Announcement

Collapse
No announcement yet.

''ইসলামোফোবিয়া''দেশে দেশে; মুসলিম নিধনের মিশন!

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ''ইসলামোফোবিয়া''দেশে দেশে; মুসলিম নিধনের মিশন!

    "ইসলামোফোবিয়া"দেশে দেশে; মুসলিম নিধনের মিশন!



    ইসলামোফোবিয়া:
    কোনো জিনিস ও কর্মে ভয় পাওয়াকে ‘ফোবিয়া' বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ কোন ব্যক্তি, যার পানিভীতি রয়েছে- তার জন্য হাইড্রোফোবিয়া পরিভাষা ব্যবহৃত হয়। তেমনি একটি পরিভাষা হলো ইসলামোফোবিয়া। ‘ফোবিয়া' (phobia) ভয়, ডর এবং ঘৃণা পোষণকে বলে। এটা অযৌক্তিক এবং বিবেকের অসুস্থ চিন্তার নাম। যেটা ভীতি, অনাকাঙ্ক্ষা এবং ঘৃণায় ভরপুর। যখন ‘ফোবিয়া' শব্দকে ইসলামের সাথে জুড়ে দেয়া হয়; তখন তার অন্তঃস্থিত অর্থ দাঁড়ায়- ‘ইসলামভীতি বা ইসলামবিদ্বেষ বা মুসলিম-বিরোধী মনোভাব, ইংরেজি: Islamophobia বা anti-Muslim sentiment হলো নিন্দার্থে বা ব্যাঙ্গার্থে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক শব্দ যার অর্থ- ইসলামকে ভয় করা। এর দ্বারা মূলত ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাকেই বোঝানো হয়। ইসলামের বাস্তবিক দৃশ্যকে পাল্টে দিয়ে মুসলমানদের বদনাম করা। তাদের হেয় প্রতিপন্ন করে মূর্খ বা দুর্ধর্ষরূপে উপস্থাপন করে ভীতির সঞ্চার করা এবং ঝ ও মনোজাগতিক দিক থেকে তাদের পেরেশান করা। কঠোরতার নিশানা বানানো। মসজিদ ও ইসলামি ঐতিহ্যগুলোর ওপর হামলা করা। মুসলিমদের পোশাকের ওপর ট্যাগ লাগানো ইত্যাদি।

    ইসলামিক সহযোগী সংগঠন (OIC) ইসলামোফোবিয়াকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে যে, ইসলামের বিপরীতে অযৌক্তিক, আঘাতস্বর্বস্ব এবং কঠিন অপ্রীতিকর প্রকাশের নাম- ‘ইসলামোফোবিয়া'। তেমনিভাবে ইসলামোফোবিয়া বাহানায় মুসলমানদের আত্মিক, সামাজিক এবং সভ্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে হয়রানি করা।ইসলাম মান্যকারীদের দেশ ও জাতির ঐচ্ছিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যেককে কর্তৃত্বহীন করাও অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম সংখ্যালঘুদের সাথে কার্যত এমন আচরণই করা হচ্ছে, এমনকি সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশেও এমন নজির কম নয়। বিশ্বে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। একই সমস্যা যখন প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে পর্যন্ত, হোক মাত্রায় কম বা বেশি, তখন সমস্যাটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সমন্বিত ভাবে মোকাবিলা করা একান্ত প্রয়োজন।

    আমরা ভূলে যাইনি ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ বন্দুকধারী কর্তৃক নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে নৃশংস হামলার ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হওয়ার ঘটনা। যার মূলে ছিল ইসলাম বিদ্বেষি মনোভাব। হামলাকারী ইসলামফোবিক এবং শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী বিশ্বাস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণটি লাইভ-স্ট্রিম করেছিল।
    এ ঘটনার পূর্বাপর বিশ্বজুড়ে ইসলামোফোবিয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে।

    কানাডায় ইসলামোফোবিয়া;
    জানুয়ারি ২০১৭ সালে কানাডায় কুইবেক সিটি মসজিদে গুলিবর্ষণে ছয়জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়। এখানেও হামলাকারী তার উগ্র ডানপন্থী এবং মুসলিম বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত ছিল। শুধু হামলা নয়, কখনও কখনও আইনগত ভাবে বিদ্বেষ বা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে মুসলিমরা।

    ফ্রান্সে ইসলামোফোবিয়া:
    ২০১০ সালে ফ্রান্স সর্বজনীন স্থানে বোরকা এবং নেকাব সহ পুরো মুখের পর্দা নিষিদ্ধ করার জন্য ইউরোপের প্রথম দেশ হয়ে ওঠে। আইনটি বিতর্কিত ছিল, এটি অন্যায়ভাবে মুসলিম মহিলাদের লক্ষ্যবস্তুু করেছে এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন করেছে।

    আমেরিকায় ইসলামোফোবিয়া:
    আমেরিকায় রেকর্ড হারে বেড়েছে ইসলামবিদ্বেষের ঘটনা। সিএআইআর তিন দশক আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ নিয়ে তথ্য সংরক্ষণ করতে শুরু করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ হাজার ৬১টি মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার অভিযোগ এসেছে, যা তার আগের বছরের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ৩০ বছর ধরে যে তথ্য রেখেছে, তার মধ্যে গত বছরই সবচেয়ে বেশি মুসলিমবিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই ঘটেছে ৩ হাজার ৬০০ ঘটনা। একই ভাবে ২০১৭ সালে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন যা সাময়িকভাবে কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ থেকে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞাটি বৈষম্যমূলক এবং ইসলামফোবিক হিসাবে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল এবং এটি বেশ কয়েকবার সংশোধিত হওয়ার আগে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল।

    ভারতে ইসলামোফোবিয়া:
    একটি সমীক্ষা অনুসারে, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের নেতারা ৪৫০ টিরও বেশি বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা দিয়েছেন, যার মধ্যে ৬৩টি বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই দায়ী।একটি মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক জানিয়েছে যে ভারতে মুসলিম-বিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্সটুডে-র মতে, গবেষণায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশ ও বিদ্বেষী বক্তব্যকে ইসলামোফোবিয়ার বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হয়েছে। ইন্ডিয়া হেট ল্যাব (IHL) থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। একটি মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক জানিয়েছে যে ভারতে মুসলিম-বিরোধী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    পার্সটুডে-র মতে, গবেষণায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশ ও বিদ্বেষী বক্তব্যকে ইসলামোফোবিয়ার বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হয়েছে। ইন্ডিয়া হেট ল্যাব (IHL) থিঙ্ক ট্যাঙ্কের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনা ২০২৩ সালে ৬৬৮টি থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১,১৬৫টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ৭৪.৪ শতাংশ বৃদ্ধি। IHL জানিয়েছে: ২০২৪ সাল ছিল সাধারণ নির্বাচনের বছর যা মুসলিম-বিরোধী বিদ্বেষমূলক ঘটনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ৯৮.৫ শতাংশ ঘৃণা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মুসলমানদের লক্ষ্য করে প্রচারিত হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ঘটেছে বিজেপি বা তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলোতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিজেপি নেতারা ৪৫০ টিরও বেশি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যার মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই ৬৩ টির জন্য দায়ী।

    জার্মানিতে ইসলামোফোবিয়া:
    জার্মানির সুপ্রিম কাউন্সিল অফ মুসলিমরা ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে
    জার্মানির মুসলিমদের সুপ্রিম কাউন্সিল দেশটিতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইসলামোফোবিয়া, ঘৃণা এবং সহিংসতার বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কাউন্সিল জানিয়েছে যে ২০২৩ সালে, সেদেশে ১,৪৬৪টিরও বেশি ইসলাম-বিরোধী অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭০টি মসজিদে হামলার ঘটনাও রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪০ শতাংশেরও বেশি। এই বিষয়ে, CLAIM সংস্থাটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী অপরাধের প্রায় ১,৯২৬টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে পর্দানশীন মহিলারা এই আক্রমণের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে। বলা হয় যে এই অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই পরিকল্পিত অপরাধযজ্ঞ এবং কখনও কখনও ইসরাইলের সাথে সম্পর্কিত গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।

    স্পেনে ইসলামোফোবিয়া:
    মরোক্কান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ইন্টিগ্রেশন অফ ইমিগ্র্যান্টস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে স্পেনে ৪৭.৫ শতাংশ মুসলিম বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার, কিন্তু মাত্র ৬ শতাংশ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার সাহস পেয়েছে। এই অ্যাসোসিয়েশনের জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে যে মুসলিমদের বিশেষ করে মরক্কোর নাগরিকদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী হামলা এবং ঘৃণা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। "ইসলাম-বিরোধী বৈষম্যের নিন্দা এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ" শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে স্পেনের অধিবাসী ২৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ৫৮৪ জন মুসলিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার।

    বেশ কিছু গবেষণা ও সমীক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ইসলামোফোবিয়ার পরিমাণ পরিমাপ করার চেষ্টা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালে পরিচালিত একটি পিউ রিসার্চ সেন্টার সমীক্ষায় দেখা গেছে যে পশ্চিম ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রতি প্রতিকূল দৃষ্টিভঙ্গি সবচেয়ে সাধারণ ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, উত্তরদাতাদের ৫৬% মুসলমানদের প্রতি প্রতিকূল মতামত প্রকাশ করেছে, যেখানে পশ্চিম ইউরোপে এই সংখ্যা ছিল ৩০%।
    ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর ফান্ডামেন্টাল রাইটস (FRA) এর আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ৪২% মুসলিম উত্তরদাতা ইউরোপে গত পাঁচ বছরে বৈষম্য বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও হাইলাইট করা হয়েছে যে সবচেয়ে সাধারণ ক্ষেত্র যেখানে বৈষম্য ঘটেছে তা ছিল সর্বজনীন স্থানে, যেমন রাস্তা, দোকান এবং গণপরিবহন।

    এগুলি বিশ্বব্যাপী ইসলামোফোবিয়ার কয়েকটি উদাহরণ মাত্র। এটি মুসলমানদের জন্য সমগ্র বিশ্বে অত্যন্ত ক্ষতিকর যে, ইসলামোফোবিয়া ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং বৈষম্য থেকে শুরু করে সহিংস আক্রমণ এবং সরকারী নীতি যা মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করে নেয়ার বিভিন্ন রূপ ।

    পশ্চিমারা মধ্যপ্রাচ্যে স্বাধীনতাকামীদের সন্ত্রাসী বলে। আর যখন তাদের নিজ দেশগুলোতে মুসলিম হত্যা হয়, তখন হত্যাকারীকে মানসিক রোগী হিসেবে আখ্যায়িত করে। সারা বিশ্বে ইসলামোফোবিয়া উদ্বেগজনক হারে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমনকি সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশেও এর নজির কম নয়, যার কারণে মুসলিম সমাজে এক ভীতিকর পরিবেশ ও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ফলে মুসলমানের জীবন চলার পথ সংকীর্ণ থেকে সংকীর্ণ হয়ে পরেছে।
    সুতরাং মুসলিম উম্মাহর শান্তি নিরাপত্তা এবং মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে; এখনি সময় ইসলামোফোবিয়াকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা।


    হে আমাদের প্রতিপালক, ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে উপযুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ করার তাওফীক দান করুন- আমীন

    সংগৃহীত:





  • #2
    হে আমাদের প্রতিপালক, ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে উপযুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ করার তাওফীক দান করুন- আমীন
    বছর ফুরিয়ে যাবে এতো রিসোর্স আছে https://gazwah.net সাইটে

    Comment

    Working...
    X