Announcement

Collapse
No announcement yet.

১৪৪৬ হিজরি মোতাবেক ২০২৫ ইংরেজি সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমীরুল মুমিনীন শাইখুল কুরআন ও হাদীস মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদাহ হাফিযাহুল্লাহ’র বার্তা

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ১৪৪৬ হিজরি মোতাবেক ২০২৫ ইংরেজি সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমীরুল মুমিনীন শাইখুল কুরআন ও হাদীস মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদাহ হাফিযাহুল্লাহ’র বার্তা

    مؤسسة الشهداء
    আশ শুহাদা মিডিয়া
    Ash Shuhada Media

    تـُــقدم
    পরিবেশিত
    Presents

    في اللغة البنغالية
    বাংলা ভাষায়
    In the Bengali Language

    بعنوان:
    শিরোনাম:
    Titled:


    بيان أمیرالمؤمنین الشیخ المولوي هِبة الله آخندزاده _حفظه الله
    ورعاه بمناسبة حلول عيد الفطر السعيد لعام ۱۴۴٦هـ

    ১৪৪৬ হিজরি মোতাবেক ২০২৫ ইংরেজি সালের
    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে
    আমীরুল মুমিনীন শাইখুল কুরআন ও হাদীস মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দযাদাহ হাফিযাহুল্লাহ’র বার্তা

    Message of Felicitation of the Esteemed
    Amir-ul-Mumineen Sheikh-ul-Hadith Mawlawi Hibatullah Akhundzada (may Allah protect him)
    on the occasion of Eid-ul-Fitr 1446






    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
    الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونعوذ بﷲ من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده ﷲ فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا ﷲ وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
    সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই, তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই দরবারে তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের খারাপ দিক ও আমাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণাম থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে সঠিক পথ দেখান, তাকে কেউ বিপথগামী করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
    হামদ ও সালাতের পর:
    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
    قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى (۱۴) وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى (۱۵
    “নিশ্চয়ই সে সফলতা অর্জন করেছে, যে নিজেকে পবিত্র করল (ঈমান ও গুনাহ থেকে) এবং তার রবের নাম স্মরণ করল (তাকবির বলল), অতঃপর সালাত আদায় করল (যা ইসলামের পরিচায়ক)।” (সূরা আল-আ’লা: ১৪-১৫) [তাফসিরে কাবুলি]
    এই আয়াতে ‘তাযকিয়া’ বলতে সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরা) বোঝানো হয়েছে, ‘যিকর’ বলতে ঈদের তাকবির বোঝানো হয়েছে এবং ‘সালাত’ বলতে ঈদের নামাজ বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, ঈদের দিনে সর্বপ্রথম ফিতরা আদায় করো, এরপর তাকবির বলো, এবং তারপর ঈদের নামাজ আদায় করো। [তাফসিরে কাবুলি]
    ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:
    তিনি বলেন,
    في آخر رمضان أخرِجوا صدقة صومکم فرض رسول اللّٰه ﷺ هذہ الصدقة صاعاً من تمر او شعیر او نصف صاع من قمح علی کل حرٍ او مملوکٍ ذکرٍ او أنثی، صغیرٍ او کبیرٍ.
    “রমজানের শেষ দিকে তোমরা তোমাদের রোজার যাকাত আদায় করো (অর্থাৎ, সাদাকাতুল ফিতর দাও)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি— প্রতিটি স্বাধীন বা দাস, পুরুষ বা নারী, শিশু বা বৃদ্ধ সবার জন্য এক সা’ পরিমাণ খেজুর বা যব অথবা আধা সা’ পরিমাণ গম সদকা দেওয়া ফরজ করেছেন।” (আবু দাউদ)
    আরেকটি হাদিসে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,
    فرض رسول ﷲ صلى ﷲ عليه وسلم زكاة الفطر طهر الصيام من اللغو والرفث وطعمة للمساكين .
    “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরকে ফরজ করেছেন, যাতে রোজাকে অনর্থক ও অশ্লীল কথাবার্তা থেকে পবিত্র করা যায় এবং এটি গরিব-দুঃখীদের খাদ্য হিসেবে পরিণত হয়।” (আবু দাউদ) আমার এই বার্তা আফগানিস্তানের মুমিন ও মুজাহিদ জনগণ এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের উদ্দেশ্যে!

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
    আনন্দ ও সৌভাগ্যের সাথে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি সকল আফগান ভাই এবং বিশ্বব্যাপী সমস্ত মুসলমানকে অন্তরের গভীর থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আল্লাহ তাআলা আপনাদের রোজা, তারাবিহ, দান-সদকা, অন্যান্য ইবাদত ও সেবাসমূহ কবুল করুন। আমীন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
    সম্মানিত ভাইয়েরা!
    রমজানুল মোবারক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতার মাস, যা ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার এবং তাকওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়ার এক অনন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ ছিল। যে মুসলমান শরীয়তের বিধান অনুযায়ী রোজা পালন করেছে, আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তার গুনাহসমূহ মুছে দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ।
    এখন অপরিহার্য হচ্ছে যে, মুসলমানরা তাকওয়াকে নিজেদের জীবনধারা হিসেবে গ্রহণ করবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকবে, কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকবে এবং সগিরা গুনাহের ওপর স্থির থাকবে না। এটিই প্রকৃত সফলতার পথ, এটিই মানবজীবনের মূল লক্ষ্য এবং প্রকৃত ইবাদতের প্রকৃতি।
    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
    “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)
    এছাড়াও আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে আরও ইরশাদ করেছেন:
    شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
    “রমজান মাসই সেই মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত, সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হক-বাতিলের পার্থক্যকারী। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে, সে অবশ্যই রোজা রাখবে।” (সূরা বাকারা: ১৮৫)
    এছাড়াও এক হাদিসে এসেছে:
    مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَّاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَّاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَّاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
    “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতের নামাজ (তারাবিহ) আদায় করে, তারও পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এবং যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের রাত ইবাদতে কাটায়, তারও পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (বুখারি ও মুসলিম)
    আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাকওয়া অর্জনের তাওফিক দান করুন এবং আমাদের ইবাদত-বন্দেগি কবুল করুন। আমীন। মুসলমান ভাইয়েরা!

    আসুন! আমরা আল্লাহ তাআলার সঙ্গে করা অঙ্গীকারকে নতুন করে দৃঢ় করি এবং প্রতিজ্ঞা করি যে, আমরা কখনোই তাঁর অবাধ্যতা করব না এবং শয়তানের অনুসরণ করব না। আমরা সর্বদা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের বিধান মেনে চলব এবং নেককার বান্দাদের মতো জীবন যাপন করব।
    যদি আমরা আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নিয়ামতের দিকে চিন্তাভাবনা করি, তাহলে নিজেরাই উপলব্ধি করতে পারব যে, আমাদের কখনোই অবাধ্যদের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত নয় এবং এমন কোনো পথে পা বাড়ানো উচিত নয়, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। আমাদের নিজেদের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, শয়তান ও তার অনুসারীদের পথ পরিত্যাগ করতে হবে এবং তাকে প্রকৃত শত্রু হিসেবে গণ্য করতে হবে। এটিই আসল সফলতা।
    আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল মুসলমানকে তাকওয়া ও নেক বান্দার জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
    যেমন আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
    إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ
    “নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু, সুতরাং তোমরাও তাকে (নিজেদের) শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে তো নিজ অনুসারীদের আহ্বান জানায়, যেন তারা (আখেরাতে) জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।” (সুরা ফাতির, আয়াত: ৬)(তাফসিরে কাবুলি) সম্মানিত মুসলমান ভাইয়েরা!

    ঈদ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, ঐক্য, পারস্পরিক সদাচার, ইবাদত ও দোয়ার দিন। রাসুলুল্লাহ -এর যুগের একটি ঘটনা:
    عن أنس قال : قدم النبي صلى ﷲ عليه وسلم المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما فقال : “ ما هذان اليومان ؟ “ قالوا : كنا نلعب فيهما في الجاهلية فقال رسول ﷲ صلى ﷲ عليه وسلم : “ قد أبدلكم ﷲ بهما خيرا منهما : يوم الأضحى ويوم الفطر “ . رواه أبو داود
    “হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন: যখন রাসুলুল্লাহ মদিনায় আগমন করলেন, তখন তিনি দেখলেন যে, সেখানে লোকেরা প্রতি বছর দুটি দিন আনন্দ-উৎসব পালন করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: “এই দুটি দিন কী?” তারা বলল: “আমরা জাহেলি যুগ থেকে এই দিনে খেলাধুলা ও আনন্দ করে আসছি।” তখন রাসুলুল্লাহ বললেন: “আল্লাহ তাআলা এই দুই দিনের পরিবর্তে তোমাদের জন্য আরও উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন: কুরবানির দিন (ঈদুল আজহা) এবং ফিতরের দিন (ঈদুল ফিতর)।” (আবু দাউদ)
    ঈদুল ফিতরের দিন মুসলমানরা রমজানের রোজার প্রতিদান লাভ করে। এই দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং এক মহিমান্বিত ইবাদত সম্পন্ন হয়। এই আনন্দঘন মুহূর্তে মুসলমানরা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানায় এবং ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেয়।
    ভাইয়েরা!
    এটি আল্লাহ তাআলার এক মহা নেয়ামত যে, আজ আমরা এই দিনকে শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে উদযাপন করছি। একসময় ছিল যখন এই একই দিনে আমাদের আফগান ভাইদের জানাজা অনুষ্ঠিত হতো, বোমাবর্ষণ হতো, আমাদের ঘরবাড়িতে অভিযান চালানো হতো এবং মানুষকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হতো। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ! সে কঠিন দিনগুলো কেটে গেছে, আর আজকের দিন শান্তি ও স্থিরতার বার্তা নিয়ে এসেছে। আসুন, আমরা সবাই এই মহান নেয়ামতের জন্য আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি, একসঙ্গে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যকে সংরক্ষণ করি এবং এই পথে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদদের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তাআলা তাঁদের কুরবানি, জিহাদ ও শাহাদাতকে কবুল করুন। আমিন।
    আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন:
    لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
    “আমি শপথ করে বলছি! যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো (আমার দেওয়া নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য), তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য আমার নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তাহলে নিশ্চিতভাবে আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।” (সুরা ইবরাহিম: ৭)
    মুসলিম ভাইয়েরা!
    - মুসলমানরা পরস্পরের সঙ্গে এক দেহের মতো সম্পর্কিত। প্রতিটি মুসলমান একে অপরের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণায় সমানভাবে অংশগ্রহণ করে। রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
    مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ، مَثَلُ الْجَسَدِ، إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ، تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى.
    “মুমিনরা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতায় এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের কোনো একটি অংশ ব্যথিত হয়, তবে সমগ্র দেহ তার জন্য অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।” (সহিহ মুসলিম)
    ঈদের সমাবেশ ও একত্রিত হওয়া আমাদের ঐক্য ও সংহতির শিক্ষা দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে, আমরা অন্যের আনন্দে আনন্দিত হবো এবং তাদের দুঃখ-কষ্টে অংশ নেবো। দুনিয়ার যে কোনো প্রান্তে যদি কোনো মুসলমান কষ্টে থাকে, দুঃখ-কষ্ট ও বেদনায় নিমজ্জিত হয়, তাহলে আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের কষ্টকে নিজেদের কষ্ট মনে করা। আফগান জনগণ বহু বছর ধরে প্রতিকূলতা ও যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ! এখন আল্লাহ তাআলা আমাদের একতা ও সংহতির এক মহাসুযোগ দান করেছেন। আসুন, আমরা এই সুযোগের যথাযথ সদ্ব্যবহার করি, আমাদের ঐক্য ও সংহতিকে আরও দৃঢ় করি, কারণ একতাই সফলতা ও মর্যাদার চাবিকাঠি। আমাদের উচিত শত্রুদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকা, ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও শরীয়তের অধীন আমাদের সিস্টেমকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা এবং এই ব্যবস্থার ছায়াতলে আফগান জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

    وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ.
    “আর তোমরা (জিহাদের ক্ষেত্রে) পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া করো না, অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি (আল্লাহর সাহায্য ও তোমাদের শাসনক্ষমতা) বিলীন হয়ে যাবে। আর ধৈর্য ধরো (যুদ্ধ ও সংকটের সময়), নিঃসন্দেহে আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন (যুদ্ধে সাহায্য ও রক্ষা করার মাধ্যমে)।” (সূরা আল-আনফাল: ৪৬)
    - আলহামদু লিল্লাহ! আল্লাহ জাল্লা জালালুহু-এর সাহায্য এবং ইমারাতে ইসলামী আফগানিস্তানের মুজাহিদিনদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তা ও শান্তির মধ্যে জীবন যাপন করছে। আমাদের এ কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, শান্তি আল্লাহ তাআলার এক মহা অনুগ্রহ, এবং আমাদের সর্বদা এ নিয়ামতের জন্য আল্লাহ তাআলার শোকরিয়া আদায় করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
    وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُمْ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ...
    “(এ কথা স্মরণ করুন হে মুহাম্মাদ !) যখন ইবরাহিম (আ.) বললেন: ‘হে আমার প্রতিপালক! এই শহর (মক্কা) কে নিরাপদ করো এবং এর বাসিন্দাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তাদেরকে বিভিন্ন ফল-ফলাদি দ্বারা রিজিক দান করো।’“ (সূরা আল-বাকারা: ১২৬) (তাফসীরে কাবুলি)
    হযরত ইবরাহিম (আ.) সর্বপ্রথম মক্কা মুকাররমার জন্য শান্তির দোয়া করেছিলেন, এরপর তিনি তার সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, শান্তি হল আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামতগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা অন্যান্য সব নেয়ামতের আগে আসে। তেমনি, আমাদের উচিত আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ও মুজাহিদিনদের সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা করা। কেননা তাদের নিরলস ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফলেই আজ সমগ্র আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শত্রুদের ষড়যন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে, জনগণ দিন-রাত দেশের যেকোনো প্রান্তে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারছে, মানুষের জীবন, সম্পদ, সম্মান ও মর্যাদা সুরক্ষিত হয়েছে। আমাদের কখনোই এই নিয়ামতগুলো ভুলে যাওয়া উচিত নয়; বরং এগুলোর যথাযথ কদর করা উচিত। রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
    مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللَّهَ
    “যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (আহমাদ ও তিরমিজি)
    ইমারাতে ইসলামী সকল আদালতকে হানাফি ফিকহের আলোকে শরীয়তের বিধান বাস্তবায়ন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
    وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ...
    (হে মুহাম্মদ !) আপনি তাদের মাঝে সেই বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করুন, যা আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন। তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকবেন, যেন তারা আপনাকে সেই বিধানের কোনো অংশ থেকে সরিয়ে না দেয়, যা আল্লাহ তাআলা আপনার ওপর নাজিল করেছেন। (সুরা মায়িদা, আয়াত ৪৯)(তাফসিরে কাবুলি)
    এক অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেন:
    ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ.
    “অতঃপর আমরা আপনাকে দ্বীন (ধর্ম) সংক্রান্ত বিষয়ে এক সুস্পষ্ট শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, অতএব আপনি একে অনুসরণ করুন এবং যারা (হক-বাতিলের পার্থক্য) জানে না, তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। (সুরা আল-জাসিয়া, আয়াত ১৮)(তাফসিরে কাবুলি)
    এই মূলনীতির ভিত্তিতেই ইমারাতে ইসলামীর বিচার ব্যবস্থা শরীয়তের পরিপূর্ণ অনুসরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে এবং আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত সীমারেখা বাস্তবায়ন করছে। আমাদের জিহাদ ও কুরবানির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল এই বিধান বাস্তবায়ন করা।
    আফগানিস্তানে ইমারাতে ইসলামীর শাসনাধীনে “আমর বিল মারুফ, নাহি আনিল মুনকার ও শুনানি মন্ত্রণালয়” সমাজ থেকে যাবতীয় ফ্যাসাদ দূর করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

    الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ...
    “(এই নিপীড়িত মু’মিনগণ) তারা এমন লোক, যাদেরকে আমরা যদি পৃথিবীতে ক্ষমতা দিই, তবে তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে, সৎকর্মের আদেশ দেবে এবং অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখবে। আর সকল বিষয়ের চূড়ান্ত পরিণাম আল্লাহরই হাতে।” (সুরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৪১) (তাফসিরে কাবুলি)
    এক অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেন:
    كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِﷲ...
    “(হে উম্মতে মুহাম্মদী!) তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি, যা মানুষের জন্য উদ্ভূত হয়েছে। তোমরা সৎকর্মের আদেশ দাও, অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১১০)
    নেক কাজের আদেশ, মন্দ কাজের নিষেধ এবং অভিযোগ শোনার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও পরিদর্শকগণ সমাজ সংস্কারের প্রচেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন, যার ফলে সমাজে মন্দ কাজের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এটি ইসলামী শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য যে সকল প্রকার দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলাকে নির্মূল করা হোক। কেননা যখন সমাজ অশান্তি ও ফিতনা থেকে মুক্ত হবে, তখন আমাদের ও আপনাদের জীবনযাত্রা সুন্দর হবে, সম্মান সুরক্ষিত থাকবে, মর্যাদা অটুট থাকবে এবং মানুষ ইসলামের বরকত থেকে উপকৃত হতে পারবে।
    সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণের উচিত এই মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে দুর্নীতি ও ফিতনার অবসানে সহযোগিতা করা, যাতে একটি পরিচ্ছন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ ইসলামী সমাজ গড়ে ওঠে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভ্রান্ত আকিদা, শরিয়তবিরোধী প্রথা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা পায়।
    - এই মহান লক্ষ্যের বাস্তবায়নে আলেমদেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। তাদের উচিত যুবসমাজের বিশ্বাস ও চিন্তাধারা সংশোধন করা, মন্দ কাজের প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং তাদের শরিয়তসম্মত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। বিশেষ করে, শরিয়তবিরোধী রসম-রেওয়াজ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আমাদের জারি করা নির্দেশাবলী বাস্তবায়ন করা, যাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অপচয় বন্ধ হয়। কেননা এই অপচয়ই বহু মানুষকে দেশত্যাগ ও বাস্তুচ্যুতির দিকে ঠেলে দেয়।
    - ইমারাতে ইসলামীর সমস্ত আদেশ-নির্দেশ, আইন এবং বিশেষভাবে নেক কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত আইন জনগণকে বুঝানো হবে এবং তাদেরকে এগুলোর ওপর আমল করতে উৎসাহিত করা হবে।
    - ইমারাতে ইসলামীর আওতাধীন সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও বাধ্যতামূলকভাবে এই দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে যে, তারা আকিদা ও আমলের সংশোধনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে, পাঠ্যসূচিকে শরিয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সাজাবে এবং যুবসমাজকে ইসলামী নীতিমালার আলোকে গড়ে তুলবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

    وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ...
    অর্থ: “আর (স্মরণ করো) যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তারা অবশ্যই একে (দ্বীনের জ্ঞান) মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে এবং গোপন করবে না। কিন্তু তারা এটিকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করলো এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্যে বিক্রি করলো। কতই না নিকৃষ্ট সে লেনদেন, যা তারা করলো!” (সূরা আলে ইমরান: ১৮৭)(তাফসির কাবুলী)
    - ইমারাতে ইসলামী দীনী উন্নতির পাশাপাশি দেশ গঠনের ও উন্নতির জন্য এবং জনগণের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও শরীয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবে।
    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

    فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَذَا الْبَيْتِ، الَّذِي أَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَآمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ
    অনুবাদ: “তারা যেন এই ঘরের (কাবার) রবের ইবাদত করে, যিনি তাদের ক্ষুধার সময় আহার দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন।” (সূরা কুরাইশ: ৩-৪)(তাফসিরে কাবুলি)
    রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
    إِنْ قَامَتْ السَّاعَةُ وَبِيَدِ أَحَدِكُمْ فَسِيلَةٌ فَإِنْ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا يَقُومَ حَتَّى يَغْرِسَهَا فَلْيَفْعَلْ
    অনুবাদ:যদি কেয়ামত এসে যায়, অথচ কারও হাতে একটি চারা রোপণ করার সুযোগ থাকে, তাহলে সে যেন তা রোপণ করে, যদিও কেয়ামতই কেন না আসছে।” (মুসনাদে আহমদ)
    আরেক স্থানে নবী করিম বলেছেন:
    خَيْرُ النَّاسِ مَنْ يَنْفَعُ النَّاسَ
    অনুবাদ: “সবচেয়ে উত্তম মানুষ সেই, যে মানুষের উপকার করে।”(কানযুল উম্মাল)
    ইমারাতে ইসলামী চেষ্টা করেছে যে প্রতি বছর উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য শত শত বড় ও ছোট প্রকল্প শুরু করা হয়, প্রদেশগুলোর মধ্যে প্রধান মহাসড়কগুলোর মৌলিক পুনর্নির্মাণ করা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়, রপ্তানি বৃদ্ধি করা হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। আলহামদুলিল্লাহ, এতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বড় উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা, খনিজ সম্পদ আহরণ, এবং ব্যবসায়ীদের ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বিস্তৃত ভূমি বরাদ্দের মাধ্যমে জনগণের বেকারত্ব কমানো এবং অর্থনীতিকে সুসংহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো ইসলামি আমারাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও মনোযোগ, নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার দাবি রাখে, এবং জনগণের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতাও একান্ত প্রয়োজন। জনগণের উচিত, তারা যেন সেই বিদ্বেষপরায়ণ গোষ্ঠী ও গোপন সংস্থাগুলোর প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হয়, যারা হতাশা ছড়ানোর চেষ্টা করে কিংবা দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সমস্যার ভয় দেখায়।
    আল্লাহ তাআলা বলেন:
    الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
    অনুবাদ: “শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ দেয়, কিন্তু আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর আল্লাহ পরম প্রশস্ত ও সর্বজ্ঞ।” (সূরা বাকারা: ২৬৮)(তাফসিরে কাবুলি)
    আরেক জায়গায় তিনি ইরশাদ করেন:
    ...وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ إِنْ شَاءَ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
    অনুবাদ: “… আর যদি তোমরা দারিদ্র্যের ভয় করো, তাহলে আল্লাহ যদি চান, তিনি নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা তাওবা: ২৮)(তাফসিরে কাবুলি)
    ইমারাতে ইসলামিয়া আল্লাহ জাল্লা জালালুহু-এর সাহায্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেন জনগণের জীবনমান উন্নত হয়।
    - ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে শক্তিশালী ও সুসম্পর্ক গড়তে চায় ইমারাতে ইসলামী।

    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
    إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ...
    “নিশ্চয়ই সকল মুমিন পরস্পরের ভাই।” (সুরা হুজুরাত: ১০)
    ইমারাতে ইসলামী অন্যান্য দেশের সাথেও ইসলামী নীতিমালার ভিত্তিতে কল্যাণকর ও গঠনমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমরা সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই যে, তারা যেন আফগান জনগণের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে এবং আমাদের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি না করে। - ফিলিস্তিনের সমস্যা পুরো ইসলামী বিশ্বের সমস্যা

    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
    وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ نَصِيرًا.
    “তোমরা আল্লাহর পথে এবং সেই নির্যাতিত দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের মুক্তির জন্য কেন যুদ্ধ করবে না? যারা দোয়া করে: ‘হে আমাদের রব! আমাদের এই জালিম জনপদ থেকে বের করে দাও এবং আমাদের জন্য তোমার কাছ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করো, আর আমাদের জন্য তোমার কাছ থেকে একজন সহায়করূপে পাঠাও।’” (সুরা নিসা: ৭৫)
    আমরা ফিলিস্তিনের নিরপরাধ ও নিরস্ত্র জনগণের ওপর দখলদার ইহুদি সরকারের বর্বরোচিত হামলা ও বোমাবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এটিকে চরম জুলুম ও নিষ্ঠুরতা হিসেবে দেখি। আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানাই এবং সমগ্র ইসলামী বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানাই যে, তারা যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করে, যাতে তারা নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারে, ইহুদি নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং সেখানে চলমান জুলুম ও নৃশংসতার অবসান ঘটাতে পারে। - যেহেতু ঈদের দিন ও রাত দান-সদকা কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত, তাই আমরা আমাদের সকল সম্পদশালী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই যে, তারা যেন নিজেদের দরিদ্র ও অসহায় জনগণকে ভুলে না যায়।

    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

    وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا. إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا.

    “তারা (নেককার লোকেরা) আল্লাহর ভালোবাসার কারণে মিসকিন, ইয়াতিম ও বন্দিদের খাদ্য দান করে। তারা বলে: ‘আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাদের খাওয়াচ্ছি, আমরা তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান চাই না, এমনকি কৃতজ্ঞতাও নয়।’” (সুরা দাহর: ৮-৯)
    আমরা সকল মুসলিমের প্রতি আহ্বান জানাই যে, তারা যেন ঈদের আনন্দে নিজেদের অভাবী ভাইদের অংশীদার করে এবং দান-সদকার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ায়।
    সুতরাং, আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মুসলিম ভাইদের, বিশেষ করে শহীদদের পরিবার, ইয়াতিম, বিধবা এবং প্রতিবন্ধীদের সাহায্য করুন, তাদের ঈদের আনন্দে শরিক হোন এবং তাদের আশ্রয় দিন। ইমারাতে ইসলামীও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে দরিদ্রদের সহায়তা করা যায় এবং তাদের জন্য খাদ্য ও জীবনযাপনের মৌলিক প্রয়োজনীয়তার ব্যবস্থা করা যায়।
    শেষে, আমি আবারও আমার সমস্ত মুসলিম ভাইদের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাই। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি যে, তিনি আপনাদের সবাইকে আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ ঈদ দান করুন এবং আপনারা এই বরকতময় দিনগুলো বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে ইবাদত ও আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারেন।এছাড়াও, আমি বিশেষভাবে আমার নিজের স্থিরতা ও সংশোধনের জন্য আপনাদের দোয়ার আবেদন করছি, কারণ ফিকহের গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে:
    ”و یجب أن یدعی له بالصلاح”
    অর্থাৎ, আমিরের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গলের দোয়া করা ওয়াজিব।
    সকল মুসলমানদের জন্য সাধারণভাবে দোয়া করুন এবং ইমারাতে ইসলামীর সকল দায়িত্বশীলদের জন্য স্থিরতা, ধৈর্য, মনোবল, শরিয়তের উত্তম বাস্তবায়ন এবং সেরা সেবাদানের তৌফিকের দোয়া করুন। আমি নিজেও আপনাদের সকলের জন্য দোয়া করি যেন আল্লাহ তাআলা আপনাদের রোজা ও সমস্ত ইবাদত কবুল করেন। আমিন, হে রব্বুল আলামিন।
    ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।


    আমিরুল মুমিনিন শাইখুল কুরআন ওয়াল হাদিস, মৌলবি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিজাহুল্লাহ


    ২৭ রমজান ১৪৪৬ হিজরি
    ২৭ মার্চ ২০২৫ ইংরেজি

    ***



    روابط بي دي اب
    PDF (569 KB)
    পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৫৬৯ কিলোবাইট]





    https://mega.nz/file/b4wXlJhR#1GFBrnyb5SHqdCpbQF6szvZAYdL_PYjBZIJLC7duH O4
    https://share.ue.internxt.com/d/sh/file/bff18b2b-005e-46ab-a8e5-ab70bfa6d56c/1ec9d6739ae039c6d3b462f27ffb2eb686f2322dc74e69a7ea 051a7acb88b0ea


    روابط ورد
    Word (480 KB)
    ওয়ার্ড [৪৮০ কিলোবাইট]






    https://mega.nz/file/a0RkTSYS#93U2mgLXlnAsh9u9HnU9DHwY523SVF5y7hlnSaXs6 QU
    https://share.eu.internxt.com/d/sh/file/8e1fa714-b3cb-4014-be68-76d9a872a1ca/18616f8e76a91a2b6c7d99bc48b43bc7c6d86c29b066d8e89f e2110996c0f9e4


    روابط الغلاف- ١
    book Banner (1.6 MB)
    বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৬ মেগাবাইট]






    https://mega.nz/file/C45VSTyT#FdUrSzWbOviogiDgVCVHb_fOM6KGPXzatolFMP3kW q8
    https://secure.internxt.com/d/sh/file/9a9a5ff6-b95a-4743-af9f-d8c14ab18aa6/4a44ff0c25ac469c878fbf7a6a856cba93db85215f6c08317f 460b1c5df03cd7


    روابط الغلاف- ٢
    Banner (1.7 MB)
    ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৭ মেগাবাইট]







    https://secure.ue.internxt.com/d/sh/file/1962bcf3-f3b6-43d1-bb40-5ff8ab070c22/bb058fde24fad456448d89af39427c229dc0ce3edd6f25ecd3 b62e9309e953fe

    *************

    مع تحيّات إخوانكم
    في مؤسسة الشهداء للإنتاج الإعلامي
    আপনাদের দোয়ায়
    আশ শুহাদা মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
    In your dua remember your brothers of
    Ash Shuhada Media



  • #2
    আল্লাহ তাআলা সারা বিশ্বের সকল মুসলিমের রোজা ও সমস্ত ইবাদত-বন্দেগীকে কবুল করুন।
    “ধৈর্যশীল সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”-শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.

    Comment


    • #3
      আল্লাহ তাআলা আমীরুল মুমিনীন এর ছায়া আমাদের জন্য দীর্ঘায়িত করে দিন।
      আমীন

      Comment


      • #4
        আল-কায়দা ভারত উপমাহাদেশ জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ


        তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ
        Last edited by Rakibul Hassan; 1 day ago.

        Comment

        Working...
        X