PDA

View Full Version : আল-আন্দালুস: আমাদের হারানো স্বর্গ



power
10-02-2015, 11:31 PM
আল-আন্দালুস: আমাদের হারানো স্বর্গ

(প্রথম পর্ব)

*** আন্দালুস। নামটার মধ্যেই কেমন যেন আপন আপন ভাব আছে। সাথে সাথে কেমন যেন বিরহ বিরহ ভাবও আছে। সবই হয়তো মনের কল্পনা। তবুও মনের কল্পনা তো ভালোবাসা থেকেই তৈরী হয়।
.
মূল পর্বে যাওয়ার আগে, সামান্য একটু ভূমিকা:
= আল্লাহ তা‘আলার রীতিনীতিতে কোনও পরিবর্তন নেই। আমাদের প্রয়োজনেই, এই রীতিনীতিগুলো জানা জরুরী। তাহলে জীবনটা সহজ হয়ে যায়, সুন্দর হয়ে ওঠে।
.
আল্লাহ তা‘আলার স্বীকৃত নীতি হলো, একশ ডিগ্রী গরম হলে পানি টগবগ করে ফুটতে থাকবে। এই নীতি কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এর কমবেশ হবে না। যদি এমন হতো, আজ ত্রিশ ডিগ্রীতে পানি ফুটতে শুরু করেছে। কাল চল্লিশ ডিগ্রী। পরশু পঞ্চাশ ডিগ্রী
তাহলে জীবনটা কেমন হতো? টিকে থাকাই দায় হয়ে যেতো।
.
আগুনের ধর্ম হলো পোড়ানো। কেয়ামম পর্যন্ত আগুন এই ধর্মের ওপরই বহাল থাকবে। এর ব্যত্যয় ঘটবে না। ব্যতিক্রম হবে না। এটাই চিরাচরিত বিধান। ইব্রাহীম (আ.) আগুনে পোড়েন নি, সেটা মু’জিযা। একজন মুমিন মু’জিযার তালাশে থাকবে না,বস্তুর স্বাভাবিক যা ধর্ম সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে।
.
খাবার ছাড়া কোনও প্রাণী বাঁচতে পারে না। কোনও মানুষ যদি খাবার ছাড়া কয়েক দিন থাকে, সে মারা যাবে এটাই আল্লাহর বিধান।
.
বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও আল্লাহর বিধান হলো, একটি জাতি একসময় সবল থাকবে, তারপর আস্তে আস্তে দুর্বল হতে থাকবে। আবার দুর্বলতা থেকে আস্তে আস্তে সবলতার দিকে যাবে। এটা মুসলিম-অমুসলিম সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
.
ইতিহাসের আশ্চর্যজনক একটা বিষয় হলো, অদ্ভুতভাবেই সেটার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সে হিশেবে বলা যায়, আমরা যখন অতীতের কোনও ইতিহাস পড়ি, প্রকৃতপক্ষে সেটা শুধু অতীত নয়, ভবিষ্যতেরও ইতিহাস। কারণ অতীতে যা ঘটেছে, মোটা দাগে সেটা ভবিষ্যতেও ঘটবে।
.
একজন মুমিন কিভাবে ইতিহাস পাঠ করবে?
= তার ইতিহাস পাঠের ধরন হবে, অতীতের ভাল মানুষেরা কিভাবে কাজ করেছেন, কোন পথে হেঁটেছেন, সেটা যাচাই করা। সে অনুযায়ী নিজে চলার পাথেয় সংগ্রহ করা।
.
আন্দালুসের ইতিহাসটাও আমাদের জন্যে এক জীবন্ত শিক্ষা। এর ইতিহাসে আল্লাহর বিধান এতটা স্পষ্ট হয়ে আছে, অন্য কোনও ইতিহাসে এতটা নেই। উত্থান-শিখর আরোহণ-পতন।
= তবে আমি শেষ পর্যায়কে পতন বলতে চাই না। বলতে চাই পুনরুত্থানের প্রস্তুতি ও প্রেরণা ও শিক্ষাগ্রহণ পর্ব।
.
আন্দালুসের ক্ষেত্রে একটা ব্যতিক্রমধর্মী বিষয় আছে। অন্য জাতিগুলোর ইতিহাসে উত্থান-শিখরছোঁয়া-পতনপর্বটা একবারই ঘটে। কিন্তু আন্দালুসে এই পর্বটা বেশ কয়েক বার ঘটেছে। এই বিষয়টা নিয়ে আমি প্রায়ই ভাবি, আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে বেশ কয়েক বার সতর্ক করেছেন। সহজে তিনি আমাদের থেকে এই ‘আলফিরদাওসুল মাফকুদ’ (হারানো স্বর্গ) ছিনিয়ে নিতে চান নি। তিনি হয়তো চেয়েছিলেন, এই স্বর্গ আমাদের হাতেই থেকে যাক, কিন্তু আমরা তার এই নেয়ামতের কদর করতে পারিনি।
.
.
আমরা কেন আন্দালুসকে পড়বো?
------------
আন্দালুসের ইতিহাস আটশ বছরের। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, হিজরী সন হিশেবে আটশত পাঁচ বছরের। ৯২-৮৯৭ হিজরী। আর ঈসায়ী সন হিসাবে ৭৮১ বছর হয়। ৭১১-১৪৯২।
এই দীর্ঘ সময়ের ইতিহাসে কিছু অংশ আছে, অনালোচিত, কিছু অংশ আছে বহুল আলোচিত। কিছু অংশের ওপর ধূলোর আস্তর জমেছে। কিছু অংশকে কুচক্রীরা বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে। তারা কিছু সত্যকে মিথ্যার মতো করে পরিবেশন করেছে আর কিছু মিথ্যা কে সত্যের প্রলেপ দিয়ে আমাদেরকে গিলিয়েছে। এটা অত্যন্ত ভয়ংকর একটা কাজ। আমাদের উচিত এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া। ধুলো-ময়লা সরিয়ে আসল সত্যকে বের করে আনা।
.
আন্দালুসের দীর্ঘ ইতিহাস পরিক্রমায়, অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। অফুরন্ত গল্প তৈরী হয়েছে। অগুনতি বাঁক সৃষ্টি হয়েছে। বেশুমার গাঁথার জন্ম হয়েছে। অনেক মুজাহিদের জন্ম হয়েছে। অনেক ভীরু-কাপুরষও আত্মপ্রকাশ করেছে। অনেক মুত্তাকী-পরহেযগারের উন্মেষ ঘটেছে। অনেক শরীয়তবিরোধী নাস্তিক ব্যঙের ছাতার মতো গজিয়েছে। অনেক দ্বীনের রক্ষক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অসংখ্য বিশ্বাসঘাতক ফনা তুলেছে। এজন্য আমাদেরকে আন্দালুস জানা দরকার।
.
.
আন্দালুসের যা না জানলেই নয়
------------
আমাদের জানা দরকার ‘বারবাত প্রান্তরের’ ঘটনা। এটা এমন ঘটনা, গুরুত্বের দিক থেকে ইসলামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গুরুত্বপ্রাপ্ত যুদ্ধগুলোর একটি হওয়ার মর্যাদা রাখে। এই বারবাত কোনও অংশে ইয়ারমুক-কাদেসিয়া থেকে কম নয়। এই বারবাতের মাধ্যমে শুধু আন্দালুস নয়, বিশ্ব ইতিহাসের বিরাট একটা অর্জনকে মুসলমানরা জয় করেছে।
= কিন্তু এতদসত্ত্বেও মুসলমানদের কাছে এই বারবাত উপত্যকা বিস্মৃত। বিলুপ্ত। বিযুক্ত।
.
আমাদের জানা দরকার ‘জাহাজ পোড়ানো’র ঘটনা। তারিক বিন যিয়াদ (রহ.) আসলেই কি জাহাজ পুড়িয়েছিলেন? পোড়ালে কেন পুড়িয়েছিলেন? পাশ্চাত্যের সমালোচকদের কাছে এই ঘটনা এত প্রিয় কেন?
.
আমাদের জানা দরকার আবদুর রহমান দাখিল (রহ.) কে ছিলেন? ঐতিহাসিকরা বলে থাকেন, আবদুর রহমান দাখিল না হলে, আন্দালুসে ইসলাম অনেক আগেই সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতো।
.
আমাদের জানা দরকার আবদুর রহমান নাসের কে ছিলেন? তিনি তো ছিলেন মধ্যযুগে ইউরোপের সবচেয়ে বড় বাদশাহ। আমাদের জানা আবশ্যক, তিনি কিভাবে এত উঁচু স্তরে আরোহণ করতে পারলেন। কিভাবে তিনি তার যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
.
আমাদের জানা দরকার, ইউসুফ বিন তাশাফীন কে ছিলেন? তিনি কেমন সেনাপতি ছিলেন, কেমন খোদাভীরু ছিলেন। কতটা শরীয়তের পাবন্দ ছিলেন। তিনি সুদূর আফ্রিকার গহীনতম কোনে থেকেও, এমন অসাধারণভাবে বেড়ে উঠেছিলেন? এই কালো মানিকের মনে জিহাদের প্রতি এমন প্রবল ভালোবাসা-ই-বা কিভাবে তৈরী হলো?
.
আমাদের জানা দরকার অবিস্মরণীয় ‘যাল্লাকাহ’ প্রান্তরের লড়াইয়ের কথা। এই লড়াইয়ে হেরে গেলে মুসলমানদেরকে আরও কয়েক শত বছর আগেই আন্দালুস থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে হতো।
.
আমাদের জানা দরকার আবু বকর উমার লামতুনীর কথা। এই মহান মুজাহিদের হাত ধরে আফ্রিকার পনেরটারও বেশি দেশ ইসলামের ছায়াতলে এসেছিল।
.
আমাদের জানা দরকার আবু ইউসুফ ইয়াকুব মানসুরকে। যিনি চির অম্লান ‘আরাক’ যুদ্ধের মূল নায়ক। মুসলমানদেরকে অতুলনীয় বিজয় এনে দেয়া বীর। খ্রিস্টানদের বিষদাঁত ভেঙে দেয়া সিপাহসালার।
.
আমাদের জানা আবশ্যক মুরাবিতীনদের কথা। তাদের ইসলামী রাষ্ট্রের কথা। কিভাবে সেটা শূন্য থেকে পুণ্যতে পৌঁছল?
.
আমাদের জানা আবশ্যক মুয়াহহিদীনদের কথা। তাদের প্রতিষ্ঠিত ‘দাওলাহ’র কথা।
.
আমাদের জানা দরকার মসজিদে কুরতুবার কথা। যেটাকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মসজিদ হিশেবে বিবেচনা করা হতো। কিভাবে মুসলমানদের এই মহান নিদর্শনকে গীর্জায় রূপান্তরিত করা হলো?
.
আমাদের জানা দরকার ইসাবেলিয়ার অনুপম মসজিদটির কথা।
.
আমাদের জানা থাকা দরকার কুরতুবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। পুরো বিশ্ব থেকে ভেঙে পড়া জ্ঞানার্থীদের কথা।
.
আমাদের জানা দরকার উমাইয়া পাঠাগারের কথা। এতবড় পাঠাগার কিভাবে গড়ে উঠলো?
.
আমাদের জানা দরকার যাহরা প্রাসাদের কথা। জানা দরকার যাহরা শহরের কথা।
.
আমাদের জানা দরকার হামরা প্রাসাদের কথা। তার অনিন্দ্য সৌন্দর্যের কথা।
.
পাশাপাশি জানা দরকার ‘ইকাব’ যুদ্ধের কথা। এই যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা-শক্তি বেশি থাকা সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছিল। যেন হুনাইনের খন্ডচিত্র ক্ষণিকের জন্যে ফিরে এসেছিল। ঐতিহাসিকরা লিখেছেন:
-ইকাব যুদ্ধের পর আন্দালুসে যুদ্ধ করতে সক্ষম কোনও যুবকের দেখা মিলত না। এতটা বিপর্যয় ঘটেছিল।
.
আমাদের জানা আবশ্যক কিভাবে আন্দালুসের পতন হয়েছিল। পতনের কারণগুলো কী কী?
.
এটাও জানা দরকার, আন্দালুসে ইসলামের সূর্য ডোবার পর কোথায় উদিত হয়েছিল? জানা দরকার আন্দালুসে সেই অপসৃত সূর্য একই সময়ে কিভাবে ‘কনস্টান্টিনোপল’ বিজয়ের মধ্য দিয়ে উসমানি খিলাফতে উদিত হয়েছিল?
.
আমাদের জানা দরকার ‘ভ্যালেনসিয়া’ শহরের সেই রোমহর্ষক গণহত্যার কথা। যেখানে এক দিনেই ষাট হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল।
.
আমাদের জানা দরকার ‘উব্বাযাহ’ হত্যকান্ডের কথা। যেখানে ভ্যালেনসিয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল। একদিনেই ষাট হাজার নিরীহ মুসলমানকে শহীদ করে দেয়া হয়েছিল।
.
আমাদের জানা দরকার ‘বারবুশতার’ গণহত্যার কথা। যেখানে এক দিনেই চল্লিশ হাজার বনী আদমকে শহীদ করে দেয়া হয়েছিল। কিভাবে সাত হাজার মুসলিম কুমারীকে বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
= ইতিহাস একই ভাবে আবার ফিরে আসে। আমাদের জানা দরকার কিভাবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটলো?
.
আমরা যদি এসব ইতিহাস জানি, মুসলমানদের কোমরভাঙ্গা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর কথাও জানি, তাহলে আজ, বর্তমানেও কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে, সেটা জেনে যাব।
.
আমরা চেষ্টা করবো, প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে দেখতে। রাব্বে কারীম আমাদেরকে তাওফীক দান করলে কিছুই অসম্ভব নয়। ইনশাআল্লাহ।

(collected)

power
10-02-2015, 11:36 PM
আল-আন্দালুস: আমাদের হারানো স্বর্গ


(দ্বিতীয় পর্ব)

স্পেনের ইহুদি


স্পেন সম্পর্কে ছয়টা কথা:
এক: বর্তমান স্পেন রাষ্ট্রটির ভিত দাঁড়িয়ে আছে একটি শহীদ মুসলিম খিলাফাহর ওপর। একটি জান্নাতের ওপর। একটি হারানো স্বর্গের ওপর। সেই বাগানটির নাম ছিল আন্দালুস।
.
দুই: স্পেন আমাদের শহীদ সালতানাত দখল করে আছে। কিন্তু আরেকটি মুসলিম দেশও দখল করে আছে, যা আমাদের অজানা। দেশটির নাম মরক্কো। মরক্কোর বড় বড় তিনটা দ্বীপ তারা দখল করে রেখেছে। সাবতা, মালীলিয়াহ আর জাফরীয়াহ।
.
তিন: স্পেনেই সবার আগে ক্রুশেডের আগুন জ্বলে উঠেছে। ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে তারাই প্রথম খ্রিস্টবাদের ধ্বজা তুলে ধরে।
.
চার: স্পেন এমন একটা দেশ, যার প্রায় প্রতিটি গীর্জাই কোনও কোনও মসজিদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অসংখ্য শহীদ মসজিদের ওপর বাজে আজ চার্চের ঘণ্টা।
.
পাঁচ: স্পেনই বিশ্বে প্রথম এথনিক ক্লিনজিং (জাতিশুদ্ধি) আবিষ্কার করে। পুরো মুসলিম উম্মাহকে তারা নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালায়। প্রায় দুই শতক ধরে। ধারাবাহিক ভাবে।
.
ছয়: স্পেনের প্রাচীন অধিবাসীরা ছিল আইবেরীয় জাতির অন্তুর্ভুক্ত। ইসলাম স্পেনে আসার পর, আইবেরীয়রা সবাই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। বর্তমানে স্পেনে কোনও স্থানীয় অধিবাসী নেই। এখানকার অধিবাসীদেরকে নিমূল করে দেয়া হয়েছে। মুসলিম হওয়ার অপরাধে। যারা এখন স্পেনে আছে, তারা ইউরোপের বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা সংকর একটা জাতি।
= আইনত এদের স্পেনে থাকার কোনও অধিকার নেই। এরা বহিরাগত।
--------------------------------------------

ড. খালিদ ইউনুস। তিনি একজন বিশিষ্ট গবেষক। তার একটা কিতাব আছে। স্পেনে মুসলিম শাসনাধীনে ইহুদি।
ড. খালিদ চমৎকার লিখেছেন। তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, ইহুদীরা কত আরামে, কত আয়েশে আন্দালুসে থাকতো। সামান্য কয়েকটা দিক তুলে ধরা যাক:
এক: স্পেনে বসবাস কালে ইহুদিরা তাদের স্বকীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ করার সুযোগ লাভ করেছিল। স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চার পরিবেশ পেয়েছিল। পরম নিশ্চিন্তে বসবার করার যাবতীয় উপায়-উপকরণ হাতের নাগালেই ছিল। ইহুদীদের জ্ঞানচর্চা বিশেষ করে দর্শন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে তারা অত্যন্ত দক্ষতা অর্জন করেছিল।
.
ইহুদীরা শুধু যে তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই দর্শনচর্চা করতো তা নয়, তারা মুসলিম দর্শন দ্বারাও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিল। ইয়াহুদা হালিফী ছিলেন এমন একজন দার্শনিক। তিনি তার বিখ্যাত রচনা কিতাবুল হুজ্জাহ-তে ইমাম গাজ্জালীর রীতি অনুসরণ করেই দার্শনিকদের অনেক ভুলত্রুটির সমালোচনা করেছিলেন।
.
আন্দালুসে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক হতো। সে বিতর্কে সব ধর্মের পন্ডিতগনই অংশগ্রহণ করতেন। স্বাধীনভাবে যে যার ধর্মের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরতেন। এসব বিতর্ক আরবী ভাষাতেই হতো। সব ধর্মাবলম্বীরাই আরবী ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করতেন।
মুসলমানদের সাথে ইহুদিদের এই উন্মক্ত বাহাস করা থেকেই প্রমাণ হয়, তারা কতোটা চিন্তার স্বাধীনতা ভোগ করতো।
এমনি এক বিখ্যাত মুনাযারা হয়েছিল ইবনে হাযম (৯৯৪-১০৬৩) এবং ইসমাঈল বিন নাগদিলার মধ্যে। ইবনে হাযম (রহ.) সে বিতর্কে ইহুদি ধর্মের অসারতা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছিলেন।
পরে একটা স্বতন্ত্র কিতাবও রচনা করেছিলেন। সেখানেও ইহুদি ধর্মের ভ্রান্তির বিভিন্ন দিক ও ইসমাঈল বিন নাগদিলার সাথে হওয়া মুনাযারার বিবরণও ছিল।
.
আন্দালুসের ইহুদিরা চিকিৎসাবিদ্যাকে বেশি গুরুত্ব দিতো। কারণ এটাই ছিল সে সময় শাসক এবং ক্ষমতাবাণদের কাছাকাছি যাওয়ার সংক্ষিপ্ত পথ। এর সাহায্যে তারা বড় বড় সরকারী পদেও আসীন হতো।
= আসলে ইহুদিরা সব সময় বেশ সংঘবদ্ধভাবেই ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করে এসেছে। তাদের ষড়যন্ত্র প্রকাশ পেয়ে গেলে তারা চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর প্রকাশ না পেলে অন্যদের মাথায় চেপে বসেছে।
এটা আমরা সেই প্রাচীন কাল থেকেই দেখে আসছি। নবীজি (সা.) এর যুগেও এমনটা ছিল।
.
আন্দালুসে ইসলাম প্রবেশের সময় হিব্রু ভাষা ছিল অত্যন্ত অবহেলিত। বেশিরভাগ ইহুদীই তাওরাতের ভাষ্য বুঝতে পারতো না। তাদের সিনাগগে মূল তাওরাতের বদলে আরামীয় ভাষায় অনূদিত তাওরাত পড়া হতো।
আন্দালুসে ইসলামের আগমনের পর, ইহুদীরা মুসলমানদের সংস্পর্শে এল। আরবী ভাষার সংস্পর্ষে এল। আরবী ভাষার ব্যাকরণ (নাহু-সরফ) শিখল। তারা দেখল মুসলমানরা কিভাবে আরবী চর্চা করে। আরবরা তাদের ভাষাকে কতোটা ভালোবাসে। তাদের কুরআনকে কী পরিমাণে শ্রদ্ধা করে।
.
তারাও উদ্বুদ্ধ হলো। হিব্রু ভাষাচর্চা শুরু করলো। আরবী ব্যাকরণের মতো হ্রিব্রু ভাষার জন্যেও ব্যাকরণ প্রণয়ন করলো।
অবশ্য হিব্রু ভাষার ব্যাকরণের উৎপত্তি ঘটে ইরাকে। সাদিয়া বিন ইউসুফ (৮৯২ খি:) এর মাধ্যমে। তবে হিব্রু ভাষার বিকাশ ও উৎকর্ষতা আসে আন্দালুসে।
মানাহীম বিন সারূক (৯১০-৯৬০ খি:)। ইনিই সর্বপ্রথম হিব্রু অভিধান প্রণয়ন করেন। মুহাবরীত। এই অভিধানে বাইবেলের সমস্ত শব্দই আনা হয়েছিল। মধ্যযুগে ইউরোপের ইহুদীরা এই অভিধানের সাহায্যেই হিব্রুচর্চা করতো।
.
স্পেনে অষ্টম উমাইয়া খলীফা ছিলেন আবদুর রাহমান নাসির (তয়)। তার একজন উযীর ছিলেন হাসদাই বিন শাবরূত। মানাহিম বিন সারূক এই উযীরের প্রধান সেক্রেটারী ছিলেন।
.
মুসলমানদের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠে, মুসলমানদের খেয়ে পরে, আজ মুসলমানদের নিধনে সর্বশক্তি ব্যয় করেছে এই অভিশপ্ত জাতিটা। বাংলা প্রবাদবাক্যই ওদের জন্যে শতভাগ উপযুক্ত:
= তোমারে বধিবে যে, গোকূলে বাড়িছে সে।
.
কোনও ক্ষমতাই চিরদিন থাকে না। টেকে না। স্থায়ী হয় না। সেটা বাংলাদেশে হোক আর রাশিয়াতে হোক আর আমেরিকায় হোক আর ইসরাঈলেই হোক।
.
ইসরাঈলের পতন আর বেশিদিন নেই। ঘনিয়ে এসেছে। সন্নিকটে। অতি নিকটে। একটা হিশেব কষি:
= আমরা যদি অতীত পানে তাকাই, দেখবো, মিসরের শীআ সালতানাত উবাইদী (ফাতেমী) বিলুপ্ত হয়েছিল শাম (সূরিয়া)-এর দিক থেকে আসা মুজাহিদ (সালাহুদ্দীন আইয়ুবী)-এর মাধ্যমে।
= বায়তুল মাকদিস মুক্তির সূচনা হয়েছিল শামে।
= এ থেকে বোঝা যায়, বায়তুল মুকাদ্দাসের নাড়ী ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শাম (সূরিয়া)-এর সাথে।
= সুতরাং দিমাশক জয় না হলে, আলকুদস জয় হবে না।
= জামে উমাবী জয় না করলে আল-আকসা জয় করা যাবে না।
= বর্তমান ও অতীতের সিরীয় শাসকদের হাতে যত ফিলিস্তীনি মুহাজির শহীদ হয়েছে, তার সংখ্যা ইসরাঈলের ইহুদিদের হাতে শহীদ হওয়া ফিলিস্তীনিদের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।
= এজন্যই দিমাশক জয় করলে শুধু বায়তুল মুকাদ্দাস নয়, নিরীহ উদ্বাস্তু ফিলিস্তীনিরাও মুক্তি পাবে।
------------------------------------------
আর এটা কি বলে দিতে হবে:
= কালিমাখচিত কালো পতাকা তিনদিক থেকে দিমাশকের ঘাড়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলছে!
= ইয়া আকসা! আমরা আসছি। দিমাশকের পরপরই। আর বেশিদিন নেই।
= সাবরান ইয়া আকসা! নাহনু হাদিরূন।
= লাব্বাইক ইয়া আকসা! লাব্বাইক! লাব্বাইক!

(collected)

power
10-02-2015, 11:39 PM
আল-আন্দালুস: আমাদের হারানো ফিরদাওস

ইসলামপূর্ব আন্দালুসের অবস্থা।
(তৃতীয় পর্ব)



নামকরণ:
-----------------
তখনকার স্পেনে কিছু বর্বর গোত্র বাস করতো। এরা মূলত স্পেনে এসেছিল উত্তরের স্ক্যান্ডেনিভিয় দেশ সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে ইত্যাদি দেশ থেকে।
এরা বর্বরের মতো এসে, স্পেনের ভূমি দখল করে বাস করতে শুরু করেছিল। কারো কারো মতে এরা এসেছিল জার্মানি থেকে।
এই উদ্বাস্তু নব আগন্তুক অভিবাসীদেরকে ভ্যান্ডাল নামে ডাকা হতো। এদের নামের সাথে মিলিয়েই স্পেন ভ্যান্ডালেসিয়া নামে পরিচিতি পেতে থাকে। আস্তে আস্তে পরিবর্তিত রূপ দাঁড়ায় আন্দুলীসিয়া তারপরে আন্দালুস।
.
এ ভ্যান্ডাল গোত্রগুলো ছিলে অত্যন্ত অসভ্য-বর্বর। ইংরেজিতে ভ্যান্ডাল শব্দের অর্থও তাই। ভ্যান্ডালরা ছিল যাযাবর। এক জায়গায় বেশিদিন স্থির হয়ে থাকতো না। তারা আন্দালুস ছেড়ে চলে গেলো। তাদের পরে অন্য খ্রিস্টান জাতি স্পেনের শাসনক্ষমতায় এল, তাদেরকে বলা হতো গথ। মুসলমাদের সাথে এই গথিকদেরই য্দ্ধু হয়েছে।
.
আমরা আন্দালুস হিশেবে যে দেশকে চিনি-জানি, সেটা শুধু আজকের স্পেনই নয়, বর্তমানের পর্তুগালও আন্দালুসের অন্তুর্ভূক্ত ছিল। পুরো অঞ্চলটাকেই বলা হতো: আইবেরীয় উপদ্বীপ। আয়তন প্রায় ছয় লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
আইবেরিয় উপদ্বীপ ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। অনেকটা ত্রিভূজাকৃতির। পূর্বদিকে ক্রমশ সংকীর্ণ হতে হতে কোণের সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম দিকে ক্রমশ প্রশস্ত।
মরক্কো থেকে বার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। দুই দেশের মধ্যে ছোট্ট একটা প্রাণালী। জিব্রাল্টার প্রণালী। যার মূল উচ্চারণ হলো: জাবালুত তারিক। তারিক বিন যিয়াদ (রহ.) নামে।
পিরেনিজ পর্বতমালা আন্দালুস এবং ফ্রান্সের মাঝে অন্তরায় হয়ে আছে। এই পর্বতশ্রেণী পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় তিনশত মাইল বিস্তৃত।
আন্দালুসের ভূমধ্যসাগর পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে বেষ্টন করে আছে। দক্ষিণ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে বেষ্টন করে আছে আটলান্টিক মহাসাগর। অর্থাৎ তিনদিক থেকেই আন্দালুস পানি দিয়ে বেষ্টিত। আরব ঐতিহাসিকগণ এজন্য আন্দালুসকে জাযীরায়ে আন্দালুস বলতো।
.
পিরেনিজ পর্বতমালার কারণে, ওপর থেকে দেখলে মনে হয়, আন্দালুস ইউরোপ থেকে মুখ ফিরিয়ে আছে আর মরক্কোর দিকে মুখ করে আছে। এজন্য আরব ভূগোগবিদগন আন্দালুসকে আফ্রিকা মহাদেশের একটি বর্ধিতাংশ বলেই ধরে এসেছেন। তদুপরি, আন্দালুসের ভৈৗগলিক অবকাঠামো, প্রাণীবৈচিত্র্য, উদ্ভিদরাজি বাহ্যিকভাবে অনেকটাই আফ্রিকার মতো।
.
দুটি প্রশ্ন মনে আসে:
এক: মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের অবস্থা কেমন ছিল?
দ্ইু: মুসলমানরা কেন স্পেনে অভিযান পরিচালনা করলেন?
.
প্রথমে দেখা যাক স্পেনের অবস্থাটা। আমরা চারটা দৃষ্টিকোন থেকে অবস্থাটা বিবেচনা করি:
ক: সামাজিক
খ: রাজনৈতিক
গ: অর্থনৈতিক
ঘ: ধর্মীয়
.
সামাজিক অবস্থা: মুসলমানদের আগমনের পূর্বে, স্পেনের বেশ কিছু শ্রেণী ছিল। মূলত ছিল দুইটা শ্রেণী। ক্ষমতাবান আর ক্ষমতাহীন। এছাড়া বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে:
১: শাসকশ্রেণী। এরা বলতে গেলে, দেশ ও দশের জানমালের মালিক ছিল। গীর্জা ছাড়া অন্য কারও তাদের সামনে মুখ খোলার সাহস হতো না।
২: যাজক সম্প্রদায়। তারা ছিল খুবই শক্তিশালী। নাগরিক নানা সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত। গথ রাজারা ছিল ধার্মিক। তাদের ওপর পুরোহিতশ্রেণীর বেশ প্রভাব ছিল। রাজাদের বদান্যতায় যাজক সম্প্রদায় অঢেল ধন-সম্পদের মালিক ছিল।
৩: সামন্ত রাজা বা জমিদারশ্রেণী। এদের কাজ ছিল রাজার ভোগ-বিলাসের উপায়-উপকরণ যোগান দেয়া।
৪: মধ্যবিত্ত শ্রেণী। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীরা ছিল মূলত ভূস্বামী। তারা অনূর্ধ্ব এক একর জমির মালিক হতে পারত। এই জমি ছিল হাস্তান্তরের অযোগ্য। অন্য কাউকে দান করতে পারতো না। বিক্রী করতে পারত না।
খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টির কারণে শস্য উৎপন্ন না হলেও নিয়মিত কর ঠিকই আদায় করতে হতো।
৫: ভূমিদাস ও ক্রীতদাস। এরা ছিল সমাজের সবচেয়ে নিশ্রেণী। ভূমিদাসকেরকে বলা হতো সার্ফ। এরা ঠিক দাস নয়, তবে এরা হলো মধ্যবিত্ত ও জমিদারদের মালিকানাধীন জমি-জিরেতের বাঁধা চাষী। এই শ্রেণী বিয়েশাদী করতে পারতো।
আর দাসেরা ছিল পুরো বন্দী। তাদের স্বাধীন কোনও জীবন ছিল না। বিয়েশাদীও নিজ থেকে করতে পারত না।
রাজনৈতিক অবস্থা:
----------------
১: রাজপরিবারের অন্তর্কোন্দল: তখন শাসক পরিবারে ছিল প্রচন্ড অন্তর্কোন্দল। রাজা ছিল রডারিক। সে তার পূর্ববর্তী রাজা উইটিজাকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। উইটিজার পুত্র ওয়াচিলাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তখন থেকেই দেশের মধ্যে চাপা অসন্তোষ শুরু হয়।
২: রাজাদের কাজ ছিল একটা, প্রজাদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করা। তাদের করভারে প্রজারা পর্যুদস্ত। প্রজারা মনে মনে রাজাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছিল।
৩: স্পেনে একটা প্রথা ছিল, সামন্ত রাজা ও জমিদারদের পুত্র-কন্যাদেরকে রাজার কাছে জিম্মী হিশেবে রাখা হতো। এ নিয়েও ক্রমে ক্রমে চাপা ক্ষোভ জমছিল।
এমনি এক রাজা উইটজার-এর কন্য ফ্লোরিন্ডা ছিল রাজা রডারিকের কাছে জিম্মী। রডারিক তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। এটা নিয়েও একটা বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
৪: গথিক রাজারা ছিল অনেক ক্ষেত্রে যাজক দ্বারা প্রভাবিত। গীর্জার স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় রাজারা যাজকদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়ে পড়তেন।
৫: দক্ষ সেনাবাহিনীরও অভাব ছিল। বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্যে রাজার পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি ছিল না।
অর্থনৈতিক অবস্থা:
-------------
১: রাজাদের মূল আয়ই ছিল প্রজাদের কর। নানাভাবে শোষণ করেই কর আদায় করা হতো।
২: সেচ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে কৃষিকাজও অতটা সবল-সচল ছিল না। রাজাদের উদাসীনতাই মূলত দায়ী।
৩: পশুপালনও ছিল অনেকের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি।
৪: যাতায়াত ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক মন্দাভাব নেমে আসে। নিরাপত্তার অভাবে কেউ ব্যবসার প্রতি আগ্রহ বোধ করতো না।
ধর্মীয় অবস্থা:
---------
১: স্পেনে ছিল খ্রিস্ট ধর্মেরই প্রাবল্য। ইহুদিরা ছিল চরম অবহেলিত। নির্যাতিত। ৬৯৪ সালের দিকে পরিচালিত এক গণহত্যায় বিপুল সংখ্যক ইহুদিকে হত্যা করা হয়।
গথিক রাজা সিসিবুথ প্রায় নব্বই হাজার ইহুদিকে খ্রিস্টধর্মে জোরপূর্বক দাখিল করে।
মোটকথা পুরো স্পেনই ছিল ধর্মীয় জবরদস্তি আর অত্যাচারের দেশ।
.
পুরো অবস্থা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায় ও বোঝা যায়, স্পেন তখন নতুন কিছুর অপেক্ষায় প্রস্তুত। পরিবর্তনের জন্যে উন্মুখ। অধীর। একটু নাড়া দিলেই হবে, টুপ করে পাকা ফল এসে কোলে পড়বে। জনগন সাড়া দিবে।

(collected)

power
10-02-2015, 11:43 PM
আল-আন্দালুস: আমাদের হারানো স্বর্গ


আশা ও নিরাশা
------
আজ থেকে আটশ বছরেরও আগে, মুসলিম ইতিহাসে একটা চরম লজ্জা ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। সেটা বলার আগে, আমরা একটু গৌরবময় অধ্যায়কে জানি। তাহলে শোকটা গায়ে কম লাগবে।
-
ইংল্যান্ডের রাজা তাকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন:
-আমি আপনার অনুগত সেবক।
.
তার আমলেই বিশ্ব প্রথমবারের মতো দেখে, বয়স্কদের জন্যে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুবিধা।
.
তিনি ইউরোপীয় ইতিহাসের গতিপথটাই বদলে দিয়েছিলেন।
.
মুসলমানরা তখন শতধা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। দলাদলি-হানাহানিতে লিপ্ত ছিল। তাদের পতন ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন নাযুক পরিস্থিতিতে ক্ষমতা নিজ হাতে তুলে নিলেন। বয়েস তখন একুশ। বদলে গেল দৃশ্যপট। উল্টে গেল আন্দালুসের গতিপথ। তিনি হলেন আবদুর রাহমান আননাসির। সপ্তম খলীফা। ৯১২-৯৬১ ঈসায়ী।
.
তিনি দায়িত্ব নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন:

এক: জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকে ব্যাপকতর করে তুলেছিলেন। কর্ডোভাকে পরিণত করেছিলেন জ্ঞানের শহরে। পুরো ইউরোপ থেকে জ্ঞানপিপাসুরা দলে দলে এ-শহরে আসতো। আগত প্রতিটি ছাত্রের জন্যেই থাকতো নিয়মিত মাসোহারা।
.
দুই: নিরক্ষরতা দূরীকরনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
.
তিন: কর্ডোভা মসজিদকে সম্প্রসারিত করেছিলেন। সেটা পরিণত হয়েছিল সেকালের সর্ববৃহৎ মসজিদে।
.
চার: জনসংখ্যার বিচারে, কর্ডোভা স্বীকৃতি পেয়েছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে। প্রথম স্থান ছিল বাগদাদের। তিনি কর্ডোভাতে তিন হাজার মসজিদ নির্মান করেছিলেন।
.
পাঁচ: তার আমলে বিশ্বে প্রথম বারের মতো রাতের বেলা, রাস্তাগুলোতে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
.
ছয়: তার আমলে, ইউরোপে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত হাসপাতাল, উন্মুক্ত পাঠাগার, বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিনমূল্যে শিক্ষার প্রথা চালু করা হয়।
.
সাত: ইউরোপে তিনিই প্রথম বৃদ্ধাশ্রম নির্মান করেন। পশুপাখির জন্যে অভয়ারণ্য তৈরী করেন। এসব কাজ তদারক করার জন্য দক্ষ লোকবল নিয়োগ করেন।
.
আট: যুদ্ধাস্ত্রনির্মাণ কারখানা স্থাপন করেন। সামুদ্রিক বন্দন নির্মান করেন। ইউরোপের সর্ববৃহত সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। পুরো ইউরোপ থেকেই তার দরবারে উপহার-উপঢৌকন আসতেই থাকতো।
.
নয়: গড়ে তোলেন মদীনাতুয যাহরা। বিশ্নের সুন্দরতম শহর। তিনটা স্তরবিশিষ্ট। সর্বোচ্চ স্তরে ছিল প্রাসাদ। দ্বিতীয় স্তরে ছিল বাগ-বাগিচা। তৃতীয় স্তরে ছিল বাজার-মসজিদ।
.
দশ: নির্মান জগদ্বিখ্যাত কর্ডোভা-সেতু। যা আজো বিদ্যমান আছে।
তিনি ছিলেন মুত্তাকী। পরহেযগার। মুজাহিদ। দক্ষপ্রশাসক।
.
আন্দালুসে ইমারাহ নামে শাসন শুরু করেছিলেন আবদুর রাহমান আদদাখিল। ৭৭৫ সালে। নানা চারাই উৎরাই পেরিয়ে সেটা শেষ হয়েছিল ১০৩১ সাল পর্যন্ত।
শেষের দিকে আন্দালুস ভাগ হয়ে গিয়েছিল ২২টা নগর রাষ্ট্রে। মজার ব্যাপার হলো, উসমানি খিলাফাহ ভেঙে তৈরী হওয়া আরব রাষ্ট্রও বর্তমানে ২২টা।
বাইশটা নগর রাষ্ট্রের যুগকে বলা হয় তাওয়ায়েফ যুগ। শাসকদেরকে বলা হয় মুলূকুত তাওয়ায়িফ। এমনই একটা শহর ছিল ভ্যালেনসিয়া। ১২৩৮ সালে এ-সুন্দর শহর মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে যায়।
এর বেশি লেখা সম্ভব হলো না। কষ্ট আর কষ্ট!।

(collected)

Ahmad Faruq M
10-04-2015, 10:12 PM
জাযাকাল্লাহু খাইরাল জাযা।

কাল পতাকা
10-05-2015, 05:51 PM
মুজাহিদরা আবার ফিরে আসছে।

ইনশাল্লাহ