Results 1 to 8 of 8
  1. #1
    Umar Abdur Rahman
    Guest

    বাংলা || বিজয়ী উম্মাহ'র প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা - শায়খ আইমান আজ জাওয়াহিরি হাফি. || সকল পর্ব একত্রে


    বিজয়ী উম্মাহ'র প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা
    শায়খ ডক্টর আইমান আজ জাওয়াহির (হাফিজাহুল্লাহ)



    (৩য় পর্ব শীঘ্রই এই পোস্টেই আসবে... নতুন পর্ব আসামাত্রই আপডেট করা হবে ইনশা'আল্লাহ)

    প্রথম পর্ব - কে আছে কুর'আনের হেফাজত করবে?

    ডাউনলোড
    ক্লিক করুন



    দ্বিতীয় পর্ব - বিচ্ছিন্ন হয়ো না

    ডাউনলোড
    ক্লিক করুন



    চতুর্থ পর্ব - সীসাঢালা প্রাচীর

    ডাউনলোড
    ক্লিক করুন



    পঞ্চম পর্ব - আমরা গাইরুল্লাহ'র সামনে কখনই মাথা নত করি না

    পঞ্চম পর্ব ডাউনলোড
    ক্লিক করুন



    এক নজরে

    প্রথম পর্ব - tinyurl.com/doctor-risalah1
    দ্বিতীয় পর্ব - tinyurl.com/doctor-risalah2
    (এই লিঙ্কেই আপলোড হবে ইনশা'আল্লাহ)
    তৃতীয় পর্ব - tinyurl.com/doctor-risalah3
    চতুর্থ পর্ব - tinyurl.com/doctor-risalah4
    পঞ্চম পর্ব - tinyurl.com/doctor-risalah5




    Last edited by Umar Abdur Rahman; 04-08-2017 at 10:02 PM.

  2. The Following 3 Users Say Thank You to Umar Abdur Rahman For This Useful Post:

    ফুরসান (04-04-2017),ABU SALAMAH (04-04-2017),Md.Abdullah (04-05-2017)

  3. #2
    Senior Member
    Join Date
    Mar 2016
    Location
    UK
    Posts
    277
    Thanks
    403
    Thanked 199 Times in 121 Posts
    jajak Allah khair.
    রবের প্রতি বিশ্বাস যত শক্তিশালী হবে, অন্তরে শয়তানের মিত্রদের ভয় তত কমে যাবে।

  4. The Following 2 Users Say Thank You to ABU SALAMAH For This Useful Post:

    ফুরসান (04-04-2017),Md.Abdullah (04-05-2017)

  5. #3
    Senior Member Md.Abdullah's Avatar
    Join Date
    Mar 2017
    Location
    হিন্দুস্তান
    Posts
    163
    Thanks
    725
    Thanked 114 Times in 69 Posts
    জাযাকাল্লাহ....
    Last edited by Umar Abdur Rahman; 04-05-2017 at 08:02 PM.

  6. The Following User Says Thank You to Md.Abdullah For This Useful Post:

    ফুরসান (04-04-2017)

  7. #4
    Umar Abdur Rahman
    Guest

    বিজয়ী উম্মাহর প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা (প্রথম পর্ব) || কে আছে, কুরআনের হেফাজত করবে? || শায়খ আইমান আল-জাওয়াহিরী (হাফিজা


    বিজয়ী উম্মাহর প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা
    প্রথম পর্ব

    কে আছে, কুরআনের হেফাজত করবে?
    শায়খ আইমান আল-জাওয়াহিরী (হাফিজাহুল্লাহ)



    আস-সাহাব মিডিয়া

    بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه
    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবা ও যারা তাঁর সাথে বন্ধুত্ব রাখে তাদের উপর।
    হে সর্বস্থানের মুসলিম ভাইগণ!

    আস-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ!

    এই সিরিজ শুরু করার পূর্বে সংক্ষিপ্তভাবে সেই মহা আন্দোলন থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে চাই, যাকে আরব বসন্ত বলে ভূষিত করা হয়েছে, যা মিশর, তিউনিশিয়া ও ইয়ামানে ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। আর লিবিয়ায় তার পরিণতি কোন্ দিকে গড়ায় তা আল্লাহই ভাল জানেন। কিন্তু আল্লাহর সাহায্য ও তাওফীকে শামে এর মাধ্যমে বিজয়ের পথ সম্পর্কে অবগত হওয়া গেছে।

    বোঝার সহজের জন্য মিশরে কি কি ঘটেছে তার ইতবৃত্তি সংক্ষেপে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। কারণ এতে অক্ষম ও পথচ্যুত মুসলিমদের ব্যর্থতার করুন চিত্র আর উদ্ধত ও অবাধ্য ক্রুসেডারদের শত্রুতার প্রকৃত রূপ ফুটে উঠবে এবং মিশরের ঘটনাবলী থেকে যে ফলাফল আবিস্কার করা যাবে, তা অন্যান্য দেশেও বাস্তবায়িত করা যাবে।

    মূলত: মিশরের কাহিনী ২৫ শে জানুয়ারী ২০১১ থেকে শুরু হয়নি। অনুরূপ আদবিয়া চত্ত্বরের হত্যাযজ্ঞ, গণবিপ্লব ও সেনাবাহিনীর উত্থানের মাধ্যমে তা শেষও হয়ে যায়নি। কাহিনী এরও পূর্বের।
    এই কাহিনীর সূচনা হয়েছে ইমাম ও সংস্কারক শহীদ হাসানুল বান্না রহ: এর মাধ্যমে। এই মহান দায়ীই যুবকদেরকে বিনোদনকেন্দ্র, মদ্যশালা ও বিকৃত সূফিবাদের আসরসমূহ থেকে উদ্ধার করে তাদেরকে একটি সুবিন্যস্ত বাহিনীর রূপ দান করেছেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে।

    কিন্তু এই সমস্ত অবদান সত্ত্বেও তিনি অনেক বড় বড় কিছু ভুলের মধ্যে পড়েছেন, যা অনেক ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণা সৃষ্টি করেছে এবং ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে।

    শায়খ হাসান আল-বান্না তার আন্দোলন শুরু করেছেন বাহ্যত: বাদশা ফুআদের সমর্থনের মাধ্যমে। যে একজন ভ্রষ্ট শাসক ছাড়া কিছুই ছিল না। যে ১৯২৩ সালের সংবিধানের আলোকে শাসন পরিচালনা করত, যেটা শুধু মিশরের ইতিহাসেই নয়; বরং আরবের সংবিধানসমূহের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান। এছাড়া স্বয়ং ফুআদও ছিল মিশরে দখলদার ইংরেজদের একজন অনুগত সদস্য।

    তার মৃত্যুর পর তারই আদর্শ নিয়ে ক্ষমতায় আসে তার পুত্র ফারুক। যাকে হাসানুল বান্না রহ: অনেক বেশি সমর্থন করেন। যখন সে শাসন ক্ষমতায় বসে, তখন শায়খ হাসান আল-বান্না আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সা:এর সুন্নাহর ভিত্তিতে তার কাছে ইখওয়ানুল মুসলিমীনের বায়আতের ঘোষণা দেন।

    অথচ ফারুক এই বায়আত গ্রহণ করেনি, যদিও ইখওয়ানের সমর্থনের কারণে আনন্দিত হয়েছে। কারণ সে হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের দ্বারা শাসনকারী একজন শাসক। একই সময়ে সে ইংরেজ কর্তৃত্বেরও অনুগত ছিল।
    শায়খ হাসান আল-বান্না এই সংশয়কে শুধু প্রচার করেই ক্ষ্যান্ত হলেন না; বরং তাতে আপাদমস্তক ডুব দিলেন। তাকে আমিরুল মুমিনীন বলে ডাকলেন এবং যেকোন সময়, যেকোন স্থানে তার সমর্থনে বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন করলেন ও তাকে কুরআনের হেফাজতকারী বলে উপাধি দিলেন।

    একারণে শায়খ হাসানুল বান্না রহ: এর কথায় ৪০ লাখ লোক ফারুকের হাতে এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করে যে, তারা কুরআনের হেফাজতের জন্য তার সামনে মরতে রাজি এবং ইখওয়ানুল মুসলিমীন হল তার একনিষ্ঠ সৈন্যবাহিনী। তাদের পত্রিকা আরো দাবি করে যে, তারা তার জন্য নিজেদের আত্মাগুলোকে হাদিয়া হিসাবে পেশ করবে।

    শায়খ হাসানুল বান্না ফারুককে মুসলমানদের খেলাফতের জন্য চেষ্টা করা ও ইসলামী বিশ্বের নেতৃত্ব দান করার প্রতি উৎসাহিত করে। তাকে বায়আত দেওয়ার জন্য ইখওয়ানুল মুসলিমীনের চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করে।
    আর তার নিকট আবেদন করে, যেন সে এই মর্মে একটি রাষ্ট্রীয় ফরমান জারি করে যে, মুসলিম মিশরে ইসলামের সাথে সামঞ্জস্য ছাড়া কোন আইন করা হবে না। আর তখন ইখওয়ানুল মুসলিমীনের ১ লক্ষ্য যুবক তার জন্য সদাপ্রস্তুত সৈনিক হয়ে যাবে। অত:পর এ ব্যাপারে অপেক্ষার প্রহর অনেক দীর্ঘ হয়।

    ১৯৪৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে, যখন ফারুক ফিলিস্তীনে মিশরীয় সেনাবাহিনীর অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার দালালী নিয়ন্ত্রণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল, যখন উক্ত সেনাবাহিনী আপাদমস্তক মাস্তি ও পাপাচারে নিমজ্জিত ছিল, সে সময় শায়খ হাসানুল বান্না তাকে এই বলে সম্ভোধন করেন:
    হে আমাদের অভিভাবক! আপনি আমাদেরকে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালিত করুন। জাতি আপনার পশ্চাতে রয়েছে। আর আপনার চতুর্পার্শ্বে আল্লাহ সর্বোত্তম হেফাজতকারী ও সর্বশক্তিমান সাহায্যকারী।
    শায়খ ইমাম শুধু এই হঠকারিতাপূর্ণ ধোঁকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বরং তিনি এর সাথে আরেকটি প্রতারণা যোগ করেন, যা ভয়াবহতায় তার চেয়ে কম নয়।

    তা হচ্ছে তিনি একটি অপরিপূর্ণ ও অস্পষ্ট কথার অবতারণা করেন। তিনি বলেন: সাংবিধানিক আইনের শাসন পরিপূর্ণভাবে ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাংবিধানিক আইনের শাসন পৃথিবীর অন্য সকল শাসনব্যবস্থার তুলনায় ইসলামের অধিক নিকটবর্তী। ইখওয়ানুল মুসলিমীন অন্য কোনো শাসনব্যবস্থাকে তার সমকক্ষ মনে করে না।

    শায়খ শুধু এতটুকুতেই ক্ষান্ত হননি। তিনি আরো কঠিন ভুলের মধ্যে লিপ্ত হন। তিনি ১৯২৩ সালের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের প্রশংসা করলেন। তিনি দাবি করেন:
    যে মৌলিক নীতিমালার উপর মিশরের সংবিধান প্রতিষ্ঠিত তা ইসলামী মূলনীতিসমূহের বিরোধী নয়। তা ইসলামী শাসনব্যবস্থা থেকে দূরেও নয় এবং তার সাথে সাংঘর্ষিকও নয়। মিশরের সংবিধান প্রণেতারা তা প্রণয়ন করার সময় এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন, যেন তার বর্ণনাসমূহের মধ্য থেকে কোন বর্ণনা ইসলামী মূলনীতিসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।

    এটি একটি দু:সাহসিকতাপূর্ণ ভ্রান্তি, যা ইসলামী শাসনব্যবস্থার মূলতত্ত্ব সম্পর্কে সাধারণ ধারণা রাখে, এমন কারো নিকট এটা অস্পষ্ট নয়। স্বয়ং ইমাম শহীদ রহ:ই পরবর্তীতে তার ভ্রান্তি স্বীকার করেছেন।

    ইমাম হাসানুল বান্না রহ: শুধু এই চিন্তাগত ভুলের মধ্যেই ক্ষ্যান্ত থাকেননি। বরং তিনি এটা কার্যকর করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যান। ফলে ইখওয়ানুল মুসলিমীনের ষষ্ঠ অধিবেশন পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
    কারণ তাদের ধারণামতে পার্লামেন্ট নির্বাচন উম্মাহর মিম্বার। যেখান থেকে যেকোন শুভ চিন্তার কথা শোনা হয় এবং প্রতিটি রুচিশীল দিকনির্দেশনা প্রকাশিত হয়।

    যেন তাদের ধারণামতে এটি উকায মেলা বা হায়দবারাক বা হাওয়ারীদের পরামর্শ সভার একট নতুন সংস্করণ, যাতে যেকোন আওয়াজকারী যা ইচ্ছা চিৎকার করবে, অত:পর তা কার্যকর করে ফেলবে।
    এসকল ভ্রান্তিতে ডুবন্ত অবস্থায় শায়খ হাসানুল বান্না দুই দফা নির্বাচনে প্রার্থীতা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমবার তাম্রমন্ত্রীর ইঙ্গিতে প্রার্থীতা থেকে সরে পড়তে বাধ্য হন। দ্বিতীয়বার অনড় থাকতে চাইলে সরকার মিথ্যারোপ করে তাকে বসিয়ে দেয়।

    তাই এখনও কি ইখওয়ানের জন্য বৃটেনের তথা গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ বোঝার সময় হয়নি? এখনও কি তারা নাটক বুঝতে পারেনি, না সর্বদাই না বোঝার উপর থাকবে?

    তারপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়। শায়খ হাসানুল বান্না বুঝতে পারেন, এ সব শুধুই তামাশা এবং শরীয়তের বিধানাবলীর বিরোধী। তাই শাহাদাত লাভের আট মাস পূর্বে তিনি কুরআনের যুদ্ধ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেন, যাতে তিনি একথা স্বীকার করেন যে, মিশরের সংবিধানে ও আইনে যা আছে, তা কখনোই মিশরকে ইসলামী রাষ্ট্র বানাবে না, আল্লাহর বিধানের সাথে এগুলোর কোন সম্পর্কে নেই। বরং এগুলো আল্লাহর বিধানের সাথে বিদ্রোহ। তাই উম্মাহকে কুরআনের জন্য এই সকল শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে এবং তাদেরকে কুরআনের শাসন মানতে বাধ্য করা হবে।

    অবশেষে শহীদ ইমামের ইহলৌকিক জীবন শেষ হয়েছিল সেই ব্যক্তির হাতে, যাকে তিনি কুরআনের রক্ষক বলে অভিহিত করেছিলেন। বাদশাহ ফারুকই ১৯৪৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তাকে হত্যা করে।
    তাই এখন কি হাসানুল বান্নার অনুসারীরা তার হত্যাকারী থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে? নাকি উস্তাদ হাদিয়ী রহ: এর মত লোকেরা তাকেই মহান বাদশা বলে অভিহিত করেছে?

    তারা ফারুকের কপটতার মাঝেই চলতে থাকল। অবশেষে ফারুককে বাদ দিয়ে জামাল আব্দুন নাসেরের সাথে মিত্রতা করল। আব্দুন নাসেরের বিচারকদের মধ্যে একজন ছিল আনওয়ার সাদাত, যে উক্ত দলের স্বনামধন্য ফকীহ, আব্দুল কাদির আওদাহ রহ: ও তার সহপাঠিদেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়।

    তারপর আব্দুন নাসেরের মুত্যুর পর তারা আনওয়ার সাদাতের সাথে মিত্রতা করে। ফলে আনওয়ার সাদাত তাদেরকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা দেয়।

    অত:পর তার মৃত্যুর পর তারা কামাল সিনায়িরীর হত্যাকারী হোসনি মোবারকের সাথে মিত্রতা করে। তারপর তারা মুনাফেকীর মহরা দিতে থাকে। দ্বিতীয়বার হোসনি মোবারককে বায়আত দেওয়ার জন্য গণভবনে জনসমাবেশের আয়োজন করে। তারা তার সাথে থেকে মুজাহিদদের আক্রমণ ও যুব সম্প্রদায়ের ক্রোধে হাওয়া দেওয়ার জন্য যে মন্দ ব্যবসায় অংশ নেয়, তার মাধ্যমে তারা বড় ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে।

    অত:পর একসময় তারা তার বৈরী হয়ে যায় এবং বারাদায়ীর পশ্চাতে আমেরিকান কৃপা দূতকে নির্বাচন করে। যখন বিপ্লব সংঘটিত হয়, তখন তারা ছিল সর্বপ্রথম চুক্তি আদান-প্রদানকারী। আকস্মিকভাবেই তারা সেনাবাহিনীর সাথে আতাঁত করে নেয়।

    এখন দেখার বিষয় হল, তারা কি তাদের হত্যাকারীর বিরুদ্ধে সেই কুরআনী যুদ্ধেঅবতীর্ণ হয়েছে, যেটা তাদের শায়খ তাদেরকে আদেশ করে গেছেন?

    আফসোস তাদের জন্য! তারা তাদের শায়খের আদেশ সম্পর্কে অজ্ঞ সেঁজেছে। তারা বাস্তবতা ও শরীয়তের বিধানাবলীর ব্যাপারে একই ভুলের উপর অব্যাহত গতিতে চলছে।
    তাদের শায়খ শহীদ রহ: বাস্তবতা বুঝতে ভুল করেছেন, ফলে ফারুককে কুরআনের রক্ষক এবং মিশরের সংবিধানকে ইসলামের অনুকূল সংবিধান বলে অভিহিত করেছেন। আর তার শীষ্যরা এতটুকুতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি; বরং আরো গভীরে ঢুকেছে।

    তারা স্পষ্ট ধর্মনিরপেক্ষতার ভাষা নিজেদের জন্য গ্রহণ করে নিয়েছে, যা দেশীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে। ফলে তারা একজন পরিপূর্ণ ধর্মহীন ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর মত ঘোষণা করেছে: তারা ততক্ষণ পর্যন্ত কোন শরয়ী বিধান পাশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার তার পক্ষে ফায়সালা না দেয়।

    এছাড়া তারা ইসরাঈল ও আমেরিকার সাথে যেকোন সমঝোতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর ভিত্তিতেই তারা বিপ্লোত্তর নির্বাচনসমূহে অংশ গ্রহণ করে। যার ফলে মুহাম্মদ মুরসী প্রজতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পদ অধিকার করেন।
    ফলে তারা একই ভুলে আরেকবার পতিত হয়। আর তারা ধারণা করে, তারা সেই জিনিস বাস্তবায়ন করে ফেলেছে, যা তারা তাদের দীর্ঘ জীবনে স্বপ্ন দেখছিল। অথচ শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে মুহাম্মদ মুরসী ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের একজন ধর্মনিরপেক্ষ শাসক ছাড়া কিছুই না।

    এক্ষেত্রে তার (মুরসি) মাঝে ও হোসনী মোবারকের মাঝে কোনই তারতম্য নেই, যার মত লোক রাষ্ট্রীয় সংবিধান, ইসরাঈলের সাথে সমঝোতা ও আত্মসমর্পণ এবং জাতিসংঘের নেতৃবৃন্দের সাথে অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিতে পারে।
    তার মাঝে ও হোসনি মোবারকের মাঝে পার্থক্য এটাই যে, তিনি গণতন্ত্রকে তার থেকে আরো কঠোরভাবে অনুসরণ করেছেন। তিনি সকলকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছেন, যদিও এতে জিহাদী নীতির প্রতি তীর্যক ইঙ্গিত ছিল।
    সম্ভবত এটা তার ঐ সকল অপরাধগুলোর একটি, যার জন্য আমেরিকা ও তার দোসররা তাকে কখনো ক্ষমা করবে না। হোসনির পতনের পর থেকে মুরসীর কারাবন্দী হওয়া পর্যন্ত ইখওয়ান একবারও এই ভ্রষ্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে কোন একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার গোড়াপত্তন করার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি; ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা তো দূরের কথা।

    ফলে পূর্বের অপরাধীরাই বিচার বিভাগ, সেনা বিভাগ, পুলিশ বিভাগ ও নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত থাকে। এরা তো শৃগাল ও চিতার আদর্শে বেড়ে উঠেছে।

    আর ইখওয়ান নিজেদেরকে প্রতিপালিত করেছে পোষ্য প্রাণীর খামারের ন্যায়, যাতে মুরগীর দল অধিক খাবার পেয়ে পরিপুষ্ট থাকে, কিন্তু আশপাশের চোর-গুণ্ডা ও বণ্য প্রাণীদের ব্যাপারে থাকে বেখবর।
    এই যখন ইখওয়ানের কাহিনী, তখন নব উঠন্ত তোষামোদকারী সালাফীদের কাহিনী- সংলাপ ও অর্থ অর্জন ছাড়া কি হবে? বরং ঐ সকল ব্যর্থ ও নমনীয় বিপ্লবীদের অবস্থাই বা কি হবে, যারা লাঞ্ছনাকর চুক্তিতে আবদ্ধ হয় এবং পণ্ডিত মেরিটারের শীষ্যত্ব গ্রহণ করে?

    তাই আমাদেরকে আমাদের পন্থা নিরীক্ষণ করে দেখতে হবে, ভুল-ভ্রান্তির সংশোধন করতে হবে; একই ভুল বার বার করা চলবে না।

    তাই মিশর, আরব বসন্তের দেশসমূহ, ইসলামী বিশ্ব ও সমগ্র পৃথিবীর প্রতিটি আত্মমর্যাদাশীল মুসলিমকে স্বীয় আকীদা ও নীতির ব্যাপারে সিংহের ন্যায় হতে হবে।
    কারণ যে সিংহের মত হবে না, তাকে চিতারা খেয়ে ফেলবে। আমাদের প্রজন্মকে সিংহশাবকের ন্যায় গড়ে তুলতে হবে; মেষশাবকের ন্যায় নয়।

    আমাদেরকে আমাদের যুদ্ধে নামতে হবে আল্লাহর কিতাব সামনে নিয়ে, যা সঠিক পথপ্রদর্শন করবে এবং তরবারী নিয়ে, যা তার সাহায্য করবে।
    তাই বার্তা কি পৌঁছেছে?? হে লোকসকল! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক!!!

    ওয়াস-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।
    Last edited by Umar Abdur Rahman; 04-08-2017 at 10:04 PM.

  8. #5
    Umar Abdur Rahman
    Guest

    Lightbulb বিজয়ী উম্মাহর প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা (দ্বিতীয় পর্ব ) || পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না || শায়খ আইমান আল-জাওয়াহিরী (হাফিজা&a



    বিজয়ী উম্মাহর প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা
    দ্বিতীয় পর্ব

    পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।
    শায়খ আইমান আল-জাওয়াহিরী (হাফিজাহুল্লাহ)


    আস-সাহাব মিডিয়া






    بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه
    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম আল্লাহর রাসূলের উপর এবং তার পরিবারবর্গ, সাহাবা ও যারা তার সাথে বন্ধুত্ব রাখে তাদের উপর।
    শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেকের ওপরই ফরয; এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

    আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,
    إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُم بُنْيَانٌ مَّرْصُوصٌ
    “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন; যারা তাঁর পথে যুদ্ধ করে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায়।”- (সূরা সফ: ৪)

    কুফরী শক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে যারা নিরন্তর নিরলসভাবে পরিশ্রম করেন। তাঁদের অন্যতম ছিলেন শায়খ উসামা বিন লাদেন রহ.। তিনিই যুগের হোবল আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্যে উম্মাহকে এক করার চেষ্টা করেন।

    এর উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে, তাঁর উল্লেখযোগ্য উদ্ভাসিত রাজনৈতিক কৌশল তিনি ইমারাতে ইসলামিয়ার অধীনে বায়আত দিয়েছেন এবং বিশ্বের সমস্ত মুসলমানদের এ বায়আত দেয়ার জন্যেই আহ্বান করেছেন।

    এটি এমন এক ইমারাহ, যার প্রশংসা করেছেন শায়খ হামুদ বিন উকলা রহ., শায়খ সুলামান আল-উলওয়ান ও আলী আল-খুদাইর (আল্লাহ তাঁদেরকে মুক্ত করুন), সেনাধ্যক্ষ শায়খ আবু হাফস রহ., শায়খ আবু মুসআব আয-যারকাভী রহ., শায়খ আবু হামযা আল-মুহাজির রহ., শায়খ আবুল লাইছ আল-লিবী, শায়খ আতিয়াতুল্লাহ আল-লিবী, শায়খ আবু ইয়াহইয়া আল-লিবী রাহিমাহুমুল্লাহ, শায়খ নাসির আল-ওয়াহশী রহ., শায়খ মুখতার আবু যুবায়ের রহ., শায়খ আবু মুহাম্মাদ আত-তুরকিস্তানী রহ., শায়খ আবু কাতাদা আল-ফিলিস্তিনী, শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসী, শায়খ হানী আস-সিবায়ী, শায়খ তারেক আব্দুল হালীম সহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম ও নেতৃত্বশীলগণ এবং দাওয়াত ও জিহাদের ময়দানের বিশিষ্টব্যক্তিগণ।

    তাঁরা কোন অতি উৎসাহ বা ভয়ের বশবর্তী হয়ে এ ইমারাহ’র প্রশংসা করেননি; বরং তাঁদের প্রশংসা ছিল সত্যের প্রতি সাক্ষ্যদান; এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে উম্মতে মুসলিমার এক কাতারে একতাবদ্ধ হওয়ার লক্ষ্যেই পদক্ষেপ।

    এটি সে ইমারাহ; যা সৎকাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজ হতে নিষেধ করে, শরীয়ত অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে, মুহাজির ও দুর্বলদের আশ্রয় প্রদান করে, তন্ত্র-মন্ত্র নামক মূর্তিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, সীমালঙ্গনকারী ক্রুসেডারদেরকে সমুচিত জওয়াব দেয়।

    তাই আমার মুসলিম ও মুজাহিদ ভাইদের আহ্বান করছি, বিশেষ করে আফগানিস্তানের ভাইদেরকে আহ্বান করছি, আপনারা এই ইমারাহ’র পাশে সমবেত হোন। মুজাহিদদেরকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যে হীন চেষ্টার প্রতি আপনারা মোটেও সাড়া দেবেন না। যারা এমন অপচেষ্টায় লিপ্ত; তাদের কাজই প্রমাণ করে, তারা ইসলামের শত্রু বৈ ভিন্ন কিছু নয়।

    মুজাহিদদেরকে বিচ্ছিন্ন করার এ হীন অপচেষ্টায় প্রথমে আসে জামাআতু ইবরাহীম আল-বদরীর নাম। যারা হলো নিকৃষ্ট খারেজীদের উদাহরণ। অনবরত মুসলিম জনসাধারণ ও মুজাহিদদেরকে তাকফীর করাই যাদের বৈশিষ্ট্য। এমনকি তারা সৎকর্মের কারণেও মুসলমান ভাইদের প্রতি কুফরের অপবাদ চাপায়। উদাহরণ চাইলে, বলা যায়, শহীদ ভাই আবু সাঈদ আল-হাদরামী রহ. এর কথা। তাকে তাকফীর করা হয়, কেননা তিনি জায়শুল হুর এর কাছ থেকে জিহাদের ওপর বায়আত নেন।

    জামাআতু ইবরাহীম আল-বদরী (বাগদাদি) আল-কায়েদার নেতৃত্বশীলকে পর্যন্ত তাকফীর করে। কারণ কী? তারা দাওয়াতের ক্ষেত্রে কখনো কখনো নরম কথাও বলে। এ জামাআতের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য হলো, শরীয়তের আলোকে বিচার-ফয়সালা থেকে পলায়ন করা, মিথ্যা রটানো, অপবাদ আরোপ করা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা।

    এত কিছুর ওপর তারা ঘোষণা দিল, যারা তাদের বিরুদ্ধে যাবে, চাই সে শরীয়তের আলোকে বিচার প্রার্থণা করুক না কেন; সে কাফের, তার স্ত্রী ব্যাভিচারিণী! এ যেন তারা নবুওয়তের দাবী করছে, যারাই তাদের বিরুদ্ধে যায়; তারাই কাফের!

    আল-কায়েদাকে তাকফীর করার যথোপযুক্ত একটি কারণ বর্ণনার জন্যে তাদেরকে বহু বার আহ্বান করা সত্ত্বেও এ পর্যন্ত তারা কোন প্রকার জবাব দেয়নি। আজও আমরা তাদেরকে, তাদের নেতা ইবরাহীম আল-বদরীকে আহ্বান করছি- আমাদেরকে তাকফীর করার কারণগুলো বর্ণনা করে দাপ্তরিকভাবে বিবৃতি প্রদান করুন। যে কারণগুলো হতে হবে অকাট্য এবং সুদৃঢ়।

    আমাদের বারবার বলা সত্ত্বেও তারা আজ পর্যন্ত এটা বলেনি যে, সে সব লোক কারা? যারা তাকে নেতা হিসেবে ঘোষণা দেয়। তাকে খলীফার আসনে বসায়। আমরা আজও ইবরাহীম আল-বদরীর কাছে জানতে চাইবো, যারা তাকে খলীফার আসনে বসিয়েছে, তাকে বায়আত দিয়েছে; কে তারা?

    তাদের অতীতে অর্জিত যোগ্যতাই বা কী? তাদের বৈশিষ্ট্য কী? তাদের বিষয়ে স্পষ্ট করতে হবে, যারা সাদ্দামের বাহিনীতে (বাথ পার্টিতে) ছিল, বিশেষ করে যারা ছিল সাদ্দামের গোয়েন্দা বিভাগে। কোন অধিকারে তাদেরকে উম্মতে মুসলিমার নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে?

    হে মুসলিম ও মুজাহিদ ভাইগণ! বিশেষ করে আফগানের ভাইয়েরা! ইমারাতে ইসলামিয়া তার আমীর, দায়িত্বশীল ও সেনাদের নিয়ে চৌদ্দ বছরেরও বেশি সময় ধরে, একমাত্র রবের ওপর ভরসা করে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে ক্রুসেডারদের হামলার প্রতিরোধ করে আসছে। তাদের দেয়া এমন অসংখ্য কোরবানীর পর নব্য খারেজীদের আবির্ভাব ঘটেছে, তাদেরকে কাফের বলার জন্যে!

    বলে কী? তালেবান তাগুতের গোয়েন্দা দল! তাহলে বলো, আমেরিকার বিমানগুলো কেন তাদের গোয়েন্দাদের ওপর হামলা করবে? আমেরিকার গোয়েন্দা দল কী আমেরিকাকে মৃত্যুর ঘাটে নিয়ে যাবে? নিজেদেরকে লাঞ্ছনার শেষ দেখিয়ে ছাড়বে? তাগুত গোয়েন্দা দল কি মুরতাদ সরকারকে হত্যা করবে? আফগানিস্তানকে তাদের ফাসাদ থেকে মুক্ত করবে?

    তাই আমি সতর্ক করছি, ইবরাহীম আল-বদরীর অপরাধগুলো জেনেও যারা তাকে বায়আত দেবে; তারা তার এ সবকর্মে তার সমান সাহায্যকারী।

    সে তাদের মতোই শরীয়তের বিচার-ফয়সালা থেকে পালানোর ব্যাপারে তাদের সঙ্গী। মুসলমানদেরকে তাকফীর করা, ক্রুসেডারদেরকে প্রতিহতকারী মুজাহিদদেরকে বিচ্ছিন্ন করা, তাদেরকে মিথ্যা অপবাদ দেয়া, মুজাহিদদের পূত স্ত্রীদেরকে কযফ তথা ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া, যারা শরীয়তের আলোকে বিচার-ফয়সালা করতে চায় তাঁদেরকে হত্যা করা, তাঁরা তাদের অনুগত না হলে তাঁদেরকে হত্যার হুমকি দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের সমান অংশীদার। তাদের অংশীদার তাদের সকল অপরাধে। বিচার দিনের জন্যে তারা যেন জবাব তৈরি করে রাখে।


    সবশেষে, সকল প্রশংসা মহান রব্বুল আলামীনের। শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি এর ওপর। তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের ওপর।

    ওয়াস-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।
    Last edited by Umar Abdur Rahman; 04-08-2017 at 10:06 PM.

  9. #6
    Umar Abdur Rahman
    Guest

    বিজয়ী উম্মাহর প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা
    তৃতীয় পর্ব

    ইরাকের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো!
    শায়খ আইমান আল-জাওয়াহিরী (হাফিজাহুল্লাহ)


    "ইনশা'আল্লাহ! অনুবাদ শেষ হওয়ার পর এখানে ইনশা'আল্লাহ পোস্ট হবে!" [/size][/b] [/center]
    Last edited by Umar Abdur Rahman; 04-05-2017 at 08:17 PM.

  10. #7
    Umar Abdur Rahman
    Guest

    বিজয়ী উম্মাহর প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা
    চতুর্থ পর্ব

    সীসাঢালা প্রাচীর!
    শায়খ আইমান আল-জাওয়াহিরী (হাফিজাহুল্লাহ)

    আস-সাহাব মিডিয়া


    بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه
    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম আল্লাহর রাসূলের উপর এবং তার পরিবারবর্গ, সাহাবা ও যারা তার সাথে বন্ধুত্ব রাখে তাদের উপর।
    হে সর্বস্থানের মুসলিম ভাইগণ! আস-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। তারপর:

    নিশ্চয়ই আজ প্রতিটি উচ্চ ও নিম্ন ভূমির কাফের বাহিনী আমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ক্রুসেডার, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যজগত, সাফাবী, নুসাইরী, শীয়া, জায়নবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী তাগুতরা- সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে জিহাদের শিখাটিকে নিভিয়ে দিতে, যা বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর সামনে বিজয়ের পথ আলোকিত করতে শুরু করেছে।

    তাই আজ আমাদের কতই না প্রয়োজন এক হওয়া, ঐক্যবদ্ধ হওয়া, পরস্পর সমঝোতা করা, পরস্পর নিকটবর্তী হওয়া, সকলের পরিকল্পনা এক করা, একপথে চলা এবং সকলে মিলে আমাদের যুদ্ধের জন্য পরিকল্পনা করা।

    যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলছেন:
    ﴿يَا أَيُّهَا الَّذينَ آمَنُواْ إذَا لَقيتُمْ فئَةً فَاثْبُتُواْ وَاذْكُرُواْ اللَّهَ كَثيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلَحُونَ (৪৫) وَأَطيعُواْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلاَ تَنَازَعُواْ فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ ريحُكُمْ وَاصْبرُواْ إنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابرينَ﴾.
    “হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন দলের সম্মুখীন হবে, তখন অবিচলিত থাকবে। আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্বরণ করবে, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর। এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে এবং পরস্পরে কলহ করবে না।
    অন্যথায় তোমরা দুর্ল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে।”

    আমাদের কতই না প্রয়োজন ঐক্যের পথে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা! আমাদের কতই না প্রয়োজন সকল মুজাহিদ গ্রুপগুলো এমন একটি প্রতিশ্রুতির উপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যা একথা দৃঢ় করবে যে,
    তাদের জিহাদ শুধু আল্লাহর জন্য, আল্লাহর কালিমাকে উচু করার জন্য, আল্লাহর শরীয়ার শাসন বাস্তবায়ন করার জন্য এবং দেশীয় ও জাতীয়তাবাদের সেই মিথ্যা ও ভ্রান্ত সীমানাগুলোকে চূর্ণ করার জন্য, যার বীজ আল্লাহর শত্রুরা আমাদের দেশসমূহে ও আমাদের চিন্তা-চেতনায় বপন করতে চায়।

    আমাদেরই সবচেয়ে বেশি এটা প্রয়োজন যে, সকল মুজাহিদ পরস্পরকে শক্তিশালী করবে, সাহায্য করবে ও নিজেদের মাঝে মিত্রতা স্থাপন করবে। ঠিক যেন সীসাঢালা প্রাচীর। যেন সকলে মিলে একটি দেহ। যার একটি অঙ্গ ব্যাথিত হলে তার জন্য সমস্ত অঙ্গগুলোই জ্বর ও অনিদ্রায় কাটায়।

    আমাদেরই সবচেয়ে বেশি এটা প্রয়োজন যে, আমরা শরয়ী আদালতের ব্যাপারে একমত হবো, যা মুজাহিদদের মাঝে বিবাদমান বিষয়গুলোতে মিমাংসা করে দিবে।
    আমাদের উচিত, শায়খ উসামা বিন লাদেন রহ: এর দাওয়াতকে পুনরুজ্জীবিত করা। উম্মাহর আমলদার আলেমগণ, শ্রেষ্ঠ মুসলিমগণ ও মুজাহিদ নেতৃবৃন্দেরকে নিয়ে একনিষ্ঠ বান্দাদের একটি পরিষদ গঠনের দাওয়াত। যাতে এই পরিষদ মুজাহিদদেরকে এবং মুসলিম জনগণকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকনির্দেশ করতে পারে। তাই যেমনিভাবে বিলম্ব ব্যর্থতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, অনুরূপ তাড়াহুড়া কখনো দুর্ঘটনার কারণ হয়।

    সেটি এমন পরিষদ হবে, যা প্রাধান্য নিয়ন্ত্রণ করবে, দায়িত্ব বন্টন করবে, প্রচেষ্টাসমূহ যথাযথ খাতে প্রবাহিত করবে এবং এবং তাকে বিক্ষিপ্ততা ও ব্যার্থতা থেকে রক্ষা করবে।
    এমন একটি পরিষদ, যা তাগুত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উম্মাহর শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করবে এবং তাদের চলার পথে তাদেরকে হিতোপদেশ দিবে। যেন উম্মাহ তাদের কাঙ্খিত খেলাফতে রাশেদা ফিরিয়ে আনতে পারে।

    উক্ত পরিষদের সদস্যরা উম্মাহর জন্য আহলুল হাল্ল ওয়াল আকদের একটি কমিটি গঠন করবে। তারা নিজেরাই উম্মাহর উপর এমনভাবে চেপে বসবে না যে, ইমাম নিয়োগ দান ও বরখাস্তকরণের অধিকার শুধু তাদেরই থাকবে।

    কোন আপত্তিকারী এই আপত্তি করতে পারে যে, এটি একটি চিন্তা মাত্র, এর কোন বাস্তবতা নেই। তাহলে আমার উত্তর হচ্ছে: ঠিক আছে, তাহলে আসুন আমরা এখন চিন্তাগত আদর্শগুলোর উপর একমত হই, তারপর ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি।

    আল্লাহর তাওফীক ও অনুগ্রহে একতার ব্যাপারে আমার বেশ কিছু কার্যকরি অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার কিছু কিছু আল্লাহর সাহায্য ও দয়ায় সফলও হয়েছে। আমি এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে এই শিক্ষা অর্জন করেছি যে, ঐক্যের সুফল অনেক বেশি ও ব্যাপক এবং আমাদের আশারও অতীত। আমি তা থেকে আরও শিক্ষা পেয়েছি যে, নিরাশার কোন স্থান নেই এবং আমাদের চেষ্টা বন্ধ না করা উচিত। যদিও বা এমন হয় যে, আমরা বীজ বপন করি আর আমাদের পরবর্তীরা তার ফল লাভ করে।

    ইসলামের সাহায্যের জন্য যে কোনো ঐক্যই গড়া হয়, আল্লাহর অনুগ্রহে তাতে কোনো না কোওও বরকত লাভ হয়ই।

    তাই আমার মনে পড়ে, যখন আমরা ইহুদী ও ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য জাবহাতুল ইসলামীয়া আল-আলামীয়া গঠন করলাম, তখনই নাইরোবী ও দারুস সালাম থেকে সাহায্য আসলো।
    এমনিভাবে যখন আল-কায়েদা ও জামাতুল জিহাদ ঐক্যবদ্ধ হল, তখন নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও বেনি সালফিয়ার মুবারক হামলাসমূহের মাধ্যমে সাহায্য আসল।
    এর বিপরীতে মতানৈক্য বিজয়কে বিলম্বিত করে।

    আর এটি এমন একটি বাস্তবতা, যাকে সমর্থন ও মজবুত করে আল্লাহ তা’আলার এই বাণী-
    وَلاَ تَنَازَعُواْ فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ ريحُكُمْ.
    “আর পরস্পরে কলহ করবে না, অন্যথায় তোমরা দুর্ল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের হাওয়া (প্রভাব) বিলুপ্ত হবে।”

    একারণেই যেমনটা আমি পূর্বেও বলেছি যে, ইবরাহীম আল-বদরী (আই এস প্রধাণ বাগদাদী) ও তার দল যে মতবিরোধের উদ্ভব ঘটিয়েছে, তা বহুগুণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অপরাধ।

    কেননা তারা পরামর্শ ও প্রতিষ্ঠা ছাড়া কৃত্রিম খেলাফত গঠনের মাধ্যমে বিবাদ ছড়িয়েছে। এ সম্পর্কে তাদের মুখপাত্র বলেছে: “আমরা তা শক্তিবলে ও জোরপূর্বক গ্রহণ করেছি”। সে যদি সত্য বলত, তাহলে এরূপ বলত: আমরা এটাকে শক্তিবলে ও জোরপূর্বক দাবি করেছি।

    তারা এমন সময় এই দাবি করেছে, যখন কাশগর থেকে তাঞ্জা পর্যন্ত সমস্ত শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অথচ ইতিপূর্বে তাদের যোগাযোগ-প্রতিনিধি ও শুরার সদস্য ১৪৩৩ হিজরীর ১০ ই রবিউল আউয়ালে শায়খ আবু ইয়াহইয়া আল-লিবী রহ: এর বরাবর এই মর্মে পত্র প্রেরণ করেছে যে,
    “আদেশ দানের অধিকার তো আপনাদেরই। কারণ আপনারা আমাদের দায়িত্বশীল। আমরা আপনাদের আদেশ শুনবো ও মানবো। আর আপনাদের দাওলাতুল ইসলামীয়ার ভাইয়েরা আপনার মশওয়ারা ও অনুমতি ছাড়া কোনও পদক্ষেপই গ্রহণ করবে না”।

    অত:পর সে তার নিকট আগ্রহ প্রকাশ করে, যেন খুরাসানের শায়খগণ তাদের বক্তব্যসমূহে তাদের ইরাকের ইসলামী দাওলার কথা উল্লেখ করেন এবং সে এ ব্যাপারে বাগদাদীর তাগিদও বর্ণনা করে যে, যদি খুরাসানের শায়খগণ তার পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সে সৌভাগ্যবানই হবে এবং সে ও তার মজলিসে শুরা এর পূর্ণ আনুগত্য করবে। অত:পর সে তার থেকে সাধারণ দিকনির্দেশনা ও শামে কার্য পরিচালনার পরিকল্পনা চায় এবং আরো জানায় যে, তিনি কখনো তাদের থেকে শ্রবণ ও আনুগত্য ছাড়া কিছু দেখতে পাবেন না।

    এমন কথাবার্তার পর যখন শামে তাদের কিছুটা শক্তি অর্জিত হল, তখনই তারা পাল্টে গেল। তাদের মুখপাত্র ঘোষণা দিল, তারা ১৪২৭ হিজরীতে দাওলাতুল ইরাক আল-ইসলামীয়া ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আল-কায়েদা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। অর্থাৎ আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মুহাম্মদ ওমরের ওফাতের প্রায় ৬ বছর পূর্বে এবং শায়খ উসামা বিন লাদেন রহ: এর ওফাতের প্রায় ৪ বছর পূর্বে।
    অর্থাৎ তারা একই সাথে শায়খ উসামা বিন লাদেন ও মোল্লা মুহাম্মদ ওমর রহ: এর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অপরাধ সংঘটিত করে গর্ব করছে। এটা শুধু মিথ্যাই নয়; বরং জঘন্য ও বহু মিথ্যার সমন্বয়কারী মিথ্যা। তারা এই মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে। এভাবে তারা তাদের পূর্বের স্বীকারুক্তিগুলোও ভঙ্গ করেছে। আর মিথ্যাবাদীদের ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের কোন শরয়ী নেতৃত্বের যোগ্যতা থাকে না।

    তাদের মুখপাত্র ঘোষণা করেছে, তারা কোনো স্বতন্ত্র আদালত মানে না। কারণ হতে পারে তার প্রথম সিদ্ধান্তই হবে তাদের জামাত শাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। অর্থাৎ সে তার প্রবৃত্তানুকূল ফায়সালা চায়, যা তাকে শামে থাকতে দিবে। কিন্তু আমি মনে করি, তাদের মূল কারণ হচ্ছে, স্বতন্ত্র আদালতের পথে হাটলে তাদের উপর কিসাস কার্যকর হওয়ার ভয়।
    অত:পর তারা তাদের অন্তরের সব গুপ্ত বিষয় প্রকাশ করে দেয়। যেমন কায়িদাতুল জিহাদ ও জাবহাতুন নুসরার নেতৃবৃন্দকে কাফের আখ্যায়িত করা; বরং যারাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকেই কাফের আখ্যায়িত করা।
    যেন তারা নবী, তাই যারাই তাদের মোকাবেলায় যুদ্ধ করবে, তারাই কাফের হয়ে যাবে। এর ভিত্তিতে সে তার সৈন্যবাহিনীকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অবাধ অনুমতি দিয়ে দেয়।

    অত:পর যে ই তাদের সীমালঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দাড়ায়, সে ই কাফের হয়ে যায়। তারপর সে মুক্ত অঞ্চলগুলোকে আবার মুক্ত করার এবং সকল মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ঘোষণা দেয়, এমনকি যদিও ঐ সকল মুজাহিদগণ শরীয়ার শাসন বাস্তবায়নের জন্যই প্রচেষ্টাকারী হয়।

    আরও ঘোষণা দেয় যে, যে তাদের শর্ত অনুযায়ী তাওবা না করবে, তার জন্য রয়েছে ছুরি ও বুলেট। সুবহানাল্লাহ!
    তাই বলছি, ইবরাহীম আল-বদরীর দল কি ভুলে গেছে যে, যে ইমারাতে ইসলামীয়াকে তারা গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের এজেন্ট হওয়ার অপবাদ দেয় এবং কুফরীর দিকে সম্পৃক্ত করে, সেই ইমারা কারো থেকেই বায়আতের আবেদন করেনি।

    বরং শায়খ আবু মুসআব আয-যারকাবী রহ: ইমারাতে ইসলামীয়ার হাতে বায়আত না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে অবস্থান করতেন এবং হেরাতের নায়েবে গভর্ণর শহীদ (যেমনটা আমরা তার ব্যাপারে ধারণা করি) মুজাহিদ মওলবী আব্দুল হান্নান রহ: এর মারকাযে স্বীয় সাথীদেরকে প্রশিক্ষণ দিতেন। এতদসত্ত্বেও কেউ তো তার গর্দান পৃথক করে দেয়নি, তার মাথা উড়িয়ে দেয়নি এবং তাকে তাকফীরও করেনি।
    বরং তিনি সেখানে সম্মান ও মর্যাদার পাত্রই ছিলেন। একারণেই তিনি মোল্লা মুহাম্মদ ওমর রহ: এর প্রশংসা করেন এবং শায়খ উসামা রহ: এর হাতে বায়আতের মাধ্যমে তার হাতে বায়আত হন। আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন!

    এটাই হচ্ছে ইমারাতে ইসলামীয়া ও গোড়া খারিজীদের মাঝে পার্থক্য। যারা তাদের পূর্বসূরীদের উপর অধিক হারে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাদেরকে গালমন্দ করে এবং সতী নারীদেরকে অপবাদ দেয়।

    আমরা তাদের নিকট দাবি করেছিলাম, তারা যেন আমাদের কুফরের ব্যাপারে অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল সহ একটি সাংগঠনিক বিবৃতি প্রকাশ করে। আমরা তাদের নিকট আরো দাবি করেছিলাম, তারা যেন আমাদের সামনে ঐ সকল ব্যক্তিদের নাম, গুণাবলী ও ইতিবৃত্তি আলোচনা করে, ইবরাহীম আলবদরীর ধারণামতে যারা তাকে দাবিকৃত খেলাফতের দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছে। বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা সাদ্দামের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর নিয়মিত সৈন্য ছিল তাদের। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সাড়া দেওয়ার মত কাউকে পাওয়া যায়নি।

    মোটকথা, একথা বলাই আমাদের উদ্দেশ্য যে, আমাদের কর্মপন্থা হচ্ছে একতাবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করা। যেমন শায়খ উসামা বিন লাদেন রহ: মোল্লা ওমর রহ: এর হাতে বায়আত হয়েছেন।
    তারপর আমরা জাবহাতুল ইসলামীয়া আল-আলামীয়া গঠন করি, তারপর জামাত কায়িদাতিল জিহাদ গঠন করি, তারপর আল্লাহর অনুগ্রহে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আমাদের মুজাহিদ ভাইদেরকে ইসলামের পঞ্চিমাঞ্চলে একত্রিত করি এবং ইসলামের সাহায্যের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করি।
    আর শামের মুজাহিদদের প্রতি আমাদের একতার আহ্বান বরাবরই অব্যাহত রয়েছে।

    আমরা তাদেরকে একাধিকবার বলেছি যে, আপনারা যাকে আপনাদের ইমাম হিসাবে মনোনীত করবেন, সে ই আমাদেরও মনোনীত। আমরা ঐক্যের স্বার্থে সাংগঠনিক সম্পর্কও কুরবানী করতে পারি, যদিও আমাদের ভাইদের প্রতি আমাদের সম্মানবোধ রয়েছে।

    অপরদিকে বদরী ও তার দল মুজাহিদদের পিঠে খঞ্জরের ভূমিকা পালন করছে। তারা শামের জিহাদকে মুলতবি করে নিজেদের ফিৎনার মাধ্যমে ইসলামের শত্রুদেরকে তাদের হারানো কিছু ভূমি পুনরুদ্ধারের সুযোগ করে দেয় এবং দামেশকের দিকে মুজাহিদদের যাত্রা ব্যাহত করে দেয়।

    আর এখন আমেরিকা ও তাদের মিত্ররা সেই খেলাফতের ইরাককে সাফাবী রাফিযীদের নিকট বিক্রি করে দিচ্ছে, যারা আহলুস সুন্নাহর অঞ্জলগুলোর উপর কৃর্তত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। কিন্তু তাদের শামের ভাইয়েরা তাদের দিকে সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করতে পারছেন না। কারণ তারা উগ্র খারিজীদের থেকে গাদ্দারী ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন।

    সিরিয়ার বিদ্রোহের পূর্বে আমরা জামাতুল বাগদাদীর ভুল-ভ্রান্তিগুলো সংশোধনের বহু চেষ্টা করেছি, তাদেরকে গোপনে উপদেশ দিয়েছি, কিন্তু ইরাকের ব্যাপারে যে আশঙ্কা আমাদের মনে আসছিল, আমরা তার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। কিন্তু যখন শামে তাদের ফেৎনা ছড়িয়ে পড়ল, তখন আমাদের সামনে বীভৎস ও ভয়ংকর বাস্তবতা প্রকাশিত হল।

    যাদেরকে আমরা শামে পাঠিয়েছিলাম তাদের থেকে এবং আমাদের প্রবীন নির্ভরযোগ্য ভাই ও অন্যান্য ভাইদের পক্ষ থেকে আমাদের নিকট লাগাতার সাক্ষ্য আসতে লাগল। জাবহাতুন নুসরার ভাইয়েরা তাদের অভিযোগপত্র প্রেরণ করল। ইবারাহীম আলবদরী, আবু সুহাইব ও আদনানীও অভিযোগ প্রেরণ করল। আমরা বদরীকে এই মর্মে সতর্ক করলাম যে, আমাদের বিলম্ব (যেটাকে সে সঠিক বিলম্ব বলে মনে করে) অধিক রক্তপাতের কারণ হবে।

    আর মিডিয়া ও ইন্টারনেটও মূহুর্তে মূহুর্তে শামের অবস্থাদি প্রকাশ করল। তখন আমি মুসলমানদের রক্ত হেফাজতের জন্য শাম সংকটের ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করলাম। তখন তারা তাদের প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করল। আমি এক সময় মুআল্লিম ও হাকিম থাকার পর তখন হয়ে গেলাম কাফের।

    কিন্তু তাদের ভ্রান্ত মত অনুযায়ী তাদের উপর তাদের নিজেদেরকেই তাকফীর করা আবশ্যক হয়। কেননা তারা পূর্বে একজন কাফেরের প্রশংসা করত, গণতন্ত্রের প্রতি ঈমান রাখত, ইখওয়ানকে সমর্থন করত, সাইসবেকোর নির্ধারিত ভূ-সীমা মানত, শিয়াদেরকে তাকফীর করত না...... এজাতীয় আর যত উদ্ভট কথা রয়েছে।

    পক্ষান্তরে আমরা এখনো পর্যন্ত ইবরাহীম আল বদরী ও তার দলকে কাফির আখ্যায়িত করি না, যদিও তারা আমাদেরকে তাকফীর করে। কেননা আমরা আল্লাহর অনুগ্রহে তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্য করি, যদিও তারা আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর অবাধ্যতা করে।

    এটাই প্রমাণ করে, তাদের তাকফীর হচ্ছে রাজনৈতিক এবং স্বার্থপূর্ণ। ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তার করার জন্য এবং একক রাজত্ব লাভ করার জন্য। এ মতানুসারে যে: “কাফির আখ্যায়িত কর, যেন ধ্বংস করতে ও ক্ষমতা লাভ করতে পার।”
    আমরা সবর করলাম, আমাদের ভাইদেরকে জবাব দিতে নিষেধ করলাম।

    তারপর ধারাবাহিকভাবে তাকফীর, মিথ্যা অপবাদ, গালমন্দ সহ বিভিন্ন প্রকার মন্দাচার শুরু হল। তখন আমরা আমাদের জাবহাতুন নুসরার ভাইদেরকে আদেশ দিলাম এবং ইবরাহীম আলবদরী ও তার দলের নিকট আবেদন করলাম, তারা যেন যুদ্ধবিরতি দেয়। জাযীরাতুল আরবের ভাইয়েরা ও ইসলামী মাগরিবের ভাইয়েরাও যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রকাশ করল।

    শারলি এবদোর মুবারক হামলার পর আমি বললাম, নিশ্চয়ই এই সাহায্য প্রতিটি মুসলিমের জন্য। এটা আমাদেরকে আমাদের প্রচেষ্টাসমূহ এক করতে আহ্বান করে।
    তারপর আমি দ্রুত ক্রুসেডার, সাফাবী ও নুসাইরী জোটের বিরুদ্ধে পারস্পরিক সহযোগীতার প্রস্তাব করলাম এবং এই শিরোনামে একটি বার্তা প্রকাশ করলাম: “আসুন আমরা বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হই”।
    তখন জবাবে আমরা কি পেয়েছিলাম? গালমন্দ, তাকফীর, মিথ্যাচার ও বিভিন্ন অপবাদ।

    তবে যে মতবিরোধপূণ বিষয়ে শরীয়তের ফায়সালা মানতে রাজি হয় এবং পরামর্শের পথে আসে, তার জন্য কল্যাণের দ্বারসমূহ সর্বদা উম্মুক্ত রয়েছে; কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না।
    পক্ষান্তরে যে অকল্যাণের দরজাসমূহে প্রবেশ করতে চায়, সে তার যা পছন্দ হয় তা নিয়ে থাকুক।

    মোটকথা, আমরা প্রতিটি মুজাহিদকে আহ্বান করি, তারা যেন স্বীয় ভাইদের সাথে পরস্পরে নিকটবর্তী হয় এবং ঐ সকল লোকদেরকে পরিহার করে, যারা তাদেরকে ধীরে ধীরে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ভূখন্ড ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অতল গহ্বরে নিয়ে যেতে চায়, দিবা-রাত্রি মুজাহিদদের কাতারকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করে এবং তাদের মাঝে শ্রেণীবিভেদ করতে চায়।
    একদলকে বলে, মধ্যপন্থি, যাদের উপর বোমা বর্ষণ করতে হবে না আর আরেক দলকে বলে, কট্টরপন্থি, যাদেরকে সমূলে ধ্বংস করতে হবে।

    তাই হে আমাদের শামের ভাইগণ এবং প্রতিটি স্থানের মুসলিমগণ!
    দেখুন, মুরসী ও ইখওয়ান, আমেরিকা, ইউরোপ ও ইসরাঈল তাদের কাছে যা দাবি করেছে, তারা তা ই আদায় করেছে, কিন্তু এখন তারা কোথায়? তাই হে চক্ষুস্মানগণ! উপদেশ গ্রহণ করুন!
    তাই আসুন, আমরা শয়তানী জোটের মোকাবেলায় পরস্পরকে সহযোগীতা করি, শক্তি যোগাই এবং সকলে এক কাতারে ঐক্যবদ্ধ হই।

    ﴿وَإن تَصْبرُواْ وَتَتَّقُواْ لاَ يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إنَّ اللَّهَ بمَا يَعْمَلُونَ مُحيطٌ﴾.
    “তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর ও ধৈর্য ধারণ কর, তাহলে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন।”

    পরিশেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের সরদার মুহাম্মদ, তার পরিবারবর্গ ও তার সাহাবীদের উপর।
    ওয়াস-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।
    Last edited by Umar Abdur Rahman; 04-08-2017 at 10:08 PM.

  11. #8
    Umar Abdur Rahman
    Guest

    বিজয়ী উম্মাহর প্রতি সংক্ষিপ্ত বার্তা
    পঞ্চম পর্ব

    আমাদের জাতির প্রতি আমাদের বার্তাঃ আমরা গাইরুল্লাহর সামনে কখনই মাথা নত করবো না!
    শায়খ আইমান আল-জাওয়াহিরী (হাফিজাহুল্লাহ)

    আস-সাহাব মিডিয়া

    بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه
    আল্লাহ তায়ালার নামে শুরু করছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবায়ে কেরাম ও ওই সকল লোকদের উপর, যারা তাঁর সাথে বন্ধুত্ব রাখে।

    হে বিশ্বের সর্বস্থানের মুসলিম ভাইয়েরা! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

    পরকথা হল, আল্লাহ তায়ালার অপার অনুগ্রহে আল-কায়দা ও অন্যান্য মুজাহিদগণ আজ পৃথিবীতে অপরাধীদের প্রধানদের লোভ-লালসার পথে প্রকৃত হুমকিরূপে আবির্ভূত হয়েছে এবং শুধু মুসলিম জাতি নয় বরং পুরো দুনিয়ার নির্যাতিতদেরকে তাদের অধিকার আদায়ে এবং শিরক, অবাধ্যতা, জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

    আর এ কারণে আল-কায়দা ও অন্যান্য মুজাহিদদের উপর বিভিন্ন রকম অপপ্রচার এবং ভয়-ভীতি ও ঘৃণা ছড়ানোর মত হামলা এসেছে।

    পরিতাপের বিষয় হল, এই হামলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে ইবরাহীম আলবদরীর মিথ্যাচারকারী বাহিনীও। ওই মিথ্যাবাদীরা মনে করে, আমরা তাগুতকে অস্বীকার করি না, সংখ্যা গরিষ্ঠতার পিছনে দৌঁড়াই, মুহাম্মদ মুরসির প্রশংসা করি এবং তাকে ‘জাতির আশার ভরসা’ ও ‘জাতির একজন বীর’ বলে ভূষিত করি।

    শুধু তাই নয়, তারা আরো সীমালঙ্ঘন করে অভিযোগ করেছে: আমি খৃস্টানদেরকে ক্ষমতায় অংশীদার করতে আহবান জানিয়েছি। অথচ আমি যা বলেছি, তা হচ্ছে: “তারা নাগরিকত্বে আমাদের অংশীদার, অর্থাৎ কৃষি, ব্যাবসায় ও অর্থনীতিতে। আমরা শরীয়তের বিধান মোতাবেক তাদের জান মাল হেফাজত করবো”।
    আসলে এ হল মিথ্যার উপর গোঁড়ামি।

    এমনকি তারা এ অভিযোগও করেছে যে, আমি শিয়াদেরকে কাফের মনে করি না। অথচ আমি “জিহাদের সাধারণ দিকনির্দেশনা” নামক একটি পুস্তিকা ব্যাপকভাবে প্রচারের পূর্বে তাদের নিকট পাঠিয়েছি। তারা তার ব্যাপারে কোন কিছুই বলেনি।

    আমি অনেকবার তাদের নিকট বার্তা পাঠিয়েছি, যেন তারা বাজার, মার্কেট, বিভিন্ন দর্শনস্থল ও মসজিদে হামলা না করে বরং সরকারী বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও শিয়া মিলিশিয়াদের উপর আক্রমণ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে। তারা তার উপর কোন আপত্তি করেনি।

    কিন্তু যখন আমরা তাদের হীনস্বার্থ ও দু:সাহসিক রক্তপাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলাম, তখনই তারা বলতে শুরু করল যে, আমরা শিয়াদের কাফের মনে করি না, তাদের হত্যা করতে বারণ করছি।
    অথচ আমার এক লিখিত বক্তব্যে শিয়াদের ব্যাপারে আহলে সুন্নাহর ইমামদের মতামত উল্লেখ করেছি। ইরাকের সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর আক্রমণ করার নির্দেশও দিয়েছি- যাদের অধিকাংশই শিয়া মতাবালম্বী।

    এমনিভাবে শিয়া মিলিশিয়াদের উপর আক্রমণ করারও নির্দেশ দিয়েছি এবং আমি এ নির্দেশগুলোকে মোটা হরফে আন্ডারলাইন করে দিয়েছি, যাতে অল্প দৃষ্টিসম্পন্ন লোকও বিষয়টি ভালভাবে দেখতে পারে।
    কিন্তু যাদের চোখই টেঁরা, চিকিৎসা তাদের কী আর উপকারে আসে!

    অনুরূপ আমাদের উপর বিভিন্ন দিক থেকে তিরষ্কারের ঝড় উঠেছে যে, তোমরা এখন আল-কায়েদার মূল মতবাদ থেকে দূরে সরে গেছো, যার কারণে আমেরিকা এখন আর তোমাদেরকে সন্ত্রাসী বলে গণ্য করে না, তাদের রকেটগুলো তোমাদেরকে লক্ষবস্তু বানায় না এবং তোমরা এখন আর আমেরিকার বিরুদ্ধে আল-কায়েদার যুদ্ধের দায়িত্বভার বহন করতে পারছো না।

    যেন আমেরিকার সন্তুষ্টই এখন মুখ্য উদ্দেশ্য বা জিহাদের ময়দানে সাহায্য লাভের আসল পথ। যেন আল-কায়েদা অপরাধী হয়ে গেছে, কারণ তারা আমাদের দেশে আমেরিকা ও তার দোসরদের বিরোধিতা করছে। যেন আল-কায়েদার আবির্ভাবের পূর্বে বা পরে কখনো আমেরিকা মুসলমানদেরকে ধ্বংস করেনি!

    অথচ যখন আমেরিকা ভিয়েতনামে আক্রমণ করে তখন তাতে ৫০ লাখ মানুষ নিহত হয়। তাদের নিক্ষেপিত বিষাক্ত পদার্থের কারণে ভিয়েতনামের ৫ লাখেরও অধিক শিশুর চেহারা বিকৃত হয়ে যায় এবং এর কারণে নতুন নতুন অনেক ক্যান্সার দেখা দেয়।

    এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের মর্টার বোমা- পারমানবিক বোমা ছাড়াই- জাপানের প্রায় ৪ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে। তারপর হিরোশিমা ও নাগাসাকায় তাদের পারমানবিক বোমায় আড়াই লক্ষের অধিক মানুষ নিহত হয়। আর এর একমাত্র কারণ ছিল দ্রুত সেই যুদ্ধকে চূড়ান্ত করে ফেলা, যাতে জাপানের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

    অনুরূপ হামবুর্গে তাদের মর্টার বোমা এক রাতে ৬০ হাজার মানুষকে হত্যা করে। আরেক রাতে দারাজদানে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার মানব সন্তানকে হত্যা করে।

    যখন আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাডলিন ওলব্রাইটকে ইরাকের ৫ লক্ষ শিশু হত্যা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন সে তাদের প্রসিদ্ধ উক্তিটি করেছিল: “এটাই তাদের প্রাপ্য ছিল!"

    ১ম উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকা ও তার দোসররা ইরাকে ৩২০ টন ইউরেনিয়াম বারুদ নিক্ষেপ করেছিল। আর আফগানিস্তান ও ২য় উপসাগরীয় যুদ্ধে কি পরিমাণ নিক্ষেপ করেছিল তা কেউ জানে না!
    আমেরিকা এসব ব্যবহার করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে, ভিয়েতনামের বৌদ্ধ, কম্যুনিস্ট, জার্মান খ্রিষ্টান, ও সাদ্দামের জাতীয়তাবাদী, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। অথচ আলাকায়ের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে আমেরিকার হীন স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে, কাউকেই সে ছাড় দেয় না।

    তাই তাদের এই গোলাবর্ষণ কেবলমাত্র আল কায়েদার বেলায়ই সীমাবদ্ধ নয়। বরং যারাই আমেরিকার স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাদের সবাইকে আমেরিকা তার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
    যখন আমেরিকা মুহাম্মদ মুরসির প্রতিই কোনরূপ দয়া প্রদর্শন করেনি, যে তাদের সকল চাহিদার সাথে একমত হয়েছিল, তবে কিভাবে তারা এমন কোন মুজাহিদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে পারে, যে শরয়ী শাসনব্যবস্থার দিকে আহ্বান করে, আল কুদসসহ সমস্ত মুসলিম দেশগুলোর স্বাধীনতা কামনা করে?! যদিও সে আল কায়েদা ব্যতীত অন্য কোন দলের হয়!

    সুতরাং পুরো ব্যাপারটি একেবারে স্ফটিক স্বচ্ছ। তাই আমাদের জন্য পশ্চিমাদের স্বার্থসম্পন্ন ও অপপ্রচারমূলক ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমায় বিভ্রান্ত হওয়া ও তাদের দালালদের প্রবঞ্চনায় প্রতারিত হওয়া উচিত নয়।
    স্বার্থান্বেষী মিথ্যাবাদীরা আল কায়েদার উপর বিভিন্ন প্রকার দালালীর অপবাদ দিয়ে থাকে। তারা বলে, আমরা আমেরিকার এজেন্ট। আমেরিকা আমাদেরকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের সময় আফগানিস্তানে তৈরী করেছে।

    আরো বলেছে, আমরা সৌদি আরবের এজেন্ট, তারা অর্থ দিয়ে আমাদেরকে গড়ে তুলেছে। নব্য সাফাবী রাফিযীরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, আমরা আমেরিকা ও ইসরাঈলের দালাল। তাদের প্রচার মাধ্যমগুলোতে ডাহা মিথ্যাচার করে বলেছে: ৯/১২ এর হামলা আসলে একটি ইহুদীবাদী চক্রান্ত (Zionist conspiracy) এবং এটা আমেরিকার ইরান আক্রমণের একটি অজুহাত।

    অথচ সেই হামলার ১৫ বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও এখনো তা ঘটেনি বরং তাদের পারষ্পারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে এবং আফগানিস্তান, আরব উপদ্বীপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরস্পর মিত্রতা স্থাপন করেছে।

    আর দালাল মিডিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের আমেরিকান আইনের দাসরা আমাদের উপর অপবাদ দিয়েছে যে, আমরা ইরানের এজেন্ট এবং তার স্বার্থই বাস্তবায়ন করছি এবং পরিশেষে আমাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলেছে, কারণ আমরা আমেরিকার শত্রু, আর যারাই আমাদের পথে চলবে, তারাও আমাদের অপরাধের উত্তরাধিকারী হয়ে যাবে।

    যখন উসামা বিন লাদেন (রহ) মুজাহিদদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করলেন, তখন তারা তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছে যে, সরকার ও সেনাবাহিনীকে যারা তাকফীর করে, তিনি তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উগ্র ও কট্টরপন্থী হয়ে গেছেন।

    অথচ পরে এর বিপরীতই ঘটেছিল; নব্য খারিজী ফেৎনার সময় তারা নিজেরাই উসামা বিন লাদেন রহ: এর আদর্শ থেকে ফিরে যায়, বিচ্যুত হয়ে পড়ে। কারণ তাদের অপবাদ অনুযায়ী, আমরা আমাদের বিবৃতিতে শাসকদের কুফরী প্রকাশে শৈথিল্য করি, আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার পিছনে পড়ে আছি, শিয়াদের তাকফীর করি না, মুহাম্মদ মুরসিকে সমর্থন করি, আমরা বিপ্লবপূর্ব ও বিপ্লবোত্তর তাগুতী সেনাবাহিনীসমূহের মাঝে পার্থক্য করি প্রভৃতি।

    অথচ ইতঃপূর্বে তারা আল-কায়েদার প্রশংসা করত এবং তাদেরকে জোর আবেদন করত, যেন তারা তাদের আলোচনায় তাদের কথা উল্লেখ করে।
    এভাবে তারা জেনেশুনে দু:সাহসিকতাপূর্ণ মিথ্যার মাধ্যমে তাদের পূর্বসূরীদেরকে ছাড়িয়ে যায়, যে মিথ্যাকে তাদের পূর্বসূরীরা কুফর হিসাবে বিবেচনা করত।

    এভাবে মিথ্যা-সাগরের অসংখ্য পরস্পরবিরোধী মিথ্যা ও অপবাদ আমাদের উপর আরোপ করা হয়েছে। আসলে যখন সৃষ্টির সেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরই মিথ্যারোপ করা হয়েছে যে, তিনি একজন কবি, একজন যাদুকর, একজন পাগল… যখন মুনাফিকরা এবং তাদের পরবর্তী রাফিযীরা তার পবিত্র সম্মানের উপরই আক্রমণ করেছে… যখন রাফিযীরা অধিকাংশ সাহাবীকেই কাফের আখ্যায়িত করেছে… যখন খারিজীরা সাহাবীদেরকেই তাকফীর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে…

    যখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ (যে সাদ্দামের অবসরপ্রাপ্ত রক্ষীবাহিনী ও গোয়েন্দাবাহিনীর আদর্শ পুরুষ, যারা ইবরাহীম আল-বদরীকে খেলাফতের মালা পরিধান করিয়েছে।) কূফায় তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে যারা নিজেদের উপর কুফরীর সাক্ষ্য না দিত তাদেরকেই হত্যা করত…

    তখন আমরা কিভাবে সেই অপবাদ থেকে মুক্ত থাকতে পারবো, যার থেকে নবী আলাইহিমুস সালামগণ, সাহাবায়ে কেরাম রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন ও তাবিয়ীগণ (রহই মুক্ত থাকতে পারেনি।

    لئن كنت قد بلغت عني وشايةً لمبلغك الواشي أغش وأكذب
    যদি তোমার নিকট আমার ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ পৌঁছে থাকে,
    তবে (শুনে রাখ,) অপবাদ দানকারী বার্তাবাহক আরো বড় মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।

    তাই আমি এখানে খুব দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত আকারে মুসলিম উম্মাহ ও সমগ্র বিশ্ববাসীর প্রতি আল কায়েদার বার্তাগুলো স্পষ্ট করতে চাই। তবে শুরুতে তিনটি বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই:

    প্রথমত: আমরা ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে নই। বরং আমরাও মানুষ; কখনো সঠিক করি, কখনো ভুল করি। তাই আমাদের উপর আবশ্যক হল, সদুপদেশ মনোযোগ দিয়ে শুনা। আর উম্মাহ থেকে আমাদের সদুপদেশ ও দিকনির্দেশনা লাভের অধিকার রয়েছে।
    তবে শর্ত হল, তা বাস্তবসম্মত ও শরয়ী দলীল ভিত্তিক হতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সর্বদাই ‘উপদেশ’ থেকে উপকৃত হব, চাই তা আমাদের মনপুত হোক বা না হোক। বরং আমরা চাই ইসলামী বিশিষ্টজনদের নিয়ে দ্বীনকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম পথ ও পন্থা সম্পর্কে একটি সংলাপ পরিচালনা করতে, যাদের প্রথম সারিতে থাকবেন মুজাহিদগণ।

    দ্বিতীয়ত: ইসলামকে সাহায্য করার জন্য আমরা যেসব কার্যকর পন্থা গ্রহণ করেছি, যেমন বর্তমান যুগের মিথ্যা রব আমেরিকার বিরুদ্ধে জিহাদকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহ প্রদান, এটি একটি কার্যপরিকল্পনা মাত্র; এটা আসমান থেকে নাযিলকৃত কোন ওহী নয়।
    কাজেই আমরা আমাদের মুজাহিদ ভাই ও মুসলিম ভাইদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে পরামর্শ, নসীহত ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করি এবং কার্যকরী বাস্তবতা যেখানেই থাকুক না কেন আমরা তার সাথে গঠিত হই, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা শরীয়তের আদেশগুলো মানতে পারি এবং নিষিদ্ধি বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি।

    তৃতীয়ত: আমাদের মানহাজ ও আমাদের বার্তা। যা আমরা পূর্বেও বহুবার বর্ণনা করেছি এবং আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের ও পশ্চিমাঞ্চলের ভাইগণ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছেন, ব্যাখ্যা করেছেন, দলীলসমূহ কায়েম করেছেন, সন্দেহ নিরসন করেছেন এবং রেখে গেছেন এর বরকতময় ফলাফল, আবেদনময় উত্তরাধিকার ও কৃতজ্ঞতাময় ইলম।

    এমনিভাবে আমিও ‘ইসলামের সাহায্য’ ও ‘জিহাদের সাধারণ দিকনির্দেশনা’ নামক আমার দু’টি পত্রে আমাদের দাওয়াত ও বার্তাগুলো সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করেছি।
    তবে আমাদের উম্মাহ ও সমগ্র বিশ্বের উদ্দেশ্যে আমাদের বার্তাগুলো আরেকবার আলোচনা করাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা উপদেশ ঈমানদারদেরকে উপকৃত করে। (আল কুরআন ৫১: ৫৫)।

    তাই আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা পূর্বক বলছি:
    আমাদের জাতি ও সমগ্র বিশ্বের প্রতি আমাদের বার্তাগুলোর মূল বক্তব্য হল:

    প্রথমত: মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি আহবান করা, একমাত্র তারই ইবাদত করা, তাঁর শরীয়াতকেই শাসনবিধান হিসাবে মানা এবং একমাত্র তার নিকটই দু’আ করা, তার নামেই কুরবানী করা।

    দ্বিতীয়ত: ইসলামী শরীয়ার শাসনের দিকে আহবান করা এবং শরীয়াহ ব্যতীত অন্য সকল প্রথা, মতবাদ ও আইন-কানুনের শাসনকে প্রত্যাখ্যান করা।
    চাই তা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হোক, যা জনগণের কর্তৃত্ব বাস্তবায়নের কথা বলে, অথবা রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা হোক, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ীগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে এবং তার নাম রেখেছে “জাতিসংঘ”।

    তৃতীয়ত: উম্মাহকে তাওহীদের বাণীর অধীনে ঐক্যবদ্ধ করা, যা আমাদের নিকট কুরআনে কারীম, রাসূলুল্লাহ সা: এর পবিত্র সুন্নাহ, খুলাফায়ে রাশেদা ও সাহবায়ে কেরামের জীবনাচার এবং মহান তিন যুগ স্পষ্ট করেছে, যে তিন যুগের ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
    "خير الناس قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم" .
    "সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ হল আমার যুগের মানুষ, তারপর যারা তাদের পরে আসবে, তারপর যারা তাদের পরে আসবে”।

    চতুর্থত: মুসলিম উম্মাহর মাঝে জিহাদের ফরজকে পুনরুজ্জীবিত করা। যেন মুসলিম দেশগুলোকে আসলি কাফের ও তাদের দোসর মুরতাদদের থেকে মুক্ত করা যায় এবং এমন যেকোন চুক্তি, সমঝোতা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করা যায়, যা কাফেরদেরকে মুসলমানদের দেশসমূহে আধিপত্য করার অধিকার দেয়।
    যেমন ফিলিস্তীনের উপর ইসরাঈলের আধিপত্য, মধ্য এশিয়া ও ককেশাশের উপর রাশিয়ার আধিপত্য, কাশ্মীরের উপর ভারতের আধিপত্য, সিউটা ও মিলিলিয়ার উপর স্পেনের আধিপত্য এবং পূর্ব তুর্কিস্তানের উপর চীনের আধিপত্য।
    সাথে সাথে উম্মাহর মুজাহিদদেরকে এই আহ্বান করা, যেন তারা এ যুগের হুবল আমেরিকা বিরুদ্ধে জিহাদকে যথাসম্ভব অধিক প্রাধ্যান্য দেয়। তবে প্রত্যেক ময়দানের জিহাদী স্বার্থ বাস্তাবায়নকারী পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রতিও লক্ষ্য রাখে।

    পঞ্চম: মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

    ষষ্ঠ: মুসলমানদের সম্পদের রাষ্ট্রীয় লুটতরাজ বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করা।

    সপ্তম: স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ তাগুতদের বিরুদ্ধে মুসলিম জনগণের গড়ে তোলা বিভিন্ন আন্দোলনকে সমর্থন ও সাহায্য করা, জনগণকে শরয়ী শাসনের প্রয়োজনীয়তা ও ইসলামি অনুশাসন মেনে চলার ব্যাপারে সচেতন করা এবং যারা বিদ্রোহ করে না, তাদেরকে উদ্ধুদ্ধু করা, যেন তারা তাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করে, যাতে ইসলামী বিশ্ব দালালী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করে।

    অষ্টম: মুজাহিদদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের পরস্পরের মাঝে দূরত্ব কমিয়ে আনার আহ্বান করা এবং তাদেরকে ক্রুসেডার, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, সাফাবী, চীনা ও ভারতীয় আক্রমণের বিরুদ্ধে পরস্পরে কাঁধে কাঁধ মিলানো ও সাহায্য করার ব্যাপারে উদ্ধুদ্ধ করা।

    নবম: এমন “খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওয়াহ” প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা, যা মুসলমানদের মনোনয়ন ও সন্তুষ্টির উপর ভিত্তিশীল হবে, ইনসাফ বিস্তার করবে, পরামর্শ নীতির প্রসার ঘটাবে, ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, মানুষের অধিকার ফিরয়ে দিবে এবং মাজলুমদেরকে সাহায্য করবে। যা জাতীয়তাবাদী বা দেশীয় সম্বন্ধযুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে স্বীকার করবে না এবং সাম্রাজ্যবাদীদের এঁকে দেওয়া সীমান্তরেখা মানবে না, বরং সমস্ত মুসলিম দেশসমূহের ঐক্য ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের ব্যাপারে বিশ্বাসী হবে, যা সকলের মাঝে সাম্য স্থাপন করবে।

    দশম: মুসলমানদেরকে বা যাদের উপর সীমালঙ্ঘন করা শরীয়ত হারাম করেছে তাদেরকে বোমা বর্ষণ, হত্যা, গুম বা সম্পদ নষ্ট করার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা।

    এগার: মুসলিম হোক বা কাফের হোক, মজলুম ও অসহায়দের পক্ষে জালিম ও সীমালঙ্ঘনকারীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা এবং যারাই তাদের সাহায্য করে তাদেরকে সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়া, চাই অমুসলিম হোক না কেন।

    এগুলো যদি সন্ত্রাস হয়ে থাকে তবে এগুলো আমাদের গর্ব ও অহংকারের বস্তু এবং এগুলোই আমরা কিয়ামত দিবসের জন্য জমা করি।


    আমেরিকাকে বলে দাও, আমরা আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে নত হই না।
    আল্লাহর পথে জিহাদ করি; কাউকে ভয় করি না, কারো পরোয়া করি না।
    এমন ময়দান থেকেও পিছু হটি না, যেখানে ভীতুরা পিছু হটে যায়।
    যারা দুনিয়া ভিক্ষা চায়, দুনিয়ার জন্য পরিশ্রম করে এবং দুনিয়ার লোভ করে।
    আমরা চক্ষুস্মান ও শ্রবণশীলদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছি যে-
    আমরা ঐ সকল বিশ্বাসঘাতক ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, যারা
    সম্পদ জমা করছে, উম্মাহর খাদ্য লুণ্ঠন করছে। জনগণকে লাঞ্চিত করছে, দমন করছে।
    তাদের উপর কুফরী আইন বিধিবদ্ধ করছে, তার দিকে আহ্বান করছে ও নত হচ্ছে।
    আর আমরা আহ্বান করি শরয়ী শাসনের দিকে এবং আমরা তার প্রতিই নত হই।
    আমরা মুক্ত করবো মসজিদে আকসা, এমনিভাবে হারামাইনও; ফিরবো না কিছুতেই।
    মুক্ত করবো আমাদের উম্মাহর সকল দেশ ও সকল বন্দীদেরকে; ক্ষান্ত হবো না কিছুতেই-
    খেলাফতে রাশেদা না এনে, যা আমদের বিক্ষিপ্ততাকে একত্রিত করবে।
    ধুলোমলিন করবো আমেরিকা ও তার সকল অনুসারীদের নাক।
    তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদেরকে শুনিয়ে দিবো:
    “আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো কাছে নত হই না।”

    পরিশেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগসমূহের প্রতিপালক। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের সর্দার মুহাম্মাদ সা:, তার পরিবারবর্গ ও তার সাহাবাদের উপর।
    ওয়াস-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

Posting Permissions

  • You may not post new threads
  • You may not post replies
  • You may not post attachments
  • You may not edit your posts
  •