Announcement

Collapse
No announcement yet.

কুফর মিডিয়ার বিশ্লেষনধর্মী রিপোর্টঃ আইএস-আল কায়েদার প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র দক্ষিণ এø

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • কুফর মিডিয়ার বিশ্লেষনধর্মী রিপোর্টঃ আইএস-আল কায়েদার প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র দক্ষিণ এø

    পর্ব ১
    প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৬, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ মে ২০১৬, ০১:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

    গত দেড়-দু’বছরে বাংলাদেশে যে ধরনের টার্গেট হত্যা সংঘটিত হয়েছে এবং হচ্ছে তা এখন এ দেশের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান। এসবের দায়-দায়িত্ব নিয়ে রাজনীতিবিদ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কথা হচ্ছে, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হোম গ্রোন ‘জঙ্গি’ বা ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের কাজ। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, এ ধরনের টার্গেট মিশনের হত্যাকারীদের সঠিক পরিচয় এবং যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারাই বা কারা। এতদিনে পরিষ্কার যে, হত্যাকারীদের দৃষ্টিতে এরা ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্যুত গোষ্ঠী। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ঢাকার কলাবাগানে দু’জনের হত্যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তার পেছনের কারণ অত্যন্ত পরিষ্কার এবং এ দু’জন কেন জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে তা আজ অজানা নয়। এ ধরনের হত্যার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে খুব একটা প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে না আর এখানেই দেশের কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

    জঙ্গি তৎপরতা বিষয়ে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো এমনিতেই বাংলাদেশের ওপর নজর রাখছে, তাতে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। আমরা এ নজরদারিকে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে যতটা হালকা করতে চাই বিষয়টা তত সহজ নয়। বাংলাদেশ যে বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাতে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, যারা বিশ্বের দুটি দুর্ধর্ষ জিহাদি সংগঠন বলে পরিচিতদের দ্বারা প্রায়ই মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ঢাকায় হত্যাকা-ের পর। ওই স্থানে পাহারারত পুলিশ চাপাতির আঘাত খেলেন কিন্তু হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা সত্ত্বেও তেমন কিছু করতেই পারলেন না উপরন্তু কোপে আহত হলেন। অদ্যাবধি সন্দেহাতীতভাবে কাউকে ধরা গেল না। অতীতেও অনেক ঘটনারই হোতাদের সন্দেহাতীতভাবে ধরা যায়নি, তবুও আমরা সন্ত্রাস দমনে ‘রোল মডেল’ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারি। প্রত্যেক ঘটনার পরই আমাদের একাধিক মন্ত্রী মহোদয়ের কাছ থেকে বিপরীতমুখী মতামত শুনি। এর বেশিরভাগ সময়ই ‘কেষ্ট বেটাকেই চোর’ বলে চালানোর চেষ্টা হয়। আমরা শুনি যে, আমাদের দেশের জঙ্গিরা ‘হোম গ্রোন’ যাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নেই কিন্তু ইতোমধ্যেই সিঙ্গাপুর যোগ হয়েছে। জুলহাজ মান্নানের হত্যার পর এ ধরনের তত্ত্ব মানতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র, সে দেশের জন্য তিনি (জুলহাজ) ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। এ হত্যা ও পরবর্তী তৎপরতা মানতে পারল না যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। জন কেরির ব্যক্তিগত ফোন এবং মিস নিশ দেশাইয়ের ঢাকা আগমন, বিভিন্ন জনের সঙ্গে আলোচনা আর বৈঠকের পর তিনি বলে গেলেন, ‘হোম গ্রোন’ জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক গ্রুপের যোগাযোগ রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে। কিন্তু আমাদের জবাব একটাইÑ ‘এই হোম গ্রোন জঙ্গিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের সম্পর্ক নেই। মরদ কা বাত হাতি কা দাঁত।’

    এ পর্যন্ত যেসব হত্যা হয়েছে তার ধরন-কৌশল আর যাদের হত্যা করা হয়েছে তার পেছনের কারণগুলোর বিশ্লেষণ করলে যে চিত্র ফুটে ওঠে তার সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের তথাকথিত দুটি জিহাদি গ্রুপের তত্ত্বের সঙ্গে মিল থাকলেও সবচেয়ে দুর্ধর্ষ বলে পরিচিত সংগঠন ইসলামিক স্টেটের দিকেই নজর যুক্তরাষ্ট্রের। তবে জুলহাজ মান্নান যিনি এ দেশের সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফল ইনকোয়ারি নামক বেসরকারি সংস্থার আদর্শের আদলে কাজ করছিলেন তাদের হত্যার দায় স্বীকার করে দায়-দায়িত্ব নিয়েছে আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট, মূল আল কায়েদার উপমহাদেশের কথিত শাখা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী সন্দেহের তীর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম যারা পক্ষান্তরে আনসার আল ইসলামের একাংশের স্থানীয় সংস্করণ বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই গ্রুপই অভিজিৎ হত্যার দায় স্বীকার করেছিল বলে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ।

    অবশ্য এ পর্যন্ত ছকের মধ্যে ঘটে যাওয়া হত্যাকা-গুলোর বেশিরভাগ, যার মধ্যে টাঙ্গাইলে হালে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী দর্জির হত্যাও রয়েছে, দায়-দায়িত্ব ইসলামিক স্টেট বা সংক্ষেপে আইএস নিয়েছে বলে ‘সাইট’ নামক সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে আমাদের দেশসহ বিশ্বের সিংহভাগ মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। কাজেই আমাদের অঞ্চলেও মধ্যপ্রাচ্য তথা উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো বিশ্বের দুটি প্রতিযোগী ‘জিহাদিস্ট’ সংগঠনের প্রতিযোগিতার ছাপ প্রতীয়মান হচ্ছে।

    যদিও ইসলামিক স্টেট বা আইএস অঞ্চলভিত্তিক সংগঠনের কোনো ঘোষণা দেয়নি, যেমনটা আল কায়েদা এই উপমহাদেশে তাদের শাখা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। আইএস শাখার কথা বললেও তাদের মুখপত্র ‘দাবিখ’-এর ১৪তম সংস্করণে বাংলাদেশসহ বাংলা অঞ্চলে একজন আমির নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যার নাম শায়েখ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। ওই সংস্করণে আইএসের হালের নিযুক্ত আমিরের প্রায় ছয় পৃষ্ঠাব্যাপী একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিতভাবে কী ধরনের টার্গেটের প্রতি তাদের নজর রয়েছে তাও বলা হয়েছে। হালে দাবিখের বাংলা সংস্করণ প্রকাশিত হওয়া শুরু হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এই দুই তথাকথিত জিহাদি সংগঠন প্রতিযোগিতায় রয়েছে এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়Ñ অন্তত বিভিন্ন সময়ে হত্যা ও আক্রমণের দায়-দায়িত্ব স্বীকারে তেমনই মনে হয়। প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিবিসির সূত্র মতে, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রায় ১৫টি আইএস তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলেছে। অপরদিকে ৪টি হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা। তবে এসব দায় স্বীকারকে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাকচ করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং জেএমবির জড়িত থাকার কথা বলে।

    আইএস বা আল কায়েদার কোনো উপস্থিতি বাংলাদেশে আছে কী নেই সে বিতর্ক এখন আন্তর্জাতিক পরিম-লেও ধ্বনিত হচ্ছে, যেমনটা সদ্য সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফর স্টেট নিশা দেশাই বিসওয়ালের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এ পর্যালোচনা থেকে একটি বিষয় অনেকটা পরিষ্কার যে, এতদঞ্চলে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যেমনটা অন্যান্য অঞ্চলে প্রতীয়মান।

    আল কায়েদা আর আইএসের প্রতিযোগিতা শুরু হয় আল কায়েদার পূর্বতন কৌশল পরিবর্তনের পর। এই কৌশলগত পরিবর্তন শুরু হয় তিউনিসিয়ায় ২০১০ সালে আরব বসন্ত শুরু হওয়ার পর এবং এক বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের মধ্যে সমগ্র আরব বিশ্ব বিশেষ করে লিবিয়া, মিশর, ইয়ামেন এবং সর্বশেষ সিরিয়ায় সরকার হঠাও আন্দোলন শুরু হওয়ার পর। ততদিনে আল কায়েদার অঘোষিত নেতৃত্ব চলে যায় আইমান আল জাওয়াহিরির অনুসারীদের হাতে। আল কায়েদা আরব বসন্তে সমগ্র আরব বিশ্ব তছনছ হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করে শাখা স্থাপন করে আল কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা এবং আল কায়েদা ইন ইরাক যার প্রধান হন জারকাওয়ি। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর আল কায়েদার নতুন নেতৃত্ব তাদের পুরনো খোল পাল্টিয়ে ফেলে যার বাইরে চলে যায় জারকাওয়ি। আল কায়েদা থেকে বের হয়ে আল কায়েদা ইন ইরাক রূপান্তরিত হয় ইসলামি স্টেটরূপে এবং আল কায়েদার কৌশলের বিপরীতে নিজেদের কৌশল তৈরি করে।


    ২য় পার্ট কমেন্টে

  • #2
    ভাবতে দেন কিছুই বুঝবেনা।

    Comment


    • #3
      ২য় পর্ব -

      ১৯৯৯ থেকেই জারকাওয়ি ইরাকে অত্যন্ত স্বাধীনভাবে আগ্রাসী হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ইরাকের পতনের পর মূল আল কায়েদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ইরাকের আল কায়েদা। জারকাওয়ির মৃত্যুর পর ক্রমেই আইএস গড়ে উঠে ভীত শক্ত হতে থাকে যখন সাদ্দাম হোসেনের সাবেক সামরিক বাহিনীর সুন্নি সদস্যরা যোগ দেয়। বর্তমানে আইএসের কৌশল আল কায়েদা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এসব বিষয়ে যারা গবেষণা করছেন তাদের মতে, আইএস এবং আল কায়েদা উভয়ের লক্ষ্য এক হলেও তারা দুই ধারার গেরিলাযুদ্ধের তত্ত্ব ধারণ করেছে। আল কায়েদা মাও সেতুংয়ের গেরিলা কৌশল ধারণ করে বিস্তার করছে, অপরদিকে অস্ত্র, অর্থ আর সিরিয়া ও ইরাকের কিছু ভূখ-ের দখলে থাকা আইএস ‘ফকোইস্ট’ (ঋড়পড়রংঃ) কৌশল ধারণ করেছে, যে কৌশলের প্রবক্তা আর্নেস্টো চে গুয়েভারা। এই আগ্রাসী গেরিলা তত্ত্বের উদ্ভাবক ছিলেন ফ্রান্সের বিপ্লবী চিন্তাবিদ রেগিস ডেবরে (জবমরং উবনৎধু)। এই তত্ত্বকে শাণিত করেন গুয়েভারা কিউবার বিপ্লবে। এর মূলমন্ত্র হলো আগ্রাসনে যেতে হবে যখনই সুযোগ হবে। অপরদিকে মাও সেতুং জনযুদ্ধের যে তত্ত্ব দিয়েছিলেন তাতে প্রথমে জনগণকে সঙ্গে নেওয়ার সব প্রয়াসের তত্ত্ব ছিল।

      আল কায়েদা বর্তমানে মাও সেতুংয়ের গেরিলা কৌশল ধারণ করেছে বলে গবেষকরা বলেন। আল কায়েদা বেশ সময় নিয়ে জনগণের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে অগ্রসর হওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। ইয়েমেন ও লিবিয়ায় বেশ সাফল্য পেয়েছে। এই তত্ত্ব গ্রহণ করে সিরিয়ায় আল নুসরা ফ্রন্ট অধিকৃত জায়গায় শরিয়া আইনকে অনেকটা শিথিল করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। ওইসব জায়গায় যোদ্ধাদের প্রকাশ্যে ধূমপানের অনুমতি দিয়েছে যা এক সময় শরিয়া আইনে হারাম ঘোষিত হয়েছিল। এমনকি জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা কোনো গর্হিত কাজ করলে কঠোর শাস্তির বিধান করেছে। পারতপক্ষে মুসলিম জনগোষ্ঠীর, শিয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশিদের ওপরও অহেতুক আক্রমণ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া আছে। অহেতুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত না হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আল কায়েদার এই কৌশলে মাও সেতুংয়ের তত্ত্বের মতো সঠিক পরিবেশ তৈরি ও সময়ের জন্য ধীরগতিতে এগোনোর কথা বলা হয়েছে এবং এমনটাই প্রতীয়মান হয়। তবে আল কায়েদার সমর্থক বিভিন্ন দেশের সংগঠনকে ওই দেশের সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে এমন সব টার্গেট গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া আছে যাতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তাদের বিরুদ্ধে না যায়, অন্তত মৌন সমর্থন পাওয়া যায়।

      আল কায়েদার পরিবর্তিত তত্ত্ব অর্থাৎ মাও সেতুংয়ের পানি ছাড়া মাছের বিচরণ হয় না, এর সপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে ওই সংগঠনের প্রধান সমরকৌশলী বলে পরিচিত উবায়েদাহ আল মাকদিসি বলেন, ‘আমাদের গেরিলা যোদ্ধারা বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর ক্ষমতা রাখলেও ততদিন বিরত থাকবে যতদিন শত্রুপক্ষ পাল্টা জবাবের ক্ষমতা অটুট রাখবে।’ এ তত্ত্বের মূলে হচ্ছে, পরিবেশ তৈরি করা। তাদের মতে, এমন বিচ্ছিন্ন কিন্তু প্রচুর বিতর্কের জন্ম দেয়া। এমন টার্গেট চিহ্নিত করে আঘাত হানা যাদের সঙ্গে, তাদের মতে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক নেই অথবা বিতর্কিত অবস্থান রয়েছে। এ ধরনের আক্রমণের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর পরিবেশ তৈরি করা এবং শাসকদের দুর্বল করা। এখানেই আইএসের সঙ্গে তাত্ত্বিক তফাত, যদিও যেমনটা আগেই বলেছিÑ দুই গোষ্ঠীর লক্ষ্য এক। আইএসের মতে, আল কায়েদার এ তত্ত্ব অতি ধীরলয়ের যার জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন।

      অপরদিকে আইএসের ফোকোইস্ট তত্ত্বের যে সার্থকতা তারা দেখাতে সক্ষম হয়েছে তার পেছনে রয়েছে আরব বসন্তের পরবর্তী পরিস্থিতি। আরব বসন্তে তছনছ করা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে গবেষকরা মনে করেন, আইএস তত্ত্ব নতুন নতুন যোদ্ধাদের আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে সিরিয়া-ইরাক এবং

      লিবিয়া পরিস্থিতি। গবেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এ দুর্যোগের শান্তিপূর্ণ সমাধান হলে আইএস দুর্বল হয়ে পড়বে তাতে আল কায়েদার ফায়দা হবে। আল কায়েদা ক্রমেই আরও শক্তিশালী হবে এবং ততদিনে তারা ধীরে চলো এবং সাধারণ মানুষের একাংশের মৌন সমর্থন পাওয়ার পথ খুঁজে পেতেও পারে। আর এখানেই পশ্চিমা বিশ্বের শঙ্কা। তবে বর্তমানে আল কায়েদার এবং আইএসের নজর যে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর ওপর তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ অঞ্চলে, বাংলাদেশসহ প্রায় ষাট কোটি মুসলমান জনগোষ্ঠী রয়েছে, যার মধ্যে ৬৫ ভাগ তরুণ। কাজেই এই উপমহাদেশের দেশগুলো যে ঝুঁকির মধ্য রয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। হোমগ্লোন থেকে বৈশ্বিক হয়ে উঠছে এ ধরনের সংগঠন।



      লেখক : এম সাখাওয়াত হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলামনিস্ট
      hhintlbd@yahoo.com

      Comment


      • #4
        masha allah.

        Comment


        • #5
          যাজাকাল্লাহ
          শামের জন্য কাঁদো.....

          Comment


          • #6
            ”মরদ কা বাত হাতি কা দাঁত।” ফাইন তো !!! এই কথাটা লেখকের উপরেই প্রযোয্য। বলদগুলো আল কায়েদার মানহাজ বুঝতে হলে কিছু দিন বনে জঙ্গলে চড়ে ঘাস খেলে যদি কিছুটা বুঝে .সরকারের তোলা ঘাস খেয়ে আল কায়েদার মানহাজের কোন কুল কিনারা করতে পারবে না। আল কায়েদার সাগরে বর্হিবিশ্বের মস্ত মস্ত হাতি ঘোড়া গেল তল বাঙ্গালী ছাগল বলে কত জল ?!

            সাফ কথা আল কায়েদার মানহাজ সম্পর্কে ওরা আমাদের কাছে ক্লাশ করা ছাড়া কোন কুল কিনারা করতে পারবে না। কোন কিছু লিখলে আমাদের কাছে সেটা হবে হাস্যরসের বিষয়।
            Last edited by tipo soltan; 05-21-2016, 07:19 AM.
            ইয়া রাহমান ! বিশ্বের নির্য়াতিত মুসলিমদেরকে সাহায্য করুন। তাগুতদেরকে পরাজিত করুন। আমিন।

            Comment

            Working...
            X