উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ’র বিশেষ সাক্ষাৎকার | (দ্বিতীয় পর্ব)
উপমহাদেশ ভিত্তিক জিহাদি আন্দোলন – প্রকৃত বাস্তবতা!
পার্ট - ৫
উপমহাদেশ ভিত্তিক জিহাদি আন্দোলন – প্রকৃত বাস্তবতা!
পার্ট - ৫
আস-সাহাব উপমহাদেশঃ কার্যক্ষেত্রে কাশ্মীরের জিহাদে আল-কায়েদা কিভাবে নিজের ভূমিকা পালন করছে?
উস্তাদ উসামা মাহমুদঃ এ ব্যাপারে কিছু কথা কাশ্মীরি ভাইদের সামনে শুরুতে রাখতে চাই; এখানে খোরাসানে আমাদের এই কাফেলায় অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আসা বেশকিছু মুজাহিদ ও মুহাজির ভাই ছিলেন এবং এখনও আলহামদুলিল্লাহ আছেন। এরা সেসব ভাই যারা জিহাদের জন্য পাকিস্তানে হিজরত করেছিলেন। কিন্তু যখন পাকিস্তানি বাহিনী নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করে, তখন এই বাহিনী ও এদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁদেরকে জিহাদ ছেড়ে দেওয়া এবং পাকিস্তানে চাকুরি করার জন্য বাধ্য করে। আল্লাহর এই সিংহরা— আলহামদুলিল্লাহ— এই হীনতা মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং এখানে খোরাসানে এসে আল-কায়েদায় যোগ দেয়। এরপর এখানে এই কাশ্মীরি ভাইয়েরা আমেরিকা ও এর মিত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেন এবং এখন পর্যন্ত রত আছেন … সেই সাথে কাশ্মীর উপত্যকা থেকেও তাঁদের দৃষ্টি কখনও সরে যায়নি! তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এঁদের মাঝে কিছু এমনও কাশ্মীরি ভাই আছেন, যারা আমেরিকার হামলায় এখানে শহীদ হয়ে গেছেন। আল্লাহ তাঁদের শাহাদাত কবুল করুন এবং তাঁদের উপর রহম করুন …
এমন ভাইদের তালিকা লম্বা, মুজাহিদ ভাইয়েরা এবং নেতারাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এঁদের মাঝে এমনও আছেন যারা অধিকৃত কাশ্মীর থেকে এসেছেন, আবার এমনও আছেন যারা পাকিস্তানি কাশ্মীর থেকে এসেছেন। শায়খ এহসান আযীয (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের মুরব্বী এবং উস্তাদ ছিলেন। আমি নিজে এর সাক্ষী যে, কাশ্মীরের ভেতর এখানে খোরাসান থেকে জিহাদ চালু করার জন্য তিনি অনেক চেষ্টা করেছিলেন এবং অনেক কাশ্মীরি মুহাজির ভাইকে তিনি এখানে প্রস্তুত করেছিলেন। একইভাবে শায়খ ইলিয়াস কাশ্মীরি (রহিমাহুল্লাহ)! … তিনি কাশ্মীর জিহাদের বিখ্যাত নেতা ছিলেন। তিনি কাশ্মীরে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু কৌশল পরিবর্তনের পরে পাকিস্তানি বাহিনী শায়খ ইলিয়াস (রহিমাহুল্লাহ) কেও থামাতে চেয়েছিলেন। তিনি কথা মানেননি ফলে তাঁকে টর্চার সেলে পাঠানো হয়, তাঁর উপর কঠোর নির্যাতন করা হয়। মুক্ত হওয়ার পরে তিনি সোজা খোরাসানে চলে আসেন। এখানে এসে আল-কায়েদায় যোগ দেন এবং এরপর আল-কায়েদার অধীনে তিনি দুই সমরক্ষেত্রেই মনোযোগ দেন, আমেরিকা ও এর মিত্রদের সাথেও লড়াই করেন। আল্লাহ তাঁর কাছ থেকে অনেক কাজ নেন। শায়খ উসামা (রহিমাহুল্লাহ) এর অ্যাবোটাবাদে পাওয়া চিঠিতেও তাঁর কথা উল্লেখিত ছিল। সেই সাথে অন্য সমরক্ষেত্র কাশ্মীরের জন্যও তিনি এখানে প্রস্তুতি অব্যাহত রাখেন … এবং এখানে খোরাসান থেকে ভারতে তিনি কয়েকটি সফল অপারেশন পরিচালনা করেন আলহামদুলিল্লাহ।
সুতরাং উদ্দেশ্য হলো আমরা এখানে খোরাসানে, জিহাদের ময়দানে থেকেও কাশ্মীর জিহাদে অংশ নেওয়া ফরয মনে করি … আমাদের কাফেলার প্রত্যেক মুজাহিদ- হোক সে কাশ্মীরি, পাকিস্তানি, বাংলাদেশি অথবা ভারতীয়- প্রত্যেকের মন কাশ্মীরের ভাইদের সাহায্য করার জন্য ছটফট করে। কাশ্মীরের ভেতরেও আল্লাহ যেন আমাদের জন্য রাস্তা খুলে দেন, আল্লাহ যেন আমাদের তাওফীক দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমাদের কাশ্মীরি ভাইদের সাথে আমরাও যুদ্ধক্ষেত্রে থাকবো। এরপর কাশ্মীরের বাইরে পুরো দুনিয়াতে … ভারতীয় সরকারের স্বার্থ এবং ভারতীয় হিন্দু শাসকদের টার্গেট বানানো আমাদের প্রচেষ্টা। এ দিকে আমরা দাওয়াত দেই, আমাদের প্রচেষ্টায় আল্লাহ বরকত দিন, সাহায্য করুন।
جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ
অর্থাৎ “তোমরা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করো তোমাদের কথার মাধ্যমে এবং জীবনের মাধ্যমে।” [রিয়াযুস সালিহিন, হাদিস: ৪৩৭]
উপরের হাদীসটিকে সামনে রেখে কথার মাধ্যমে যতটা সম্ভব, আর আমরা একে লজ্জার কিছু মনে করি না, বরং নিজেদের ভাইদের কল্যাণের জন্য এখানে এই জিহাদের ময়দান থেকে ঐ ময়দানের দিকে ডাকি, অন্তর থেকে অন্তরে বাহবা দেবো এবং নিজের ভাইয়ের নুসরতের জন্য হিন্দু ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে যতটুকু আমরা করতে পারি, এই জিহাদে নিজেরা অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ!
চলবে...