Announcement

Collapse
No announcement yet.

ধারাবাহিক অন্তরের ব্যধী সিরিজ। দ্বিতীয় অধিবেশনঃ অন্তর অসুস্থ হওয়ার ফল এবং অন্তরের দ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ধারাবাহিক অন্তরের ব্যধী সিরিজ। দ্বিতীয় অধিবেশনঃ অন্তর অসুস্থ হওয়ার ফল এবং অন্তরের দ

    ধারাবাহিক অন্তরের ব্যধী সিরিজ।
    দ্বিতীয় অধিবেশনঃ
    অন্তর অসুস্থ হওয়ার ফল এবং অন্তরের দায়ীত্ব ও তা পালনে বাঁধা সমুহ।




    বিসমইল্লাহির-রহমানির-রহিম।
    আলহামদুলিল্লা-হি রব্বিল আ-লামী-ন। ওয়াস্-সলা-তু ওয়াস্-সালা-মু আলা- সাইয়িদিল আম্বিয়া-ই ওয়াল-মুরসালী-ন, ওয়া আলা- আ-লিহী-, ওয়া আসহা-বিহী-, ওয়ামান তাবিয়াহুম বি ইহসা-নিন ইলা- ইয়াওমিদ্দী-ন, মিনাল উলামা-ই ওয়াল মুজাহিদী-ন, ওয়া আ-ম্মাতিল মুসলিমীন, আমী-ন ইয়া- রাব্বাল আ’-লামীন

    আম্মা বা’দ,

    মুহতারাম ভাইয়েরা!
    প্রথমে আমরা সকলেই একবার দুরূদ শরীফ পড়ে নিই।
    আল্ল-হুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লাম ওয়া বা-রিক আলা- নাবিয়্যিনা- মুহাম্মাদ ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদ কামা- সল্লাইতা ওয়া সাল্লামতা ওয়া বা-রকতা আলা- ইবর-হী-মা ওয়া আলা- আ-লি ইবর-হী-মা ইন্নাকা হামি-দুম্মাজি-দ।


    মুহতারাম ভাইয়েরা!
    গত অধিবেশনে আমরা কলবের পরিচয় ও কলব কেন এত গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য তা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আমরা আলোচনা করবো "অন্তর অসুস্থ হওয়ার ফলাফল এবং অন্তরের দায়ীত্ব ও তা পালনে বাঁধা সমুহ" নিয়ে। ওয়ামা তাওফি-কি ইল্লা-বিল্লা-হ।


    অন্তর অসুস্থ হলে কি হয়ঃ
    শরীরের অসুস্থতার ধরণ কলবের অসুস্থতা ও বিনষ্টতা থেকে ভিন্ন হয়। তবে ফলাফল একি রকম হয়।
    যেমনঃ শরীরের অসুস্থতাঃ তাহা সুস্থতার বিপরীত অর্থাৎ শরীর অসুস্থ হলে সাভাবিক নড়াচড়ার শক্তি হারিয়ে ফেলে। যেমনঃ না দেখা বা কম দেখা, চোখ অসুস্থ হলে হয়। অথবা বদ হজমঃ পাকস্থলী অসুস্থ হলে হয়।
    প্রতিটি অঙ্গকেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোন একটি কাজের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর অসুস্থতা সে কার্জ ক্ষমতাকে হরন করে নেয়।
    এমনি ভাবে কলবঃ তাকেও কিছু দায়িত্ব দিয়েই তৈরি করেছেন। কিন্তু যখন সে অসুস্থ হয়ে যায় তখন সেও তার দায়ীত্ব পালন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে দূর্বল হয়ে যায়। আমরা সামনের পর্ব থেকে অন্তরের অসুস্থতা গুলো আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

    কলবের দায়ীত্ব কিঃ
    কলবের দায়িত্ব হলোঃ আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়স তায়ালা কে চিনা, ভালোবাসা। আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালার ইবাদত করা, তাঁর স্মরণে স্বাদ গ্রহণ করা। নিজের সকল চাহিদার উপর আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালাকে এবং তিনি যাদের কে প্রাধান্য দিতে আদেশ করেছেন তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া।
    কিন্তু যখন কলব অসুস্থ হয়ে যায় সে আল্লাহ তায়ালাকে যথাযথভাবে চিনেনা।

    আল্লাহ তায়ালাকে চিনার নিদর্শন হলো আল্লাহ তায়ালাকে সব থেকে বেশি ভালোবাসা। এবং তিনি যে বিষয় গুলো কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে বলেছেন সেগুলোকে সবচেয়ে বেশি ভালো বাসা। সুতরাং যে আল্লাহ তায়ালাকে চিনে সে আল্লাহ তায়ালাকে এবং তিনার আদিষ্ট বিষয় সমুহকে সর্বাধিক ভালোবাসে।

    আর আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালাকে ভালোবাসার নিদর্শন হলো তাঁর উপর দুনিয়া ও দুনিয়ার কোন কিছুকেই প্রাধান্য না দেওয়া।
    আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
    قُلْ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَٰنُكُمْ وَأَزْوَٰجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَٰلٌ ٱقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَٰرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَٰكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَٰسِقِينَ
    বল, ‘যদি তোমাদের পিতারা, আর তোমাদের সন্তানেরা, আর তোমাদের ভাইয়েরা, আর তোমাদের স্ত্রীরা, আর তোমাদের গোষ্ঠীর লোকেরা আর ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর ব্যবসা তোমরা যার মন্দার ভয় কর, আর বাসস্থান যা তোমরা ভালবাস
    (এসব) যদি তোমাদের নিকট প্রিয়তর হয় আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করা হতে,
    তাহলে অপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর চূড়ান্ত ফয়সালা তোমাদের কাছে নিয়ে আসেন।’ আর আল্লাহ অবাধ্য আচরণকারীদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।
    [আত-তাওবাহ ০৯ঃ২৪]

    সুতরাং যদি আল্লাহ তায়ালার চেয়ে এবং তিনি যাদেরকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে বলেছেন "আল্লাহ তায়ালার রাসুল, ও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ" তাদের চেয়ে কাউকে বেশি ভালোবাসে তাহলে তার কলব অসুস্থ।

    নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিনটি গুন যার মধ্যে আছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেঃ
    ১. আল্লাহ ও তাঁর রসূল তার নিকট অন্য সকল কিছু হতে অধিক প্রিয় হওয়া।
    ২. কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসা।
    ৩. কুফ্*রীতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মত অপছন্দ করা।
    (২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম ১/১৫ হাঃ ৪৩, আহমাদ ১২০০২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৫), সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৬
    হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।)

    আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালার কিছু প্রেমিক যুগল বলেনঃ দুনিয়াবাসির দরিদ্র মানুষেরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে কিন্তু এই দুনিয়ার সেরা-স্বাদ সৌভাগ্যবানেরাই আস্বাদন করতে পেরেছে।
    লোকেরা জানতে চাইলোঃ সেই সেরা-স্বাদটা কি?
    প্রেমিক যুগল বললোঃ আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা, তিনার সাথে সখ্যতা, তিনার দিদারে মরিয়া হয়ে থাকা, আর আল্লাহ ছাড়া বাকি সব কিছু থেকে বিমুখ থাকা। আর এ বিষয় গুলো তাঁরাই উপলব্ধি করতে পারেন যাঁদের রয়েছে একটি সুস্থ সবল জীবিত হৃদয়।

    আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসায় কলব কে বাঁধা প্রদান কারী বিষয় সমুহঃ
    মাদারিজুস-সালিকিন গ্রন্থে আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লহু তায়ালা বলেনঃ পাঁচটি এমন জিনিস রয়েছে যেগুলো অন্তর ও আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসার মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, যেগুলোর কারনেই অন্তর অসুস্থ ও ত্রুটিযুক্ত হয়ে। সে গুলো হলোঃ
    ১) খারাপ মানুষের সাথে বেশি মেশা ও সম্পৃক্ততা।
    ২) দুনিয়ার জীবন নিয়ে বেশিমাত্রায় আশা আকাঙ্ক্ষার বাসা-বুনন করা।
    ৩) গাইরুল্লাহ অর্থাৎ তাগুত, এবং মুসলিমননয় এমন লোকেদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা।
    ৪) তৃপ্তি ভরে আহার করা।
    ৫) বেশি মাত্রায় নিদ্রা যাওয়া।

    অন্তর, কলব, সেতো চায় আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা শানুহু এর দিকে যেতে, আখিরাতের সামানা তৈরি করতে, তাকে দেয়া অজিফা পূর্ণরুপে পালন করতে। কিন্তু এই পাঁচটি ঘাতক কলবকে বাঁধা প্রদান করে এবং মৃত্যুর দিকে ঠেকে দেয়।

    মুহতারাম ভাইয়েরা!
    আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করছি।
    আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে এবং পুরো উম্মাহকে অন্তরকে সদা সুস্থ সবল রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করার তাওফীক দান করুন! এবং আমাদের সবাইকে ইখলাসের সাথে জিহাদ ও শাহাদাতের পথে অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন!

    আমাদের নেক দোয়ায় মাজলুম উম্মাহ এবং মুজাহিদীনগনকে যেন ভুলে না যাই!
    আল্ল-হুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লাম ওয়া বা-রিক আলা- নাবিয়্যিনা- মুহাম্মাদ ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদ কামা- সল্লাইতা ওয়া সাল্লামতা ওয়া বা-রকতা আলা- ইবর-হী-ম ওয়া আলা- আ-লি ইবর-হী-ম ইন্নাকা হামি-দুম্মাজি-দ।


    وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد وآله
    واصحابه اجمعين
    وآخردعوانا ان الحمد لله ربالعالمين


    চলবে ইনশাআল্লাহ.............!

    হয় শাহাদাহ নাহয় বিজয়।

  • #2
    জাযাকাল্লাহু আহসানাল জাযা।
    আল্লাহ তায়ালা আপনার ইলম-আমলে বারাকাহ দান করুন।আমিন

    যতক্ষণ না আমাদের ক্বলব পবিত্র করতে পারব ততক্ষণ পর*যন্ত পবিত্র জায়গা জান্নাত দেওয়া হবে না।
    তাই যদি দুনিয়াতে পরীক্ষা আসে তাহলে এর মাধ্যমে আমরা ক্বলবকে পবিত্র করে নেই।

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের অন্তরকে পরিশদ্ধ করে *দিন।আমিন।

    Comment


    • #3
      Originally posted by mollah View Post
      জাযাকাল্লাহু আহসানাল জাযা।
      আল্লাহ তায়ালা আপনার ইলম-আমলে বারাকাহ দান করুন।আমিন

      যতক্ষণ না আমাদের ক্বলব পবিত্র করতে পারব ততক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র জায়গা জান্নাত দেওয়া হবে না।
      তাই যদি দুনিয়াতে পরীক্ষা আসে তাহলে এর মাধ্যমে আমরা ক্বলবকে পবিত্র করে নেই।

      আল্লাহ তায়ালা আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে *দিন।আমিন।
      আমিন আমিন আমিন! আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য ও কবুল করে নিন, আমিন!
      হয় শাহাদাহ নাহয় বিজয়।

      Comment


      • #4
        আল্লাহ তাআলা আপনার ইলম ও আমালে বারাকাহ দান করুন।
        ভাই সাহেবান লেখাগুলোর ফন্ট সাইজ বাড়িয়ে দিলে ভালো হয়।
        আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা তার পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।

        Comment


        • #5
          মাশাআল্লাহ,,
          খুব চমৎকার সিরিজ,,
          চালিয়ে যান ভাই
          মুমিনের একটাই স্লোগান,''হয়তো শরীয়াহ''নয়তো শাহাদাহ''

          Comment


          • #6
            বেশ উপকারী আলোচনা আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলকে আমলের তাওফীক দান করুন।

            Comment


            • #7
              Originally posted by মারজান View Post
              আল্লাহ তাআলা আপনার ইলম ও আমালে বারাকাহ দান করুন।
              ভাই সাহেবান লেখাগুলোর ফন্ট সাইজ বাড়িয়ে দিলে ভালো হয়।
              মুহতারাম আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
              আপনি হয়তো ফোন থেকে ফোরাম ব্রাউজ করছেন,
              আসলে মুহতারাম, আমিও ফোন থেকেই ফোরাম ব্রাউজ করি, তাই আমার মনে হয় ফন্ট সাইজ বাড়ালেই ভালো হয়। কিন্তু সম্ভবত কম্পিউটার থেকে ব্রাঊজকারীদের নিকট ফন্ট বাড়িয়ে দিলে সেটা সুন্দর দেখায়না, তাছাড়া আমাকে একদিন মডারেটর মুহতারাম "মুনশি আব্দুর-রহমান" ভাই বলেছিলেন ফন্ট সাইজ নরমাল থাকলেই সৌন্দর্য বজায় থাকে সে দিকে লক্ষ করেই ফন্ট সাইজ বড় করছিনা।
              এখন মুহতারাম আপনাকে কি বলে শান্তনা দিবো সে ভাষা আমার জানা নেই, শুধু এইটুকু বলতে পারি যে, ফোরামের সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য আপনি একটু ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নৈকট্য লাভের আশা রাখতে পারেন ইনশা- আল্লাহ।

              চুড়ান্ত আলোচনার জন্য মুহতারাম মডারেটর ভাইদেরকে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ করছি............
              হয় শাহাদাহ নাহয় বিজয়।

              Comment


              • #8
                আল্লাহ্ আপনাকে সাহায্য করুন,আমরা উপকৃত হচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ্,,
                আল্লাহ্ আপনি মিডিয়ার সম্মানীত সকল ভাইকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখুন, আমিন।

                Comment

                Working...
                X