PDA

View Full Version : বিশাল জীবন বিপুল মরণ || একজন ইমামের বিস্ময়কর জীবনকথা



Ahmad Zaqi
04-13-2020, 03:59 PM
বিশাল জীবন বিপুল মরণ



শাইখ আব্দুর রশিদ নুমানি রহ.



হিজরি তৃতীয় শতাব্দের সূচনাকাল। ইরানের বিখ্যাত "রাই" নগরী। হাদিস ও ফিক্বহচর্চার এক অভূতপূর্ব আবহ বিরাজ করছে শহরের সর্বত্র। হাজার হাজার তালিবে ইলমের সরব পদচারণায় গমগম করছে পুরো নগর। মুহাদ্দিস ও ফক্বীগণের দরসগুলো রূপ নিয়েছে জনসমুদ্রে। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যায় "ক্বালাল্লাহ, ক্বালা রাসুলুল্লাহ আর হাদ্দাছানা"র সুমধুর গুঞ্জন।

★ ★ ★

'রাই' নগরীর প্রখ্যাত হাফেজুল হাদিস ইমাম আবু-জুরআ'হ রহ.। ইলমে হাদিসে তাঁকে ইমাম বুখারীর সমকক্ষ মনে করা হয়। ইমাম মুসলিম, তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ রহ. প্রমুখ বিশ্ববিশ্রুত মুহাদ্দিসগণও তাঁর ছাত্র।

ইমাম আবু-জুরআ'হ আর ইমাম আবু-হাতেম উভয়েই খালাতো ভাই ছিলেন। আবু-হাতেম আবু-জুরআ'হ সম্পর্কে বলেন:


لا أعلم في المشرق و المغرب من كان يفهم هذا الشأن مثله

শহরের এক ব্যক্তি কসম করে বসল: ইমাম আবু-জুরআ'র যদি এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ না থাকে তো আমার বিবি তালাক। বলেই লোকটা পড়ে গেল মহা ভাবনায়। লোকজন তাকে ধরে নিয়ে এল আবু-জুরআ'র দরবারে। তিনি বললেন: যাও যাও...! তোমার বিবি তালাক হয়নি।

দিজলা নদীর পুলের কিনারে দাঁড়িয়ে ইমাম আহমদ রহ. বলতেন: ইসহাক বিন রাহুইয়ার চেয়ে বড় কোনো ফক্বীহ আর আবু-জুরআ'র চেয়ে বড় কোন হাফেজে হাদিস এই পুল অতিক্রম করেননি।

ইসহাক রহ. বলেন: যে হাদিস আবু-জুরআ'র জানা নেই, তার কোন ভিত্তি নেই।

ইমাম আহমদ রহ. বলেন: সহীহ হাদিসের সংখ্যা সাত লক্ষেরও বেশি। আর এই যুবক (আবু-জুরআ'হ) ছয় লক্ষ হাদিস হিফজ করে ফেলেছেন।

আবু-জুরআ'হ একবার নিজের সম্পর্কে বলেন: এক লক্ষ হাদিস আমার এমনভাবে ইয়াদ আছে, যেমনটি মানুষের "ক্বুল হুয়াল্লাহু" ইয়াদ থাকে।

★ ★ ★

২৬৪ হিজরি। জুল-হিজ্জার শেষ দিন।
ইমাম আবু-জুরআ'হ শয্যাশয়ী। তাঁর শেষ অবস্থা___মৃত্যুর আলামত ফুটে উঠেছে ভাবগম্ভীর চেহারায়। তবে তিনি শান্ত নির্বিকার___নিষ্পলক দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছেন। ইমাম আবু-হাতেম, মুহাম্মদ বিন মুসলিম, মুনযির বিন শাযানসহ উলামায়ে কেরামের একটি দল দাঁড়িয়ে আছে তাঁর শিয়রে।
মুমূর্ষু অবস্থা দেখে সহসা তাঁদের মনে পড়ল তালকীনের কথা____হাদিসে মৃত্যুপথযাত্রীকে কালিমার তালকীন করার নির্দেশ এসেছে:


لقنوا موتاكم لا إله إلا الله

কিন্তু ইমাম আবু-জুরআ'হকে কালিমার তালকীন করবে কে? কার আছে এমন হিম্মত? মৃত্যুশয্যায়ও তাঁর বিশাল ব্যক্তিত্বের প্রভাব দিব্যি অনুভব করতে পারছেন তাঁরা!

অবশেষে তাঁরা একটি উপায় বের করলেন। চলো, আমরা তালকীনের হাদিসগুলো পরস্পর মুযাকারা করি। প্রথমে শুরু করলেন মুহাম্মদ বিন মুসলিম:


حدثنا الضحاك بن مخلد عن عبد الحميد بن جعفر

এতটুকু বলে তিনি থেমে গেলেন। বাকীরাও চুপ করে রইলেন। সহসা মুমূর্ষু ইমাম আবু-জুরআ'হর দরাজ কণ্ঠ শোনা গেল:


حدثنا بندار، حدثنا أبو عاصم، حدثنا عبد الحميد بن جعفر، عن صالح بن أبي عريب، عن كثير بن مرة الحضرمي، عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلي الله عليه و سلم : من كان آخر كلامه لا إله إلا الله

এতটুকু বলতেই তাঁর মুবারক রুহ আসমানের দিকে উড়াল দিল। হাদিসের বাকি অংশ دخل الجنة তিনি হয়তো মুখে না বলে করে দেখিয়ে গেলেন। (সুবহানাল্লাহ)


♦ তথ্যসূত্র:
ইমাম ইবনে মাজাহ অওর ইলমে হাদিস; মাওলানা আব্দুর রশিদ নোমানী রহ.।

ubada ibnus samit
04-13-2020, 08:14 PM
হাদীসের এই মহান ইমাম, ইলাল শাস্ত্রের এই মহান পথিকৃৎ এতসব ইলমী ব্যাততা সত্বেও আল্লাহর রাতায় রিবাত ও সীমান্তপ্রহরায় বের হতেন।স্বভাবগত মুহাদ্দিস হওয়ায় যে শহরে রিবাতে যেতেন সে শহরের মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদীস শোনারও নিয়ত করে যেতেন এবং হাদীস শুনে আসতেন।যদিও একইসাথে দুটো নেক আমলে দোষের কিছু নেই তবু আফসোস করতেন যে শুধু মাত্র রিবাত ও জিহাদের নিয়তে বের হতে পারেন নি।ইমাম জাহাবী রহঃ "সিয়ারু আলামিন নুবালা" কিতাবে তাঁর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন- " আমার একদিনের রিবাতও পুরোপুরি একনিষ্ঠ হয়নি।বৈরুতে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ থেকে হাদীস শোনা, আসকালানে আমার উদ্দেশ্য ছিল মুহাম্মাদ ইবনু আবিস সারি থেকে হাদীস শোনা আর কাস্পিয়ানে উদ্দেশ্য ছিল মুহাম্মাদ ইবনে সাইদ ইবনে সাবিক....(খন্ড ১৩ পৃষ্ঠা ৬৫)৷ ফা রহিমাল্লাহু হাজাল ইমামাল জালিলা ওয়া কাছছারা মিন আমছালিহি...আমীন

বদর মানসুর
04-16-2020, 10:58 AM
মাশা'আল্লাহ! এই ধরনের ইতিহাস কোন কিতাবে পাওয়া যাবে? কিছু কিতাবের নাম বললে ভাল হত।

Bara ibn Malik
04-16-2020, 12:07 PM
আলহামদুলিল্লাহ, এমন ব্যক্তির ইতিহাস জানতে পেরেছি যার কথা কখনো হয়ত শুনিনি। আল্লাহ আপনি আমাদের জন্য এমন মউত নছিব করুন আমীন। যখন একটু সময় পায়,আমরা যেনো কিতাবাদী পড়তে বসে যায়।

কিতমীর খোরাসানী
04-19-2020, 09:33 PM
মাশাআল্লাহ অনেক ভালো লাগলো। আল্লাহ তাআলা আপনার ইলমে বারাকাহ দান করুন,আমীন।