Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৪৭ || বিপ্লবের রূপরেখা ।। মুহাম্মাদ সালাহুদ্দীন যায়দান – (বিপ্লবী বক্তৃতা পর্ব - ০১)।। প্রথম পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৪৭ || বিপ্লবের রূপরেখা ।। মুহাম্মাদ সালাহুদ্দীন যায়দান – (বিপ্লবী বক্তৃতা পর্ব - ০১)।। প্রথম পর্ব

    আন-নাসর মিডিয়া পরিবেশিত
    বিপ্লবের রূপরেখা
    ।। মুহাম্মাদ সালাহুদ্দীন যায়দান
    (বিপ্লবী বক্তৃতা পর্ব - ০১)।। থেকে- প্রথম পর্ব


    বিপ্লব কাকে বলে?


    শাসকশ্রেণী ও তাদের সকল প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিকব্যবস্থা পতনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শাসনব্যবস্থার মাঝে আমূল পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে কোন জাতির আন্দোলনকে الثورة তথা বিপ্লব বলা হয়এটি শান্তিপূর্ণ এবং সহিংস উপায়ে বাস্তবায়নঅতঃপর পুরাতন রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থলে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা স্থাপন এবং নতুন সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশ নিমার্ণ জনগণের আশানুরূপ ও তাদের দাবী পূরণ করতে পারবে, এমন প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নবিপ্লবের চেতনা সংরক্ষণ এবং নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার পদযাত্রাকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে সরঞ্জাম ও উপায়-উপকরণ প্রস্তুতকরণ

    বিপ্লব হচ্ছে: আগত প্রজন্মগুলোর সম্মান ও মর্যাদার জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রজন্মকে কুরবানী পেশ করা। ‘কুরবানী ও উৎসর্গএ দু’টি শব্দ হচ্ছে: কোন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের জন্য যে কোন আন্দোলনের মূল উপাদান।

    এমনিভাবে বিপ্লব কোন অসহনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য সূচিত হয়(চাই এ নিপীড়ন হোক- আকিদাগত, নিরাপত্তামূলক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সামরিক অথবা সরাসরি ঔপনিবেশিকদের নিপীড়ন অথবা তাদের নিয়োগকৃত প্রতিনিধিদের নিপীড়ন) ঔপনিবেশিকদের নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে এবং আরো উন্নত জীবন গড়ার লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও সুশৃঙ্খল গণ-আন্দোলন জরুরী, সশস্ত্র অবস্থায় হোক বা নিরস্ত্র অবস্থায়।


    পূর্বের সংজ্ঞায় ছয়টি মৌলিক উপাদান লক্ষ্যণীয়:



    المنظم/সুশৃঙ্খলশব্দটি দ্বারা বুঝা যায় বিপ্লবের জন্য একটি তানজীম, জামাত বা দল আবশ্যক। যা জাতির উত্থানে প্রধান নেতৃত্বে থাকবে। মানবিক ও মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জাতিকে জাগ্রত করতে সে তানজীমের রাজনৈতিক ও দাবীমূলক তৎপরতার অনুশীলন থাকবেযেই মুহূর্তে জনগণ বিস্ফোরণ ও ময়দানে নামার অবস্থায় পৌঁছাবে, সেই মুহূর্তে এ তানজীম বা সংগঠন বিপ্লবের নেতৃত্ব দিবে, বিপ্লব ও বিপ্লবীদের শত্রুর আক্রমণ থেকে পাহারা দিবেসমাবেশের ব্যবস্থা করবে এবং মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব নিশ্চিত করবে। তারা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না পূর্বের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।


    ১-আমূল পরিবর্তন:


    শব্দটিকে কেন্দ্র করে পাঠকের জন্য তিনটি পয়েন্ট তুলে ধরা হলো-

    এক: পুরাতন রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি কর্মপদ্ধতি ও কিছু অভিজ্ঞতা থাকে, যেগুলো জনগণের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে কিংবা তাদের চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি। অথবা সেটি এমন এক ব্যবস্থা ছিল, যা এক শ্রেণীর সেবা করত আর অবশিষ্ট জনগণকে দাস বানিয়ে রাখত এবং তাদের অধিকার হরণ করত। অথবা এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল, যা সম্পদ ও ক্ষমতার একচেটিয়া ব্যবহার করত। অপরদিকে জনগণ জীবনের প্রয়োজন ও চাহিদা মেটাতে হাঁপিয়ে উঠত। আর রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠিত হয়; নেতৃত্ব, তার দল আমলাতন্ত্র জোট ও সহযোগী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা। চাই সে প্রতিষ্ঠান ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক হোক না কেন

    দুই: সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নতুন নতুন প্রোগ্রামের আয়োজন করা। যার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জনগণ পুরাতন ব্যবস্থাকে তার কার্যপ্রণালি ও প্রতীকসহ ভেঙ্গে ফেলার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করবে। ফলে সেখানে একটি নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা অস্থিত্ব লাভ করবে। এমনিভাবে একটি নতুন সংস্কৃতিপূর্ণ সমাজের অবয়ব বের হয়ে আসবে এবং স্থানীয়, আঞ্চলিক, ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিধি তার মতাদর্শের অনূকুলে হবে। এ ব্যবস্থা জনগণের চাহিদা পূর্ণ করে একটি স্বাধীন জাতির ঐতিহাসিক ও চারিত্রিক উন্নতি সাধনে শাসক ও জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাবে। ফলে সে ব্যবস্থা বিশ্বের স্বাধীন মানব প্রতিযোগিতার অঙ্গনে অতিসত্বর মানবিক উন্নতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    তিন: الثورة তথা বিপ্লব হচ্ছে: একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর নাম। আর الإصلاح তথা সংশোধন হচ্ছে: রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিতরে পরিবর্তন করার নামবিপ্লবের মধ্য দিয়ে পুরাতন ব্যবস্থা এবং তার কার্যপ্রণালী ও প্রতীকের সাথে সমঝোতা বা সংশোধন সম্ভব নয়। কারণ, আমূল পরিবর্তনের ভিত্তিতেই বিপ্লবের সূচনা হয়। সংশোধন বা মেরামতের ভিত্তিতে নয়।

    কারণ, মেরামত ও সংশোধন পুরাতন শাসনব্যবস্থা বহাল রেখেই করা যায়। কোন বিপ্লবের দরকার হয় না। বরং এমন কিছু সংশোধনী কর্মশালা করলেই চলে, যা শাসক কবুল করে বাস্তবায়ন করবে; আবার কখনো তা প্রত্যাখান করবে। এ পদ্ধতিতে কিছু শহীদের রক্ত বৃথা যাবেকারণ, পুরাতন ব্যবস্থার সাথে সমঝোতা করার অর্থই হবে এসব রক্তের সাথে গাদ্দারী করা। এমনিভাবে আন্দোলনের কল্পনার ক্ষেত্রও বৃথা যাবেকারণ পুরাতন ব্যবস্থার সাথে পুনর্মিলন করার দ্বারা জনগণের মাঝে হতাশা ও নিরাশা তৈরী হবে যে জনগণ চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় মাল-সম্পদ সরবারহ করেছে এবং শহীদদেরকে পেশ করেছেতাজিকিস্তানের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সেখানে এমনটিই ঘটেছিল



    ২- হিসাব-নিকাশ:


    অর্থাৎ পূর্বের ব্যবস্থা এবং আমলাতন্ত্রের সকল সেক্টর যে অপরাধগুলো করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা। যেমন তারা জনগণের অধিকার নষ্ট করেছে, তাদের মাধ্যমে দেশের সম্পদ লুট হয়েছে, দেশে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, তাদের অনুসারী ও আমলাদের কারণে বা উপনিবেশবাদী দেশের কল্যাণে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে তারা জাতির কল্যাণ ও ভবিষ্যত জলাঞ্জলি দিয়েছে।

    অতঃপর তাদের থেকে জনগণের অধিকার কড়ায় গন্ডায় উসুল করা হবে। হরণকৃত সম্পদ তার প্রাপকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে, ধ্বংসকৃত সম্পদের বদলা দেওয়া হবে, আর যে সম্পদের বদল বা ফিরিয়ে দেওয়া কোনটাই সম্ভব নয়, তার জন্য কেসাস বাস্তবায়ন করা হবে।

    এরপর তাদের প্রত্যেকের অপরাধের ধরণ হিসেবে জেল, হত্যা, প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হবে। অথবা কেসাসের শাস্তি কার্যকর করা হবে। নির্দোষ মানুষের রক্তের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ির কারণে যে হিসাব নেওয়া হবে, তা স্বভাবতই রক্ত-সম্পর্কিত হবে। তাই বিপ্লবীরা ওদের ক্ষেত্রে কোন দয়া-মায়া বুঝবে না। কারণ বিপ্লবীরা পূর্বের ব্যবস্থার কাছে সে দয়া পায়নি। যদিও ইনসাফ দয়াকে আবশ্যক করে। বিপ্লব চলাকালে বিপ্লবীদের প্রস্তুতকৃত আদালতেই সে বিচার সম্পন্ন হবে। আদালতের কাছে পূর্বের ব্যবস্থার অপরাধ ও কদার্যতার নির্ভরযোগ্য সকল প্রমাণ বিদ্যমান থাকবে।



    ৩-সহিংসতা:


    বিপ্লবের মাঝে রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। স্বভাবত: সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেয় এমন নেতিবাচক উপায়ে বিপ্লব শুরু হবে। যেমন বিক্ষোভ মিছিল, ধর্মঘট, বিপ্লবীদের দাবীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগীত। রাস্তায় ব্যারিকেড ও প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা, রাস্তা কেটে দেওয়া, রেল চলাচল বন্ধ করা, যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা, অফিস আদালত, মন্ত্রণালয় ও সরকারী সকল প্রতিষ্ঠান অচল করে দেওয়া। যদিও পেটোয়া বাহিনী নেতিবাচক উপায়ে দমন নীতি চালাবে, বিপ্লবকে তার সূচনাতেই শেষ করে দিতে চাইবে, বিপ্লবীদের দমনের উদ্দেশ্যে লাগামহীন হয়ে রক্ত ঝরাবেদেশে বিস্ফোরণের পরিস্থিতি তৈরী করতে এবং বিপ্লবকে অতি দ্রুত পরিপক্কতায় পৌঁছাতে বিপ্লবীরা পুলিশ বাহিনীর এসব নির্বুদ্ধিতাকে কাজে লাগাবে। বিপ্লব বিস্ফোরণের মুহূর্তে জনগণ সরকার ও তার আমলাতন্ত্রের সাথে বিবাদের নিষ্পত্তি করতে শক্তি প্রয়োগের পথে এগিয়ে যাবে এর জন্য জনগণ বড় ধরণের প্রস্তুতির অনুশীলন করবে। বরং পরিবর্তনের প্রয়োজনের তুলনায় বড় আকারে প্রস্তুতি নিবেআইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে একই সময়ে বিক্ষিপ্ত করে নিঃশেষ করার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে জনগণ তাদের কর্মতৎপরতাকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দিবে। এক সময় সরকারী বাহিনী বেসামাল হয়ে দমন নীতিতে উপনীত হবেএ বাহিনী আদর্শিক বাহিনীও হতে পারে অথবা সরকারের সংখ্যালঘু বাহিনীও হতে পারে। মোটকথা, জনগণ সব ধরণের কঠোরতা কাজে লাগাবেযাতে তাদের বিপ্লব গেরিলাযুদ্ধ ও সশস্ত্র আন্দোলনের রূপ নেয়। অতঃপর সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরী করতে হবে। সরকারী সকল প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা করতে হবে। সরকারের নীতি নির্ধারকদের উপর বোমা হামলা ও গুপ্ত হামলার খণ্ড অভিযান চালাতে হবে

    ইতিহাসে শান্তিপূর্ণভাবে বা রক্তপাতহীন কোন বিপ্লবের নজির নেইএ জাতীয় বিপ্লবকে সরকারী বাহিনী কোন পাত্তাই দিবে না। জীবন উৎসর্গ আর তাজা খুনের ত্যাগ ছাড়া কোন পরিবর্তন সাধিত হয় না। রক্তপাতহীনকথাটি অনেকটা সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ জনতার বিপ্লব চলাকালীন সময়ে রক্তপাত হবে না। এই পর্ব আসবে বিপ্লব পরবর্তী সময়েতখন আরো অধিক পরিমাণে রক্তপাতের ঘটনা ঘটেকারণ, সরকারী বাহিনীর আক্রমণ প্রতিরোধের সময়ই মূলত: রক্তপাতের অধ্যায় আসে।



    ৪-নির্মাণ:


    পূর্বের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংস করার পর নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণ করা। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কাজ শুরু করাকারণ, বিপ্লবগুলো পরিবর্তনের মতাদর্শ নিয়েই মূলত: প্রতিষ্ঠিত ও আন্দোলিত হয়েছে। যদিও বিপ্লবের ধরণ অনুসারে মতাদর্শ পরিবর্তিত হয়সুতরাং এক চেতনা ও মতাদর্শকে ভেঙ্গে আরেকটি চেতনা ও মতাদর্শ বিনির্মাণের জন্য বিপ্লব সূচিত হয়উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বুর্জোয়া ও উদারনীতি রাজতন্ত্র পতনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমনিভাবে স্বৈরাচারীব্যবস্থা পুঁজিবাদী বুর্জোয়ানীতি ও উদারনীতির গণতন্ত্রব্যবস্থা নির্মানের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সমাজতন্ত্রের দর্শন পূর্বের সকল ব্যবস্থা ভেঙ্গে গণতন্ত্রের সাথে সমাজতন্ত্র নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছেযেহেতু সমাজতন্ত্রের সাথে গণতন্ত্রের বিশেষ একটা সখ্যতা আছে। আর ইসলামী দর্শন পূর্বের সকল ব্যবস্থা ভেঙ্গে আসমানী নীতিমালার ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

    বিপ্লব যখন এই পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, তখন তা একটি রাষ্ট্রের দিকে মোড় নিবে। তখন আশঙ্কা হয়, যে সমস্ত মৌলিক বিষয় ও চেতনাকে সামনে রেখে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, এখন সে সব চেতনা হারিয়ে যায় কিনা! কারণ, এমনটি ঘটলে বিপ্লবের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যাবে এবং বস্তুবাদী মনোভাবের অনুকূলে কাজ করে যাবে। যার কারণে সেটাকে অকেজো করতে হয়তো দীর্ঘ সময় লাগবে অথবা আবার নতুন বিপ্লবের প্রয়োজন পড়বে।



    ৫-সংস্কার:


    বিপ্লবের কার্যক্রমগুলোকে স্থগিত করে রাখা উচিত হবে না। বরং বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মের সঞ্চালন করতে হবে এবং জীবনের জটিলতাগুলো দূর করে জীবনকে পরিবর্তনের দিকে মনোযোগী করতে হবে। এর জন্য কঠোর অনুশীলন ও উদ্দমতার প্রয়োজনকারণ, একটি দেশকে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এগুলোকে বাদ দিয়ে কোন রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না। পূর্বের রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনার নতুন নতুন ষড়যন্ত্র থেকে নিরাপদ হতে পারে না। অপরদিকে কোন শাসকগোষ্ঠী যদি শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য চিন্তাশীল ও উদ্ভাবনী নেতৃত্ব তৈরী করতে না পারে, তবে সে রাষ্ট্র পূর্বের ন্যায় আবারো অচল হয়ে যাবে। ফানুস জাতীয় এক ধরণের অবস্থা তৈরী হবে, সেখানে মাথা গুজে থাকবে এবং উন্নতিকে প্রত্যাখান করবে। তাই এ ফানুস অবশ্যই ক্রমাগত ছিন্ন করা উচিত। সারকথা হচ্ছে, শাসনের সকল সেক্টর যখন স্থির হয়ে যাবে, তখন তার বর্তমান নেতৃত্ব সেই অবস্থার দিকেই এগিয়ে যাবে, যার কারণে পরিবর্তনের বিদ্রোহ জন্ম নিয়েছেসুতরাং তারা বর্তমান প্রজন্মের উৎসাহ, বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত উন্নতি, সময়ের গতি ও উন্নয়ন এবং পরিবর্তনকে প্রত্যাখ্যান করার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না কেননা, এটাই হচ্ছে সেই পরিস্থিতি, যাকে সর্বদা ধ্বংস করা আবশ্যক


    ৬-নিরাপত্তা বিধান:


    বিপ্লবীদের, নব প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার, জনগণের এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এখানে চারটি শব্দকে সমষ্টিগতভাবে একশব্দে বললে ‘উম্মাহ’ তথা জাতিহয় এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে- অস্ত্র, সুষ্ঠ বিচারব্যবস্থা ও অন্যান্য বিশেষ উপকরণের মাধ্যমে। বিপ্লবের পূর্ব মুহূর্তে, বিপ্লব চলাকালে এবং শাসকের আত্মসমর্পণের পর প্রথম কর্তব্য হলো: বিপ্লব ও বিপ্লবের ফলাফলকে রক্ষার্থে এমন একটি সামরিক নিরাপত্তাবাহিনী তৈরী করা, যারা সরাসরি বিপ্লবের নেতৃত্বকে মান্য করবে। এটা সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রকে রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অবশ্য বিপ্লবীদের বিবেক-বুদ্ধি ও চিন্তা-চেতনাকে রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সুতরাং পূর্বের সেনাবাহিনীর কোন সদস্য যদি নতুন সেনাবাহিনীতে এসে যোগ দেয়, তাহলে তারা আগের মনোভাব থেকে ফিরে এসেছে ভেবে তাদেরকে পূর্বের বাহিনীর সাথে সম্পর্ক রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে নাঅথবা দেশের প্রয়োজনে পূর্বের ব্যবস্থার আঞ্চলিক সমর্থনের শক্তিকে দেশের মুনাফার কাজে অনুমোদন দেওয়া যাবে না। কারণ, তখন তাদের শত্রুতা অন্ধকারে কাজ করে যাবে।

    এমনিভাবে তাদের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের সাথে সহযোগিতার কোন সম্পর্ক থাকবে না। এমনিভাবে বিপ্লবের পর রাষ্ট্রের প্রত্যাশাকে সীমাবদ্ধকারী কোন নিয়ম বা পরিস্থিতি বাকি রাখা কখনোই গ্রহনযোগ্য হবে না। যেমন: এমন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তি ও ঐক্য, যা আমাদেরকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সামরিক বা প্রযুক্তির উন্নতি থেকে ফিরিয়ে রাখবে, অথবা আমাদের আকিদা লালনকারী ভাইদের কাছাকাছি আসতে বাঁধা দিবে, অথবা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি কিংবা পরাশক্তিদের স্বার্থ রক্ষা করা ছাড়া যাদের অন্য কোন লক্ষ্য নেই, এমন আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা অন্তর্ভূক্তির ঝুঁকি তৈরী করবে।

    এ জাতীয় সস্পর্ক থেকে দূরে থাকতে হবে, যতক্ষণ না আমরা বাস্তবিকপক্ষে এমন একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের কথা বলতে পারছি, যা কারো আদেশ বা উপদেশের অপেক্ষায় থাকবে না। আর বাস্তবিকপক্ষে প্রতিবিপ্লবী শক্তি ও তার আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমর্থকদের শক্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত বিপদাপদ প্রতিরোধ ও নির্মূল করার উপায় সম্পর্কে সচেতন করার মাধ্যমে জনগণের বিবেক বুদ্ধির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া এটা কিছুতেই পূর্ণ হবে না। সুতরাং বিপ্লব সংস্কৃতি বিবেককে সুরক্ষিত করে, যাকে কোন গুজব ছিদ্র করতে পারে না। দেশের জাতীয় সিদ্ধান্তকে আলোকিত করে, যাকে কোন শলা-পরামর্শ ভাঙতে পারে না জনগণের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে মজবুত করে, যেখানে শত্রু তার বন্ধুসূলভ আচরণের আড়ালে প্রবেশ করতে পারে নাজনগণের বিবেক-বুদ্ধি জাগ্রত করে, যাতে উপনিবেশবাদের কূটকৌশল সহজে বুঝতে পারে, যখন সে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আড়ালে দেশে কর্তৃত্ব করার উদ্দেশ্যে আরেকবার ফিরে আসার ইচ্ছা করবে শত্রুর তত্ত্বাবধানে এবং তাদের থিওরি অনুসারে বিজ্ঞান চর্চার জন্য আন্তর্জাতিক মন্ডলে বৈজ্ঞানিক মিশন প্রেরণের সময় এটিও যে একটি বড় ক্রটি তা বুঝতে পারে

    এমনিভাবে তথ্যগত পরিকল্পনার ব্যাপারেও সতর্ক থাকবে। কারণ, এসব ভুল তথ্য আর ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাসের কারণে দুনিয়াটা তার কাছে গোলক ধাঁধাঁর মত হয়ে যাবে। ফলশ্রুতিতে সে দ্বীন থেকে অনেক দূরে সরে পড়বেঅথচ দ্বীনই হচ্ছে একজন মানুষের জীবনের মূল ভিত্তি ও লক্ষ্য।

    অনুরূপভাবে জনগণকে শত্রুর ব্যাপারে সতর্ক করার মাধ্যমে যেমন নিরাপদ করা যায়, তেমনি তার রিয়েল এক্সটেনশনের মাধ্যমে এবং বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমেও সতর্ক করা যায়। এটিই একটি জাতির মতাদর্শের সাথে সম্পর্কিত মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস। সুতরাং ভাষাগত পার্থক্য, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, জাতিগত ভিন্নতা ইত্যাদি বিষয়গুলোর মিল-অমিলের উপর ভিত্তি করে মৌলতত্ত্বের মাঝে ভিন্নতা সৃষ্টি করা যাবে না। কেননা, আকিদার সম্পর্কই হচ্ছে প্রকৃত সম্পর্ক। যার আকিদা যেমন তার আশা-আকাঙ্খা, চাওয়া-পাওয়াগুলোও তেমনি হয়। উম্মাহর ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য আকিদার সম্পর্কই হলো প্রকৃত সম্পর্ক। যার ভিত্তিতে উম্মাহ/জাতি পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হবে, বিচ্ছিন্ন হবে না। যতক্ষণ না আত্মারা তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেছে!! এবং তার সত্তাকে অস্বীকার করেছে!! তথাপিও সে তার আকিদার সাহায্যার্থে প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হবে।





Working...
X