহর বিনা লড়াইয়ে তালিবানদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং স্থানীয় নেতারা কাবুল প্রশাসনিক বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণ করতে রাজি করিয়েছিল।

    এরফলে ১৪ আগস্ট ৪টি প্রাদেশিক শহর কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই তালিবান মুজাহিদিনরা বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করেন। এসময় শুধুমাত্র হিলমান্দ প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর লস্করগাহের কয়েকটি এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এসব এলাকায় বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘর্ষে ভূমিকা পালন করেছিল। যদিও পরবর্তীতে তালিবানদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ফলে মার্কিন সমর্থিত সরকারি সেনারা তালিবানদের হাতে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছিল। এরপর ১৫ আগস্ট রাত পর্যন্ত রাজধানী কাবুল সহ আরও ৮টি প্রাদেশিক রাজধানী তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

    তালিবানের নিয়ন্ত্রণে রাজধানী কাবুল:

    তালিবান মুজাহিদিনরা ১৫ আগস্ট দুপুরের পর থেকেই চার দিক থেকে কাবুলকে ঘিরে ফেলতে থাকেন। এসময় মুজাহিদিনরা রাজধানীতে বড়ধরণের যুদ্ধ এড়াতে কাবুল প্রশাসনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রাজধানী হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কাবুল প্রশাসনের প্রায় সকল নেতা এবং প্রতিনিধি রাজধানী ছেড়ে পালিয়ে যায়। ফলে এদিন আলোচনা করার জন্য রাজধানীতে কাবুল প্রশাসনের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় নি।

    এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী কাবুলে লুটপাটের ভয় এবং নেতৃত্বের শূন্যতার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশংকা দেখা দেয়, ফলে শহরের প্রবীণরা তালিবানদের দ্রুত কাবুলে আমন্ত্রণ জানান। তখন সময়টা ১৫ আগস্ট বিকেল বেলা, তালিবান মুজাহিদিনরা রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করতে শুরু করেন এবং বিনা সংঘর্ষে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে মুজাহিদিনরা দেশটিতে আবারো ‘ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন। এসময় মার্কিন বাহিনী কাবুল বিমানবন্দরে আশ্রয় নিয় এবং সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে থাকে। আর আগস্টের শেষের দিকে আগ্রাসী মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণরূপে আফগানিস্তান ত্যাগ করে। তালিবান মুজাহিদিন কর্তৃক কাবুলের নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে ঐ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোট চূড়ান্তভাবে পরাজয় বরণ করে। আর তালিবান মুজাহিদিনরা ২০ বছরের এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন।
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org
Working...
X