Announcement

Collapse
No announcement yet.

মালি এখন ভূমিপুত্রদের জেগে ওঠার সন্ধিক্ষণ, যা সম্মান, মর্যাদা ও পথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার এক গৌরবময় লড়াই।।

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • মালি এখন ভূমিপুত্রদের জেগে ওঠার সন্ধিক্ষণ, যা সম্মান, মর্যাদা ও পথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার এক গৌরবময় লড়াই।।

    মালি এখন ভূমিপুত্রদের জেগে ওঠার সন্ধিক্ষণ, যা সম্মান, মর্যাদা ও পথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার এক গৌরবময় লড়াই।।

    §

    ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মুসলিম বিশ্বের তিনটি প্রধান কৌশলগত স্নায়ুকেন্দ্র বা ‘ভাইটাল নার্ভ’-এ বড় ধরনের রূপান্তর ঘটেছে। এই পরিবর্তনগুলো বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

    ১. প্রথমটি ছিল ২০২১ সালে আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয়। এটি একটি বিশ্ব কাঁপানো এক ‘জিও-মিলিটারি’ শক ছিল, যা পশ্চিমা লিবারেল আটলান্টিক ব্লকের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরিয়েছে।

    ২. দ্বিতীয়টি হলো ২০২৪ সালে সিরিয়ায় আসাদ শাসনের পতন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লড়াইয়ের মাধ্যমে ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো একটি ব্যবস্থার অবসান ঘটল।

    ৩. আর বর্তমানে আমরা যা দেখছি, তা হলো মালির পরিবর্তন। একে ‘আফ্রিকার আন্দালুস’ বা ‘আফ্রিকার কুদস’ (জেরুজালেম) বলা যেতে পারে। এটি উম্মাহর সেই অবহেলিত অংশ, যাকে আমরা দীর্ঘ ১৫০ বছর ধরে ভুলে ছিলাম।


    কল্পনা করুন এমন একজন মানুষের কথা, যে দীর্ঘ ১৫০ বছর ধরে বেঁচে আছে। কিন্তু এই দীর্ঘ দেড় শতাব্দী ধরে সে তার শরীরের হাত-পা বা অন্য কোনো অঙ্গের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারেনি। তার চেতনায় সে ছিল কেবল একটি মস্তিষ্ক আর ধড়; সে জানত না বাহু, আঙুল বা পায়ের ব্যবহার কী। এখন ভাবুন, হঠাৎ একদিন সে পূর্ণ সচেতনভাবে তার প্রতিটি অঙ্গের অস্তিত্ব টের পেতে শুরু করল। সেই মানুষটির মানসিক অবস্থা তখন কেমন হবে? গত ১০০ বছরে মুসলিম উম্মাহর অবস্থাও ঠিক এমন ছিল। আফ্রিকার এই বিশাল মুসলিম জনপদ সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবচেতন ছিলাম। বড় সত্য হলো; উম্মাহ আজ তার শরীরের একটি দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত অংশের অস্তিত্ব নতুন করে টের পাচ্ছে।

    আফগানিস্তানের ধাক্কাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এর ফলে পুতিন ইউক্রেনে প্রবেশের সাহস পেয়েছেন, চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকাকে টেক্কা দিচ্ছে। এমনকি আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলোও এখন ওয়াশিংটনকে আগের মতো মানছে না। আর সিরিয়ার ঘটনায় একটি আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক প্রজেক্টের অবসান হয়েছে।

    বর্তমানে মালিতে যা ঘটছে, কৌশলগত দিক থেকে তা সিরিয়ার ঘটনার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলাম ও মুসলমানদের গুরুত্ব মর্যাদার নতুন দুয়ার উন্মোক্ত করছে।

    ২০২২ থেকে ২০২৬, এই চার বছর ধরে সাহল অঞ্চলে যা ঘটছে তা একই সুতোয় গাঁথা। এটি মুসলিম উম্মাহর ‘দক্ষিণ কৌশলগত করিডোর’ (Southern Strategic Corridor)। এতদিন এই অঞ্চলটি ফরাসি ও রুশদের একক প্রভাব বলয়ে ছিল। বর্তমানে এখানকার মানুষ এখন তাদের নিজস্ব পরিচয়, ধর্ম ও গোত্রীয় ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নিজেদের ফিরে পেতে চাইছে।

    আফ্রিকার মালিতে যে ভূ-কম্পন শুরু হয়েছে, তা পশ্চিমা বিশ্বের ‘দক্ষিণ দুয়ার’ কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আফগানিস্তান বিশ্বকে অস্থির করে দিয়েছে, তুফান আল-আকসা উম্মাহকে জাগিয়েছে, সিরিয়া পূর্ব বলয় থেকে মুক্তি দিয়েছে, আর মালির এই জাগরণ পশ্চিম আফ্রিকার বাকি অংশকে ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলমুক্ত করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।

    সাহেল আফ্রিকা সম্পর্কে আমরা কতটুকুই বা জানি?কে জানে ‘কানাম’ (Kanem) খেলাফতের কথা, যা টানা ৯ শতাব্দী স্থায়ী হয়েছিল? কিংবা ৪শ বছর টিকে থাকা গৌরবোজ্জ্বল মালি সাম্রাজ্যের কথা? সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো, ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসে দীর্ঘতম খেলাফতগুলো ছিল আফ্রিকায়। উমাইয়া, আব্বাসীয় এবং ওসমানীয় খেলাফতের মোট সময়কাল একত্রিত করলেও সেটি এই আফ্রিকান খেলাফতগুলোর ১০৩২ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসের সমান হবে না। আমরা কোনো সামান্য বিষয় নিয়ে কথা বলছি না বরং, আমরা ১০৩২ বছরের এক বিশাল ইতিহাসের কথা বলছি।

    উত্তর মালির এই ‘কিদাল’ শহরটি ৪শ বছর ধরে মুসলিমদের রাজধানী ছিল। সেখানে ছিল তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এক সময় মক্কা, আল-আজহার কিংবা কাইরুয়ানের জাইতুনা থেকে মানুষ মালিতে আসত জ্ঞান অর্জনের সন্ধানে। আজ থেকে মাত্র ২০০ বছর আগেও মালি ছিল বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ফরাসি উপনিবেশবাদ বা ‘ইস্তিদমার’ (উচ্ছেদ ও ধ্বংসযজ্ঞ) এমনভাবে এই ইতিহাস মুছে দিয়েছে যে, আমরা ভুলেই গেছি আমাদের শরীরের এই অঙ্গটি অস্তিত্বশীল।

    মুসলিম উম্মাহ একসময় এক সুতোয় গাঁথা ছিল, কিন্তু যখন একে ভাগ করা হলো, তখন তা করা হয়েছিল তিনটি প্রধান কৌশলগত করিডোর অনুযায়ী।
    যার মাধ্যমে আমাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি কি মধ্য এশিয়ার ‘গোল্ডেন হোর্ড’ বা সোনালী বাহিনীর কথা শুনেছেন? মস্কোর শাসকরা যাদের টানা ২৭০ বছর কর দিতে বাধ্য হতো! ভারতের ১০০০ বছরের খেলাফত কিংবা আফ্রিকার সোনজাই ও তিম্বাকতু সাম্রাজ্য, এগুলো কিন্তু কোনো রূপকথা নয়। এই কেন্দ্রগুলো একসময় পৃথিবীকে শাসন করত। তারা এমন এক ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামো (Demography) তৈরি করেছিল যাদের বিশ্বাস, ইবাদতের ভাষা এবং আইন বা শরিআহ ছিল এক ও অভিন্ন। ইবনে বতুতার যুগে একজন মুসলিম মালিতে জন্ম নিয়ে আজহারে পড়াশোনা করতেন, বাগদাদে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতেন এবং খোরাসানে গিয়ে শাসন করতেন—এটিই ছিল আমাদের শক্তির আসল ভিত্তি।

    ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো যখন এই অঞ্চল দখল করল, তারা পুরো মুসলিম বিশ্বকে তিনটি প্রধান ‘কৌশলগত করিডোর’ বা ‘সিল্ক রোড’-এ ভাগ করে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিল:
    ১. উত্তর করিডোর (Northern Corridor): আফগানিস্তান থেকে ভারত পর্যন্ত এই প্রাচীন রেশম পথটি রাশিয়া এবং তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হলো।
    ২. সামুদ্রিক করিডোর (Marine Corridor): আটলান্টিক থেকে সুয়েজ খাল ও আরব সাগর হয়ে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এই নৌপথটি দখল করল ব্রিটেন, যা বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতির মূল ধমনী।
    ৩. দক্ষিণ করিডোর (Southern Corridor): এটি হলো সাহেল আফ্রিকা বা মহাদেশের অভ্যন্তরীণ পথ, যার নিয়ন্ত্রক ছিল ফ্রান্স।

    ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আফগানিস্তানের ঘটনায় ‘উত্তর করিডোর’ কেঁপে উঠেছে। ‘তুফান আল-আকসা’ এবং সিরিয়ার পরিস্থিতিতে ‘সামুদ্রিক করিডোর’ আজ উত্তাল। আর বর্তমানে মালি ও লিবিয়ার ঘটনাবলির মাধ্যমে ‘দক্ষিণ করিডোর’ তার শিকল ভাঙছে। মনে হচ্ছে, প্রতিটি করিডোর এখন তার প্রকৃত মালিকদের ডাক দিচ্ছে। এটি কোনো সাময়িক শূন্যতা নয় যে, এক পরাশক্তি চলে গেলে অন্য কেউ এসে দখল করবে; বরং এটি হলো ভূমিপুত্রদের নিজের সম্পদ ও পথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াই।

    একে ‘অতিরঞ্জিত’ মনে হওয়া স্বাভাবিক। পশ্চিমা থিঙ্কট্যাঙ্কগুলো বলে, ‘ফ্রান্স চলে গেছে, রাশিয়া সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে’। যেন এখানকার মানুষগুলো নিজস্ব কোনো সত্তাহীন, কেবল কীটপতঙ্গ বা দাবার ঘুঁটি! দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের মুসলিম বুদ্ধিজীবীরাও অনেক সময় এই একই পশ্চিমা পরিভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু সত্য হলো, এটি ‘শূন্যস্থান পূরণ’-এর লড়াই নয়; এটি মালির ভূমিপুত্রদের অমানিশার বিভীষিকাময় অন্ধকার ভেদ করে জেগে ওঠার সন্ধিক্ষণ। তারা যখন কিদাল জয় করতে যাচ্ছে, তারা আসলে তাদের ৪০০ বছরের পুরনো রাজধানীকে ফিরে পাওয়ার মিশন শুরু করতে যাচ্ছে। এই সত্যটি আমাদের অনুধাবন করতে হবে।

    এক বিদেশি দখলদারকে হটিয়ে আরেক বিদেশি ভাড়াটে খুনি বাহিনীকে আনা হয়, তখন পশ্চিমা পণ্ডিতরা একে ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বলেন। কিন্তু যখন সেই মাটির সন্তানেরা নিজেদের ভূমি ও সম্পদ উদ্ধারে লড়াই করে, তখন বলা হয় ‘মালি বিশৃঙ্খলার দিকে যাচ্ছে’।

    এখন প্রশ্ন হলো, মালি কি আগে খুব শান্তিতে ছিল? ফরাসিরা কি সেখানে সমৃদ্ধি এনেছিল? দশকের পর দশক ধরে তারা মালিকে দারিদ্র্যের অতলে ডুবিয়ে রেখেছে। অথচ মালি এবং পুরো সাহেল আফ্রিকায় যে পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ আছে, তা দিয়ে আগামী ১০০০ বছর এই অঞ্চলটি অনায়াসে চলতে পারবে। রাশিয়ার ওয়াগনার বাহিনী সেখান থেকে প্রতি মাসে ১০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের স্বর্ণ কেবল বেতন হিসেবে নিয়ে যাচ্ছে। মালির মানুষ দারিদ্র্যে ধুঁকছে, অথচ তাদের মাটির নিচে স্বর্ণের খনি!

    কিদাল জয় করা একজন ফিলিস্তিনির জন্য কুদস বা জেরুজালেম মুক্ত করার মতোই পবিত্র ও আবেগপূর্ণ বিষয়। কিদাল ছিল সেই খেলাফতের রাজধানী যা ১০৩২ বছর টিকে ছিল। যারা মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কিদাল জয় করছে, তাদের মনে নিজেদের হারানো ঐতিহ্য ও রাজধানী উদ্ধারের চেতনা কাজ করছে। এই মানুষগুলো মরুভূমির সন্তান, যাদের আধুনিক পশ্চিমা ভোগবাদ বা তথাকথিত ‘মডার্নিজম’ বশ করতে পারেনি। তাদের কলিজাটা এখনো স্বাধীন। সাহেল আফ্রিকার মানুষের মধ্যে বর্তমানে যে স্তরের রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তা সিরিয়া, মিশর বা ইরাকের মানুষের চেয়েও অনেক বেশি প্রখর। সেখানকার সেকুলার ও জাতীয়তাবাদী দলগুলোও এখন বুঝতে পেরেছে যে, ইসলামি আদর্শ ছাড়া মালির মুক্তি সম্ভব নয়। গত ৭০ বছরের জাতীয়তাবাদ তাদের কেবল বিভক্তই করেছে।

    দ্বিতীয়ত, তারা বুঝেছে কেবল ‘শরিআহ’ই পারে বিভিন্ন বিবাদমান গোত্রের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে। মালির ভূমিপুত্ররা আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগে আমরা দেশ মুক্ত করব। আমেরিকা, রাশিয়া বা ফ্রান্সের দালালি করার চেয়ে, নিজেরা মিলেমিশে থাকা সম্মান,
    মর্যাদা ও গৌরবের।

    এই পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিপক্বতা এবং ইসলামি আদর্শের এই যে পুনর্জাগরণ, তা কোনো সীমানা মানে না, মানে না কোন কাঁটা তারের বেড়া, যা বায়ুমন্ডলে মিশে থাকা অদৃশ্য বারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে দিক থেকে দিগন্তের।
    আজ মুসলিম উম্মাহকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে এক নব ঊষা, যে ঊষা হবে শুধুই ইসলাম ও মুসলিমের।

    সংগৃহীত ও পরিমার্জিত;




  • #2
    মালির ভাইদের আপডেট জানতে আগ্রহী
    আল্লাহ আমাদের মুজাহিদ হিসেবে কবুল করে নিন আমীন।

    Comment


    • #3
      ঐ জাতি ব্যর্থ ও অপদার্থ হয় যে, পিতৃপুরুষদের ইতিহাস জানে না

      হে আল্লাহ! ভাইকে উত্তম বিনিময় দান কর।
      হে আল্লাহ! মুসলমানদের তাওহীদ ঈমান ও আকিদা ফিরিয়ে দাও।

      হে আল্লাহ! আমাদের ভূমি আমাদেরকে ফিরিয়ে দাও। আমীন।

      Comment

      Working...
      X