Announcement

Collapse
No announcement yet.

ইদাদ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ইদাদ

    শায়খ আবু বাসির আত তারতুসি বলেন,
    "ইদাদ বলা হয়, শরীয়তের কাঙ্খিত গুরুত্বপূর্ণ স্তরে (অর্থাৎ তাওহিদ প্রতিষ্ঠা) পৌঁছার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত বা দলগত প্রস্তুতি বা উন্নতিকরণ। চাই সেটা খাস কোনো প্রস্তুতি হোক কিংবা আম।
    অতএব উক্ত সংজ্ঞায় আত্মিক ও আকলি প্রস্তুতি এবং বৈষয়িক প্রস্তুতি উভয়টি একত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে।"

    প্রথমত, আত্মিক ও আকলি ইদাদঃ
    তা হলো তিন ধরনের প্রস্তুতি; চাই ব্যক্তিগত হোক কিংবা দলগত-

    ১. ঈমানী ইদাদ।
    ২. ফিকহী ইদাদ।
    ৩. ফিকরী ইদাদ।

    এ তিন প্রকার আত্মিক ও আকলি প্রস্তুতির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা জামাত দ্বীনের সঠিক লক্ষ্যে অগ্রগামী হতে পারে। পাশাপাশি তার ব্যাক্তিত্ব বা পরিচয় উন্নত করতে পারে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টিকারীদের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়।

    এই আত্মিক ও আকলি ইদাদে একজন মুসলিমকে তার ভ্রমণের ক্লান্তি সহ্য করতে সাহায্য করে, এমনকি রাস্তার কষ্ট ও দীর্ঘসূত্রিতাকে লাঘব করে দেয়।

    এমন বহু লোক রয়েছে যারা এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে তুচ্ছ মনে করে, বিধায় তাদের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, তারা রাস্তার প্রথমাংশ বা মাঝেই ঝরে যায় এবং তাদের জন্য শত্রুদের খননকৃত অনেক ছোট গর্তেই তারা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।
    আর যখনই ছোটখাটো কোনো বিপদের সম্মুখীন হয় তখনই তাদের দেখা যাবে যে, তারা আত্মসমর্পণ ও অনুগত-লান্ছনার ঝান্ডা উঁচু করে বসে এবং পাপিষ্ঠ জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, আর তাদের সামনে ঝুকে পড়ার অজুহাতস্বরুপ আল্লাহ তা আলার আয়াতসমূহকে ঢাল হিসেবে পেশ করে।

    নিশ্চয়ই ইসলামের পথ কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মেহনত ও কুরবানীর সমর্থন করে না। এপথের বাস্তবতা এমন নয় যে, কোনো ব্যাক্তি বা জামাত কিছু সময় চেষ্টা সংগ্রাম করার পর আরাম-আয়েশ ও অবসরযাপনের দিকে মনোনিবেশ করবে এবং এজন্য নিজেকে সান্তনা দেওয়ার জন্য নানাভাবে ব্যাখ্যা করতে থাকবে যে- 'সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে এবং বাকিরা এসে তার পথ ও সফর পরিপূর্ণ করে দিবে।'
    এভাবেই শয়তান এসকল ধারণাকে সুশোভিত করে।

    এমনটা কখনই ইসলামী চিন্তা-ফিকরের ফলাফল নয়! নিশ্চয়ই ইসলামের পথ এমন নয়। বরং ইসলাম হলো অবিরত চেষ্টা-সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও জিহাদের নাম, যা চলমান থাকবে দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত তথা আজীবন।

    মুসলিমরা প্রকৃত শান্তির খোঁজ একমাত্র জান্নাতে পাবে। আর এ বিষয়টি উপলব্ধি করা যায় ওই আয়াত থেকে যে আয়াতে রয়েছে আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর বান্দাদের মধ্যকার ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা।

    আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ

    إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ


    "আল্লাহ তাআ’লা ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চাইতে শ্রেষ্ঠ আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।" (সূরা তাওবা, ৯ঃ১১১)


    অতএব ক্রয়-বিক্রয় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে; তাই তাতে কোন ধরনের কমবেশী করার সুযোগ নেই এবং নেই প্রত্যাহারের সুযোগ।

    উপরোক্ত বিষয়টি যদি আমরা ভালোভাবে অনুধাবন করে থাকি তো আমরা নিম্নোক্ত হাদীসের মর্মও বুঝতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ-
    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ-

    إنما الناسُ كإبلٍ مائة لا تكاد تجدُ فيها راحلةً) متفق عليه.


    "নিশ্চয়ই মানুষ এমন একশোটি উটের ন্যায়, যেগুলোর মধ্যে হতে আরোহনযোগ্য একটি উট পাওয়া যাওয়াও দুর্লভ।" (বুখারী, মুসলিম)

    অর্থাৎ আল্লাহ তা আলার তাওফিকপ্রাপ্ত বান্দারা হলেন এমন বাহনের ন্যায়, যা সফরের কষ্ট সহ্য করতে পারে এবং শেষপর্যন্ত গন্তব্যে পৌছাতে পারে।


    দ্বিতীয়ত, বৈষয়িক প্রস্তুতিঃ-

    গোটা পৃথিবীতে তাওহিদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রত্যেকে তার সাধ্যমত সঠিক শরীর চর্চার মাধ্যমে নিজেকে গঠন করা এবং প্রাথমিক সকল বৈষয়িক শক্তির সরঞ্জামাদির উপর পরিপূর্ণ পারদর্শী হওয়াই হচ্ছে ইদাদের এই প্রকারের অন্তর্গত।
    পাশাপাশি, ব্যাক্তি বা জামাতের জন্য তাওহিদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে দাওয়াত ও জিহাদের পথে চলার জন্য আগত সকল মারহালা ও পরিস্থিতি সহ্য করার সক্ষমতা লাভের লক্ষ্যে- পর্যায়ক্রমে অস্ত্রশস্ত্র, সরঞ্জামাদি, কারিগরি শিল্প ও সামরিক পূর্ণতা অর্জনও এর অন্তর্ভুক্ত।

    শায়খ আবু বাসির আত তারতুসি বলেন, "আত্মিক ও আকলি এবং বৈষয়িক উভয় প্রকার ইদাদের শরয়ী বিধান হলো- তা ওয়াজিব।"

  • #2
    মাশা-আল্লাহ
    খুবই উপকারী একটা বিষয় আলোচনা করেছেন।

    Comment


    • #3
      মাশা আল্লাহ, উপকারী পোস্ট! আল্লাহ আপনার কলমকে আরো শাণিত করুন!

      "আত্মিক ও আকলি এবং বৈষয়িক উভয় প্রকার ইদাদের শরয়ী বিধান হলো- তা ওয়াজিব।" -শায়খ আবু বাসির আত তারতুসি
      “ধৈর্যশীল সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”-শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.

      Comment


      • #4
        মাশাআল্লাহ সুন্দর লিখেছেন।
        গোপনে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা ৷

        Comment


        • #5
          নিচের জাস্টপেইস্ট লিঙ্ক থেকে পড়তে পারেন-
          ইদাদ
          Hasan Abdus Salam
          https://justpaste.it/91cbk
          গোপনে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা ৷

          Comment


          • #6
            মাশা আল্লাহ, অনেক সুন্দর কথামালা। খুবই উপকারী আলোচনা। জাযাকুমুল্লাহু খইরন কাসিরন সম্মানিত ভাইজান।
            সাহসিকতা আয়ু কমায় না আর কাপুরুষতা আয়ু বৃদ্ধি করে না। জিহাদের মাধ্যমেই উম্মাহ জীবন লাভ করে।

            Comment


            • #7
              মাশাআল্লাহ, ভাইয়ের প্রতিটি পোস্ট-ই মূল্যবান। জাযাকাল্লাহ
              ফোরামে নিয়মিত আপনার পোস্ট চাই ভাই...
              ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

              Comment

              Working...
              X