Announcement

Collapse
No announcement yet.

ঈদ আমাদের আনন্দ, কিন্তু তাদের জন্য?

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ঈদ আমাদের আনন্দ, কিন্তু তাদের জন্য?

    ঈদ আমাদের আনন্দ কিন্তু তাদের জন্য?


    আলহামদুলিল্লাহ, দেখতে দেখতে আবারও একটা বছর পার হয়ে আমাদের সামনে হাজির হলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। কতই না অপেক্ষা ছিলাম আমরা এই দিনটার জন্য, তাই না?

    কত আপন মানুষদের সাথে, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মিলিত হওয়ার, আড্ডা দেওয়ার, হাসিঠাট্টা করার এই অপেক্ষার দিনটা
    আজ আলহামদুলিল্লাহ এসেই পরেছে তাই না। আসলে আনন্দ হওয়ারই কথা, কারণ কত মাস ধরে আমাদের কাছের মানুষদের সাথে দেখা হয় না।

    মা তার ছেলের আদরের মুখটা কত মাস ধরে দেখতে পারেননি, যার জন্য ঠিকমতো ঘুমোতেও পারেন না। অন্যদিকে, কত ভাই আছেন যারা তাদের মায়ের মায়াবী মুখটা বহুদিন ধরে দেখেননি। তাদের স্ত্রীর সেই ভালোবাসার মুহূর্তগুলো, ছোট্ট বাচ্চাদের সাথে সময় কাটানোর সব স্বপ্নগুলো, হয়তো আজ বাড়িতে এসে পূর্ণ হয়েছে।


    কিন্তু Wait... সত্যিই কি এই ঈদের খুশি সবাই সমানভাবে পায়? কোথায় গেলো আমাদের ময়দানে যুদ্ধরত সেই মুজাহিদ ভাইদের ঈদগুলো? উপরে উল্লেখিত সব স্বপ্ন কি তাদের মধ্যেও ছিলো না? কেনো তাদের স্বপ্ন বাড়ি পৌঁছালো না? কেনো এবং কাদের জন্য তারা তাদের স্বপ্নগুলোকে ময়দানেই বিসর্জন দিলেন?

    আমরা তো জানলাম উপরের সেই ভাইদের কথা যারা তাদের মায়েদের সাথে সরাসরি হয়তো কয়েক মাস সাক্ষাৎ করেনি, কিন্তু ভিডিও কলে কথা প্রায়ই। অথচ আমাদের সেই মুজাহিদ ভাইদের কথা চিন্তা করুন, মাস নয়, বরং না জানি কত বছর তাদের মায়ের সাথে কোনো রকম অডিও বা ভিডিও কলে যোগাযোগ হয় না, সাক্ষাৎ হয় না। তাদের মায়েরা না জানে কত বছর, কত ঈদে অপেক্ষায় থাকে, যে কবে আসবে আমার সেই সন্তান।

    প্রিয় ভাই, ভেবে দেখেছেন কী মুজাহিদ ভাইদের সেই সন্তানদের কথা? যারা বছরের পর বছর শুধু অপেক্ষা করছে তাদের বাবার জন্য। ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্নে বিভোর তারা, আর চোখে ভাসে—যে কবে ঈদের দিনটা আসবে, তারা নিজেদের বাবার সাথে সময় কাটাবে। কবে বাবা তাদের সঙ্গী হবে ঈদের আনন্দে।
    কিন্তু তাদের ঘুরেফিরে একটাই প্রশ্ন, "বাবা কবে ফিরবে?" কিন্তু মায়ের কাছে নেই এই প্রশ্নের কোনো উত্তর।

    আর সব শেষে যদি বলি, কেমন দিন কাটছে তাদের স্ত্রীদের? এখন ভাবুন, তাদের স্ত্রীরা কিভাবে দিন কাটাচ্ছে? যে স্ত্রীরা একদিন, তাদের সঙ্গীকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পাশে চেয়েছিল, আজ তারা জানে না কখন আবার তার সঙ্গীকে ঘরে ফিরে পাবে।

    প্রিয় ভাই, আমাদের মুজাহিদ ভাইরা আর কারও জন্য নয় বরং একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা’র জন্যই এই ত্যাগ, এই কষ্ট এবং এই বিচ্ছেদ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত যেনো মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারে, তারই জন্য এই মুজাহিদীন ভাইরা নিজেদের আপনজনকে ছেড়ে জিহাদের ময়দানে রয়েছেন।

    তাই অবশেষে বলতে চাই, আমরা যেনো আমাদের ভাইদের জন্য ঈদের এই আনন্দ মুহূর্তেও দোয়া করতে ভুলে না যাই। মুজাহিদ ভাইদের এবং তাদের পরিবারকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যেনো ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করেন, এবং আল্লাহ যেনো তাদের আমলগুলোকে কবুল করে নেন। আমরা যেনো তাদের সাথে একদিন শামিল হতে পারি, ইন শা আল্লাহ।

    গুরাবা হয়ে লড়তে চাই, গুরাবা হয়েই শাহাদাহ চাই

  • #2
    রমাদান মুবারক মাসের শেষ দিক এসে আমাদের অন্তরগুলোকে গভীরভাবে ব্যথিত করে দিয়েছে যে দুটি ঘটনা, তাঁর একটি আন্তর্জাতিক এবং অন্যটি দেশের!
    ঈদ উদযাপনের জন্য ঘরে ফিরতে চাওয়া সেই ভাইটি যে লঞ্চের চাপায় পিষ্ট হয়ে শহীদ হন (ইনশাআল্লাহু বি তাওফিক ওয়ামা হিসাবুহু ওয়া হিসাবুনা 'আলাল্লাহ!) আল্লাহর জন্য তাঁর জন্য ভালোবাসা! জীবনের শেষ সংক্ষিপ্ত সময়েও যে কিনা নিজ পরিবার রক্ষায় নিজের জীবন আল্লাহর নিকট উৎসর্গ করে দেয়! সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তাঁর এই মর্মান্তিক বীরত্বের উপাখ্যান ২৬ এর এই ঈদকে আমার কাছে বিশেষ তাৎপর্যমন্ডিত করেছে! এবং অনেকের জন্যও!
    এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাটি হল আফগানিস্তানে রিহ্যাব সেন্টারে নাপাকি সেনাদের হামলা।

    অতএব, আমাদের উচিত এই ঈদের বিশেষ ঘটনাগুলোকে স্মরণ রেখে তাদের সবার জন্য দুয়া করা! এবং যেন আল্লাহ আমাদের সিয়ামগুলোকে কবুল করেন; আগামী রমাদান পর্যন্ত নেক হায়াত দান করেন!
    আমিন।

    Comment

    Working...
    X