Results 1 to 2 of 2
  1. #1
    Senior Member
    Join Date
    Jul 2015
    Location
    طاعون خوارج
    Posts
    894
    جزاك الله خيرا
    624
    478 Times جزاك الله خيرا in 286 Posts

    মুসলমানদের স্বপ্নের রাস্ট্র স্পেন

    তারেক বিন যিয়াদ ছিল মুসা বিন নুসাইর এর গোলাম। তারেক বিন যিয়াদ বর্বরদের সচেয়ে সম্ভ্রান্ত ও উত্তম বংশ ডেন্ডালে জন্মগ্রহণ করেন।মুসা বিন নুসাইর তারিক বিন যিয়াদের বিচক্ষণতা,যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে পারদর্শীতা, সততা ,আরবী ভাষায় বাগ্মীতা অন্যান্য গুণাবলী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। তারিকবিন যিয়াদের ইসলাম গ্রহণের পর তার এই নাম রেখেছিলেন মুসা বিন নুসাইরই।
    তিনি তারিকের যোগ্যতা দেখে তাকে নায়েবে সালার পদে আসীন করলেন। অবশেষে এই গোলাম পেয়ে গেলেন স্পেন অভিজানে সেনাপতির দায়িত্ব।

    তারেককে যে ফৌজ দেয়া হয়েছিল তার সংখ্যা ছিল সাত হাজার। এর মাঝে কয়েকশ সোয়ারীও ছিল।তাবৎ ফৌজ ছিল বর্বর।তাদেরকে টাংগের থেকে স্পেনে পৌঁছানোর জন্য বড় চারটি
    জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছিল। যখন জাহাজ নোঙ্গর তুলে নিল তখন তীরে সমবেত হাজার হাজার নর-নারী ও
    শিশু-কিশোর দু'হাত উপরে তুলে তাদের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করছিল। জাহাজের পালে হাওয়া লাগার পর তা দূরে চলে যেতে লাগল। রমণীদের নয়নযুগলে অশ্রুর বান বয়ে গেল।
    এ সাত হাজার ফৌজের অধিকাংশের ভাগ্যেই ছিল স্পেনে দাফন। তারা আল্লাহর পয়গাম সমুদ্রের অপর পারে
    পৌঁছানোর জন্যে চিরতরে বিদায় হয়ে যাচ্ছিল। সে ঐতিহাসিক তারিখটি ছিল,৭১১ খৃষ্টাব্দের ৯ই জুলাই।
    জাহাজে আরোহণ করার কিছুক্ষণ পর তারিক বিন যিয়াদ ঘুমিয়ে পড়েন এবং গভীর রাতে
    স্বপ্নে তিনিসাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার জিয়ারত লাভ করেন। রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
    ওয়া সাল্লাম উনাকে আশ্বস্ত করে বলেন, হে জিয়াদ! তুমি অগ্রসর হও। চিন্তিত হইওনা, তুমিই কামিয়াবী লাভ করবে। এই স্বপ্ন দেখে হযরত তারিক বিন জিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি
    বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অগ্রসর হন।তিনি যখনঘুম থেকে জেগে মুজাহিদদেরকে এই সুসংবাদ দিলেন তখন মুজাহিদদের সাহস ও জজবা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সমস্ত সৈন্য নিয়ে উপকূলের
    যেখানে জাহাজ ভিড়েছিল তার নাম ছিল কিপলী, পরবর্তিতে যা জাবালুত তারিক বা জিব্রাল্টার নামে প্রসিদ্ধ হয়।


    সম্পূর্ণ সেনাবাহিনী স্পেন উপকূলে নামার পর তারিক বিন যিয়াদ জাহাজের মাল্লাদের নির্দেশ দিলেন,"সব কটি জাহাজে আগুন লাগিয়ে দাও।" তার নির্দেশের পর সবকটি জাহাজে
    আগুন লাগিয়ে দেওয়া হল।
    জাবালুত-তারেকের বর্তমান চিত্র(ইবরাহিম আল ইবরাহিম মসজিদ সহ)

    তারেক বিন যিয়াদ তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে 'জাবালে ফাতাহ ' বা জাবালে তারেক(জিব্রাল্টার) এর উপকূলে অবতরণ করেছিলেন।সেখান থেকে সবুজ উপদ্বীপ পর্যন্ত উপকূলীয় এওলাকায়
    তিনি উল্লেখযোগ্য কোন প্রতিরোধের সম্মুখীন না হয়ে জয় করেন। কিন্তু তারপর রডারিক তার বিখ্যাত সেনাপতি
    থিওডমীরকে(Theodomir) বিশাল এক সেনাবাহিনী সহ তারেকের মোকাবেলা করার জন্য প্রেরণ করে। মুসলিম সেনাবাহিনীর সাথে থিওডমীরের পরপর অনেকগুলো লড়াই হয়। আর প্রতিটি
    লড়াইয়ে সে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। এমনকি একাধারে পরাজয় বরণ করতে করতে সে সাহসহারা
    হয়ে পড়ে। তখন সে রডারিককে পত্রযোগে জানায় যে," এমন এক জাতির আমি মুখোমুখী হয়েছি, যারা বড় বিস্ময়কর এক জাতি। তারা আসমান থেকে নেমে এসেছে নাকি জমিন ফুঁড়ে উঠে
    এসেছে তা' আল্লাহই ভাল জানেন। এখন
    আপনি নিজে অকুতোভয় সেনাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল এক সেনাবাহিনী নিয়ে তাদেরকে প্রতিরোধ না করলে তাদের সাথে মোকাবেলা করা কোনভাবেই সম্ভবপর নয়।"


    রডারিক তার সেনাপতির পত্র পেয়ে প্রায় একলাখ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী তৈরি করেন তারেকের সাথে মোকাবেলা করার জন্য।

    এদিকে তারিক মুসা বিন নুসাইয়ের কাছে আরো সৈন্য চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মুসা বিন নুসাইর আরো পাঁচ হাজার সৈন্য প্রেরণ করেন। ফলে তারিকের মোট সৈন্য
    সংখ্যা বারো হাজারে উপনীত হয়।

    লাক্কা প্রান্তরে উভয় বাহিনী লড়াইরের জন্য মুখোমুখী হলে তারেক বিন যিয়াদ এক ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন, যে ভাষণের প্রটিত শব্দ থেকে তারেক বিন যিয়াদের অবিচল সংকল্প,উচ্চ
    সাহসিকতা এবং আত্মনিবেদনের সুতীব্র আবেগ প্রকাশ পেয়েছিল।


    তারেকের মুজাহিদ সঙ্গীরা পূর্ব থেকেই জিহাদীন চেতনা ও শাহাদাতের বাসনায় উন্মত্ত ছিল। তারেকের জ্বালাময়ী এ ভাষণ তাদের অন্তরে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। তারা দেহ-মনের কথা বিস্মৃত
    হয়ে লড়াই করেন। একাধারে আটদিন পর্যন্ত এ লড়াই অব্যাহত থাকে।এদিন গুলোতে তারা যেভাবে যুদ্ধ করছিলতা আসলেই অতুলনীয়। তাইতো কবি ইকবাল তারেক বিন যিয়াদের ভাষায়
    সে সমস্ত আল্লাহ-পাগল মুজাহিদদের সম্পর্কে বলেছেন-

    " দিদ্বিজয়ী যোদ্ধা এসব,তোমার আজব বান্দা এঁরা,
    হৃদয়ে যাঁদের দিয়েছো তুমি,তোমার প্রমের আকুলধারা।
    ময়দানে যাঁরা আঘাত হানে, দরিয়ায় তুলে ঝড়-তুফান,
    শৌর্যে যাঁদের পর্বতমালা, ভেঙ্গে চুরে হয় খান খান।"

    পরিশেষে মুসলমানগণ আল্লাহর সাহায্য লাভ করেন এবং বিজয় তাদের পদচুম্বন করে। রডারিকের বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজয়বরণ করে পালিয়ে যায়। রডারিক নিজেও ঐতিহাসিক এ
    লড়াইয়ে নিহত হয়। কোন কোন বর্ণনায় জানা যায় যে, তারেক বিন যিয়াদ নিজেই তাকে হত্যা করেন,
    আর কোন কোন বর্ণনামতে তার শুন্য ঘোড়া সাগরতীরে পাওয়া যায়, যে কারণে অনুমান করা হয় যে, সে সাগরে ডুবে মারা গেছে।


    লাক্কা প্রান্তরের দীর্ঘ এক সপ্তাহব্যাপী বড় ধৈর্যসংকুল এই লড়াইয়ে মুসলমানদের অর্জিত বিজয় ইউরোপে মুসলমানদের অনুপ্রবেশের ভূমিকা ছিল। এ বিজয় মুসলমাওন্দের জন্য সমগ্র
    ইউরোপের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়।এরপর মুসলমানগণ স্পেনের সমস্ত শহর পদানত করতে করতে সম্মুখে অগ্রসর হতে
    থাকে।

    তাদের সাথে তখন মুসা বিন নুসাইরও তার বাহিনী সহ যোগদান করেন। তারা স্পেনের তৎকালীন রাজধানী টলেডো (Tollido)-কেও জয় করেন।
    তারপরেও তাদের অগ্রাভিজান অব্যাহত থাকে এমনকি তারা ফ্রান্সের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পিরনীজ পর্বতমালার পাদদেশে পৌঁছে যায়।
    ঐতিহাসিক গিবন লিখেছেন,"মুসা ইবনে নুসাইর একবার ফ্রান্সের এক পাহাড়ের চূড়ায় চড়ে পুরো ফ্রান্সকে পর্যবেক্ষন করে বললেন,তিনি আরব সৈন্যদের তার বাহিনীকে শামিল করে
    ইউরোপকে বিজয় করে কন্সট্যান্টিপোল পৌঁছবেন এবং সেখান হতে নিজ দেশ সিরিয়াতে প্রবেশ করবেন।"

    কিন্তু খলিফার নির্দেশে তাদের অগ্রাভিজান থামিয়ে দিতে হয়। তা না হলে হয়ত আজ ইউরোপের ইতিহাস অন্যভাবে লিখতে হত। তাইতো ঐতিহাসিক গীবন লিখেছেন," যদি ঐ
    মুসলমান জেনারেল সম্মুখে অগ্রসর হবার সুযোগ পেতেন,তাহলে ইউরোপের স্কুলে ইঞ্জিলের পরিবর্তে কুরআন
    পড়ানো হতো এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও মুহাম্মাদের রিসালাতের সবক দেওয়া হতো। আর আজকে রোমে পোপের পরিবর্তে শায়খুল ইসলামের হুকুম কার্যকর হতো।"
    স্পেনে গিয়ে মুসলমানরা করডভায় একটি মসজিদ র্নিমান করে।মসজিদটি দেখে সে সময় মুসলিমরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতা-সংস্কৃতিতে কতটা উন্নত ছিল তা জানা যায়। মসজিদটির আয়তন
    ৩৫১৫০ বর্গ গজ।প্রায় ৩৫০০ পিলিয়ার বিশিষ্ট এ মসজিদে সূর্যের তাপ প্রবেশের জন্য রয়েছে ৩৬৫ টি স্তম্ভ যাতে প্রতিদিন মসজিদ আলোকিত হয়।সারা স্পেনে তৈরি হয় হাজারো মসজিদ।

    শুধুমাত্র গ্রানাডা শহরেই ছিল ১৭০০ মসজিদ কিন্তু হায় আফসোস একসময় যেই মসজিদ আল্লাহ উ আকবর ধোনিতে মুখোরিত ছিলো সেই মোসজিদেই আজ খ্রিষ্টানদের ঘন্টা বাজে
    সেখানে ওজু করতে দেওআ হোয় না নামায তো দুরে থাক খালি পায়ে ধোকা জায় না জুতা পোরে ধোকতে হোয় মুসলিমরাই সোর্বোপ্রথম খ্রিষ্টানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের
    শিক্ষা দেয় সেখানে তৈরি কোরে আল-মাদরাসা নামক বিশ্ববিদ্দালয় যেখানে খ্রিষ্টানরা শিক্ষা গ্রহন কোরে যার কিনা বর্তমান নাম লা-মাদরাযা ।

  2. The Following User Says جزاك الله خيرا to কাল পতাকা For This Useful Post:

    media jihad (04-26-2019)

  3. #2
    Senior Member
    Join Date
    Jul 2015
    Location
    طاعون خوارج
    Posts
    894
    جزاك الله خيرا
    624
    478 Times جزاك الله خيرا in 286 Posts
    ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দেরে ১৩ মে মাসারার যুদ্ধের পর থেকে স্পেনের ওপর খ্রিষ্টানদের নানামুখী আগ্রাসন ও সন্ত্রাস চলতে থাকে। ফলে স্পেনের নিরাপত্তা হয়ে পড়ে হুমকির সম্মুখীন। কিন্তু স্পেনের ভেতরে পচন ধরার প্রাথমিক সূত্রগুলো তৈরি হচ্ছিল ধীরে ধীরে। সমাজের নেতৃস্থানীয় র্পযায়ে রাজনৈতিক বোধ ও সচতেনতা ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করছিল। রাজনৈতিক নেতৃর্বগ রাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র বিভাজনের কাণ্ডজ্ঞান থেকে সরে আসছিল দূরে। এদিকে ইউরোপের আকাশে ক্রুসেডের র্গজন শোনা যাচ্ছে। স্পেনের বিরুদ্ধে যে আক্রোশ কাজ করছিল সেটাই তিনশ বছরে পরিপুষ্ট হয়ে ১০৯৭ সালে গোটা ইসলামী দুনিয়ার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে ভয়াবহ তুফানের মতো। ১০৯৮-এর জুনে এন্টয়িক দখলের সাফল্যজনক কিন্তু নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠা এ তুফান ১২৫০ সালে অষ্টম ক্রুসেডের পরিসমাপ্তির পর স্পেনের দিকে মোড় ঘোরায়। স্পেনে তখন সামাজিক সংহতি ভঙ্গুর। খিস্টান গোয়েন্দারা ইসলাম র্ধম শিখে আলেম লেবাসে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতিও করছে। তাদের কাজ ছিলো স্পেনের সমাজ জীবনকে অস্থিতিশীল ও শতচ্ছিন্ন করে তোলা।
    ১৪৬৯ সালে র্ফাডিনান্ড ও ইসাবেলা স্পেনে মুসলিম সভ্যতার অস্তিত্বকে গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য পরস্পর বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৪৮৩ সালে র্ফাডিনান্ড ও ইসাবেলা একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী পাঠান মালাগা প্রদেশে। যাদের প্রতি হুকুম ছিল শস্যক্ষেত্র জ্বালিয়ে দেয়া, জলপাই ও দ্রাক্ষা গাছ কেটে ফেলা, সমৃদ্ধিশালী গ্রাম ধ্বংস করা, গবাদিপশু তুলে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সেই সময় মৃত্যু ঘটে স্পেনের শাসক আবুল হাসান আলীর। শাসক হন আজজাগাল। এক র্পযায়ে প্রাণরক্ষা ও নিরাপত্তার অঙ্গীকারের ওপর নগরীর লোকেরা আত্মসর্মপণ করলেও নগরী জয় করেই র্ফাডিনান্ড চালান গণহত্যা। দাস বানিয়ে ফেলেন জীবিত অধিবাসীদের। এরপর র্ফাডিনান্ড নতুন কোনো এলাকা বিজিত হলে বোয়াবদিলকে এর শাসক বানাবে বলে অঙ্গীকার করে। ৪ ডিসেম্বর ১৪৮৯। আক্রান্ত হয় বেজার নগরী। আজজাগাল দৃঢ়ভাবে শত্রুদের প্রতিহত করলেন। কিন্তু র্ফাডিনান্ডের কৌশলে খাদ্যাভাব ঘটে শহরে। ফলে শহরের অধিবাসী নিরাপত্তা ও প্রাণরক্ষার র্শতে আত্মসর্মপণ করে। কিন্তু তাদের ওপর চলে নৃশংস নির্মমতা। আজজাগাল রুখে দাঁড়ালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে করা হয় আফ্রিকায় নির্বাসিত।
    ডিসেম্বর ১৪৯১-এ গ্রানাডার আত্মসর্মপণের র্শত নির্ধারিত হলো। বলা হলো : ছোট-বড় সব মুসলমানের জীবনের সর্ম্পূণ নিরাপত্তা দেয়া হবে। তাদরে মুক্তভাবে র্ধম-র্কম করতে দেয়া হবে। তাদের মসজিদ, র্ধমীয় প্রতিষ্ঠান অক্ষত থাকবে। তাদের আদবকায়দা, আচার-ব্যবহার, রাজনীতি, ভাষা ও পোশাক-পরিচ্ছদ অব্যাহত থাকবে। তাদের নিজেদের আইনকানুন অনুযায়ী তাদরে প্রশাসকরা তাদের শাসন করবেন...।
    আত্মসর্মপণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন মুসা বিন আকিল। তিনি বললেন, গ্রানাডাবাসী! এটা একটা প্রতারণা। আমাদের অঙ্গারে পরিণত করার জ্বালানি কাঠ হচ্ছে এ অঙ্গীকার। সুতরাং প্রতিরোধ! প্রতিরোধ!! কিন্তু গ্রানাডার দিন শেষ হয়ে আসছিল। ১৪৯২ সালে গ্রানাডাবাসী আত্মসর্মপণ করল।
    রানী ইসাবেলা ও র্ফাডিনান্ডের মধ্যে শুরু হলো চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতা। চারদিকে চলছিল ভয়াবহ নির্যাতন। পাইকারি হারে হত্যা র্ববরতার নির্মম শিকার হতে থাকলেন অসংখ্য মুসলমান। স্পেনের গ্রাম ও উপত্যকাগুলো পরিণত হয় মানুষের কসাইখানায়। যেসব মানুষ র্পবতগুহায় আশ্রয় নিয়েছিল, তাদেরও মেরে ফেলা হলো আগুনের ধোঁয়া দিয়ে। পহেলা এপ্রিল, ১৪৯২। র্ফাডিনান্ড ঘোষণা করলেন, যেসব মুসলমান গ্রানাডার মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ। লাখ লাখ মুসলমান আশ্রয় নিলেন মসজিদগুলোতে। র্ফাডিনান্ডের লোকেরা সবগুলো মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিল। তিনদিন র্পযন্ত চললো হত্যার উত্সব। র্ফাডিনান্ড লাশপোড়া গন্ধে অভিভূত হয়ে হাসলেন। বললেন, হায় মুসলমান! তোমরা হলে এপ্রিলের বোকা (এপ্রিল ফুল)।
    এই গণহত্যার পরও যেসব মুসলমান আন্দালুসিয়ায় রয়ে গিয়েছিলেন, তাদের র্ফাডিনান্ডের ছেলে তৃতীয় ফিলিপ সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় সমুদ্রপথে নির্বাসিত করেন। তাদরে সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখেরও বেশি। ইতিহাস বলে, তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক লোকই জীবিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক মানুষ সমুদ্রের গহীন অতলে হারিয়ে যান চিরদিনের জন্য। এভাবেই মুসলিম আন্দালুসিয়া আধুনিক স্পেনের জন্ম দিয়ে ইতিহাসের দুঃখ হয়ে বেঁচে আছে। সেই বেঁচে থাকা বোয়াবদিলদের বিরুদ্ধে ধিক্কাররূপে র্ফাডিনান্ডের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদরূপে।
    দুনিয়ার ইতিহাস কী আর কোনো আন্দালুসিয়ার নির্মম ট্রাজেডির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল? সম্ভবত হয়নি এবং হতে চায় না কখনও। স্পেন হয়ে আছে মুসলিম উম্মাহর শোকের স্মারক। পহেলা এপ্রিল আসে সেই শোকের মাতম বুকে নিয়ে। শোকের এই হৃদয়ভাঙা প্রেক্ষাপটে মুসলিম জাহানের জনপদে জনপদে আন্দালুসিয়ার নির্মমতার কালো মেঘ আবারও ছায়া ফেলছে। এশিয়া-আফ্রিকাসহ র্সবত্রই দেখা যাচ্ছে মুসলিম নামধারী একশ্রেণীর বিশ্বাসঘাতক বোয়াবদিল এবং ক্রুসেডীয় উন্মত্ততার প্রতিভূ র্ফাডিনান্ডদের যোগসাজশ। আন্দালুসিয়ার মুসলমানদের করুণ পরিণতি যেন ধেয়ে আসতে চায় এই মানচিত্রের আকাশেও। এ জন্য র্পূব প্রস্তুতি হিসেবে সমাজ-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বির্পযয়ের প্রলয়বাদ্য চলছে।। যে স্পেন এ আজান না দিলে সূর্য উঠতো না যে স্পেন এ আজান না দিলে সূর্য ডুবতো না সে স্পেন পরিনত হয় খ্রিষ্টানদের রাস্ট্রে রোজ কিয়ামতের দিন এ স্পেন থেকে কত ওলি আউলিআ উতবেন তা আল্লাহ ই ভালো জানেন কবি আল্লামা ইকবাল বলেন ওহে স্পেন ও পরতুগিজ রা তোমরা যে বালুর উপর হাটো তার প্রতিটি বিন্দুতে মিশে আছে হাজারো আলেম ওলামার সিজদাহ । পরিশেষে বলা যায়, যে জাতি তরবারীর ছায়াতলে এ ভূমিতে তাকবীর ধ্বনীর ফোয়ারা উৎসারিত করেছিল, যে জাতি দীর্ঘ আটশ' বছর পর্যন্ত বিশ্ববাসীর নিকট থেকে নিজেদের দোর্দন্ডপ্রতাপের স্বীকৃতি আদায় করেছিল, তারা যখন বিলাসিতা, বাদ্য ও সঙ্গীতের তানে বিভোর হয়ে গাফলতের চিরনিদ্রায় শায়িত হল তখন এ স্বর্গভূমি তাদের হাতছাড়া হল আর সেখানে তাদের অস্তিত্বের কোন চিহ্ন সেখানে অক্ষত রইল না, যা হল অন্য আরেকটি ইতিহাস ।

    তার এ নির্দেশ অনেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না, আর অনেকে এ চিন্তা করছিল ,এ নির্দেশ কেবল সে সিপাহসালার করতে পারে যার মেধা-বুদ্ধি বিকৃতি ঘটেছে,কারণ তারা মনে
    করছিল তারা তো স্বদেশভুমি থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে, এখন তারা কিভাবে দেশে ফিরবে।তখন
    তারিক বিন যিয়াদ স্বহস্তে তরবারী উত্তোলন করে সে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন যা আজো ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং কিয়ামত তক থাকবে। সে ভাষণের
    সারমর্ম ছিল,'হে বাহাদুর যুবক ভাইয়েরা ! এখন পিছু হটবার ও পলায়ন করার কোন সুযোগ নেই।
    তোমাদের সম্মুখে দুশমন আর পশ্চাতে সমুদ্র।না পিছনে পলায়ন করতে পারবে না সামনে। এখন তোমাদের সামনে বিজয়লাভ বা শাহাদতবরণ ছাড়া আর তৃতীয় কোন পথ অবশিষ্ট নেই।
    আর সব দেশই আমাদের দেশ, কারণ এ সবই আমাদের আল্লাহর দেশ।
    -সংগ্রহীত

  4. The Following User Says جزاك الله خيرا to কাল পতাকা For This Useful Post:

    asad ul qaeda (08-29-2015)

Similar Threads

  1. Replies: 1
    Last Post: 08-17-2015, 11:35 PM

Posting Permissions

  • You may not post new threads
  • You may not post replies
  • You may not post attachments
  • You may not edit your posts
  •