PDA

View Full Version : ঈমানী আকায়েদ ও শরিয়তের স্পষ্টভাবে ঘোষিত বিষয়ের বিকৃতি ও অপব্যখ্যা অ^ীকারেরই এক প্রকার



আবুল ফিদা
06-20-2016, 11:32 PM
ঈমানী আকায়েদ ও শরিয়তের স্পষ্টভাবে ঘোষিত বিষয়ের বিকৃতি ও অপব্যখ্যা অ^ীকারেরই এক প্রকার
ঈমানী আকায়েদ ও ইসলামের বিধি-বিধান সমূহ অ^ীকার করা, অবজ্ঞা ও বিদ্রুপ করা যেমন কুফর, তেমনি এগুলোর কোন একটির ও এমন কোন ব্যাখ্যা করাও সরাসরি কুফর, যার দ্বারা তার প্রকৃত র্অথই বদলে যায়। কোন কিছুর অপব্যখ্যা ও র্অথের বিকৃতি হচ্ছে ঐ বিষয়টি অ^ীকারের ভয়াবহতম প্রকার। ঈমানের বিষয় গুলোর উপর প্রতিষ্ঠিত অর্থেই ঈমান আনতে হবে। নিজের প থেকে সেগুলোর কোন র্অথ র্নিধারণ করে বা কোন বেদ্বীনের উদ্ভাবিত র্অথ গ্রহণ করে ঈমানের দাবি করা। সর্ম্পুণ-ঝিনদিকি ও সুস্পষ্ট মুনাফেকী।
যেখানে কোন বিধান ও বিশ্বাসের র্অথ আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর যুগ থেকে অসংখ্য মুমিনের সুসংহত সূত্রে চলে আসছে ও প্রতি যুগে মুসলিম উম্মাহর ইজমা ও ঐক্যমত বিদ্যমান থাকে সেখানে ভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। কারণ সেখানে ঐ র্অথই নিশ্চিত ও র্নিধারিত। ওখানে ভিন্ন ব্যাখ্যার র্অথ ঐ অকাট্য ও প্রতিষ্ঠিত বিষয়কে অি^কার করা। যেমন কেহ বললো, নামাজ সত্য কিন্তু আসল নামাজ তা নয় যা মুসলমান প্রচলিত পদ্ধতিতে আদায় করে। আসল নামাজ তো মনের নামাজ, যা দোয়ার অর্থে। যে তা আদায় করতে পারে তার দেহের নামাজের প্রয়োজন নেই (নাউযুবিল্লাহ) ।
কিংবা বললো ইসলাম মানে শান্তি, বিধায় ইসলাম র্ধম মানে শান্তির র্ধম, তাই তাতে যুদ্ধ নেই, সংঘাত নেই,রক্তপাত নেই,মারামারি নেই।অতএব যারা র্ধমীয় উম্মাদনায় প্রভাবিত হয়ে যারা যুদ্ধ, জিহাদ,গুপ্ত হত্যা ও আত্মঘাতি আক্রমণ করার মাধ্যমে মানুষের তিশাধন করে তারা সন্ত্রাস , আর এ সন্ত্রাসী র্কাযকলাপকে ইসলাম সর্মথন করেনা। কিংবা বললো, শসস্ত্র জিহাদের তুলনায় নফসের জিহাদই বড় জিহাদ। অতএব ছোট জিহাদের (অস্ত্রর) প্রতি মনোনিবেশ না করে বড় জিহাদে র্অথাৎ নফসের কন্ট্রলের দিকে আত্মনিয়োগ করা উচিৎ বলে শসস্ত্র জিহাদকে অ^ীকার করে।
কিংবা বললো, জিহাদ র্অথ চেষ্টা, সুতরাং আমরা মিছিল মিটিং, হরতাল-অবরোধ, দাওয়াত ও তাবলীগ ও দরস ও তাদরীস ও লিখনীর মাধ্যমে দ্বীনের বিজয়ের চেষ্টা করছি। অতএব, আমরাতো জিহাদের মধ্যেই আছি,তাই শসস্ত্র জিহাদের প্রয়োজন নেই। কিংবা বললো, নবী(সঃ) আমাদের মত মাটির তৈরীর মানুষ নয়,নবী (সঃ) আল্লাহর জাতি নূরের তৈরী কিন্তু মাটির তৈরি নয়।
কিংবা বলল, আল্লাাহ্ যেমন গায়েব জানেন নবী (সঃ) ও তেমন গায়েব জানেন । অথবা বলল, নবী গায়েব জানেন তবে আল্লাহ্ যদি জানায় ।কিংবা বলল, আল্লাহ যেমন একি সময় মব জায়গায় হাজির নাজির তদ্রুপ নবী ও একি সময় সব জায়গায় হাজির নাজির ।
তো এই সব কুফুরী ব্যাখ্যা এবং এজাতীয় আরও অসংখ্য ব্যাখ্যা আছে যার দ্বারা ইসলামের অকাট্য বিষয়কে অ^ীকার করা হয় । আর এ অ^ীকারকে গোপন করার জন্য অপব্যাখ্যা করে নিজেদেরকে সাধারণ কাফিরের চেয়েও ভয়াবহ প্রকারের কাফির, মুলহিদ, যিন্দীক ও মুনাফিকের সারিতে অন্তর্ভূক্ত করে ।
সুতরাং আল্লাহ্ তায়ালার নিন্মের সাবধান বাণীর প্রতি গভীরভাবে নজর দেওয়া উচিৎ । যাতে সংশোধনের পথ খুলে যায়:-
ان الذين يلحدون فى اياتنا لايخفون علينا افمن يلقى في النارخير ام من يأتي امنا يوم القيامةاعملوماشئتم انه بماتعملون بصير-
অর্থ: যারা আমার আয়াত সমূহকে ( অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ) বিকৃতি করে তারা আমার অগোচরে নয় । শ্রেষ্ঠ কে যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে-না যে কিয়মতের দিন নিরাপদে থাকবে সে ? তোমাদের যা ইচ্ছা কর; তোমরা যা কর তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা সূরা হামীম আস সাজদা আয়াত:-৪০
দ্বীনকে অপব্যাখ্যা হতে রক্ষা জন্য মহান আল্লাহ্্ তায়ালা মুমিনদের সর্বসম্মত পথ যে মানদন্ড বানিয়েছেন । এবং মুমিনের সর্ব সম্মত পথ থেকে বিচ্যুতিকে রাসূল (স:) এ বিরুদ্বতার মতো জাহান্নামে যাওয়ার কারণ সাব্যস্ত করেছেন । একারনে ইসলাম আকীদা বা তার বিধানের এমন অপব্যাখ্যার ঠিকানা জাহান্নাম, যা উম্মাহর সর্বসম্মত ব্যখ্যার বিরুধী । যাহা নিে মহান আল্লাহ্্র বাণীর প্রতি দৃণ্টি দিলে পরিলক্ষিত হয়।

আবুল ফিদা
06-20-2016, 11:34 PM
ومن يشاقق الرسول من بعدم ماتبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤنزن نوله ماتولى ونصله جهم وساءت مصيرا-
অর্থ:- কারো নিকট সুপথ প্রকাশের পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে ে মুমীনদেও পথের বিপরীত পথে চলে তবে যে দিকেই সে যেতে চায়, সে দিবেইি তাকে পৌছে দেব । এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর তা কত মন্দ আবাসস্থল ।
সূরা:- আন নিসা, আয়াত:-১১৫
আল্লামা ইবনে কাসির রহ: এই আয়াতের তাফসীরে বলেন,যে ব্যাক্তি মুহাম্মদ (স এর আনীত শরীয়ত ছাড়া অন্য কো পথি চলল, সেই মুহাম্মদ (স এ বিরুদ্ধাচরণ করলো ।
اي:ومن سلك غير طريق الشريعة التي جاءبها الرسول صلى الله عليه وسلم فصار في شق
অর্থাৎ:- অনৈসলামিক পন্থায় ইসলাম কিভাবে আসবে? সে তো শুরুতেই রাসূল (স এ পন্থা থেকে সবে রাসূল (স এর বিরুদ্ধাচরনের রাস্তা গ্রহণ করেছে; দুনিয়া ও আখিরাতে কে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে ।
ইবনে জারীর তাবারী রহ্্ উপরোক্ত আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে বলেন,
ويتبع طريقاغيراهل الصديق ويسلك منهاجا غيرمنهاجهم-وذلك هوالكفر بالله لان الكفربالله ورسوله غير سبيل المؤمنين
অর্থ:- ঈমানদারদের পথ ছেড়ে অন্য কোন পথে চলা, তাদের নীতি ছেড়ে অন্য কোন নীতি গ্রহণ করা,এই টাই আল্লাহ্্র সাথে কুফুরী । কেননা আল্লাহ্্ ও তার রাসূলের সাথে কুফুরী করা ঈমানদ্বারদের পথ ও নীতি নয় ।
কাজী ছানাউল্লাহ্্ পানিপতী রহ্ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, اي:نجعله في الدنياواليا لما تولىمن الضلال
অর্থ:- যে গোমরাহী তারা অবলম্বন করেছে, আমি দুনিয়ার মধ্যে ঐ গোমরাহীকে তাদের বন্ধু বানিয়ে দেই ।
نوله ماتولي এর ব্যাখ্যা ও তা থেকে শিক্ষা
আল্লামা ইবনে কাসীর রহ্্ এর উদ্দেশ্যে বর্ননা করেন যে, যখন কেহ এই শরিয়ত ছাড়া অন্য পথে চলে, তখন আমি তাকে সে পথেই চলতে দেই । তারা অন্তরে সে পথকে সুন্দর বানিয়ে দেই ও সুসজ্জিত করে দেই । এটা মূলত ক্ষানিকের জন্য অবকাশ দেই । যেমন মহান আল্লাহ্্ তায়ালা ইরশাদ করেন; فذرني ومن يكذب يهذالحديث-سنستدرجهم من حيث لايعلمون
অর্থ:- আমাকে এবং এই বাণীকে যারা মিথ্যা বলেছে; তাদের ব্যাপারটি ছেড়ে দাও । আমি তাদেরকে এমনভাবে ধীরে ধীরে পাকড়াও করবো যে তারা জানতে ও পারবেনা। সূরা:- ক্বালাম, আয়াত:-৪৪
মহান আল্লাহ্্ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন; فلما زاغوا أزاغ الله قلوبهم
অর্থ:- যখন তারা বক্র পথে চলল, তখন মহান আল্লাহ্্ তায়ালা তাদের হৃদয়কে বক্র করে দিলেন । সূরা:- সফ্, আয়াত:-০৫
অপব্যাখ্যার ব্যাপারে ইমাম আবু জাফর ত্বাহাবী রহ্্ বলেন,
তার শরহে মা’আনিল আছার কিতাবে আলী (রা এ রেওয়াতে বর্ননা করেছেন । যারা বিভিন্ন বর্ণনার কয়েকটি ফাতহুল বারীতে ‘হদ্দুল খমর’ অধ্যায়ে আছে, আলী (রা বলেন, যখন ইয়াযিদ ইবনে আবু সুফিয়ান (রা শামের আমীর ছিলেন । তখন , শামের কিছু লোক এই বলে মদপান শুরো করলো যে, আমাদের জন্য তো মদ হালাল তার প্রমান ^রূপ এই আয়াতটি পেশ করলো:- ليس على الذين امنواوعملوالصالحات جناح فيما طعموا
অর্থ:- যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে, তারা যা আহার করেছে তাতে কোন পাপ নেই ।
সূরা:- মায়েদা, আয়াত:-৯৩
তখন ইয়াযিদ ইবনে আবু সুফিয়ান (রা এই ফিতনা সম্পর্কে হযরত ওমর (রা কে অবহিত করলেন । খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর (রা তৎক্ষানত ইয়াযিদকে লিখে পাঠালেন; এ লোকেরা ভ্রষ্টতা ছাড়ানোর পূর্বেই তাদেরকে গ্রেফতার করে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও । যখন তাদেরকে বন্দি করে ওমরের (রা কাছে উপস্থিত করা হলো হযরত ওমর (রা সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে এদের ব্যাপারে পরামর্শ করলেন। সকল সাহাবায়ে কেরাম (রা সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্বান্ত দিলেন যে, হে আমিরুল মু’মিনীন! আমাদের মতামত হল, যেহেতু এরা আয়াতের অপবেক্ষা করে মহান আল্লাহর উপর অপবাদ দিয়েছে, এমন বস্তুকে হালাল বানিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ্্ তায়ালা কখনো দেননি। অতএব তারা মুরতাদ হয়ে গেছে, আপনি এদের সকলকে হত্যা করে দিন।
হযরত আলী (রা চুপ ছিলেন । তাই ওমর (রা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার মতে এ লোকদের এমন বিশ্বাস থেকে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হোক । যদি তারা তাওবা করে তাহলে তাদেরকে মদ পানের শাস্তি হিসেবে আশিটি বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দেয়া হোক । আর যদি তারা তাওবা না করে তাহলে তাদেরকে (কাফের, মুতাদ হিসেবে ) হত্যা করা হোক । কারণ তারা আল্লাহ্কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং ইসলামের এমন বস্তুর বৈধতা দিয়েছে যার অনুমতি মহান আল্লাহ তায়ালা দেননি। অত:পর এই রায়ে সকল সাহাবায়ে কেরাম একমত হলেন । এবং ওমর (রা তাদেরকে তাওবা করার নির্দেশ দিলেন । যখন তাওবা করে নিল তাদের মদপানের শাস্তি^রুপ ৮০টি বেত্রাঘাত করা হল ।
অতএব এই ইজমায়ে সাহাবা দ্বারা পতিয়মান হয় যে, ঈমান, আকাইদ ও শরিয়তের স্পষ্টভাবে ঘোষিত বিষয়ের বিকৃতি ও অপব্যাখ্যার দ্বারা মানুষ ইসলাম থেকে বের হয়ে মুরতাদ ও কাফের হয়ে যায়।
সুতরাং অপব্যাখ্যা থেকে বাচার জন্য সাবিলুল মু’মিনীন তথা সাহাবাদের পথের অনু^রণ একান্তই জরুরি, কিন্তু এই মানদন্ড মুনাফিকদের কাছে পছন্দনীয় নয় । তারা ঈমানের দাবি করে, কিন্তু মু’মিনদের মতো ঈমান আনেনা । নিজেদের খেয়াল-খুশি ও সুবিদা মত ঈমান আনে । আর মু’মীনদেরকে মনে করে বুদ্ধিহীন । বর্তমানে একই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে । যেমন মহান আল্লাহ্্ তায়ালা ইরশাদ করেন, واذا قيل لهم امنوا كما امن الناس قالوا انؤمن كما امن السفهاء-الاانهم هم السفهاء ولكن لايعلمون-واذا لقواالذين امنوا قالوا امنا واذا خلو الى شياطينهم قالوا انامعكم انمانحن مستهزئون-الله يستهزئ بهم ويمدهم في طغيانهم يعمهون
অর্থ:- যখন তাদেরকে বলা হয়, যে সকল লোক (সাহাবাগন ) ঈমান এনেছে তোমরাও তাদের মত ঈমান আনয়ন কর । তখন তারা বলে, নির্বোধগন যেমন ঈমান এনেছে আমরাও কি তাদের মত ঈমান আনব? জেনে রাখ এরাই নির্বোধ, কিন্তু তারা নিজেরাও জানেনা ( যে তারা নির্বোধ )। যখন তারা মু’মীনদের কাছে আসে তখন বলে আমরা ঈামান এনেছি, আর যখন নির্জনে তাদের দুষ্ট নেতা ও শয়তানদের সাথে সাক্ষাত করে, তখন তারা বলে আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি । আমরা শুধু তাদের সাথে ঠাট্রা তামাশা করি । মহান আল্লাহ ও তাদের সাথে তামাশা করেন এবং তাদেরকে নিজেদের অবাধ্যতায় ভ্রান্ত হয়ে ঘুরার জন্য অবকাশ দেন । সূরা: বাকারা, আয়াতধ১৩-১৫