Results 1 to 3 of 3
  1. #1
    Senior Member তানভির হাসান's Avatar
    Join Date
    Jul 2018
    Location
    হিন্দুস্থানী
    Posts
    350
    جزاك الله خيرا
    1,310
    865 Times جزاك الله خيرا in 300 Posts

    পোষ্ট ♥শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্য থেকে সৃষ্ট মুরজিআদের সংশয়ের নিরসন ♥

    শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্য থেকে সৃষ্ট মুরজিআদের সংশয়ের নিরসন

    সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। আম্মাবাদ

    শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর একটি বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:

    যে সমস্ত প্রকাশ্য কাজ কুফর হয়- যেমন প্রতিমাকে সিজদাহ করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়া বা এজাতীয় কাজগুলো- (এগুলোর কুফর হবার কারণ হল) তার কারণ হল, তার মধ্যে অনিবার্যভাবে আভ্যন্তরীণ কুফরও বিদ্যমান থাকে। অন্যথায় যদি ধরে নেওয়া হয় যে, সে মূর্তির সামনে সিজদাহ করেছে, কিন্তু মনে মনে তাকে সিজদাহ করার ইচ্ছা করেনি, বরং মনে মনে আল্লাহকেই সিজদাহ করার ইচ্ছা করেছে, তাহলে এটা কুফর হবে না। কখনো কখনো এটা মুবাহও হতে পারে, যখন সে মুশরিকদের মাঝে থাকে আর তাদের কারণে নিজের জানের ব্যাপারে আশঙ্কা করে। ফলে বাহ্যিক কাজটি তাদের মত করে, কিন্তু অন্তরে আল্লাহর জন্য সিজদাহ করারই ইচ্ছা করে। যেমন- উল্লেখ করা হয় যে, মুসলিমদের কতিপয় আলেম এবং আহলে কিতাবদের কতিপয় আলেম একদল মুশরিকের নিকট এটা করেছিলেন। তারপর সুযোগ বুঝে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তারা ইসলাম গ্রহণ করে নেয়। কিন্তু তারা প্রথমেই তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করেননি। (বক্তব্যটি শেষ হল) (মাজমু আল ফাতাওয়া-১৪/১২০)
    কতিপয় প্রবৃত্তি পূজারী এ বক্তব্যটির কারণে নিম্নের চারটি মাসআলার মধ্যে সংশয়গ্রস্ত হয়ে পড়েছে:প্রথম মাসআলা: কুফরির জন্য (কুফরি কাজকে) হালাল মনে করাকে শর্ত করা।দ্বিতীয় মাসআলা: কুফরির জন্য কুফরের ইচ্ছা থাকাকে শর্ত করা।তৃতীয় মাসআলা: কথা বা প্রকাশ্য কাজ সত্ত্বাগতভাবে কুফর নয়, বরং এটা অভ্যন্তরীন কুফরির দলিল।চতুর্থ মাসআলা: মাসলাহাতের জন্য কুফরি জায়েয হয়ে যাওয়া।এই সংশয়গুলোর উত্তর দুই পদ্ধতিতে দেয়া হবে। একটি সংক্ষিপ্ত, আরেকটি বিস্তারিত।প্রথম উত্তর:মানুষের কথাবার্তা দলিল নয়; বরং তার (কথার) জন্যই দলিলের প্রয়োজন হয়। তাই যেকোন মাসআলায় শুধু একজন আলিমের কথাই দলিল নয়। বরং প্রত্যেকটি কথার জন্যই শরয়ী প্রমাণের প্রয়োজন হয়। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় যে প্রমাণ আনতে পারে তার কথাই গ্রহণযোগ্য।যদিও শাইখুল ইসলামের এই বক্তব্য প্রবৃত্তি পূজারীদের এই মাসআলাগুলো বুঝায় না, তথাপি যদি আমরা বিতর্কের খাতিরে মেনে নেই যে, শায়খের বক্তব্য এই মাসআলাগুলো বুঝিয়েছে, তাহলে আমরা এর উত্তরে বলবো:কুফরের জন্য হালাল মনে করা বা কুফরের ইচ্ছা করা শর্ত না হওয়ার ব্যাপারে স্বয়ং শায়খেরই অনেক বক্তব্য ও আলোচনা রয়েছে, যেগুলোর দ্বারা এর খণ্ডন হয়ে যায়। যেগুলো তিনি তার অন্যান্য অনেক কিতাবেই প্রকাশ্য ও শক্তিশালী দলিল দিয়ে প্রমাণিত করেছেন।দ্বিতীয় উত্তর: এসকল সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট বক্তব্যগুলোর সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য হল শরীয়তের মুতাশাবিহ বর্ণনাগুলোর সাথে। আর শরীয়তের মুতাশাবিহ বর্ণনাগুলোকে তার মুহকাম বর্ণনাগুলোর দিকে ফিরানো হয়। যাতে মুহকামের মাধ্যমে মুতাশাবিহের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ, যদি শরীয়তের একেকটি বর্ণনাকে পৃথক পৃথকভাবে দেখা হয়, তার ব্যাখ্যাকারী বর্ণনাগুলোর দিকে না তাকানো হয়, তাহলে এটা হবে প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং এটা বাতিলের দিকে নিয়ে যাবে।বর্ণিত এই মূলনীতিটি শরয়ী বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার মধ্যে কোন ধরণের ভ্রান্তি আসতে পারে না। তাহলে মানুষের বক্তব্য- যার মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই মূলনীতি কতটা কঠিনভাবে প্রযোজ্য হবে?!একারণে অবশ্যই অবশ্যই শায়খের একটি বক্তব্যকে আরেকটি বক্তব্যের সাথে মিলাতে হবে এবং তিনি এখানে যেটা সংক্ষেপে বলেছেন, সেটাকে অন্যান্য কিতাবে যে ব্যাখ্যা করেছেন তার আলোকেই ব্যাখ্যা করতে হবে।তৃতীয় উত্তর: কোন আলেম যে সমস্ত মাসআলা প্রাসঙ্গিক হিসাবে বা তর্কের খাতিরে বা প্রতিপক্ষকে ছাড় দেওয়ার জন্য বা সাময়িকভাবে মেনে নিয়ে উল্লেখ করেন, মূল উদ্দেশ্য হিসাবে নয়; সেগুলোকে উক্ত আলেমের মাযহাব হিসাবে ধরা যায় না।শায়খ রহ. উল্লেখিত বক্তব্যটি কোন একটি আয়াতের তাফসীরের মধ্যে প্রাসঙ্গিক হিসাবে, সাময়িকভাবে মেনে নিয়ে উল্লেখ করেছেন, মূল উদ্দেশ্য হিসাবে নয়। তাহলে এই প্রাসঙ্গিক বক্তব্যকে কিভবে সেই বক্তব্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো যায়, যেটাকে তিনি তার আল ঈমান ও আসসারিম কিতাবদ্বয়ে মুরজিআ, আশাইরা ও অন্যান্য ভ্রান্ত মতাদর্শীদের জবাবে অনেক দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে মূলনীতি হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন?!!! দ্বিতীয় পদ্ধতি:এই উত্তরটি কয়েকভাবে দেওয়া যায়:প্রথম উত্তর: হালাল মনে করা প্রসঙ্গে। শায়খ রহ. তো এখানে হালাল মনে করার কথা আদৌ উল্লেখ করেননি। সুতরাং এ সংশয়টির কোন ভিত্তিই থাকল না। তবে এই সংশয়টি এসেছে শায়খের বক্তব্য- তার কারণ হল, তার মধ্যে অনিবার্যভাবে ভিতরগত (অভ্যন্তরীণ) কুফরও বিদ্যমান থাকে এর থেকে। কিন্তু এ কথাটি কোনভাবেই হালাল মনে করা বুঝায় না। যার আলোচনা সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।দ্বিতীয় উত্তর: অনিবার্যভাবে থাকা কথাটি বুঝায়: প্রকাশ্য অবস্থা আভ্যন্তরীণ অবস্থা থেকে পৃথক হয় না। তাই শায়খের বক্তব্য- যেসমস্ত প্রকাশ্য কাজ কুফর হয়- যেমন প্রতিমাকে সিজদাহ করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালি দেওয়া বা এজাতীয় কাজগুলো- তার কারণ হল, তার মধ্যে অনিবার্যভাবে ভেতরের কুফরও বিদ্যমান থাকে যথার্থই, যা তার অন্যান্য বক্তব্যগুলোর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।শায়খ রহ. অনেক স্থানে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তর এর মধ্যে যে সম্পর্কের কথা বলেছেন সেটা যে বুঝবে, সে শায়খ রহ. এর এই বক্তব্যটিও বুঝবে। তিনি এখানে বলছেন: প্রকাশ্য কুফরী কথা ও কাজের দ্বারা আভ্যন্তরীণ কুফরও আবশ্যক হয়। একটি আরেকটি থেকে আবশ্যকীয়ভাবেই বুঝা যায়, পৃথক করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু তাকফীরের ভিত্তি হল শুধু কথা ও কাজ। বিশ্বাস ও অন্তরের কাজ নয়। তবে প্রকাশ্য কুফরের দ্বারা আভ্যন্তরীণ কুফরও আবশ্যক হয়।অতএব, তিনি কথা বা কাজের কারণে তাকফীর করার জন্য আভ্যন্তরীণ বা ভিতরগত কুফর বিদ্যমান থাকাকে শর্ত করেন নি; বরং প্রকাশ্য কুফরের সাথে আভ্যন্তরীণ কুফরের আবশ্যকীয় যোগসূত্র প্রমাণ করেছেন।তার এই বক্তব্য আর মুরজিআদের বক্তব্য- কখনো কেউ আল্লাহ ও রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গালি দেয়, তথাপি সে অভ্যন্তরীণভাবে মুমিন থাকে- এর মাঝে পার্থক্য রয়েছে। কারণ মুরজিআরা প্রকাশ্য কুফরের কারণে আভ্যন্তরীণ কুফরকে আবশ্যক মনে করে না। তাহলে কোথায় তাদের বক্তব্য আর কোথায় শায়খের বক্তব্য??!!তৃতীয় উত্তর: কুফরের ইচ্ছা করা প্রসঙ্গে। শায়খ রহ. এখানে (কাজের পেছনে) কুফরের ইচ্ছা করাকে শর্ত করেননি। বরং কাজের ইচ্ছা করার শর্ত করেছেন। দুই বিষয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। তাই যে কুফরী কথা বা কাজের ইচ্ছা করবে, তাকে প্রকাশ্য ও আভ্যন্তরীণভাবে কাফের আখ্যা দেওয়া হবে। যদিও কুফরের, তথা কাফের হওয়ার ইচ্ছা না করুক না কেন। যেমনটা শায়খ রহ. প্রমাণিত করেছেন এবং সামনেও আলোচনায় আসবে ইনশাআল্লাহ।তাই এখানে তিনি হুকুম আরোপের জন্য সবাববা কারণ বিদ্যমান থাকাকে শর্ত করেছেন। আর এখানে সবাব হল কাজের ইচ্ছা করা। আর কুফর হল তার হুকুম। মুকাল্লাফ (শরীয়তের আওতাভূক্ত ব্যক্তি) থেকে যখন সবাব পাওয়া যায়, তখন হুকুম আরোপের দায়িত্ব হল শরীয়ত প্রণেতার, মুকাল্লাফের নয়। তাই সে একথা বলতে পারবে না যে, আমি এই সবাবের দ্বারা এই হুকুমের ইচ্ছা করিনি(অর্থাৎ আমি এই সবাবটি সংগঠিত করার দ্বারা এই হুকুমটি কার্যকরার ইচ্ছা করিনি -অনুবাদক) বরং যখনই কুফরী কথা বা কাজের ইচ্ছা পাওয়া যাবে, তখনই তার উপর কুফরের হুকুম আরোপ করা হবে।চতুর্থ উত্তর: শায়খ রহ. এখানে ইচ্ছা না থাকার উদাহরণ দিয়েছেন তার এই কথার দ্বারা- যদি ধরে নেওয়া হয় যে, সে মূর্তির সামনে সিজদাহ করেছে, কিন্তু মনে মনে তাকে সিজদাহ করার ইচ্ছা করেনি, বরং মনে মনে আল্লাহকেই সিজদাহ করার ইচ্ছা করেছে, তাহলে এটা কুফর হবে না। কখনো কখনো এটা মুবাহও হতে পারে, যখন সে মুশরিকদের মাঝে থাকে আর তাদের কারণে নিজের জানের ব্যাপারে আশঙ্কা করে। ফলে বাহ্যিক কাজটি তাদের মত করে, কিন্তু অন্তরে আল্লাহর জন্য সিজদাহ করারই ইচ্ছা করে। এতে কতগুলো বিষয় লক্ষণীয়:প্রথমত: তার কথা যদি ধরে নেওয়া হয়-, তাহলে এটা সাময়িকভাবে মেনে নেওয়া বক্তব্য, স্থির বক্তব্য নয়। উভয়টির মাঝে বিশাল ব্যবধান। কারণ অনেক সময় আলেম অসম্ভব বস্তুকেও সাময়িকভাবে মেনে নিয়ে তার উপর হুকুম আরোপ করে, সাময়িক ছাড় দেওয়ার জন্য বা স্পষ্ট করার জন্য।দ্বিতীয়ত: আর মনে মনে তার জন্য সিজদাহ করার ইচ্ছা করেনি তাহলে এখানে সে কাজেরই ইচ্ছা করেনি, যেটা তাকফীরের ভিত্তি ও কারণ। সুতরাং সে ঐ ব্যক্তির মত, যে বলেছিল: আপনি আমার বান্দা আর আমি আপনার রব। সে এখানে এই কথাটি বলারই ইচ্ছা করেনি। এই দুই অবস্থার কোন অবস্থায়ই তাকফীর করা হবে না। কারণ, উভয়টিতে সবাবের সাথে হুকুম যুক্ত করার মধ্যে প্রতিবন্ধকতা পাওয়া গেছে। কারণ প্রথমজনকে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে আর দ্বিতীয়জন ভুলকারী। আর উভয়টিই তাকফীরের জন্য প্রতিবন্ধক।তৃতীয়ত: তার কথা-কখনো কখনো এটা মুবাহও হয় এটা পূর্বে আলোচিত কথাটিই বুঝায়। অর্থাৎ তার এ কাজটি প্রকাশ্যভাবে কুফর। তবে একটা প্রতিবন্ধকতা, তথা বলপ্রয়োগ থাকার কারণে সবাবের সাথে হুকুমটি যুক্ত হয়নি।পঞ্চম উত্তর: পূর্বোক্ত সকল আলোচনাগুলো থেকে এটাই স্পষ্ট হয় যে, শায়খের এই বক্তব্যটি তার অন্যান্য বক্তব্যসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণই, যেখানে তিনি প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরের মাঝে আবশ্যকীয় যোগসূত্র থাকার বলেছেন এবং আরো বলেছেন যে: যে কোন প্রকাশ্য কুফরী কথা বা কাজ করে, তাকে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণভাবে কাফের আখ্যায়িত করা হবে। তবে যদি এমন কোন প্রতিবন্ধক পাওয়া যায়, যা সবাবের সাথে হুকুম যুক্ত হতে বাঁধা দেয়, তাহলে ভিন্ন কথা। তাহলে তার নিকট লক্ষণীয় বিষয় হল প্রকাশ্য অবস্থা এবং এটাই তাকফীরের ভিত্তি। পক্ষান্তরে মুরজিআদের নিকট লক্ষণীয় বিষয় হল: অভ্যন্তর। আর তারা এ ব্যাপারে বহু হযবরল কথা বলেছে, যার পরিমাণ কেবল আল্লাহই জানেন।ষষ্ঠ উত্তর: মাসলাহাতের জন্য কুফরী করা প্রসঙ্গে। এটা আদৌ শায়খুল ইসলামের কথা থেকে বুঝা যায় না। এটা নিতান্তই ভ্রান্ত বুঝ। এই বুঝের ভ্রান্তি বুঝা যায় শায়খ রহ. এর এই বক্তব্য থেকে- কখনো কখনো এটা মুবাহও হতে পারে, যখন সে মুশরিকদের মাঝে থাকে আর তাদের কারণে নিজের জানের ব্যাপারে আশঙ্কা করে। ফলে বাহ্যিক কাজটি তাদের মত করে-।এটা হল বলপ্রয়োগ। আর বলপ্রয়োগ তাকফীরের জন্য প্রতিবন্ধক হওয়া সকল উলামায়ে কেরামের নিকট স্বীকৃত। তবে তারা বলপ্রয়োগের বিভিন্ন সূরত নিয়ে মতবিরোধ করেছেন। মাজমুউল ফাতাওয়ার খ৭, পৃষ্ঠা-২১৯ এ স্বয়ং শায়খের বক্তব্যই এটা স্পষ্ট করে। বক্তব্যটি নিম্নরূপ:এজন্য প্রকাশ্য কথাই ঈমান, যেটা ব্যতীত বান্দার কোন মুক্তি নেই। যা পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল পূর্বসূরী ও উত্তরসূরীগের নিকট স্বীকৃত। একমাত্র জাহমিয়া ও তাদের অনুসারীরা ব্যতিত। কারণ যদি মেনে নেওয়া হয় সে মাযুর, বোবা হওয়ার কারণে বা এমন লোকদের ভয়ের কারণে, যাদের সামনে ইসলাম প্রকাশ করলে তারা তার উপর নির্যাতন করবে, সেক্ষেত্রেও এটা সম্ভব যে সে অন্তরে ঈমান রেখে মুখে কোন কথা বলবে না। যেমন, যে ব্যক্তিকে কুফরী কালিমা উচ্চারণ করার জন্য বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌঅবশ্য সে নয়, যাকে কুফরির জন্য বাধ্য করা হয়েছে, কিন্তু তার অন্তর ঈমানে স্থির বরং যে কুফরির জন্য নিজ হৃদয় খুলে দিয়েছে, এরূপ লোকের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে গযব এবং তাদের জন্য আছে মহা শাস্তি।জাহমিয়া ও তাদের অনুসারীদের মত ভ্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে এ আয়াতটি একটি দলিল। কারণ যে ই কুফরী কথা উচ্চারণ করে তাকেই কাফেরদের মত শাস্তির ধমকির আওতাভূক্ত করা হয়েছে। শুধুমাত্র যাকে (উচ্চারণ করতে) বাধ্য করা হয়, কিন্তু তার অন্তর ঈমানে স্থির থাকে সে ব্যতিত।যদি বলা হয়, আল্লাহ তাআলা তো বলেছেন: وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا বরং যে কুফরির জন্য নিজ হৃদয় খুলে দিয়েছে (অর্থাৎ আন্তরিকভাবে কুফরী করেছে)।উত্তরে বলা হবে, এটা পূর্বের কথার মতই। কারণ যে বলপ্রয়োগ ছাড়া কুফরী করে, সেই কুফরির জন্য নিজ হৃদয় খুলে দিয়েছে। অন্যথায় আয়াতের প্রথম অংশ শেষের অংশের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে যাবে। যদি যে কুফরী করেছে দ্বারা যে কুফরির জন্য নিজ হৃদয় খুলে দিয়েছেই উদ্দেশ্য হত, তাহলে শুধু মুকরাহ, তথা বলপ্রয়োগকৃতকে পৃথক করা হত না। বরং অবশ্যই অবশ্যই মুকরাহ এবং মুকরাহ ছাড়া যে কুফরির জন্য নিজ হৃদয় খুলে দিয়েছে, তাকেও পৃথক করতে হত।যখন কেউ সেচ্ছায় কুফরী কথা উচ্চারণ করল, তখন অবশ্যই অবশ্যই সে নিজ হৃদয় কুফরির জন্য খুলে দিয়েছে।এটাই কুফর। আল্লাহ তাআলার নিমোক্ত বাণীও এটা প্রমাণ করে-يَحْذَرُ الْمُنَافِقُونَ أَنْ تُنَزَّلَ عَلَيْهِمْ سُورَةٌ تُنَبِّئُهُمْ بِمَا فِي قُلُوبِهِمْ قُلِ اسْتَهْزِئُوا إِنَّ اللَّهَ مُخْرِجٌ مَا تَحْذَرُونَ (৬৪) وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ (৬৫) لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ إِنْ نَعْفُ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ (৬৬)তারা বলেছে যে, আমরা অন্তরের বিশ্বাস ছাড়া, শুধু মুখে কুফরী কথা বলেছি, আমরা মজা ও কৌতুক করছিলাম তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা জানালেন যে, তারা ঈমানের পর কুফরী করেছে এবং আরো স্পষ্ট করলেন যে, আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে ঠাট্টা করা কুফর এবং এটা এমন ব্যক্তি থেকেই হতে পারে, যার অন্তর এই কথার প্রতি সম্প্রসারিত হয়েছে। যদি তার অন্তরে ঈমান থাকত, তাহলে অবশ্যই তা তাকে এ কথা বলতে বাধা দিত।আমাদের আলোচ্য বক্তব্যে শায়খের কি উদ্দেশ্য তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তার এই বর্ণনায়। এতে একথাও রয়েছে যে, একজন মুসলিমকে কোন ধরণের কুফরির ব্যাপারেই মাযুর ধর হবে না। চাই মৌখিক কুফরি হোক বা আমলি কুফরি হোক। তবে শুধু বলপ্রয়োগ পাওয়া গেলে এর ব্যতিক্রম। এছাড়া প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরের মাঝে সম্পর্ক থাকার ব্যাখ্যা এমনভাবে করা হয়েছে যেমনটা মুরজিআরা মানে না।সপ্তম উত্তর: শায়খুল ইসলামের অন্যান্য বক্তব্য ও আলোচনাগুলো এই বিষয়টাকে আরো বেশি স্পষ্ট করে দেয়। যার পরে আর কোন অস্পষ্টতাই বাকি থাকে না। তার কয়েকটি এখানে পেশ করা হল:তিনি আস-সারিমুল মাসলুল খ৩, পৃষ্ঠা-৯৭৬ এ বলেন:বিদ্রুপকারীদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ এতে একথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তারা শুধু কথার কারণেই কাফের, যদিও অন্তরে তা সঠিক হওয়ার আকিদা রাখে না। এটি একটি বিস্তৃত অধ্যায়। এর মধ্যে কারণ সেটাই, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। তথা অন্তরের বিশ্বাস অবশ্যই এমন কোন কথা বলতে বা কাজ করতে বাধা দিবে, যার মধ্যে হেয় করা ও ঠাট্টা করা আছে। এমনিভাবে তা (অন্তরে বিশ্বাস) ভালবাসা ও মহত্ব থাকাকেও আবশ্যক করে। বিশ্বাস থাকার আবশ্যকীয় দাবি হল এটা থাকা আর ওটা না থাকা। সমস্ত সৃষ্টিজীবের ক্ষেত্রেই আল্লাহ তাআলার এই বিধান চলে আসছে। যেমনিভাবে যেকোন বিষয়ের স্বপক্ষ স্বাদ পাওয়া আর বিপক্ষে যন্ত্রণা পাওয়া একটি সাধারণ রীতি। সুতরাং যখন হুকুম পাওয়া যায়নি, তখন আবশ্যকীয়ভাবে এটাই ধরে নিতে হবে যে, ইল্লত (কারণ)ও পাওয়া যায়নি। যখন বিপরীত বস্তু পাওয়া যাবে, তখন আবশ্যকীয়ভাবেই অপর বিপরীত বস্তু না পাওয়া যাওয়াকে ধরে নিতে হবে। সুতরাং যে কথা বা কাজের মধ্যে ঠাট্টা বা তাচ্ছিল্য আছে, তা স্বার্থক বিশ্বাস, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ না থাকাকে আবশ্যক করে।তিনি খন্ড ৩, পৃষ্ঠা-৯৫৫ এ আরো বলেন: আল্লাহ ও তার রাসূলকে গালি দেওয়া প্রকাশ্য ও আভ্যন্তরীণ কুফর। চাই গালি দানকারী এটাকে হারাম বলে বিশ্বাস করুক অথবা হালাল বলে বিশ্বাস করুক অথবা কোন বিশ্বাসই না থাকুক। এটা ফুকাহায়ে কেরাম ও সমস্ত আহলুস সুন্নাহর মাযহাব, যাদের মতে ঈমান কথা ও কাজের নাম।ইমাম আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আলহানযালী, যিনি ইবনে রাহওয়াই নামে পরিচিত এবং ইমাম শাফিয়ী ও আহমাদের সমপর্যায়ের একজন ইমাম, তিনি বলেন: সমস্ত মুসলিমগণ এ ব্যাপারে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন যে, যে আল্লাহকে গালি দেয় বা তাঁর রাসূলকে গালি দেয় বা আল্লাহর অবতীর্ণ কোন বিষয়ের বিপক্ষে কথা বলে বা কোন নবীদের মধ্য থেকে কোন নবীকে হত্যা করে, সে এ কাজের কারণেই কাফের। যদিও মুখে আল্লাহর অবতীর্ণ সকল বিধানকে স্বীকার করুক না কেন।তিনি খন্ড ৩, পৃষ্ঠা-৯৭৫ এ আরো বলেন:সুতরাং যেই কোন প্রয়োজন ব্যতীত ইচ্ছা করে কুফরি কথা মুখে উচ্চারণ করবে- অথচ সে জানে যে, এটা কুফরী কথা- তাহলে সে প্রকাশ্য ও অভ্যন্তরীণভাবে কাফের হয়ে যাবে। এটা বলা যাবে না যে, আভ্যন্তরীণভাবে সে মুমিনও হতে পারে। যে এমনটা বলবে, সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (১০৬)একথা স্পষ্ট যে, এখানে কুফর দ্বারা শুধু অন্তরের বিশ্বাসকে বুঝানো হয়নি। কারণ এটার উপর কাউকে বলপ্রয়োগ করা যায় না। অথচ এখানে বলপ্রয়োগকৃতকে পৃথক করা হয়ছে।এটাও বুঝানো হয়নি যে, যে মুখে বলেছে এবং অন্তরেও বিশ্বাস করেছে, কারণ এখানে বলপ্রয়োগকৃতকে পৃথক করা হয়ছে। অথচ কাউকে একসাথে নিয়ত ও কথার উপর বলপ্রয়োগ করা যায় না। বরং শুধু কথার উপর বলপ্রয়োগ করা যায়।সুতরাং জানা গেল যে, এখানে আল্লাহর উদ্দশ্যে হল: যে কুফরী কথা মুখে বলবে তার উপরই আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্রোধ ও তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিতিনি ৩/৯৬৩ এ আরো বলেন:যদি কাফের সাব্যস্ত হওয়ার কারণ হয় শুধু হালাল মনে করা, তাহলে তো গালির মাঝে একথার কোন প্রমাণ নেই যে, গালি দানকারী তাকে হালাল মনে করেছে। সুতরাং তখন তাকে কাফের সাব্যস্ত করার কোন কারণ থাকবে না।বিশেষত: যদি সে বলে আমি এই বিশ্বাস রাখি যে, এটা হারাম, কিন্তু আমি ক্রোধবশত বা তামাশাচ্ছলে বলেছি। যেমন মুনাফিকরা বলেছিল: إنما كنا نخوض ونلعب আমরা তো হাসি-তামাশা ও র্ফূতি করছলিাম।এক্ষেত্রে যদি বলা হয়: তারা কাফের হবে না- তাহলে তো এটা কুরআনরে স্পষ্ট র্বণনার বরিোধী।আর যদি বলা হয়: তারা কাফের হবে, তাহলে তো কোন কারণ ছাড়া কাফরে সাব্যস্ত করা হল। যেহেতু শুধু গালি দেওয়াকে কারণ হিসাবে গণ্য করা হয়নি।আর কেউ যদি বলে আমি এক্ষেত্রে তাকে বিশ্বাস করি না- এটাও সঠিক হবে না। কারণ সম্ভাবনার ভিত্তিতে তাকফীর করা যায় না।তাই যখন সে বলল, আমি জানি যে, এটা গুনাহ ও অবাধ্যতা- তা সত্ত্বেও আমি করছি, তখন যদি এটাই কুফর না হয়, তাহলে তাকে কিসের ভিত্তিতে তাকফীর করা হবে?!একারণইে আল্লাহ তাআলা বলনে: তোমরা অজুহাত দেখিও না, তোমরা ঈমান আনয়ন করার পর কুফরী করেছো। (তাওবা:৬৬)আল্লাহ এটা বললেন না যে: তোমরা এটা মিথ্যা বলছেো যে, আমরা إنما كنا نخوض ونلعبতাদের এই ওযরকে মিথ্যা বললেন না, যেমন তাদের অন্যান্য ওযরগুলোকে মিথ্যা বলেছিলেন, যেগুলো সত্য হলে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হত।বরং আল্লাহ স্পষ্টভাবে এটা বললনে যে, তারা এই ঠাট্টা ও তামাশার কারণে ঈমানের পর কুফরী করেছে। যখন এটা প্রমাণিত হল যে, সালাফ ও তাদের অনুসারী খালাফদের মাযহাব এটাই যে, স্বয়ং এ কথাটিই কুফর, চাই তার বক্তা এটাকে হালাল মনে করুক বা না করুক, তখন এ র্পযন্ত আলোচিত সবগুলো কথাই আমাদরে পক্ষে দলিল।(আসসারমিুল মাসলুল-৫১৭)তিনি খন্ড ৩, পৃষ্ঠা-৯৬৫ এ আরো বলেন: মুতাকাল্লিমীন ও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের মাঝে উক্ত ধারণা সৃষ্টিকারী এই সংশয়টির ভিত্তি হল: তারা দেখেছে যে, ঈমান হল, রাসূল যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তাকে বিশ্বাস করা। তারা আরো দেখল যে, সত্য বলে বিশ্বাস করা তো সত্তাগতভাবে গাল-মন্দ করার বিরোধী নয়। যেমনিভাবে তার আনুগত্য ওয়াজিব হওয়ার প্রতি বিশ্বাস করা তার অবাধ্যতা করার বিরোধী নয়। কারণ মানুষ অনেক সময় এমন বিষয়ের অসম্মান করে, যাকে সম্মান করা সে কর্তব্য বলে বিশ্বাস করে। যেমনিভাবে, যেটা করা আবশ্যক বলে সে বিশ্বাস করে, অনেক সময় সেটা ছেড়ে দেয় বা পরিত্যাগ করে। আবার যেটা বর্জন করা আবশ্যক বলে বিশ্বাস করে, সেটাই করতে থাকে।অপরদিকে তারা দেখল যে, গালি দানকারীদেরকে সমস্ত উম্মতই কাফের আখ্যায়িত করে। তখন তারা বলতে শুরু করল: আসলে তাদেরকে কাফের আখ্যায়িত করা হয়, যেহেতু তাদের গালিদানটাই একথার প্রমাণ যে, তারা এটাকে হারাম বলে বিশ্বাস করে না। আর এটাকে হালাল বিশ্বাস করা মানেই হল রাসূলকে অবিশ্বাস করা। তাই এই অবিশ্বাসের কারণে তাদেরকে কাফের আখ্যায়িত করা হয়। ওই অবমাননা করার কারণে নয়। বরং ওই অবমাননাটা হল অবিশ্বাস করার দলিল। সুতরাং যখন ধরে নেওয়া হবে যে, বাস্তবে সে অবিশ্বাসকারী নয়, তখন সে বাস্তবে মুমিন হবে। যদিও প্রকাশ্য হুকুম তার প্রকাশ্য অবস্থা অনুযায়ীই হবে। এটাই হল মুরজি ও তাদের সমর্থকদের দলিলের ভিত্তি। যারা বলে ঈমান হল: বিশ্বাস ও কথা। আর তাদের মধ্যে সীমালঙ্ঘনকারী হল কাররামিয়ারা। যারা বলে ঈমান হল শুধু মুখের কথা। চাই তা অন্তরের বিশ্বাস ছাড়াই হোক না কেন।তিনি খন্ড ৩, পৃষ্ঠা-৯৫৫ এ আরো বলেন:কেউ যদি আল্লাহকে বা তার রাসূলকে গালি দেয়, তাহলে সে ভিতর-বাহির সবদকি থকেইে কাফরে হয়ে যাব। চাই সে এটাকে হারাম বলে বিশ্বাস রাখুক বা হালাল মনে করুক অথবা নিজ বিশ্বাসের ব্যাপারে অসচতেন থাকুক। এটাই ফুকাহা ও সকল আহলুস সুন্নাহর মাযহাব। যাদরে মতে ঈমান হল: কথা ও কাজরে নাম।আমাদরেকে আরো জানতে হবে যে, একথা বলা যে, গালি দানকারীর কুফর প্রকৃতপক্ষে তার গালদিানকে হালাল মনে করার কারণ এটা মারাত্মক বিচ্যুতি ও ভয়ংকর ভুল।মোটকথা, যে এমন কোন কথা বলে বা কাজ করে, যা কুফর, তাকে কাফের আখ্যায়িত করা হবে। যদিও সে কাফের হওয়ার ইচ্ছা না করে। কারণ স্বল্প কিছু ব্যতিক্রম ব্যতিত কেউই তো কাফের হতে চায় না।তিনি মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়াহ এর খ৫, পৃষ্ঠা- ২৫১-২৫২ এ বলেন: সুতরাং রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বা অবিশ্বাস করা কুফর। আর অন্তরে সত্যতা জানা সত্ত্বেও তাকে ঘৃণা করা, গালি দেওয়া ও তার সাথে শত্রুতা করাও সাহাবা, তাবিয়ী, আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন ও সকল শ্রেণীর মুসলিমদের নিকট কুফর। তবে জাহমিয়া সম্প্রদায় ও তাদের সাথে সহমত পোষণকারীগণ ব্যতিত। যেমন সালিহী ও আশআরী সম্প্রদায়। তারা বলে: এটা বাহ্যিকভাবে কুফর। আর আভ্যন্তরীণভাবে তখনই কুফর হবে, যখন এটা অজ্ঞতা থেকে হবে।এ বিষয়ে তার অনেক বক্তব্য রয়েছে। সবগুলো পরিস্কারভাবে একথাই বুঝায় যে, আমাদের আলোচ্য বক্তব্যটি সহ তার সবগুলো বক্তব্য একই সূত্রে গাথা।
    যার সারসংক্ষেপ নিম্নে দেওয়া হল:
    ১. হুকুম হবে প্রকাশ্য অবস্থার ভিত্তিতে।
    ২. প্রকাশ্য কুফরের কারণে (থাকা মানে অন্তরে কুফর থাকা অনিবার্য) আভ্যন্তরীণ কুফর অনিবার্য।৩. কখনো এমন হতে পারে যে, যখন তাকফীরের কোন প্রকাশ্য/যাহির কারণ পাওয়া যায়, কিন্তু কোন শরয়ী প্রতিবন্ধকতার কারণে অভ্যন্তরীন কুফরের কোন শরয়ী প্রতিবন্ধক থাকতে পারে।৪. যখন আভ্যন্তরীণ কুফর পাওয়া যাবে, তখন কোন তাকফীরের প্রতিবন্ধকের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। কেননা প্রতিবন্ধকতা শুধু প্রকাশ্য কুফরের ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য।৫. হালাল মনে করা বা কাফের হওয়ার ইচ্ছা করা বা বিশ্বাস করাকে শর্ত করা হল জাহমিয়া ও মুরজিআদের মতবাদ। এটা সালাফদের মতবাদ নয়।পরিশেষ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়াসাল্লাম।
    লিখেছে: নাসির ইবনে হামদ আলফাহদ।
    মূল https://ia800902.us.archive.org/9/it...ার, ২২ শে শাওয়াল, ১৪২০ হিজরী।

  2. The Following 2 Users Say جزاك الله خيرا to তানভির হাসান For This Useful Post:

    Taalibul ilm (10-27-2018),Talhah Bin Ubaidullah (11-04-2018)

  3. #2
    Senior Member খালিদ মুন্তাসির's Avatar
    Join Date
    Mar 2017
    Location
    হিন্দুস্তান
    Posts
    284
    جزاك الله خيرا
    929
    669 Times جزاك الله خيرا in 201 Posts
    মাশাআল্লাহ ভাই। খুবই উত্তম একটি কাজ করেছেন। ফেসবুকে ফেতনা ছড়ানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত কিছু মুরজিয়াপন্থীদের বিরুদ্ধে উত্তম জবাব হবে ইনশাআল্লাহ।

  4. The Following User Says جزاك الله خيرا to খালিদ মুন্তাসির For This Useful Post:

    Taalibul ilm (10-27-2018)

  5. #3
    Senior Member
    Join Date
    Oct 2018
    Posts
    838
    جزاك الله خيرا
    4,488
    1,437 Times جزاك الله خيرا in 594 Posts
    Quote Originally Posted by Md.Abdullah View Post
    মাশাআল্লাহ ভাই। খুবই উত্তম একটি কাজ করেছেন। ফেসবুকে ফেতনা ছড়ানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত কিছু মুরজিয়াপন্থীদের বিরুদ্ধে উত্তম জবাব হবে ইনশাআল্লাহ।
    জাযাকাল্লাহ
    ভাই আপনি সুন্দর একটি কথা বলেছেন।
    আমিও আপনার সাথে একমত।।। ইনশাআল্লাহ

Similar Threads

  1. Replies: 16
    Last Post: 05-12-2020, 12:57 PM
  2. Replies: 4
    Last Post: 01-12-2020, 10:26 AM
  3. Replies: 6
    Last Post: 06-07-2019, 12:02 PM
  4. Replies: 4
    Last Post: 09-20-2018, 12:18 PM
  5. Replies: 2
    Last Post: 11-23-2016, 06:28 PM

Posting Permissions

  • You may not post new threads
  • You may not post replies
  • You may not post attachments
  • You may not edit your posts
  •