Announcement

Collapse
No announcement yet.

আন্তর্জাতিক অর্থায়নে চলা, পশ্চিমা জেন্ডার-তত্ত্বের ওপর দাঁড়ানো শিক্ষা কারিকুলাম রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন আঙ্গিকে lgbt-কে ঘরে ঘরে পৌঁছানোর ঘৃর্ণিত অপচেষ্টা!!

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • আন্তর্জাতিক অর্থায়নে চলা, পশ্চিমা জেন্ডার-তত্ত্বের ওপর দাঁড়ানো শিক্ষা কারিকুলাম রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন আঙ্গিকে lgbt-কে ঘরে ঘরে পৌঁছানোর ঘৃর্ণিত অপচেষ্টা!!

    আন্তর্জাতিক অর্থায়নে চলা, পশ্চিমা জেন্ডার-তত্ত্বের ওপর দাঁড়ানো শিক্ষা কারিকুলাম রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন আঙ্গিকে LGBT-কে ঘরে ঘরে পৌঁছানোর ঘৃর্ণিত অপচেষ্টা!!
    §
    BRAC এবং LEGO Foundation একসাথে কাজ শুরু করে ২০১৫ সালে, আর ২০১৬ সালের এপ্রিলে ৪.৭ মিলিয়ন ডলারের আনুষ্ঠানিক তিন বছর মেয়াদি চুক্তি সই হয় — বাংলাদেশ, তানজানিয়া ও উগান্ডায় খেলাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে। এশিয়ায় এটাই ছিল LEGO Foundation-এর প্রথম বড় বিনিয়োগ। দশ বছর পর, ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই, বাংলাদেশ সরকার জানায় তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই “Play Lab” মডেল পাইলট করার কথা ভাবছে, আর সফল হলে সারাদেশে ছড়িয়ে দেবে। একই দিন BRAC ও LEGO Foundation তাদের নতুন ৫০ মিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি “SPLASH”-এর উদ্বোধনও করে।

    যেহেতু তানজানিয়া ও উগান্ডায় এই Play Lab মডেলটি অনেক আগেই শুরু হয়েছে, তাই খেলার ছলে এই মডেলে আসলে কী শেখানো হয় সেটা যাচাইয়ের জন্য BRAC-এর Play Lab Parenting Manual (তানজানিয়া-উগান্ডা, ২০২১) আমরা একটু খতিয়ে দেখবো।

    শরীফ-শরীফা গল্পের কথা তো নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। যে Gender Transformative Approach থেকে শরীফ-শরীফার গল্পটি জন্ম নিয়েছিল, সেই একই এপ্রোচে Play Lab মডেলটি সাজানো হয়েছে।

    জেন্ডারবাদের প্রচার:
    ১৮৬ পৃষ্ঠার ম্যানুয়ালে gender শব্দটি আছে মোট ১৩১ বার। পৃষ্ঠা পাঁচে Goals অংশে জেন্ডার সমতার নামে অভিভাবকের জ্ঞান, বিশ্বাস আর আচরণ—তিনটাই বদলে দিতে বলা হয়েছে। Session 2-তে (পৃষ্ঠা ২০–২৩) একটা কার্যক্রম আছে, যেখানে ফ্লিপচার্টে “নারী” আর “পুরুষ” নামে দুটো কলাম বানানো হয়, তারপর কলাম দুটোর নাম উল্টে দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের নিজের মুখ দিয়েই বলানো হয় যে জৈবিক sex বাদে বাকি সবকিছুই শেখানো, সামাজিক gender। ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৪) বলা হয়েছে, শৈশবই এই ধরনের হস্তক্ষেপের সবচেয়ে ভালো সময়। “বাজার-রান্না” খেলাতেও (পৃষ্ঠা ১৬২) ফ্যাসিলিটেটরকে বলা আছে ছেলে-মেয়েকে উল্টো ভূমিকা দিতে। একই সেশনে ফ্যাসিলিটেটরকে বলা হয় “positive deviance” খুঁজে বের করতে — যেসব পরিবার প্রচলিত সামাজিক নিয়ম ভেঙেছে, তাদের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে। আর পরিশিষ্ট A-তে (পৃষ্ঠা ১৬৬–১৬৭) ফ্যাসিলিটেটরের জন্য cisgender, transgender, heterosexual, homosexual-এর সংজ্ঞাও দেওয়া আছে। ফ্যাসিলিটেটর বাছাইয়েও একই চিন্তা কাজ করে — বাবাদের সেশনে এমন একজন পুরুষ দরকার যাকে অন্য‌ বাবারা “gender-transformative role model” হিসেবে দেখতে পারেন (পৃষ্ঠা ৮)।

    কাজেই, এটা কোনো নিরপেক্ষ শিশু-বিকাশ কারিকুলাম না। এতে রয়েছে sex আর gender নিয়ে একটা নির্দিষ্ট তত্ত্ব, নারী-পুরুষের সামাজিকভাবে স্বীকৃত মনোভাব-বদলের লক্ষ্য, আর সাথে ট্রান্সজেন্ডার-সমকামিতাকে স্বাভাবিকীকরণের প্রচেষ্টা — সব মিলিয়ে একটি পরিকল্পিত আদর্শগত কাঠামো।

    ম্যানুয়ালটিতে সেক্স ও জেন্ডারের পার্থক্য বেশ গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। শেখানো হয়েছে সেক্স হচ্ছে জৈবিক আর জেন্ডার হচ্ছে সামাজিক।

    Appendix-এ জেন্ডার আইডেন্টিটি যুক্ত করে ট্রান্সজেন্ডারকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে এবং সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন যুক্ত করে সমকামী আচরণকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে।

    উদ্বেগের বিষয়:
    কয়েকটা জিনিস একসাথে ঘটছে। এতদিন এই মডেল সীমিত ছিল BRAC-পরিচালিত কেন্দ্র আর মানবিক শিবিরে। এখন সেটা সরকারি স্কুলে ঢুকছে, যেখানে অভিভাবকের বাছাইয়ের তেমন কোনো সুযোগই থাকে না। অর্থায়নও বেড়েছে অনেকটা — ২০১৬ সালের ৪.৭ মিলিয়ন ডলার থেকে এখন ৫০ মিলিয়ন, দশগুণেরও বেশি, লক্ষ্য ৪ লাখ শিশু-কিশোর।


    LEGO ব্র্যান্ডের গ্লোবাল অবস্থানও এখানে প্রাসঙ্গিক। ২০২১ সালে LEGO Group তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটা LGBTQ প্রাইড সেট বাজারে আনে, নাম “Everyone Is Awesome” — যেখানে ট্রান্সজেন্ডার পতাকার রংও রাখা হয়েছিল। এখন, LEGO Group আর LEGO Foundation আইনগতভাবে আলাদা প্রতিষ্ঠান ঠিকই, কিন্তু একই ব্র্যান্ডের নিচে থাকা দুটো সংস্থার সাংস্কৃতিক অবস্থান পুরোপুরি আলাদা ধরে নেওয়াটাও বোকামি।

    এর সাথে যোগ হচ্ছে আরেকটা বিষয় — SPLASH কর্মসূচির প্রথম ধাপ মূলত লক্ষ্য করছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প আর আশপাশের শিশুদের, এমন একটা জনগোষ্ঠী যাদের কারিকুলাম নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ এমনিতেই সবচেয়ে কম। আর সবচেয়ে বড় সমস্যাটা বোধহয় ভাষার ফাঁকে — সরকারি ঘোষণায় প্রকল্পটা তুলে ধরা হচ্ছে বিজ্ঞান আর গণিতে আগ্রহ তৈরির কথা বলে, অথচ মূল ম্যানুয়ালে জেন্ডার-বিষয়বস্তুই কেন্দ্রীয় জায়গা জুড়ে আছে।


    নতুন মোড়কে শরীফ শরীফার গল্প:
    ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে “শরীফ থেকে শরীফা” গল্প নিয়ে প্রায় একই রকম বিতর্ক হয়েছিল। গল্পের ঠিক পরেই ছিল “লিঙ্গ বৈচিত্র্য ও জেন্ডারের ধারণা” নামে একটা পাঠ, আর NCTB চেয়ারম্যান নিজেই বলেছিলেন বইটা রিভিউয়ের সময় একজন “জেন্ডার স্পেশালিস্ট” যুক্ত ছিলেন। খেয়াল করলে দেখা যায়, একই কাঠামো — আগে sex আর gender-এর পার্থক্য শেখানো, তারপর জেন্ডার-বৈচিত্র্য আর পরিচয়ের আলোচনায় নিয়ে যাওয়া — Play Lab ম্যানুয়ালেও আছে। সেই সময় BRAC University-র একজন শিক্ষক, আসিফ মাহতাব, প্রতিবাদ করে বরখাস্ত হয়েছিলেন এবং তা নিয়ে ছাত্র-বিক্ষোভও হয়েছিল। এই ঘটনাটাই বলে দেয়, এই বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে গভীর একটা বিভাজন আছে। আর সেই একই কাঠামো এখন প্রাথমিক স্কুলে, আরও ছোট শিশুদের কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছে।

    মূল প্রশ্নটা হচ্ছে — আন্তর্জাতিক অর্থায়নে চলা, পশ্চিমা জেন্ডার-তত্ত্বের ওপর দাঁড়ানো একটা কারিকুলাম বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থায় কতটা স্বচ্ছতা আর জনসম্মতি নিয়ে প্রবেশ করছে। এই প্রশ্নের একটা স্পষ্ট জবাব পাওয়া দরকার।

    সংগৃহীত:




  • #2
    হে আল্লাহ! এই বিপদ থেকে মুসলিম উম্মাহ কে হিফাজত কর।
    হে আল্লাহ! আমাদেরকে উক্ত আয়াতের মিসদাক বানিয়ে দাও। আমীন।

    আত তাওবাহ্, আয়াতঃ ১৪

    قَاتِلُوۡہُمۡ یُعَذِّبۡہُمُ اللّٰہُ بِاَیۡدِیۡکُمۡ وَیُخۡزِہِمۡ وَیَنۡصُرۡکُمۡ عَلَیۡہِمۡ وَیَشۡفِ صُدُوۡرَ قَوۡمٍ مُّؤۡمِنِیۡنَ ۙ

    অর্থঃ
    অর্থঃ যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।

    ---------------------

    Comment

    Working...
    X