Announcement

Collapse
No announcement yet.

আমিরের সাথে আচরণ নিয়ে বিতর্ক - শেষ কথা

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • আমিরের সাথে আচরণ নিয়ে বিতর্ক - শেষ কথা

    গত কিছুদিন যাবত আমিরদের সম্মান কতটুকু হবে তা নিয়ে কিছু আলোচনা চলছিল। এখানে আমি ইবনুল খাত্তাব ভাইয়ের জবাব দিতে লিখছি না। আমার শেষ মন্তব্য উল্লেখ্য করছি।

    শুরু থেকেই মনে হচ্ছিল, আমাদের আলোচনা দুইজন দুই দিকে করছি। ভাই যেদিক থেকে কথা বলেছেন, সেদিক থেকে আমারও প্রায় একই বিশ্বাস। যেমন; আল্লাহর সামনে ও শরিয়াতের বিধানের ক্ষেত্রে আমীর-মামুর কোন পার্থক্য নেই। সবাই সমান। এখানে কোন তারতম্য হবে না। কোন ভুলের ব্যপারে বিচার বসলে সমান শাস্তি হবে। প্রত্যেকের অপরাধ সমান দৃষ্টিতে যাচাই করতে হবে। এটাই তো সঠিক মাসায়ালা।

    আর আমার কথা ছিল একেবারে ভিন্ন দিকে। মামুর তার অবস্থান থেকে আমিরের ভুলের ব্যপারে কি ধরণের আচরণ করবে। সেই ক্ষেত্রে এখনও এই ধারণাই রাখি যে, হুদুদ-শরয়ী বিচারিক ভুল ব্যাতীত শুধু মুয়ামালাতের ক্ষেত্রে যে সব ভুল হয়, সেগুলোতে মামুর তার মাসুলকে অবশ্যই অন্যদের থেকে বেশি সম্মান-মর্যাদা-ছাড় দিবে। এটা শুধু জায়েজ বিষয় নয়, বরং আল্লাহর নবী ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ। আর তাদের আমল শুধু জায়েজের স্তরে থাকতে পারে না।

    এতটুকুও মূল কথা। বাকি নিচের কথা প্রাসঙ্গিক।

    শরিয়াতের যেমন যেকোন ফিতনা থেকে পলায়ন ওয়াজিব করেছে। তেমনি ওয়াজিব আমরা যাতে অন্য কারো জন্য ফিতনার কারণ না হই। এই উসুলটা অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন। এটা যে আসলে কতটা জরুরী তা ফিকির না করলে কখনোই বুঝা যাবে না।

    যেমন আমরা ঘরোয়া পরিবেশে যেসব কথা বলতে পারি তা এই উন্মুক্ত ফোরামে বলতে পারি না। কারণ, এখানে অনেক সাধারণ ভাই আছে, যারা আমিরদের সাথে এমন ঝগড়া শব্দগুলো শুনলে না বুঝে সত্যিই ঝগড়া শুরু করে দিতে পারে। অর্থাৎ শরয়ী আদবের অনেক নিচে নেমে যেতে পারে, আমিরের আদেশ অমান্য শুরু করে পারে, যা কোন ভাবেই জায়েজ না। ফোরামের অন্যান্য আলোচনার ক্ষেত্রেও একই কথা। যার ফলে ইচ্ছা হলেও অনেক কথা বলা যায় না।

    শাইখ আতিয়াতুল্লাহ অনেক গুরুত্বের সাথে আরেকটা কথা বলেছেন; যাতে আমিরগন মামুরদের জন্যে ফিতনার কারণ না হন। যেমন; কাউকে যোগ্যতা বা অবদানের ভিত্তিতে নয়, বরং নিজের নৈকট্যের ভিত্তিতে কোন কাজে প্রাধান্য দিলে এটা অন্য সাথীদের জন্য ফিতনার কারণ হবে। সাথীদেরকে তার উপযুক্ত মর্যাদা বা অধিকার না দিলে এটা তাদের জন্যে ফিতনার কারণ হবে। আমীর যদি এমন আচরণ করে যার জন্যে মামুরগণ তাদের ব্যাপারে উল্টাপাল্টা ভাবে, তাহলে দোষ কিন্তু আমিরেরই হবে। শাইখ আরো অনেক উদাহারণ দিয়েছেন।

    আর যদি কোন আমীর আসলেই এমন হয়ঃ নিজেদের যোগ্যতা বলে আমীর হওয়ার ধারণা করে, আমীর হিসেবে নিজের মধ্যে বিন্দু পরিমান আত্বগরিমা কাজ করে, নিজের আমিরগিরি ছোটে যাওয়ার ভয় করে, ফলে নিচের সাথীকে তার উপরে উঠে যাওয়া থেকে বাধা দেয়, শুধু নিচের সাথী হওয়ার কারণে তাকে অবহেলা করে, কোন ভুলের ক্ষেত্রে যাচাই না করে বা নিজের মনমত না হওয়ার একটা ছোট কিছু থেকে বিশাল কিছু ধারনা করে তার ব্যাপারে বিভিন্ন ফায়সালা করে, মোটকথা সাথীদের ব্যপারে যেকোন ধরণের না হক কাজ করলে, তার উপরের আমিরদের উচিত তার ব্যপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া। সে আসলেই সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত নয়।

    যার মধ্যে আমীর হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের সম্পূর্ণ শক্তি শুন্যতার অনুভুতি কাজ করে না বরং তার নিজের যোগ্যতায় হওয়ার ধারণা রাখে, সেই সাথে প্রতিটা কাজ আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার ভয় করে না, বরং নিজের প্রবৃত্তি আর মনে ইচ্ছা অনুযায়ী চলে ও ফায়সালা দেয়; যা তাদের কথায়-কাজে এগুলো প্রকাশ পায়। ফলে সাথীরা বাহ্যিক ভাবে সম্মান প্রদর্শন করলেও আল্লাহ্ তায়ালা তাদের অন্তরে সেই পরিমান সম্মান রাখেন না। তার রাগী আচরণে সাথীরা থাকে অতিষ্ট। কেহ কিছু বলতে পারে না। এমনকি এই আমিরদের অনেকে নিজেকে মুখলিস মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে সে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে যায়। আল্লাহর কাছে এই ধরণের ব্যক্তিদের থেকে পানাহ চাই।

    সেই সাথে মামুরদেরও উচিত; আমিরদের জন্যে যাতে ফিতনার কারণ না হয়। তারা এমন কোন কথা-কাজ করবে না, যার থেকে আমিররা ভিন্ন কিছু ভেবে তার ব্যপারে না হক ফায়সালা করার সম্ভাবনা রয়েছে। কেহ হয়ত ফায়দার জন্যে কোন কথা বলেছে, কিন্তু অনেক সময় উপস্থাপনের ভুলের কারণে আমীর ভাবতে পারে সে ক্ষতি করতে চাচ্ছে। (আসলে এই ধরণের পরিস্থিতি যে, কতটা ভয়ানক কষ্টদায়ক কেহ না এতে না পরলে বুঝতে পারবে না। হে আল্লাহ, আমাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করে দাও। দ্বীনের পথ থেকে কোন কারণে সরিয়ে দিও না।)

    ইহার একটা উদাহারণ হচ্ছে, ফোরামে আমার আরো কয়েকটা আইডি আছে। সেগুলোতে এই কথাগুলো লিখলে যারা চিনে তারা হয়ত কতকিছু ভাবা শুরু করত। কিন্তু এই আইডি যারা চিনে তাদের মাঝে এমন কেহ নেই, যার কাছে আমার আবার কখনো কোন সম্মান বা গ্রহযোগ্যতা ফিরে পাবার আশা আছে, যাইহোক। এটা একটা ভাল জিনিস, আপনি যখন ভাববেন; আপনি যাই করেন, যাদের কাজের সম্মানের আশা করেন তারা তা আর কখনো তা করবে না, তখন কাজের মধ্যে শুধুই আল্লাহর কাছে সম্মানিত হওয়ার নিয়ত বেড়ে যায়।

    এখানে আরেকটা ব্যপার আছে, বহু বছর আগে আমার সবচেয়ে সম্মানিত এক ভাই নসিহত করেছিলেন; অনেক ভাই আছে, যারা আমিরদের ব্যাপারে মনের মধ্যে ভিবিন্ন কুমন্ত্রণা জমায়। হয়ত ভিবিন্ন ভুলের কারণে বা না বুঝার কারণে। অত;পর সে যখন এগুলো আমিরের থেকে সরাসরি ক্লিয়ার হয়ে নেয় না, তখন তার অন্তরে প্রতিটার জন্যে একটা কাল দাগ পরতে থাকে। এক সময় তার অন্তর কাল হয়ে যায়। তখন আমিরের প্রতি ভাল ধারনা রাখতে পারে না, কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এক সময় কাজ থেকে ছিটকে পড়ে।

    আরেক ভাই বলেছেন; তিনি সর্বদাই এমনটা করার চেষ্টা করেছেন। আমিরের ব্যপারে বা জামাতের ব্যপারে যত গুরুতর অভিযোগ শুনেছে, তা সরাসরি ক্লিয়ার হয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ফলে যদিও ইহার কারণে অনেক বিশাল ট্রাজেডি পারি দিতে হয়েছে, তবুও তার অন্তরে তাদের ব্যাপারে কোন কিছু নাই। এটা কাজের ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক। কারণ হতে পারে, আমি আমীর বা জামাতের ব্যপারে মনে যা লুকিয়ে রাখছেন তা আসলে তেমন নয়, সেটার হয়ত সঠিক ব্যক্ষ্যা আছে বা যতটা গুরুতর ভাবছেন, ততটা নয়।

    আমরা আমীর বা জামাতের কোন কথা শুধু আমীর বলেছেন এই জন্য মানি না। শরয়ী বিষয়ে না এমনকি মানহাজ বা যুদ্ধ নীতিতেও না। শাইখ সূরী তার ‘সিরিয়ার তাজরেবা’ গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায়ে এটা নিয়ে বিশাল আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন; এমনকি কোন জামাতের সেন্ট্রাল আমিরগন যদি ভিন্ন ভূমিতে থাকেন, তাহলে অপর কোন ভূমির ব্যাপারে শুধু সেখান থেকে বসেই স্বিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে। যেমনটা ষাটের দশকে সিরিয়ার জিহাদে হয়েছে। তাই প্রত্যেক ভূমির আমিরগণই নিজেদের স্টেটেজি নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।

    এমনকি আমি মনে শাইখ সূরীর ২০/২৫ বছর আগের থিউরীর অনেককিছু আবার ভাবতে হবে। এমনকি এগুলো নিয়ে অনেকের গবেষনাও আছে। গেরিলা যুদ্ধের অনেক নতুন থিউরী আসছে। যেমন যে অঞ্চলে পাহার-জঙ্গল নাই সেই অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ হবেনা, এমনটাই আমরা শুনে আসছি। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা সম্পূর্ণ নতুন কৌশল বের করেছেন। পূরো যুদ্ধ মাটির নিচে নিয়ে গেছে। শুধু বাংকার না, বিশাল বিশাল অসংখ্য সুরঙ্গ করে তারা সেখান থেকেই যুদ্ধ চালাচ্ছে। এটাই তাদের পাহার-বনের প্রয়োজন পুষিয়ে দিচ্ছে।

    যাইহোক, সবকিছুই উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দলিল-প্রমান সহ গবেষনা করে মানাটাই আবশ্যক। শুধু আমীর বা জামাত বলেছেন, এটার উপর সীমাবদ্ধ থাকা আমার মতে সর্বক্ষেত্রে উচিত নয়। কিন্তু ইহার অর্থ এই নয় যে, আমরা তাদের আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যাব। এমনকি যদি স্পষ্ট হয় যে, তিনি কোন ইজতিহাদী মাসায়ালায় ভুল, তবুও তাকেই আনুগত্য করে যেতে হবে। নিজের মত মানা যাবে না। এই ব্যপারে সম্ভবত ফোরামে আলোচনা আছে।

    যাইহোক, অনেক হ-জ-ব-র-ল কথা বলে ফেলেছি। সর্বশেষ, ইবনুল খাত্তাব ভাইদের কাছে ক্ষমা চাই, যদি আমার পূর্বের কোন বিষয়ে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে মাফ করে দিয়েন। যাজাকাল্লাহ খাইরান। আল্লাহ্ আমাদেরকে জান্নাতের দস্তরখানে একত্রিত করুন, আমীন। সেখানে আপনার সাথে কঠিন বিতর্ক করব ইনশাআল্লাহ।

  • #2
    মাশা-আল্লাহ,, আল্লাহ মুজাহিদ ভাইদের কাজগুলো কবুল করুন আমীন।
    সম্মান নেইকো নাচে গানে,
    আছে মর্যাদা বিনিদ্র রজনী ও রণে।

    Comment


    • #3
      প্রিয় ভাই, আপনার কোন কথায় আমি কষ্ট পেয়েছিলাম না, কারণ যে কেউ তার দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করতে পারে। সেটার দলিলভিত্তিক উত্তর হতে পারে। তবে একটা কথা- আপনি আমার সাম্য ও ইনসাফের আলোচনার জবাবে মুনাফিক যুল খুওয়াইসিরার ঘটনা নিয়ে এসেছিলেন। অথচ আমি যুল খুওয়াইসিরার মনোভাব নিয়ে ইনসাফের কথা বলিনি। দ্বিতীয়ত: আমি নবীকে ইনসাফ করতে বলিনি, যিনি নিস্পাপ এবং প্রত্যেক মুসলমান ইসলামে প্রবেশের জন্য যার রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া আবশ্যক। তবে কমেন্ট-পাল্টা কমেন্টের মধ্যে এমনটা আসলে হয়ে যায়। তাই এটাকে কিছু মনে করছি না। আপনিও আমাকে মাফ করে দিবেন বলে আশাবাদি।
      তবে ইসলামের মাসআলার বিষয়টা ভিন্ন। ওখানে তো আর আপোষ হতে পারে না। মানে মাসআলা যা, তাই তো। তো প্রিয় ভাই, আপনার অনেকগুলো কমেন্টের মধ্যে কয়েকটি কথা আমার কাছে এখনো ভুল মনে হচ্ছে। আমি সেগুলোর সুন্দরভাবে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবো ভিন্ন পোষ্টে ইনশাআল্লাহ। মানে মাসআলা জানানোর উদ্দেশ্যে। দলিল-প্রমাণ দিয়েই বলবো ইনশাআল্লাহ। তবে শুধু আপনার জবাব নয়। বরং নতুনভাবে দলিল দিয়ে মাসআলার আলোচনা ইনশাআল্লাহ।

      Comment


      • #4
        হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী- ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো: অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা।
        আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক ফাহম দান করুন। আমাদেরকে দ্বীনের মৌলিক কাজে সময় ব্যয় করার তাওফিক দান করুন।
        আর অনর্থক কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দিন। এমনিভাবে অনর্থক তর্থ-বিতর্ক থেকেও। আমীন, ছুম্মা আমীন
        ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

        Comment

        Working...
        X