ইতিহাসের সাক্ষ্যঃ আফগানের মাদকের পিছনের ক্রীড়নকদের জবানবন্দি!
ক্রুসেডার মিডিয়া ও জিহাদোফোব গোষ্ঠীঃ তালেবান ও আল কায়েদার জিহাদ তো আফিমের টাকায় চলে
দায়েশঃ আফিম ইমারত! আফিম ইমারত
দায়েশঃ আফিম ইমারত! আফিম ইমারত
এই ধরনের প্রোপাগাণ্ডার সঙ্গে আপনি নিশ্চয়ই পরিচিত। প্রকৃত বাস্তবতা হলো তালিবান প্রথমবার ক্ষমতায় যাওয়ার পর এবং দ্বিতীয়বার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার পর উভয় সময়ই মাদকের বিস্তার ধ্বংস করেছে। কিন্তু অজ্ঞ ও মোহরযুক্ত অন্তর ধারনকারী ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীগুলো তালেবান ও আল কায়েদার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েগেছে। সময় আজ ইতিহাসের সাক্ষ্য নেওয়ার।
একজন সাবেক cia অফিসারের সরল স্বীকারোক্তি। আমেরিকা চেয়েছিলো ইরান ও রাশিয়াকে হিরোইনের নেশায় শেষ করে দিতে। কিন্তু কর্মফল তাদেরকে'ই হিট করেছে। গল্পটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
২০০৯ থেকে ২০১১ সালের শেষ পর্যন্ত আমি সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির প্রধান তদন্তকারী ছিলাম। তখনকার চেয়ারম্যান জন কেরিকে বললাম, আমি আফগানিস্তানে গিয়ে হেরোইন পপি নিয়ে একটা আনুষ্ঠানিক সিনেট রিপোর্ট করতে চাই। তখন আফগানিস্তান বিশ্বের ৯৩% শতাংশ হেরোইন উৎপাদন করত।
আমি আফগানিস্তানে গেলাম, বাগরাম এয়ার বেসে নামলাম। বললাম, আমাকে কান্দাহার, তারপর হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ যেতে হবে। একজন উচ্চপদস্থ কংগ্রেসনাল স্টাফ হিসেবে আমার পদমর্যাদা ছিল ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের সমান। জীবনে এই একবারই আমি ক্ষমতা জাহির করেছিলাম। ওরা যেতে চাচ্ছিল না, আমি বললাম— আমি জিজ্ঞাসা করছি না, অর্ডার করছি, আপনারা আমাকে কান্দাহার ও লস্কর গাহ নিয়ে যাবেন। শেষ পর্যন্ত রাজি হলো।
কান্দাহারে কিছু মিটিং শেষ করে যখন লস্কর গাহ নামছি, যত দূর চোখ যায় শুধু হেরোইনের পপি। আমি বললাম, আমাকে পপি খেতে নিয়ে চলো, একজন কৃষকের সাথে কথা বলব। নিরাপত্তাকর্মী ও পশতু দোভাষী নিয়ে গাড়িতে মাঠের ভেতর ঢুকলাম। সত্যিই এক পপি চাষির দেখা পেলাম। আমি একেবারে সাদাসিধে প্রশ্ন করলাম— পপি না চাষ করে কেন টমেটো, পেঁয়াজ বা ডালিম চাষ করেন না, যেগুলো বছরে দুই মৌসুম ফলে?
লোকটা বলল, “আমেরিকানরা ২০০১ সালে বলেছিল, আল কায়েদা কোথায় আছে তা যদি বলি, তাহলে আমি যত খুশি পপি চাষ করতে পারব।” আমি বললাম— কোন আমেরিকানরা বলেছিল পপি চাষ করতে? ঠিক এই প্রশ্নটা করার সময়ই আমার সামরিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার আমার হাত ধরে টান দিয়ে বলল, “আমরা হুমকির মধ্যে আছি, বেসে ফিরতে হবে।” আমি কোনো উত্তর পেলাম না। জিপে করে হেলিকপ্টারে, তারপর বাগরাম ফিরলাম। সিনেমার দৃশ্যের মতোই।
ওয়াশিংটনে ফিরে মুখ্য তদন্তকারীকে বললাম, আমি একটা বড় কিছু পেয়েছি। যা পেয়েছিলাম ঠিক তাই লিখে প্রতিবেদন তৈরি করলাম। ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) তে আমার এক বন্ধু ছিল। তাকে ফোন করে বললাম, চোখেই রাখার জন্য কাগজটা পাঠাচ্ছি, জন কেরিকে দেওয়ার আগে তোমার মতামত চাই। দুদিন পর সে আমাকে ফোন করে বলল, “দোস্ত, তুমি জানো তো এই কাগজটা প্রকাশিত হবে না।” আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কেন? সে বলল, “আফগানিস্তান বিশ্বের ৯৩% হেরোইন তৈরি করে। প্রায় পুরোটাই যায় ইরান আর রাশিয়ায়। আর আমরা চাই তারা হেরোইনে আসক্ত হোক, এতে তাদের সমাজ দুর্বল হয়ে পড়ে।” আমার রিপোর্ট কখনো ছাপা হয়নি।
কয়েক বছর পর আমাদের দেশ ফেন্টানিল মহামারিতে জর্জরিত। সেই ফেন্টানিল আসছে চীন আর মেক্সিকো থেকে। তারাও চায় আমরা আসক্ত হই, আমাদের সমাজ দুর্বল হোক।
তাহলে কি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইচ্ছা করেই আফগানিস্তানে পপি চাষ হতে দিয়েছিল, ইরান ও রাশিয়াকে দুর্বল করতে? আমি বিশ্বাস করি। কারণ তালেবানের শেষ শাসনামলের বছর ২০০০ সালে আফগানিস্তানে বিশ্বের কতটুকু হেরোইন উৎপাদিত হয়েছিল জানেন? শূন্য, "০" কিছুই না। শুধু পপি চাষই বন্ধ ছিল না, বরং তারা ইরান ও পাকিস্তানে খাদ্যও রপ্তানি করত। আমরা ক্ষমতা নেওয়ার পর পুরো ছবিটাই বদলে গেল— তখন শুধু হেরোইন আর হেরোইন।
আমরাই ভালো এ কথা বলা কঠিন, যখন ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য দেশকে হেরোইনে ডুবিয়ে দিচ্ছি। সিআইএর অর্ধেক ক্যারিয়ার আমাকে এটায় ভোগিয়েছে। আমরা কেন এত মন্দ কাজ করছি? উত্তরটা হলো, আমি তখন “বাস্তব রাজনীতি” বুঝিনি। আমি উদারপন্থী না। কিন্তু আমি এটাকে নোংরা মনে করি। আমি চাইনি আমার সরকার কোনোভাবেই হেরোইন চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকুক।
সোর্স- টাকার-কার্লসন পডকাস্ট।
সংগৃহীত