Announcement

Collapse
No announcement yet.

তুমি আসমানে আছ প্রভু, আমি জমিনে' : একটি বিভ্রান্তিকর গজল

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • তুমি আসমানে আছ প্রভু, আমি জমিনে' : একটি বিভ্রান্তিকর গজল



    'তুমি আসমানে আছ প্রভু, আমি জমিনে' : একটি বিভ্রান্তিকর গজল





    একটা গজল শুনলাম, ‘তুমি আসমানে আছ প্রভু, আমি যমিনে।’ ইদানীং অনেক বক্তাও তাদের ওয়াজে এই গজল গাওয়া শুরু করেছে। আমাদের অনেক তথাকথিত সহিহ আকিদার দাবিদার ভাইয়েরা হয়তো এই গজল শুনে খুব খুশিও হন। সে যাহোক, কিন্তু এই গজল শুনে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত।


    এখানে দুটো বিষয় :

    (ক) আল্লাহর জন্য কোনো জায়গা সাব্যস্ত করা; সেটা আসমানই হোক কিংবা হোক সব জায়গা।

    (খ) কুরআন ও সুন্নাহয় যে শব্দ ও বাক্য এসেছে, সেগুলো জাস্ট বর্ণনা করা।


    দ্বিতীয় বিষয়টা নিয়ে তো কোনো কথা নেই। কুরআন ও সুন্নাহয় আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে যা কিছু এসেছে, সেগুলো তো মুমিন পাঠ করবে, বর্ণনা করবে – এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এগুলোর গলদ অর্থ নেওয়া কারও জন্যই জায়িয নয়। কুরআনে এসেছে, ‘রহমান আরশে ইসতিওয়া করেছেন’। এখন এর ভিত্তিতে কেউ যদি বলে, আরশ আল্লাহর চেয়ার, আসন বা আধার; তাহলে সে ভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে। অথবা কুরআনে আছে, ‘আসমানে যিনি রয়েছেন’। এখন এর ভিত্তিতে কেউ যদি বলে বসে, আসমান আল্লাহর অবস্থানস্থল, তিনি তার সত্তা নিয়ে আসমানে থাকেন আর আমরা মানবজাতি থাকি পৃথিবীতে; তাহলে সে ধোঁকার মধ্যে রয়েছে।

    ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, মাজমাউল আনহুর এবং আল-বাহরুর রায়িকের মতো কালজয়ী জগদ্বিখ্যাত ফিকহের গ্রন্থসমূহে মুরতাদ অধ্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের সূত্রে হানাফি মাজহাবের অন্যান্য গ্রন্থেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সবগুলো গ্রন্থের বক্তব্য এক, ইবারতও কাছাকাছি। যেমন, আল-বাহরুর রায়িক গ্রন্থে এসেছে :

    وَيَكْفُرُ بِإِثْبَاتِ الْمَكَانِ لِلَّهِ تَعَالَى فَإِنْ قَالَ اللَّهُ فِي السَّمَاءِ فَإِنْ قَصَدَ حِكَايَةَ مَا جَاءَ فِي ظَاهِرِ الْأَخْبَارِ لَا يَكْفُرُ وَإِنْ أَرَادَ الْمَكَانَ كَفَرَ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ نِيَّةٌ كَفَرَ عِنْدَ الْأَكْثَرِ وَهُوَ الْأَصَحُّ وَعَلَيْهِ الْفَتْوَى

    আল্লাহর জন্য জায়গা সাব্যস্ত করার দ্বারা ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়। কেউ যদি বলে, আল্লাহ আকাশে রয়েছেন, এর দ্বারা যদি তার উদ্দেশ্য হয় কুরআন ও হাদিসের বাহ্যিক বর্ণনায় যা এসেছে তা উদ্ধৃত করা, তাহলে কাফির হবে না। আর যদি সে জায়গা উদ্দেশ্য নেয়, তাহলে কাফির হয়ে যাবে। যদি তার কোনো নিয়তই না থাকে, তাহলেও অধিকাংশের দৃষ্টিতে কাফির হয়ে যাবে। এটাই সবচে বিশুদ্ধ মত। এর ওপরই ফাতওয়া। [আল-বাহরুর রায়িক, মুরতাদদের বিধান-সংক্রান্ত অধ্যায়, ৫ম খণ্ড, ১২৯ নম্বর পৃষ্ঠা, দারুল কিতাবিল ইসলামি প্রকাশনী]

    কিছু লোক তো আরও অগ্রসর হয়ে বলে, আল্লাহ আরশে উপবিষ্ট হয়েছেন, সমাসীন হয়েছেন বা বসেছেন। এদের অবস্থাও ইমামগণের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। যারা আল্লাহর ব্যাপারে ‘বসা’ শব্দ প্রয়োগ করে, তারা যে বাতিলপন্থী মুজাসসিমাদের ভাষায় কথা বলে, এতে অস্পষ্টতার কিছু নেই।

    لِأَنَّهُ وَصَفَ اللَّهَ تَعَالَى بِمَا هُوَ بَاطِلٌ، وَهُوَ الْقُعُودُ، وَهُوَ التَّمَكُّنُ عَلَى الْعَرْشِ، وَذَلِكَ قَوْلُ الْمُجَسِّمَةِ، وَهُوَ قَوْلٌ بَاطِلٌ.

    কারণ, সে আল্লাহকে এমন গুণে গুণান্বিত করেছে, যা বাতিল। আর তা হচ্ছে ‘বসা’। বসা হলো আরশের ওপর স্থান গ্রহণ করা। এটা মুজাসসিমাদের বক্তব্য। আর তা বাতিল কথা। [তাবয়িনুল হাকায়িক, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩১ নম্বর পৃষ্ঠা, আল-মাতবাআতুল কুবরা আল-আমিরিয়্যাহ কায়রো প্রকাশনী]

    অনুরূপ বক্তব্য ইমাম ইবনু মাযা বুখারি আল-মুহিতুল বুরহানি গ্রন্থে (৫/৩১২) এবং ইমাম বদরুদ্দীন আইনি আল-বিনায়া গ্রন্থেও (১২/২৪৬) প্রদান করেছেন। শুধু তা-ই নয়; ইমাম মুহাম্মাদ রহ. তার আল-জামিউস সগির গ্রন্থেও একই কথা এনেছেন এবং ইমাম আবদুল হাই লাখনবি রহ. আন-নাফিউল কাবির গ্রন্থে সেই কথার একই ব্যাখ্যা করেছেন। [আল-জামিউস সাগির মাআন নাফিইল কাবির, ১ম খণ্ড, ৪৮২ নম্বর পৃষ্ঠা, আলামুল কুতুব বায়রুত প্রকাশনী]

    ফাতওয়া শামির বক্তব্যও এক্ষেত্রে স্পষ্ট :

    (قَوْلُهُ: كَالْكَرَّامِيَّةِ) بِالْفَتْحِ وَالتَّشْدِيدِ وَقِيلَ بِالتَّخْفِيفِ وَالْأَوَّلُ الصَّحِيحُ الْمَشْهُورُ فِرْقَةٌ مِنْ الْمُشَبِّهَةِ نُسِبَتْ إلَى عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ كَرَّامٍ وَهُوَ الَّذِي نَصَّ عَلَى أَنَّ مَعْبُودَهُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتِقْرَارٌ.

    অর্থাৎ কাররামিয়া মুশাববিহাদের একটি দল। মুহাম্মাদ ইবনু কাররামের দিকে এর নিসবত। সে হলো ওই ব্যক্তি যে স্পষ্ট বলেছে, তার মাবুদ আরশের ওপর স্থিতি গ্রহণ করেছেন। [রাদ্দুল মুহতার, ২য় খণ্ড, ৩৫৪ নম্বর পৃষ্ঠা, দারুল ফিকর বায়রুত প্রকাশনী]


    আজকের লেখায় যে রেফারেন্সগুলো উল্লেখ করেছি, এর একটাও আকিদার গ্রন্থ নয়; সবগুলোই ফিকহ ও ফাতওয়ার গ্রন্থ। তা-ও কোনো বিরল বা অপ্রচলিত গ্রন্থ নয়; বরং এগুলোর ওপরই হানাফি মাজহাবের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং এগুলোকে আমার বিচ্ছিন্ন মত বা আশআরি-মাতুরিদিদের মনগড়া উক্তি বলে চালিয়ে দেওয়ার বৃথা অপচেষ্টা করার দরকার নেই। প্রতিটা উক্তির পক্ষে আরও কয়েকটা করে রেফারেন্স দেওয়া যাবে। এই আর্টিকেলটাকে দীর্ঘ করে কয়েক পৃষ্ঠাব্যাপী চালানো যাবে। কিন্তু লাভ কী! হ্যাঁ, আমাকে সেই মিথ্যাবাদী গ্রুপের গল্প শুনিয়ে লাভ নেই, যারা অবিরলভাবে আমার ব্যাপারেই মিথ্যাচার করতে ও অপবাদ দিতে দ্বিধা করে না। খবর আমাদের কানে আসবে জেনেও আমাদের নামেই যেখানে মনগড়া অপপ্রচার চালাতে দ্বিধা করে না যারা, তারা কবরে চলে যাওয়া পূর্ববর্তী মনীষীদের ব্যাপারে তো এক্ষেত্রে আরও অগ্রগামীই হওয়ার কথা। এ জন্যই তো এরা মৃত ইমামগণকেও রেহাই দেয় না। কখনো গালি দেয় আর কখনো-বা নিজেদের মনগড়া মিথ্যাচার তাদের নামে অবলীলায় চালায়। অহংকারী মূর্খদের থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।




    লেখকঃ বিশিষ্ট আলেম ও দাঈ



    সংগৃহীত


    হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও।

  • #2
    জি ভাই,,ফেইজবুকে একটি পেইজে এমন একটি গজল দেখলাম! জাযাকাল্লাহ।
    ولو ارادوا الخروج لاعدواله عدةولکن کره الله انبعاثهم فثبطهم وقیل اقعدوا مع القعدین.

    Comment


    • #3
      Originally posted by Bara ibn Malik View Post
      জি ভাই,,ফেইজবুকে একটি পেইজে এমন একটি গজল দেখলাম! জাযাকাল্লাহ।

      জ্বী ভাই। ইসলামের লেবাসে দ্বীন ও ইমান-বিধ্বংসী অনেক কিছুই সমাজে প্রচলিত। আল্লাহ হেফাজত করুন।
      হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও।

      Comment


      • #4
        আজকাল নাম নিয়ে বাণিজ্য চলে। অনেক এলাকায় বিদআতিরা নাম ধারণ করেছে সুন্নি বা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত। এখন এই শব্দগুলো শুনলে স্বাভাবিকভাবে ওদের দিকেই চিন্তা যায়। কেউ ওদের দলের অন্তর্ভুক্ত না হলে ওরা তাকে গোস্তাখে রাসুল, খারেজি ও ওয়াহাবি ইত্যাদি আখ্যা দেয়। এমনকি তারা কওমি মাদরাসাকেও খারেজি মাদরাসা বলে।

        পির মানে অনুসৃত ব্যক্তি। কিন্তু তথাকথিত সুফিবাদি ভণ্ডরা এই শব্দটাকে এমনভাবে পচিয়েছে, এখন এটা শুনলেও সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনা আটরশি, দেওয়ানবাগী, মাইজভাণ্ডারী ইত্যাদির দিকে যায়। হকের সাইনবোর্ডধারীদের অপব্যাখ্যা, ভুলব্যাখ্যা ও মনগড়া রীতিনীতি এই ধারণাকে আরও শাণ দিয়েছে। তবে এই শব্দটা যেহেতু কুরআন-হাদিসের কোনো শব্দ না, তাই এ নিয়ে আমাদের অত বেশি মাথাব্যথা নেই।

        আহলে হাদিস মানে মুহাদ্দিস। সালাফগণের লেখায় এর অনেক ব্যবহার পাওয়া যায়। কিন্তু এখন নির্দিষ্ট একটি দল নিজেদের নামকরণ করেছে এই নামে। এই দলের বঙ্গদেশীয় একজন শায়খ হাদিসের সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ সুনানুত তিরমিজি থেকে 'আহলুল হাদিস' (মুহাদ্দিস অর্থে ব্যবহৃত) শব্দগুলো বের করে নিজেদের দলের ওপর প্রয়োগ করার মতো হাস্যকর কাজও করেছে। বেচারা গর্ব করে বলেছে, আহলে হাদিসের নাম তিরমিজিতে এতবার আছে।

        মুজাহিদ অর্থ জিহাদকারী। চরমোনাই পিরের দলের নাম রাখা হয়েছে 'বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি'। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জিহাদ করে না, এমনকি আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা'র চর্চাও তাদের ভেতরে দেখা যায় না, আবার তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতি করে ও নিজস্ব তরিকার পির-মুরিদি আঁকড়ে রাখে। তো স্বাভাবিকভাবেই তাদের ব্যবহৃত মুজাহিদ শব্দটি তার মর্যাদা হারিয়েছে।

        সালাফি নামটাও এই টাইপেরই। এই নাম শুনলে মনে হয়, তারা সালাফগণকে অনুসরণ করেন। তার মানে তারা ছাড়া অন্যরা খালাফি। সালাফ মানে পূর্বসূরি, খালাফ মানে উত্তরসূরি। অথচ সালাফি নয় যারা, তাদের বৃহৎ অংশও সালাফে সালেহিনকেই অনুসরণ করেন। সকল সালাফ এক মতের ছিলেন না। সকলের মাজহাব ও মানহাজ অভিন্ন ছিল না। সালাফ কোনো বটবৃক্ষের নাম নয়। চার ইমামও তো সালাফ। তাদের মাযহাব কি এক? আকিদার ক্ষেত্রে মুহাম্মাদ, রাজি, ইবনু হাজার, সুয়ুতি, নববি, বায়হাকি, ইবনু আসাকির, শামি আর ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কায়্যিম, যাহাবি, ইবনু আবদিল ওয়াহহাব নজদির আকিদা কি অভিন্ন? খোদ সাহাবিদের মধ্যেও তো কত বিষয়ে ভিন্নমত ছিল; যা পরবর্তীতে আরও বড় রূপ ধারণ করেছে! কিন্তু 'সালাফি' শব্দটা দলবিশেষের নাম ধারণ করায় অনেক সাধারণ মানুষ ভুল ধারণা করে বসে।

        আসারি নামটিও অনুরূপ। শব্দটি শুনলে মনে হয়, কেবল এই গোষ্ঠীটিই বুঝি আসার (তথা রাসুল, সাহাবি ও সালাফগণের উক্তি)-এর আলোকে আমল করে। শব্দটা কানে ভাসলে অজান্তেই বিপরীত একটা বার্তাও স্মরণ আসে যে, তাহলে বুঝি অন্যরা আসার বাদ দিয়ে নফস বা আকলের পূজা করে। কিংবা কোনো ব্যক্তিবিশেষের মতামতকেই আঁকড়ে ধরে রাখে। অথচ বাস্তবতা এরূপ নয়।

        কোনো কথা বারবার বারবার শুনতে শুনতে এরকম বার্তা মানসপটে ভেসে ওঠা অস্বাভাবিক বা অভূতপূর্ব কিছু নয়। আল্লাহর ব্যাপারে 'হাত', 'পা', 'আঙুল' ইত্যাদি শুনতে শুনতে অনেক সাধারণ মানুষ দেহবাদীদের মতো ধ্যানধারণায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। তখন তারা আল্লাহর জন্য দেহ, দেহের জন্য আবার আকার-আকৃতিও সাব্যস্ত করে বসে। মুমিনরা আল্লাহকে দেখবে, সুতরাং তার তো আকার অবশ্যই আছে - এই কথা বলে তারা নিজেদের এই ভ্রান্ত মতের পক্ষে দলিল দেওয়ারও চেষ্টা করে। 'তুমি আসমানে আছ প্রভু, আমি জমিনে' এই সংগীতটিও এ ধরনের বক্র চেতনারই প্রতিনিধিত্ব করে।

        যেটা আগে আসে, স্বভাবত মানুষ সেটাকেই সাদরে গ্রহণ করে নেয়। আমাদের বাসায় এখনো গুঁড়ো দুধকে 'ডানো দুধ' বলে। জুতো কেনার কথা উঠলেই 'বাটা'র নাম আসে। সিম ব্যবহারের আলোচনায় বসলেও 'জিপি' সিমের কথাই ঘুরেফিরে প্রাধান্য পায়। এত এত মোবাইল নেটওয়ার্ক আসলেও 'বিকাশ'র প্রাধান্য সর্বদাই থাকে। আমাদের এদেশীয় আলিমদের বড় গাফিলতি হলো, তারা জনসাধারণের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আকিদার আলোচনা তুলনামূলক কম করেছেন। অনলাইন জগতের সঙ্গে দীর্ঘকাল পর্যন্ত তো তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্কই ছিল না। তাদের বড় অংশ এখনো এসব থেকে দূরে। ফেসবুক ইত্যাদিকে তারা বরাবরের মতোই বাঁকা চোখে দেখেন। ফলস্বরূপ, এই জগতে যাদের বিচরণ, তাদের মধ্যে এই আলিমদের আকিদার দাওয়াতই পৌঁছেনি। দাওয়াত তো দূরের কথা; বিবরণটুকুই জানেনি। তারা পেয়েছে সালাফিদের দাওয়াত, পেয়েছে আসারিদের দাওয়াত। আর বিবেকবুদ্ধি ব্যবহার না করলে, গভীর অধ্যয়নে রত না হলে ভাসাভাসা বুঝ ও জাহেরিপনার আলোকে এই ধারা রপ্ত করাই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের জন্য সহজ।

        অনলাইনে সকাল-সন্ধ্যা আকাবির আকাবির জিগির তুলতে তুলতে যেসব স্বার্থান্বেষী চেতনাব্যবসায়ী মুখে ফেনা তুলে ফেলে, সেসব অথর্বরাও পারেনি আলিমগণের আকিদা জনসমক্ষে তুলে ধরতে। আর পারবে বা কীভাবে! তাদের নিজেদেরই তো এ ব্যাপারে ন্যূনতম অধ্যয়নও নেই। তাদের আছে শুধু হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা ও যতসব ধান্ধাবাজি।

        মাদরাসাগুলোতেও এখন আর আগের মতো আকিদার চর্চা হয় না। অধিকাংশ মাদরাসায় তো আকিদার দারস প্রদানের জন্য শাস্ত্রজ্ঞ উস্তাদই খুঁজে পাওয়া যায় না। যার কারণে ইদানীংয়ের তালিবুল ইলমরাও আকিদা শেখে অনলাইনে। সরাসরি নিজে গুগলসার্চ করে সামনে যা পায়, তা অবলীলায় গিলতে থাকে। আমাদের আলিমদের গাফিলতির কারণে এখানে সার্চ রেজাল্টেও বিশেষ ধারার আকিদাগুলোই উঠে আসে। অথবা তারা কোনো স্বশিক্ষিত বা অনলাইনশিক্ষিত জাহেরি শায়খের দ্বারস্থ হয়ে তাদের সাজেশন অনুযায়ী একমুখী অধ্যয়ন করে। ফলাফল স্পষ্ট। অবশ্য এর আরেকটা কারণও রয়েছে। এখানে যেহেতু মোড়লি চলে বিশেষ দলের, যারা নিজেদের নাম হিসেবেও এমন নাম ব্যবহার করে, যা শুনলে স্বভাবতই তাদেরকে হকের একমাত্র ঠিকাদার মনে হয়। তো এসব ব্যক্তিরা যখন খালি মাঠে গোল দেয়, অন্যদেরকে নিয়মিত ট্যাগ দেয়, কেউ অবশ্য অতি উদারতা দেখিয়ে করুণার স্বরে বলে, না, ওদেরকেও অনুগ্রহ করে আহলুস সুন্নাহর একপ্রান্তে রাখা যায়; তখন নবীনরা হীনম্মন্যতায় ভুগতে থাকে। তাদের মানসিকতা দুর্বল হয়ে আসে। তারা একপক্ষের নীরবতাকে অসহায়ত্ব এবং আরেকপক্ষের চেঁচামেচিকে হক্কানিয়্যাতের ডামাডোল ভাবে। এভাবে ক্রমশ তারা ওসব দিকেই ধাবিত হতে থাকে।

        আমি এসবের জন্য এই প্রজন্মের কর্ণধারদেরই দায়ী করব। তাদের উদাসীনতা ও এসব ব্যাপারে অমনোযোগিতার কারণেই পরিস্থিতি এমন হয়েছে। তারা জানে না, তাদের ছাত্ররাই দুদিন পর তাদেরকে স্রেফ শাখাগত কিছু আকিদার কারণে বাতিল বলে আখ্যায়িত করবে। জাহমি, হাশাওয়ি ইত্যাদি নামে নামকরণ করবে। স্রোত যেভাবে শুরু হয়েছে, অনলাইননির্ভর বা জাহেরি শায়খদের দিকনির্দেশনায় জ্ঞান চর্চাকারী নবীন তালিবুলইলমরা প্রায় সবাই বিশেষ দিকে ঝুঁকে পড়বে। নিজেদের ধারার কিছু নামধারী বড়'র কুকীর্তি ও ভুলভ্রান্তি এক্ষেত্রে তাদেরকে আরও বেশি দুঃসাহসী করে তুলবে। আর এভাবেই তারা একটি কূপমণ্ডূক জাতিতে পরিণত হবে। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম তো পুরোপুরিই শেকড়বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। স্রেফ নামের সাইনবোর্ড ছাড়া মূলের সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্কই থাকবে না। আর এই নামের সাইনবোর্ডটাই অনেকের জন্য বিভ্রান্তির কারণ হবে।
        ইসলামের জন্যে এমন লোকদের প্রয়োজন, যারা এই দ্বীনকে আঁকড়ে ধরে থাকবে।
        =আল্লামা জুনাঈদ বাবুনগরী হাঃফিঃ

        Comment

        Working...
        X