Announcement

Collapse
No announcement yet.

অবিবাহিত মুওয়াহহিদাহ্ বোনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নাসিহাহ | কেমন পুরুষ বিয়ে করবেন, কেনো &

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • অবিবাহিত মুওয়াহহিদাহ্ বোনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নাসিহাহ | কেমন পুরুষ বিয়ে করবেন, কেনো &

    ইন্নাল হামদালিল্লাহ,
    ওয়াসালাতু ওয়াসালামু আ’লা রাসুলিল্লাহ।
    আউযুবিল্লাহ হিমিনাশায়তনির রজিম।
    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।


    [১]

    যেসব বোনেরা দেরীতে হিদায়াহ পেয়েছেন ও সারাটা স্টুডেন্ট লাইফ কোনো কারণে আনম্যারিড ছিলেন তারা এটাকে নিয়ামত হিসেবে দেখুন। স্টুডেন্ট লাইফেই বিয়ে হয়ে গেলে পরবর্তীতে যে হিদায়াহ পেয়েছেন সেই হিদায়াহতে আপনার হাজবেন্ড সামিল নাও হতে পারতো৷ শেষমেশ আপনি হয়তো আল্লাহকেই বেছে নিতেন। এমনটা কিন্তু হরহামেশাই দেখা যায়।

    হিদায়াহ পেয়ে যখন বোনেরা বিয়ের কথা ভাবেন তখন ফ্যামিলিকে বুঝানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে করতেই অনেকের অনেক টাইম নষ্ট হয়। একদম স্পষ্টভাষী হবেন এক্ষেত্রে। বিনয় বজায় রাখুন তবে দুর্বল হবেন না। আকীদা ও দ্বীনদারিতার ব্যাপারে ছাড় দিবেন না। এই চ্যালেঞ্জকে নিয়ামত হিসেবে দেখুন। তবে হ্যাঁ, লাইফ পার্টনারের দ্বীনদারিতার ব্যাপারে অতিরিক্ত উচ্চাশা রাখবেন না। কিন্তু আকীদা-ওয়ালা বারা-মিল্লাতে ইব্রাহিমের আদর্শ-মানহাযের ব্যাপারে তায়েফাতুল মানসূরার অনুগামিতার ব্যাপারে ও দ্বীন প্রাকটিসিং হওয়ার ব্যাপারে ছাড় দিবেননা।

    বিশুদ্ধ আকীদা মানহাযের পাত্র খুঁজে পেতে হয়ত অনেক পরীক্ষা-সবর পথ অতিক্রম করতে হবে, তবে হতে পারে এই পরীক্ষা-দেরী হওয়া মানে আপনার দুআর উত্তর হিসেবে আল্লাহ তাকে আপনার চাওয়া মতো প্রস্তুত করছেন। তাই হাল ছাড়া যাবে না। আল্লাহই সঠিক সময়ের ব্যাপারে অবগত।

    [২]


    একটি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে যদি বিয়ের ক্ষেত্রে উত্তম বিষয়সমূহকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

    বোনেরা, কেমন পুরুষ বিয়ে করতে হবে সেটা জানা অত্যন্ত জরুরি।

    মুহতারামাহ বোন!
    যে ব্যক্তি ত্বাগুতকে অস্বীকারী ও মিল্লাতে ইবরাহীমের অনুসারী নয় তাকে বিয়ে করবেন না। তাগুতকে বর্জন করাই হলো ইমানের প্রথম শর্ত। তাগুতকে বর্জন করা ছাড়া কারো ঈমানই গ্রহনযোগ্য নয়। বিয়ে শুদ্ধ হওয়া তো দূরের কথা। আর মিল্লাতে ইবরাহীমের অপরিহার্যতা বুঝতে পড়ুন: “মিল্লাতে ইব্*রাহীম – আবু মুহাম্মাদ ’আসিম আল-মাক্*দিসী (হা)” (১)

    ইসলাম এবং উম্মাহর দুর্দিনে বিশুদ্ধ দাওয়াহ, ঈদাদ, জিহাদি কাজে এবং সমস্যা মোকাবিলায় যে মোটেও আগ্রহী নয় এমন ব্যক্তিকে বিয়ে করবেন না। এই ব্যক্তি ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হতে চলছে। সে যত বড় লাখপতি বা কটিপতি-ই হোক না কেনো তার মর্যাদা সামান্য খরকুটার অনুরূপ। (২)

    মুসলিম উম্মাহর সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের একটি উপায় হলো বিয়ে। ঈমান-আমলে শক্তিশালী উম্মাহ গড়ে তোলার মাধ্যমে উম্মাহকে কাফির মুশরিকদের নির্যাতন থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে যার মধ্যে নেই কোনো আবেগ-অনুভূতি-উৎকন্ঠা তাকে বিয়ে করবেন না। আপনি কি জেনে শুনে একজন প্যারালাইজড মস্তিষ্কের ব্যক্তিকে বিয়ে করতে পারবেন, যে ব্যক্তির দেহের কোনো অঙ্গ আগুনে জ্বালিয়ে দিলে কিংবা মাংস কেটে নিলেও তার কোনো অনুভূতির উদ্রেক হবে না? যে ব্যক্তি উম্মাহকে এই দুর্দশার কবল থেকে রক্ষা করতে তৎপর নয়, সে কি প্যারালাইজড মস্তিষ্কের ব্যক্তির অনুরূপ নয়? (৩)

    এমন কাউকে বিয়ে করবেন না, যে কিনা কুফরি রাষ্ট্রব্যবস্থার ছত্রছায়ায় জীবন যাপন করে এই কুফরি নিজামকে নির্মূল করার পিছনে এর বিরুদ্ধে কোন চেষ্টা-প্রচেষ্টা ছাড়াই। সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তরে ড. ইসরার আহমাদ রহ. বলেছেন: কোন কুফরি রাষ্ট্রব্যবস্থার ছত্রছায়ায় জীবন যাপন করা। যদি এর বিরুদ্ধে আপনার কোন চেষ্টা-প্রচেষ্টা না থাকে তাহলে আপনার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস হবে হারাম। শ্বাস-প্রশ্বাস!! (৪)

    এমন কোনো পুরুষকে বিয়ে করবেন না যে কিনা পরনারীদের সাথে আড্ডা দেয় এবং তাদের পিছনে ঘুরঘুর করে। অবৈধ উদ্দেশ্যে তাদের সাথে কথাবার্তা বলে ও মৌজ-মাস্তি করে বেড়ায়। হাসি-তামাশার ছলে কথা বলে। (৫)

    এমন কোনো পুরুষকে বিয়ে করবেন না, যার কোনো ঘনিষ্ঠ দ্বীনদার ভাই-বন্ধু নেই। যেহেতু সৎ ও উত্তম মুসলিম বন্ধুবান্ধব থাকা খুব জরুরি। তাছাড়া যার বন্ধুদের বেশিরভাগই অমুসলিম, যার আল ওয়ালা ওয়াল বারা'র মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আকীদা ঠিক নেই তাকে বিয়ে করবেন না। (৬)

    এমন কাওকে বিয়ে করবেন না যে কিনা আলেমদের কাছ থেকে কোনো দ্বীনি ইলম অর্জন করেনি। যার অন্তরে আলেমদের প্রতি নেই কোনো মর্যাদা ও সম্মান।
    “উলামায়ে কেরাম এই উম্মতের প্রকৃত ইমাম ও রাহবার, তাঁদের মাধ্যমেই সমাজের ইসলাহ ও সংশোধন, তা’লীম ও তারবিয়তের কাজ সম্পাদিত হয়।–(৭)”

    সময়ের পরিবর্তনের সাথে ইসলাম সংস্কার প্রয়োজন- এমন সব কথাবার্তা যে বলে কিংবা যার মধ্যে এরকম চিন্তাভাবনার ইঙ্গিত পাবেন তাকে বিয়ে করবেন না। (৮)

    অবিবাহিত বোনেরা নিজেদের মন-মস্তিষ্কে কথাটা গেঁথে নিন যে, স্বামী বাছাই আপনাদের উপর একটি গুরুদায়িত্ব। অযোগ্য পুরুষের জন্য নিজের সারাটা জীবন উজাড় করে দেয়ার ভুল করবেন না যেনো। আপনাকে অবশ্যই চাইতে হবে ঈমান-আমলে শক্তিশালী মুসলিম পুরুষ।

    "শক্তিশালী" বলতে তাদেরকে বোঝানো হয়নি যারা কোনো মিছিলে গিয়ে অমুক, তমুক জননেত্রীর জন্য গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে।

    "শক্তিশালী" সেইসব পুরুষেরা নয় যারা মিডিয়া, টক-শো'তে সব ধর্মবিশ্বাসের মধ্যে সৌন্দর্য নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে বেড়ায়। (৯)

    "শক্তিশালী" সেইসব বড়লোকরাও নয় যারা প্রতি সপ্তাহে তাদের ব্যয়বহুল ল্যাটে'র অন্তত দশটা ছবি তুলে শো অফ করে বেড়ায়। সাথে আবার তাসবিহ রাখতেও ভুলেনা!

    "শক্তিশালী" কোনো ভণ্ড একাডেমিক শব্দ নয় যা কিনা ইসলামকে একবিংশ শতাব্দীর সব তত্ত্বে-বিতর্কে জোর করে দাখিল করার চেষ্টা করছে।

    তারা শক্তিশালী নয়, যাদের কথা শুনলে কাফিরদের অন্তরে ত্রাসের সৃষ্টি হয়না, যাদের নিশ্চিহ্ন করতে মুশরিকরা মরিয়া হয়ে উঠে না।

    সবরকম দলিল প্রমাণ স্পষ্ট হওয়ার পরও যারা দাওয়াহ-ঈদাদ-জিহাদের নববী মানহাযকে গ্রহণ করতে পারছে না তারা শক্তিশালী নয়৷ তাদের অন্তরে রয়েছে ওয়াহান৷ দুনিয়ার মোহ, মৃত্যুভীতি, কমফোর্টেবল জোন হারানোর ভীতি তাদের অন্তরকে বিনষ্ট করেছে৷ (১০)

    আশা করি বুঝতে পেরেছেন, শক্তিশালী বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে!

    এসব বিষয় সম্পর্কে আপনার ওয়ালীর সাথে কথা বলুন যাতে আপনারা সম্ভাব্য পাত্রকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করতে ও তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে পারেন। আপনার স্বামী কে হবেন তা নির্ধারণ করতে আপনার কাছে যথেষ্ট ক্ষমতা আছে। ইসলাম ও উম্মাহর কল্যাণের জন্য সেই ক্ষমতাটা ব্যবহার করুন। আল্লাহ আপনাকে এই উত্তম নিয়তের জন্য পুরস্কৃত করবেন ইনশা আল্লাহ।

    আমাদের সকল বোনেরা যেনো শক্তিশালী মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করতে পারেন যারা শুধু তাদেরকে না বরং পুরো উম্মাহকে সুরক্ষা দিবে এবং যারা কুফরি নিজামের পতন ঘটিয়ে হারানাে ইসলামী গৌরব, শরইয়্যাহ শাসন, উঁচু মর্যাদার ধ্বসে পরা ইমারাহ ফিরিয়ে আনাকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করবে...(Note)


    A Mujahid runs away from his wife in this duniah, but he intercedes for her in the akhirah!
    A non Mujahid sits near his wife in this duniah,but he runs away from her and she runs away from him in akhirah!


    [৩]


    হে অবিবাহিত মুওয়াহহিদাহ বোনেরা, আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ নাসিহাহ গ্রহণ করুন!
    আল্লাহ ﷻ এর কাছে মুওয়াহহিদ-মুজাহিদ উত্তম জীবনসঙ্গী চেয়ে দুয়া করার পাশাপাশি উত্তম শ্বশুর, শাশুড়ী, দেবর, ননদও চাইবেন। কারণ, সংসারটা শুধু স্বামীকে নিয়ে নাও হতে পারে, সেখানে আরো মানুষজন থাকতে পারে।

    আর, যারা সাথে থাকবে তাদের কথা আপনাকে শুনতে হবে, অনেকসময় মনমতো না হলেও বাধ্য হয়ে মানতে হবে। তাদের আমল-আখলাকের প্রভাব পড়বে আপনার সংসারে, আপনার সন্তানদের জীবনে। তাই আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে ভালো একটা পরিবার চেয়ে নিন।

    এমন অনেক বোন আছে যারা ভালো স্বামী পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভালো শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, দেবর পায়নি আর একটা ভালো পরিবার না পাওয়ার কারণে দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে প্রতি পদেপদে তাদেরকে অনেক ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে, কোনো দোষ না করেও নীরবে অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে! শ্বশুরালয়ের খারাপ লোকজনের কারণে অনেক দ্বীনি বোনের সংসারও ভেঙে গেছে বলে শুনেছি! কারোর কারোর শ্বশুরালয়ের লোকজন এতো খারাপ যে সবসময় তান্ত্রিকদের কাছে যাতায়াত করে, তাবিজ-কবচ নিয়ে ঘুরে বেড়ায় শুধুমাত্র নিজ ছেলে আর ছেলের বউয়ের সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য! অদ্ভুত আর অবিশ্বাস্য হলেও এসব সত্য!

    "নিজে ভালো হলে জগৎ ভালো" - এই কথা সবসময় সত্য হয় না। আপনি ভালো বলে আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও ভালো হবে এমনটা কিন্তু নাও হতে পারে, তাই দুয়া করে সবকিছু চেয়ে নিন। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র স্বামী ভালো হলেই সংসার সুখের হয় না সবসময়। আর, খারাপ লোকজনদের সাথে থাকলে তাদের প্রভাবে আপনার প্রতি আপনার স্বামীর সুধারণা– কুধারণায় পরিণত হতে বেশী সময় লাগবে না।

    [৪]


    অবিবাহিত ভাই-বোনেরা!

    ম্যাচ মেকারকে, অভিভাবকদের আপনার রিকোয়ারমেন্টগুলো জানানোর আগে আপনার রব্বকে জানান।

    ম্যাচ মেকার বা অভিভাবকদেরকে হয়তো সবকিছু ভেঙে বলা সম্ভব না, অনেক কিছু বলতে সংকোচ বোধ হবে, লজ্জা লাগবে, ম্যাচার মেকার আপনার অতিরিক্ত/অসম্ভব ধরণের কোনো রিকোয়ারমেন্টের কথা শুনে চোখ কপালেও তুলতে পারে, হাসতে পারে, মশকরা করতে পারে! আর, দিনশেষে ম্যাচ মেকার, অভিভাবকরা আপনার চাওয়া অনুযায়ী জীবনসঙ্গী খুঁজে দিতে নাও পারে, কিন্তু আপনার রব্ব অবশ্যই পারবেন ইনশাআল্লাহ!

    আপনি কেমন আকীদা-মানহাযের মানুষ চান, কতোটুকু দ্বীনদারিত্ব দেখতে চান আপনার জীবনসঙ্গীর মধ্যে, কেমন চান তার উচ্চতা কিংবা গায়ের রং, কেমন ফ্যামিলি চান এসব আপনার রব্বকে বলুন। তিনি চাইলে আপনার দুয়া কবুল করে অসম্ভবকে সম্ভব করে দিতেই পারে! আপনার জীবনসঙ্গীর মধ্যে আপনার রব্ব অনেক গুণের সমন্বয় ঘটিয়ে দিতে পারেন আপনার দুয়ার বদৌলতে! তিনি তো হও বললেই হয়ে যায়, আলহামদুলিল্লাহ..

    অন্তরের চাওয়াগুলো তার কাছেই আগে পেশ করুন যিনি আপনার অন্তরটাকে সৃষ্টি করেছেন।

    মুহতারামাহ বোন! আপনি আজ যে পথের পথিক সেই পথেরই এক সম্মানিত বোনের দুয়া কবুলের ঘটনা দিয়ে আজ এখানে শেষ করছি, যিনি রবের কাছ থেকে দুয়ার মাধ্যমে কুড়িয়ে নিয়েছেন সর্বোত্তম ও সৌভাগ্যময় এক আফটার ম্যারিড লাইফ…

    তাঁর ভাষ্যে: আল্লাহ তা’য়ালা আমার দীর্ঘ দোয়া উত্তম ভাবে কবুল করেছেন, আমাকে আমার চাওয়া মতো নিয়ামত দান করে কৃতজ্ঞ করেছেন; আমার মত অযোগ্য ও দুর্বল বান্দীর জন্য তাঁর উত্তম বান্দাদের মধ্য থেকে একজন অত্যন্ত প্রিয় বান্দাকে নির্বাচন করেছেন।

    কী ছিলো এই মুহতারামাহ বোনের দুয়া?
    এই দুয়া থেকে আপনিও শিখে নিতে পারবেন, রবের কাছে কত বেশী চাইতে হয়, কীভাবে চাইতে হয়! কী উদ্দেশ্যে চাইতে হয়–

    “কুরআন বুঝার প্রাথমিক অবস্থাতেই আল্লাহ তা’য়ালা এই বুঝ দান করেছিলেন যে, মুসলিম জাতিকে আল্লাহ তা’য়ালা বিশেষ এক উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, আর সে উদ্দেশ্য হল দ্বীন কায়েম করা। আর দ্বীন কায়েমের এই ফরজ দায়িত্ব আরামদায়ক গদিতে বসে পালন করা সম্ভব নয়।

    ইসলাম ও কুফর-নিফাকের দন্দ্ব, তার পরিণতি, আল্লাহ তা’য়ালার প্রতিশ্রুতি ও ভীতিপ্রদর্শন, সফলতা ও বিজয়, জান্নাত- জাহান্নাম ও তাতে নিক্ষিপ্ত ব্যক্তি, এগুলো হচ্ছে কুরআনের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। আল্লাহ তা’য়ালা উভয় পথকে পাশাপাশি দেখিয়েছেন। সত্যপথের অনুসারী এবং তাদের পথ, তাদের উপর আসা পরীক্ষাসমূহ এবং দৃঢ়তার সাথে ঐ পথে যারা প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারবেন তাদের উত্তম পরিণাম কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা আছে। অন্য দিকে বাতিল ও পথভ্রষ্টদের বাহ্যিক উন্নতি এবং তাদের নিকৃষ্ট পরিণতি সম্পর্কেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে অবহিত করেছেন।

    যখন এসব কিছু পড়া হয়ে গেছে এবং সে অনুযায়ী আ’মল করার চেষ্টা করছিলাম তখন আল্লাহর রাহে জিহাদ ব্যতীত এমন কোন মুক্তির পথ আমি দেখিনি, যার উপর চলে একজন মুসলমান দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিজের ঈমানের হেফাজত এবং পরকালকে নিরাপদ ও নিশ্চিত করতে পারবে। ফলে আল্লাহ তা’য়ালার সামনে আমার দুর্বলতা, অযোগ্যতা, জ্ঞানের সল্পতা ও অনুল্লেখযোগ্য আমল নিয়ে দোয়া করেছি এই বলে -

    “হে আমার রব! আপনার সামনে পেশ করার মত কিছুই তো আমার নেই। আছে শুধু এ প্রাণটা, এটাও আপনারই দেয়া। একে আপনি আপনার রহমত দ্বারা জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিন এবং নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককার বান্দাগনের পথে আমাকে পরিচালিত করুন।

    অর্থাৎ আল্লাহ তা’য়ালার নিকট তার দেয়া তাওফীক দ্বারা জিহাদ কামনা করেছি এবং এই রাস্তায় চলার মাধ্যম অর্থাৎ মুজাহিদও চেয়েছি। যেহেতু আমি মহিলা, তাই জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহতে আমার অংশগ্রহণের একটা উত্তম উপায় হল – কোন মুজাহিদের (স্ত্রী) সাথী হিসাবে থাকা। যার সংশ্রবে থেকে আমি জান্নাতের দিকে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে চলতে পারবো।

    এই পথে চলার ‘পাথেও কী’ অথবা এই পথের ‘কঠোর বাস্তবতা’ কেমন এসম্পর্কে কোন জ্ঞান আমার ছিল না। শুধু একটা জযবা ছিল যাতে আল্লাহ তা’য়ালা তার মুহাব্বতের রং ভরে দিয়েছিলেন। আল্লাহ তা’য়ালা সর্বদা এ জযবাকে জারি রাখুন এবং তার এ মুহাব্বতের রং স্থায়ী করুন। আমীন।

    দু চার দিন নয় বরং এক বছরেরও অধিক সময় (আল্লাহ তা’য়ালা যতদিন চেয়েছেন) আমি আমার রবের নিকট নীরবে নিভৃত্বে এই দোয়া করেছিলাম -
    “হে আমার রব! আপনার রাস্তায় চলার তাওফীক দান করুন। এ রাস্তায় চলার জন্য কোন নেককারের সংশ্রব দান করুন। এমন সাথী দান করুন যে ঈমান, ইলমে না’ফে(উপকারী ইলম), নেক আমল ও তাক্বওয়া-পরহেযগারীতে আমার চেয়ে অগ্রগামী হবে। যার ঈমান আমার ঈমান থেকে অনেক মজবুত ও শক্তিশালী হবে, যাতে করে তার সংশ্রব আমার দুর্বল ঈমানকে শক্তিশালি করা এবং হেদায়াত ও কল্যাণের পথে উন্নতির কারণ হয়ে যায়”।

    সেই সাথে এটাও চেয়েছি –

    “হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন আমি যা চাচ্ছি তাতে আমার কল্যাণ নেই, তাহলে আমি আপনার কাছেই দোয়া করি এতে আপনি কল্যাণ লিখে দিন, এবং তা আমার জন্য নির্ধারন করে দিন”।

    অন্তরে একথা দৃঢ় ছিল যে, আল্লাহ তা’য়ালার দরবার থেকে ততক্ষণ মাথা তুলবনা, যতক্ষণ না তিনি নিজ রহমতে আমাকে একজন মুজাহিদের সাথী হিসাবে কবুল করবেন।”–আহলিয়া শহীদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ্ (১১)

    আল্লাহ ﷻ তাঁর দুয়ার জবাবে তাঁকে এমন এক সৌভাগ্যবান জীবনসঙ্গী দান করেছেন যার ‘অন্তর প্রশান্তকারী জীবন যাপন সম্পর্কে ধারণা পেতে আপনাকে পড়তে হবে উস্তাদ উসামা মাহমূদ হাফিজাহুল্লাহ এর “সত্যের পথে মৃত্যুর এই অদম্য বাসনা, আমাদেরকে থামতে দেয় না” বার্তাটি। (১২)

    আপনিও আল্লাহ ﷻ এর কাছ থেকে তায়েফাতুল মানসূরাহ (১৩) এর একজনকে চেয়ে নিন, যার সোহবতে আপনি হয়ে উঠতে পারবেন সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতের, জান্নাতের সর্বচ্চ মর্যাদা লাভের অগ্রগামী সেনানী, আপনার সন্তানরা হয়ে উঠবে নির্ভীক, দুর্জয়, সাহসী মুজাহিদ, আপনার ঘর হয়ে উঠবে সিংহ-শাবকের লালনভূমি। যার তরবিয়তে আপনার সন্তানরা ভীরু মুরগির চারণ ক্ষেত্রে পরিণত হবে না, যারা তাজা ও পুষ্ট হয় স্রেফ অন্য জীবের উদরপূর্তির জন্য, বরং সন্তানদের হৃদয়ে বইবে জিহাদপ্রেম, তারুণ্যের তেজ ও দিগ্বিজয়ের দূরন্ত নেশা…মুসলমানের সমস্যা সম্পর্কে যারা সজাগ থাকবে, কুফরি নিজামের পতন ঘটিয়ে হারানাে ইসলামী গৌরব, শরইয়্যাহ শাসন, উঁচু মর্যাদার ধ্বসে পরা ইমারাহ ফিরিয়ে আনাকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করবে…। ইনশা আল্লাহ্

    ফুটনোট:
    ——————————————————————
    (১) মিল্লাতে ইব্*রাহীম | আবু মুহাম্মাদ ’আসিম আল-মাক্*দিসী (হা.) | https://dawahilallah.com/showthread.php?22165
    (২) দরসুল হাদিস; জিহাদ পরিত্যাগের শাস্তি; লাঞ্চনা ও যিল্লতি | উস্তায আদনান মারুফ হাফিজাহুল্লাহ্ | https://www.dawahilallah.com/showthread.php?13194
    (৩) নু'মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
    বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্* (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পারস্পরিক দয়া, ভালবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনে তুমি মু'মিনদের একটি দেহের মত দেখবে। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাত জাগে এবং জ্বরে অংশ নেয়। [মুসলিম ৪৫/১৭, হাঃ ২৫৮৬, আহমাদ ১৮৪০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৩)
    (৪) সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? ড. ইসরার আহমেদ (রহঃ) | VIDEO https://archive.org/details/The_greatest_sin
    Transcript: https://dawahilallah.com/showthread.php?21353
    (৫) মেয়েদের ফিতনা থেকে সালাফরা যেভাবে নিজেদের আত্মরক্ষা করতেন! | Muhtaram abu ahmad | https://dawahilallah.com/showthread.php?22953
    অবৈধ বিষয়ে ও গাইরে মাহরামের দিকে দৃষ্টিপাতকারীদের প্রতি | শাইখ সাদ আল আতিক | https://archive.org/details/shaikh-s...la-translation
    (৬) উম্মাহর হারানো আকীদা | আকীদাতুল ওয়ালা ওয়াল-বারা-শাইখ আইমান আয যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ্ | https://gazwah.net/?p=26632
    (৭) বাক্যটি “আল-কায়েদা উপমহাদেশ: আচরণবিধি” থেকে নেওয়া | https://justpaste.it/achoronbidhi
    (৮) Exclusive মডারেট ইসলাম শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ফিতনা Ummah News Documentary | https://archive.org/details/exclusiv...cumentary-360p
    (৯) Eclusive ইন্টারফেইথ ষড়যন্ত্র আপনার ঈমান বাঁচান Ummah News Documentary | https://archive.org/details/intarfaith-sorojonto
    (১০) নববী মানহাজে ফিরতে আর কত দেরি Shaikh Hammad Sulaiman | https://archive.org/details/Nobobi_manhaj313
    (১১) তিনি ছিলেন এ ধরায় তাওহীদের সাক্ষী!–শহীদ উস্তাদ আহমাদ ফারুক রহিমাহুল্লাহ’র মুহতারামা স্ত্রী’র ঈমানদীপ্ত স্মৃতিচারণ | https://gazwah.net/?p=28410
    (১২) সত্যের পথে মৃত্যুর এই অদম্য বাসনা, আমাদেরকে থামতে দেয় না–উস্তাদ উসামা মাহমূদ হাফিজাহুল্লাহ | https://gazwah.net/?p=10448
    (১৩) আত্ব-ত্যাইফাতুল মানসুরাহ কারা? | Muhtaram Salahuddin | https://www.dawahilallah.com/showthread.php?2405
    (Note) ইসলামকে কি আমাদের জীবনের মূল টার্গেট বানাতে পেরেছি?–শাইখ ড. ইয়াদ আল কুনাইবী হাফিজাহুল্লাহ | https://www.dawahilallah.com/showthread.php?9310

    আলীম ও দাঈগণের লেখা থেকে সংকলিত ও সংযোজিত। লেখায় কোনো ভুল ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে মুহতারাম ভাইদের নিকট ধরিয়ে দেওয়ায় অনুরোধ।
    সাহসিকতা আয়ু কমায় না আর কাপুরুষতা আয়ু বৃদ্ধি করে না। জিহাদের মাধ্যমেই উম্মাহ জীবন লাভ করে।

  • #2
    এই পোস্টের একটি শিক্ষণীয় বিষয়।। আমাদের সকলেরই অধ্যয়নের পরিধি বাড়ানো উচিত।

    মা শা আল্লাহ, পোস্টটি খুব সুন্দর হয়েছে মনে হয়েছে। আমাদের বোনদের উচিত- মুহতারাম ভাইয়ের এই পোস্ট থেকে ফায়েদা অর্জন করা।
    পাশাপাশি অন্যান্য ভাইয়েরা নিজেদের মাহরাম বোনদের কাছে ও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেন। আল্লাহ আপনাদের তাওফীক দিন।
    দু‘আ করি আল্লাহ মুহতারাম ভাইয়ের কলমকে আরো শাণিত করে দিন ও উম্মাহর উপকার বয়ে আনে এমন পোস্ট নিয়মিত করার তাওফীক দিন।
    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 08-11-2021, 06:59 PM.
    “ধৈর্যশীল সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”-শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.

    Comment


    • #3
      Originally posted by Munshi Abdur Rahman View Post
      মা শা আল্লাহ, পোস্টটি খুব সুন্দর হয়েছে মনে হয়েছে। আমাদের বোনদের উচিত- মুহতারাম ভাইয়ের এই পোস্ট থেকে ফায়েদা অর্জন করা।
      পাশাপাশি অন্যান্য ভাইয়েরা নিজেদের মাহরাম বোনদের কাছে ও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেন। আল্লাহ আপনাদের তাওফীক দিন।
      দু‘আ করি আল্লাহ মুহতারাম ভাইয়ের কলমকে আরো শাণিত করে দিন ও উম্মাহর উপকার বয়ে আনে এমন পোস্ট নিয়মিত করার তাওফীক দিন।
      আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন

      Comment


      • #4
        মাশাআল্লাহ ভাই, খুব গুরুত্বপূর্ণ নসিহাহ

        Comment


        • #5
          মাশাল্লাহ অসাধারণ ভাইয়া।
          فمن یکفر بالطاغوت ویٶمن بالله فقد استمسک بالعروت الوثقی'
          کم من فاة قلیلة غلبت فاة کثیرة باذن الله

          Comment


          • #6
            মাশাআল্লাহ, অনেক কষ্ট করে পোস্টটি সাজিয়েছেন মনে হচ্ছে। আল্লাহ আপনাকে জাযায়ে খাইর দান করুন। আমীন
            নিয়মিত চালিয়ে যাবেন ভাই...
            ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

            Comment

            Working...
            X