Announcement

Collapse
No announcement yet.

মুসলিম উম্মাহর মাঝে ঐক্যতা এবং ভ্রাতৃত্ব

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • মুসলিম উম্মাহর মাঝে ঐক্যতা এবং ভ্রাতৃত্ব

    [CENTER]
    মুসলিম উম্মাহর মাঝে ঐক্যতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধই একমাত্র পথ

    মহান আল্লাহ্* তায়ালা সর্বশক্তিমান, তাঁর পবিত্র কোরআন এ তাঁর ঈমানদার বান্দাদের উদ্দেশ্য করে ভক্তি ও ঐক্যতা সম্বন্ধে বহু আয়াত নাযিল করেছেন। এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐক্যতা ভ্রাতৃত্ববোধ মহান আল্লাহ্* তায়ালার কেবল একটি বড় নিয়ামতই নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐক্যতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ দুনিয়া এবং আখেরাতে সাফল্যের মাধ্যম।

    তোমরা সবাই মিলে আল্লাহ্*র রশিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা আল ইমরান, আয়াত ১০৩)

    অভ্যন্তরীণ বিরোধ ইমানদারদের শক্তি সামর্থ্য লাঘব করে এবং আল্লাহ্* তায়ালার নেয়ামত হতে বঞ্চিত করে। আমরা যদি ইসলামের ইতিহাসের দিকে একটু নজর দেই- তাহলে অনুধাবন করতে পারবো- কেবল অভ্যন্তরীণ বিরোধীতার কারণেই আবির্ভাব ঘটেছিল দুর্যোগপূর্ণ জটিলতা ও সমস্যার।
    সুতরাং- ধৈর্য, সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা, আত্ম সংশোধন, আরও- বিরোধ, বিচ্ছিন্নতা ও ষড়যন্ত্র থেকে নিজেকে দূরে রাখা, এই সব বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই বেশিরভাগ শরিয়াহ ভিত্তিক বইগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়।

    তোমরা আল্লাহ্* তায়ালা ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো, নিজেদের মধ্যে পরস্পর ঝগড়া বিবাদ করো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রতিপত্তি খতম হয়ে যাবে, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো; অবশ্যই আল্লাহ্* তায়ালা ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন। (সূরা আল আনফাল, আয়াত ৪৬)

    আমরা যদি অহুদ যুদ্ধ ও সেদিন ঘটে যাওয়া বিরোধের কারণ সমূহের দিকে উদাহরণ হিসাবে দৃষ্টিপাত করি, তাহলে আমাদেরকে এই সিদ্ধান্তে পোঁছতে হবে- প্রথমেই তাৎক্ষনিক এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিবাদের ইতি টানতে হবে। উহুদ যুদ্ধে নিয়োগপ্রাপ্ত কমান্ডার আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (আল্লাহ্*র অনুগ্রহ শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক) কে তার অধীনে থাকা পঞ্চাশ মুজাহিদীন্দের নিয়ে রামা পর্বতে অবস্থান নিতে আদেশ প্রদান করেছিলেন রাসুল মুহাম্মাদ (সাঃ)। মুহাম্মাদ (সাঃ) কোন পরিস্থিতিতেই তাদেরকে অবস্থানটি ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন আব্দুল্লাহ বিন যাবির বন্ধুত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ তর্ক ও বিরোধ দেখা দিলো, তারা তাদের অবস্থান ত্যাগ করলো, এবং এই সুযোগটি শত্রুরা গ্রহন করে এবং পিছন থেকে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। কারনবশত যুদ্ধটি পালটা শত্রুদের অধীনে ও পক্ষে চলে যায়।

    এই সামান্যতম বিরোধের কারণেই, বিশ্বাসী ইমানদাররা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। রাসুল (সাঃ) এর দন্ত্য পরে যায়, তাঁর মুখমণ্ডলেও তিনি আঘাত পান। হামযা (আল্লাহ্*র অনুগ্রহ শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক) আল্লাহ্* তায়ালার ও রাসুল (সাঃ) এর সিংহ সহ রাসুল (সাঃ) উনার সত্তর জন সঙ্গী সেই ময়দানে শহীদ হন। মদিনার প্রান্তর কেঁপে ও ক্রন্দন করে উঠেছিল। মুসলমানদের সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত হেনেছিল। এবং তা উপলব্ধি করতে পেরে সেই দিন আল্লাহ্* তায়ালার শত্রুদের আত্মা পরিতুষ্ট ও সন্তুষ্ট হয়েছিল।

    মহান আল্লাহ্* তায়ালার জন্য মুসলমানদের ঐক্যতার জন্য নিজের আত্ম ক্ষমতা ত্যাগ করায় হচ্ছে এই দ্বন্দ্ব বিরোধ নির্মূলের একমাত্র পথ। হযরত হাসান বিন আলি (আল্লাহ্*র অনুগ্রহ শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক) খিলাফতের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন, যার ফলে হাজারো মুসলমানদের জান, মাল ও সম্মান রক্ষা পেয়েছিল। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ভবিষ্যতবাণী বাস্তবরূপে প্রমাণিত হয় যে-

    “এই ছেলে আমার একজন সায়্যিদ (নেতা প্রধান)। এবং আমি আশা রাখি তার মাধ্যমে আমার উম্মতের দুই সম্প্রদায় নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করবে, বন্ধুত্ব স্থাপন করবে”

    এই হাদিস এই নির্দেশনা প্রদান করে- অনুগত নেতারা তারাই যারা তাদের দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য, দলের মধ্যে ঐক্যতার জন্য, নিজেদের বিসর্জন দিয়ে দেন।

    যখন কেউ সে নিজেকে নির্দোষ মনে করেন, এবং নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত, তা অকেজো মনে করেন বা গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে তার যে কোন মতামতকে যদি অগ্রাধিকার দেওয়া না হয়, এ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতা বিশ্বাসী ইমানাদারদের জন্য সেই কাউসারের জলাধার তার প্রাপ্য হয়ে যায়।

    প্রিয় রাসুল মুহাম্মাদ (সাঃ) তিনি বলেনঃ
    “আমি চলে যাওয়ার পর স্বার্থপরায়ণতার আবির্ভাব তোমার মধ্যে দেখা দিবে, সুতরাং ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না কাউসারের জলধারার নিকটে আমাদের মিলিত ও সাক্ষাৎ হয়” (আল হাউদ)।

    সেই দিন, কাউসারের জলধারার নিকটে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সাথে সেই সাক্ষাৎ এই দুনিয়া এবং এর বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেও অনেক বেশি উত্তম।

    মতানৈক্য ও বিরোধ একটি স্বাভাবিক বিষয়। তাই, পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে মুসলমানদের এই বিরোধ-মতানৈক্যের ও ঐক্যতার ব্যাপারে বেশি আলোকপাত ও গুরুত্ব আরোপ করে সমাধান দিয়েছে। আল্লাহ্* তায়ালার কাছে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ, তাঁর হুকুম মেনে চলা, পুরোপুরি ইসলাম শরিয়াহ ভিত্তির উপর নিজের জীবনকে সপে দেওয়ায় হতে পারে দুনিয়া ও আখেরাতে সাফল্য এবং এই ভাইরাস নির্মূল, নিরসনের কার্যকরী একমাত্র পথ।

    অতঃপর কোন ব্যাপারে তোমরা যদি একে অপরের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সেই বিষয়টির ফয়সালার জন্য আল্লাহ্* তায়ালা ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। (সূরা আন নেসা, আয়াত ৫৯)

    যেকোনো অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সমস্যার বিষয়ে তা প্রাথমিক পর্যায় থাকতেই মুহাম্মাদ (সাঃ) সেই বিষয়ে তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহন করতেন। তিনি মতবিরোধের স্থানে সামিল থাকতেন এবং এক উপযুক্ত মীমাংসা করার চেষ্টা করতেন। শান্তি, ঐক্যতা, ভ্রাতৃত্বের খাতিরে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জীবন ও তাঁর পদক্ষেপ শিক্ষণীয় এবং জীবন দৃষ্টান্ত। মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যতা, ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে, তাদের মধ্য থেকে দ্বন্দ্ব-বিরোধ, মতানৈক্যতা নির্মূল করতে হলে মুসলিম উম্মাহর নেতাদের নিজ থেকে বিষয়টির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জীবন দৃষ্টান্ত হতে শিক্ষা গ্রহন করতে হবে।

    এই কারণেই, নতুন শ্রদ্ধেয় আমীর ও নেতা মোল্লাহ আখতার মোহাম্মদ মান্সুর (আল্লাহ্* (সুবঃ) তাঁকে হেফাযত করুন) আল্লাহ্* তায়ালার কাছে পুরোপুরি নিজেকে সমর্পণের মাধ্যমে, বিশ্ব রণাঙ্গনের প্রথম সারীর বীরদের উদ্দেশ্যে- ঐক্যতা, ভ্রাতৃত্ব, একাকগ্রতা বজায় রাখার উপদেশ দিয়েছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে তাঁর ভ্রাতৃত্বদের, বন্ধুদের উদ্দেশ্যে মতানৈক্য, বিচ্ছেদ, দ্বন্দ্ব বিরোধের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে এর ভয়াবহতা সম্বন্ধে আলোকপাত করেছেন।

    ইসলামিক এমিরাটস অফ আফগানিস্তান

    অনুবাদটিতে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ইনশা’আল্লাহ্* শুধরে দিবেন।



  • #2
    অতঃপর কোন ব্যাপারে তোমরা যদি একে অপরের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সেই বিষয়টির ফয়সালার জন্য আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। (সূরা আন নেসা, আয়াত ৫৯)

    আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
    (সূরা আল আনফাল, আয়াত ৪৬)
    Last edited by power; 08-30-2015, 11:56 PM.
    যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়। এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী। (১১০ঃ১-৩)

    Comment

    Working...
    X