Announcement

Collapse
No announcement yet.

‘‘গাযওয়াতুল হিন্দ্ এর হাদীস গুলো যয়িফ তথা দুর্বল আহলে হাদীস এক শায়খের ভ্রান্তির জবাব

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ‘‘গাযওয়াতুল হিন্দ্ এর হাদীস গুলো যয়িফ তথা দুর্বল আহলে হাদীস এক শায়খের ভ্রান্তির জবাব

    প্রথমে শুনুন বক্তবটি

    এরপর শুনুন ভ্রান্তির জবাব টি
    (গাযওয়াতুল হিন্দের হাদীস সম্পর্কে ফেসবুকে একভাই এর পোষ্ট। পড়লে উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ। প্রচার কাম্য।)

    🍃গাযওতুল হিন্দের হাদীস কি যয়িফ তথা দুর্বল?

    একভাই ডঃ মনজুরে এলাহী কে প্রশ্ন করেছিল,
    গাযওয়াতুল হিন্দ কি? গাযওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে জানতে চাই, গাযওয়াতুল হিন্দ কি অতি নিকটে?

    জবাবে ডঃ মনজুরে এলাহী বলেন, ‘‘গাযওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে বেশকিছু দুর্বল হাদীসের সমাহার দেখা যায়। এসম্পর্কে বর্তমান যুগের বড় বড় আলেমরা কোন ইতিবাচক রিসার্চ পেশ করেন নি। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, গাযওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে এইযে ধারনাটা পেশ করা হয়েছে দুর্বল হাদীসের আলোকে, এটাকে বিশুদ্ধ কোন তথ্য হিসেবে পরিবেশন করা উচিৎ নয়। অতএব এটা নিয়ে কনফিউজড হওয়ার কোন কারন নেই।’’(সমাপ্ত)

    # তার প্রথম দাবী হলো,‘‘গাযওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে বেশ কিছু দুর্বল হাদীসের সমাহার দেখা যায়’’
    তো চলুন আমরা দেখি গাযওয়াতুল হিন্দের হাদীস দুর্বল কিনা?
    হাদীসঃ
    ﻋﺼﺎﺑﺘﺎﻥِ ﻣﻦْ ﺃﻣﺘِﻲ ﺃﺣﺮَﺯَﻫﻤَﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﻣﻦَ ﺍﻟﻨﺎﺭِ، ﻋﺼﺎﺑﺔٌ ﺗﻐﺰﻭ ﺍﻟﻬﻨﺪَ، ﻭ ﻋﺼﺎﺑﺔٌ ﺗﻜﻮﻥُ ﻣﻊَ ﻋﻴﺴﻰ ﺑﻦِ ﻣﺮﻳﻢَ
    (রাসুলূল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ পাক আমার উম্মতদের দু’টি দলকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেছেন। আর সেই দুটি দল হচ্ছে, এক. যাঁরা হিন্দুস্তান বা ভারতের মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন। দুই. আর অপর দলটি হচ্ছেন, যাঁরা হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহাস সালাম-উনার সাথে থাকবেন।)
    হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে
    📖১★‘‘সুনানুন নাসায়ীর’’ কিতাবুল জিহাদের ‘গাযওয়াতুল হিন্দ পরিচ্ছেদে’ (২/৬৪)।
    📖২★‘‘মুসনাদে আহমদ’’(৫/২৭৮)।
    📖৩★‘‘আল জামিউস সাগীর’’ (ইমাম সুয়ুতীর) হাদীস: ৫৪১৮। হাদীসের মান: সহীহ
    📖৪★‘‘মাজমাউয যাওয়ায়েদ’’ এ আল্লামা হাইসামী রহ. হাদীস সম্পর্কে বলেন,
    ﻭﺳﻘﻂ ﺗﺎﺑﻌﻴﻪ ﻭﺍﻟﻈﺎﻫﺮ ﺃﻧﻪ ﺭﺍﺷﺪ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ، ﻭﺑﻘﻴﺔ ﺭﺟﺎﻟﻪ ﺛﻘﺎﺕ
    📖৫★‘‘সহীহ আন নাসায়ী’’তে মুহাদ্দিস ইমাম শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহিহ বলেছেন (হাদীসঃ ৩১৭৫)।
    📖৬★‘‘সহীহ আল জামে’’তে মুহাদ্দিস ইমাম শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহিহ বলেছেন (হাদীসঃ ৪০১২)
    📖৭★‘‘সিলসিলাতু আহাদিসিস সাহীহা’’তে মুহাদ্দিস ইমাম শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহ. হাদীসটি উল্লেখ করে লিখেন, হাদীসটি নাসায়ী, আহমাদ ও أبو عروبه الحراني তার হাদীসে
    عن بقية بن الوليد: ثنا عبدالله بن سالم و أبو بكر بن الوليد الزبيدي عن محمد بن الوليد الزبيدي عن لقمان بن عامر الوصابي عن عبد الأعلى بن عدي البهراني عن ثوبان مولى رسول الله ﷺ عن النبي ﷺ
    সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

    শায়খ আলবানী বলেন,
    قلت: وهذا إسناد جيد، رجاله ثقات غير أبي بكر الزبيدي فهو مجهول الحال، لكنه مقرون هنا مع عبدالله بن سالم وهو الأشعري الحمصي، ثقة من رجال البخاري .

    بقية بن الوليد مدلس، ولكنه قد صرح بالتحديث، فأمنا به شر تدليسه على أنه قد توبع، فقال هشام بن عمار: حدثنا الجراح بن مليح البهراني: ثنا محمد بن الوليد الزبيدي به.

    📖৮★‘‘যখিরাতুল হুফ্ফায’’ গ্রন্থে ইবনুল কায়সারানী রহ.
    ﻋِﺼَﺎﺑﺘﺎﻥِ ﻣﻦ ﺃُﻣَّﺘﻲ ﺣَﺮَﺯَﻫُﻤَﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭِ : ﻋِﺼﺎﺑﺔٌ ﺗﻐﺰُﻭ ﺍﻟﻬﻨﺪَ ﻭﻋِﺼﺎﺑﺔٌ ﺗﻜﻮﻥُ ﻣﻊ ﻋﻴﺴﻰ ﺑﻦِ ﻣﺮﻳﻢَ
    হদীসটি উল্লেখের পর তার সনদ উল্লেখ করেন
    رواه الجراح بن مليح البهراني الحمصي: عن محمد بن الوليد الزبيدي عن لقمان بن عامر الوصابي عن عبد الأعلى بن عدي البهراني عن ثوبان مولى رسول الله ﷺ عن النبي ﷺ
    এবং বলেন,
    وهذا حديث الجراح، وهو صالح.

    মুহাদ্দিসিনের উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা হাদীসটি সহীহ প্রমাণিত হয়। এবং মনজুরে এলাহীর বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

    গাযওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে আরেকটি হাদীস
    হাদীসঃ

    ﻭﻋَﺪَﻧﺎ ﺭﺳﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠَّﻢ ﻏﺰﻭﺓَ ﺍﻟﻬﻨﺪِ، ﻓﺈﻥِ ﺍﺳﺘُﺸﻬِﺪْﺕُ ﻛﻨﺖُ ﻣِﻦ ﺧﻴﺮِ ﺍﻟﺸُّﻬﺪﺍﺀِ، ﻭﺇﻥْ ﺭﺟَﻌْﺖُ ﻓﺄﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻫُﺮﻳﺮﺓَ ﺍﻟﻤُﺤﺮَّﺭُ .
    [হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসুলূল্লাহ ﷺ আমাদের থেকে গাযওয়াতুল হিন্দের ওয়াদা নিয়েছেন, সুতরাং যদি আমি তাতে শহীদ হই আমি হবো উত্তম শহীদদের অন্তর্ভুক্ত, আর যদি (যুদ্ধ শেষে বিজয়ী হয়ে) ফিরে আসি, তাহলে আমি হবো (জাহান্নাম থেকে) মুক্ত আবু হুরায়রা।]

    📖★সূত্রঃ মুসনাদে আহমাদ, ১২/৯৭
    হাদীসের মানঃ সহীহ
    মুহাদ্দিস ও মুহাক্কিক আহমাদ শাকের রহ. হাদীসটিকে সহিহ বলেছেন।

    গাযওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে আরেকটি হাদীস

    হাদীসঃ
    ﻭﻋﺪﻧﺎ ﺭﺳﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋﻠﻴْﻪِ ﻭﺳﻠَّﻢَ ﻏﺰﻭﺓَ ﺍﻟْﻬﻨﺪِ ﻓﺈﻥ ﺃﺩﺭَﻛﺘُﻬﺎ ﺃُﻧﻔِﻖُ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﺎﻟﻲ ﻭﻧﻔﺴﻲ ﻓﺈﻥِ ﺍﺳﺘﺸْﻬﺪﺕُ ﻛﻨﺖُ ﻣﻦ ﺃﻓﻀﻞِ ﺍﻟﺸُّﻬﺪﺍﺀِ ﻭﺇﻥ ﺭﺟﻌﺖُ ﻓﺄﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻫﺮﻳﺮﺓَ ﺍﻟﻤُﺤﺮِّﺭُ

    [ রাসুলূল্লাহ আমাদের থেকে হিন্দুস্তানেরর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতিশ্রুতি নেন। যদি আমি তা পেয়ে যাই, আমি আমার জান-মাল তাতে উৎসর্গ করবো। অতএব যদি আমি তাতে শহীদ হই, তাহলে আমি হবো শ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি (যুদ্ধ শেষে বিজয়ী হয়ে) ফিরে আসি, তাহলে আমি হবো (জাহান্নাম থেকে) মুক্ত আবু হুরায়রা।]
    📖★ ‘‘তারিখুল ইসলাম’’ (যাহাবী রহ.)১/৩৭৯
    হাদিসের মানঃ গরীব

    #ড. মনজুরে এলাহীর দ্বিতীয় দাবী ‘‘এ প্রসঙ্গে বর্তমান যুগের বড় বড় আলেমরা কোন ইতিবাচক রিসার্চ পেশ করেন নি।’’
    আসুন একটু ভাবিঃ
    কোন যুগের বড় আলেমরা কোন বিশুদ্ধ হাদীস সম্পর্কে নিজের ব্যাক্তিগত মত ও চিন্তা দ্বারা গবেষণা করেন নি অথবা গবেষণা করে উম্মাহর কাছে পেশ করেনি এই কারনে তার উপর আমল করা যাবে না, অথবা তা বাস্তবায়িত হবেনা, এমন কোন উসুল আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি।
    ইন্নালিল্লাহ... ! আমার কানকে বিশ্বাস করাতে কষ্ট হচ্ছে।

    #ড. মনজুরে এলাহীর তৃতীয় দাবী ‘‘তাদের(বড়দের) বক্তব্য হচ্ছে, গাযওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে এইযে ধারনাটা পেশ করা হয়েছে দুর্বল হাদীসের আলোকে, এটাকে বিশুদ্ধ কোন তথ্য হিসেবে পরিবেশন করা উচিৎ নয়।’’

    জবাবঃ আমরা প্রথমেই গাযওয়াতুল হিন্দের হাদীসকে সহিহ প্রমাণ করে এসেছি। তাই তার এই দাবীটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তবে আমাদের জানার বিষয় হলো, এই বড়রা কারা(?) যারা একটি সহিহ হাদীসকে দুর্বল বানিয়ে তা প্রচার করা থেকে নিষেধ করেছেন। নাকি বড় বলতে তাদের মতো মুস্তাশরিকীন শায়খরা উদ্দেশ্য? যারা কিনা রাসুলূল্লাহ সা. এর হাদীস গুলোকে মিথ্যা প্রমানে রাতদিন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

    #ড. মনজুরে এলাহীর চতুর্থ মত হলো ‘‘অতএব এটা নিয়ে কনফিউজড হওয়ার কোন কারন নেই।’’

    আসুন সাহাবা জীবন দ্বারা একটু চিন্তা করিঃ

    দ্বিতীয় নাম্বারে আমরা যে হাদীসটি উল্লেখ করেছি, হাদীসে আবু হরায়রা রাযি. আকাংখা প্রকাশ করছিলেন, ‘‘আমি যদি তাতে শহীদ হই তাহলে শ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবো’’ আর তৃতীয় হাদীসে আছে তিনি বলছেন ‘‘যদি আমি এই যুদ্ধ পেয়ে যাই, আমি আমার জান ও মাল তাতে ব্যায় করবো.....।’’ চিন্তা করুন, ১৪০০ বছর আগে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. এর মতো একজন সাহাবী গাযওয়াতুল হিন্দের জন্য আকাংখা প্রকাশ করেছে অথচ আজ ১৪০০ বছর পরে এসে সৌদি তাগুতের পদলেহনকারী দরবারী আলেমরা মানুষকে বুঝাচ্ছে ‘‘এটা নিয়ে কনফিউজড হওয়ার কোন কারন নেই।’’
    মাআযাল্লাহ! আমরা আল্লাহর কাছে এইসব ধোকাবাজ, প্রতারক, মিথ্যুক, দাজ্জালদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আল্লাহ এই উম্মাহকে এইসব পবৃত্তিপূজারী, পথভ্রষ্ট আলেমদের অনিষ্টতা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।।

    উল্লেখ্যঃ নামধারী আহলে হাদীসের পবৃত্তিপূজারী শায়খরা ইতিপুর্বে বহু সহিহ হাদীসকে যয়িফ প্রমাণের চেষ্টা করে মানুষকে ধোকা দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের আলেমরা বরাবরের মতই প্রতিবার তাদেরকে মিথ্যুক প্রমান করে দিয়েছেন।
    ( গাজওয়া হিন্দের ট্রেনিং) https://dawahilallah.com/showthread.php?9883

  • #2
    শায়খ জসিম উদ্দীন রাহমানী আমার একজন প্রিয় আলেম শায়খ বলেছিলেন আহলে হাদীস দের তাওহীদ হচ্ছে মাথা ব্যতীত তাওহীদ তাই ভাইদের বলবো আপনারা আহলে হাদীস দের মুখোশ উন্মোচন করুন কিন্তু খেয়াল রাখবেন আহলে হাদীসদের বিরুদিতা করতে গিয়ে কোনো সহীহ হাদীসের বিরুধীতা করে না বসেন যেমন এক ভাই আহলে হাদীস দের সমালোচনা করতে গিয়ে বলে ফেলেছেন যে ওরা শুধু পারে জর্দা খাওয়া নিয়ে ফিতনা ছড়াতে অথচ রাসুল সা: বলেছেন যেটা নেশাদার বস্তু এটা কম হোক আর বেশী হোক উভয়ই হারাম তাই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক হয় নি আল্লাহ আহলে হাদীস শায়খ দের হেদায়েত দান করুক আমিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের হক্বের উপর অটল রাখুন আমিন
    ( গাজওয়া হিন্দের ট্রেনিং) https://dawahilallah.com/showthread.php?9883

    Comment


    • #3
      জিহাদের জন্য পিতা-মাতার অনুমতি শর্ত কিনা ?
      সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে,
      ﺟَﺎﺀَ ﺭَﺟُﻞٌ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻓَﺎﺳْﺘَﺄْﺫَﻧَﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺠِﻬَﺎﺩِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ‏« ﺃَﺣَﻲٌّ ﻭَﺍﻟِﺪَﺍﻙَ؟ ‏» ، ﻗَﺎﻝَ : ﻧَﻌَﻢْ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻓَﻔِﻴﻬِﻤَﺎ ﻓَﺠَﺎﻫِﺪْ»
      “একব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে জিহাদে বের হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাকে বললেন তোমার পিতামাতা কি বেঁচে আছে? সে বলল, হ্যাঁ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তবে তাদের নিকট জিহাদ করো।”
      অন্য একটি হাদীসে এসেছে “রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো কোন আমল শ্রেষ্ঠ? তিনি প্রথমে বললেন সময় মতো নামাজ আদায় করা, পরে বললেন পিতা-মাতার সাথে ভাল আচরণ করা তারপর বললেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
      এই হাদীস দুটির মাধ্যমে অনেকে বিভিন্নরকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে থাকেন এবং সর্বাবস্থায় জিহাদে যাওয়ার জন্য বাবা-মার অনুমতি জরুরী মনে করেন। আমরা অন্যান্য প্রশ্নের উত্তরে লিখেছিঃ সাধারন অবস্থায় জিহাদ ফরজে কেফায়া কিন্তু বিশেষ কিছু অবস্থায় ফরজে আইন হয়ে যায়। জিহাদ যখন ফরজে কিফায়া থাকে এবং যথেষ্ট সংখক মুসলিম জিহাদে অংশগ্রহন করে তবে বাকীদের উপর জিহাদে অংশগ্রহন করা বাধ্যতামুলক থাকেনা তারা ইচ্ছা করলে অংশগ্রহণ করে গনীমত ও সূউচ্চ মর্যাদা হাসীল করতে পারে আবার ইচ্ছা করলে অংশগ্রহণ নাও করতে পারে। এই অবস্থায় পিতামাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদ করা বৈধ নয়। কিন্তু জিহাদ যখন ফরজে আইন হয়ে যায় বা যথেষ্ট সংখক মুজাহিদ জিহাদে যোগদান না করেন, তখন জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায়। তখন পিতা মাতার অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই যেভাবে নামাজ, রোযার জন্য পিতামাতার অনুমতির প্রয়োজন হয় না। ইবনে হাযার আসকালানী (রঃ) বলেন,
      ﻗَﺎﻝَ ﺟُﻤْﻬُﻮﺭُ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀِ ﻳَﺤْﺮُﻡُ ﺍﻟْﺠِﻬَﺎﺩُ ﺇِﺫَﺍ ﻣَﻨَﻊَ ﺍﻟْﺄَﺑَﻮَﺍﻥِ ﺃَﻭْ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻤَﺎ ﺑِﺸَﺮْﻁِ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻧَﺎ ﻣُﺴﻠﻤﻴﻦ ﻟِﺄَﻥَّ ﺑِﺮَّﻫُﻤَﺎ ﻓَﺮْﺽُ ﻋَﻴْﻦٍ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺍﻟْﺠِﻬَﺎﺩُ ﻓَﺮْﺽُ ﻛِﻔَﺎﻳَﺔٍ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺗَﻌَﻴَّﻦَ ﺍﻟْﺠِﻬَﺎﺩُ ﻓَﻠَﺎ ﺇِﺫْﻥَ
      জমহুর আলেম বলেছেন পিতামাতা যদি মুসলমান হয় তবে তারা নিষেধ করলে জিহাদ করা বৈধ হবে না কেননা পিতামাতার সাথে সৎ ব্যবহার করা ফরজে আইন আর জিহাদ ফরজে কিফায়া। তবে যখন জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায় তখন কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। (ফাতহুল বারী)
      পরবর্তী হাদীসে যে জিহাদকে পিতামাতার সাথে সৎ ব্যবহারের পরে উল্লেখ করা হয়েছে এটাও ঐ অবস্থায় যখন জিহাদ ফরজে কিফায়া থাকে কিন্তু যখন জিহাদ ফরজে আইন হয়ে যায় তখন পিতামাতার খেদমতের চেয়ে জিহাদ করা অধিক ফজীলতের আমল হবে। এ বিষয়ে বহু হাদীস বর্ণিত আছে। যেমনঃ
      ﺟﺎﺀ ﺭﺟﻞ ﺇﻟﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﺩﻟﻨﻲ ﻋﻠﻰ ﻋﻤﻞ ﻳﻌﺪﻝ ﺍﻟﺠﻬﺎﺩ ﻗﺎﻝ ‏( ﻻ ﺃﺟﺪﻩ ‏) . ﻗﺎﻝ ‏( ﻫﻞ ﺗﺴﺘﻄﻴﻊ ﺇﺫﺍ ﺧﺮﺝ ﺍﻟﻤﺠﺎﻫﺪ ﺃﻥ ﺗﺪﺧﻞ ﻣﺴﺠﺪﻙ ﻓﺘﻘﻮﻡ ﻭﻻ ﺗﻔﺘﺮ ﻭﺗﺼﻮﻡ ﻭﻻ ﺗﻔﻄﺮ ‏) ﻗﺎﻝ ﻭﻣﻦ ﻳﺴﺘﻄﻴﻊ ﺫﻟﻚ
      “একজন ব্যক্তি রসুলুল্লাহ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল হে আল্লাহর রসুল আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত মুজাহিদদের সমান পুরুষ্কার পেতে পারি। তিনি বললেন, তুমি কি (মুজাহিদ ফিরে না আসা পর্যন্ত) অনবরত ক্লানি-হীনভাবে নামাজ আদায় করতে ও কোনোরুপ পানাহার ব্যতিরেখেই রোযা রাখতে সক্ষম? উক্ত ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রসুল, কে এই কাজ করতে সক্ষম? (সহীহ বুখারী)
      আর যদি আমরা মেনেও নিই যে পিতামাতার সাথে ভাল আচরন করা জিহাদের চেয়ে উত্তম তবে এর অর্থ কি এই যে পিতামাতার সাথে ভাল আচরণ করলেই জিহাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে। একই হাদীসে তো নামাজকে পিতামাতার সাথে ভাল আচরণের পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ কি এ যে যেহেতু নামাজ পিতামাতার সাথে ভাল আচরণের তুলনায় উত্তম আমল তাই একজন মুসল্লির জন্য পিতামাতার খেদমতের প্রয়োজন নেই? একটি কাজ অন্য একটি কাজ থেকে উত্তম হলেই অন্য কাজটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায় না। বরং মুক্তি পেতে হলে প্রতিটি ফরজ দায়িত্বই নিষ্ঠার সাথে আদায় করতে হবে
      ( গাজওয়া হিন্দের ট্রেনিং) https://dawahilallah.com/showthread.php?9883

      Comment


      • #4
        masaAllah vy.....

        Comment

        Working...
        X