Announcement

Collapse
No announcement yet.

মুসলিমদের প্রথম ও শেষ রক্ষাকবচঃ মুজাহিদিনে উম্মত (পর্ব – ২)

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • মুসলিমদের প্রথম ও শেষ রক্ষাকবচঃ মুজাহিদিনে উম্মত (পর্ব – ২)

    মুসলিমদের প্রথম ও শেষ রক্ষাকবচঃ মুজাহিদিনে উম্মত (পর্ব – ২)



    আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র কলাম

    রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় প্রধান গাজওয়াসমূহ ও মুজাহিদিনে উম্মতের অবদান

    ১. গাজওয়ায়ে বদর (২য় হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: ইসলামের প্রথম সর্ববৃহৎ সশস্ত্র যুদ্ধ। মাত্র ৩১৩ জন মুসলিম বনাম ১০০০ কুরাইশ সৈন্য। মুসলিমরা অভূতপূর্ব বিজয় লাভ করেন।

    সাহাবীদের অবদান:

    – হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু), হামযা (রাদিয়াল্লাহু আনহু), উবায়দা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সরাসরি দ্বন্দ্বযুদ্ধে অংশ নেন
    – হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাহসিকতার সাথে লড়াই করেন
    – আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল ﷺ-এর পাশে থেকে পাহারা দেন

    ২. গাজওয়ায়ে উহুদ (৩য় হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: কুরাইশরা বদরের প্রতিশোধ নিতে ৩০০০ সৈন্য নিয়ে আসে। প্রাথমিক বিজয়ের পর তীরন্দাজরা পাহাড় ছেড়ে দেওয়ায় মুসলিমরা বিপর্যস্ত হন। রাসূল ﷺ নিজেও আহত হন।

    সাহাবীদের অবদান:

    – হযরত হামযা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহিদ হন
    – হযরত তালহা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজের শরীর দিয়ে রাসূল ﷺ-কে রক্ষা করেন
    – হযরত আবু দুজানা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলের তরবারি নিয়ে অসাধারণ বীরত্ব দেখান
    – নুসাইবা বিনতে কা’ব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নারী সাহাবি হয়েও রাসূল ﷺ-কে রক্ষায় আহত হন

    ৩. গাজওয়ায়ে খন্দক / আহযাব (৫ম হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: ১০,০০০ সম্মিলিত কাফির বাহিনী মদিনা আক্রমণ করে। হযরত সালমান ফারসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরামর্শে পরিখা খনন করে মদিনা রক্ষা করা হয়। এটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ।

    সাহাবীদের অবদান:

    – হযরত সালমান ফারসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরিখা খননের পরামর্শ ছিল মূল কৌশল
    – সকল সাহাবি কনকনে ঠান্ডায় টানা ৩ সপ্তাহ পরিখা পাহারা দেন
    – হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমর ইবনে আবদে ওয়াদকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে হত্যা করেন
    – নুয়াইম ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কূটনীতির মাধ্যমে শত্রু জোট ভেঙে দেন

    ৪. গাজওয়ায়ে বনু মুস্তালিক (৫ম হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: বনু মুস্তালিক গোত্র মদিনা আক্রমণের প্রস্তুতি নিলে রাসূল ﷺ অভিযান পরিচালনা করেন। দ্রুত বিজয় অর্জিত হয়।

    সাহাবীদের অবদান:

    – সাহাবিরা দ্রুত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে রাসূল ﷺ-কে অবহিত করেন
    – যুদ্ধবন্দিদের মুক্তির ফলে পুরো গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে

    ৫. গাজওয়ায়ে খায়বার (৭ম হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: ইহুদি বনু নাজির গোত্র খায়বারে দুর্গ গড়ে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছিল। রাসূল ﷺ অভিযান করে একে একে সকল দুর্গ জয় করেন।

    সাহাবীদের অবদান:

    – হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কামুস দুর্গের দরজা একাই উপড়ে ফেলেন
    – হযরত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই যুদ্ধেই ইসলাম গ্রহণ করে অংশ নেন

    ৬. গাজওয়ায়ে মুতা (৮ম হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ। ৩,০০০ মুসলিম বনাম ২,০০,০০০ রোমান সৈন্য। তিনজন সেনাপতি একে একে শহিদ হন।

    সাহাবীদের অবদান:

    – যায়িদ বিন হারিসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রথম সেনাপতি হিসেবে শহিদ হন
    – জাফর বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দু’হাত কাটার পরও বুক দিয়ে পতাকা ধরে রেখে শহিদ হন
    – আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তৃতীয় সেনাপতি হিসেবে শহিদ হন
    – খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দক্ষতার সাথে বাহিনী প্রত্যাহার করে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন

    ৭. ফাতহে মক্কা (৮ম হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় বিজয়। ১০,০০০ সাহাবি নিয়ে রাসূল ﷺ মক্কায় প্রবেশ করেন। প্রায় বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজিত হয়।

    সাহাবীদের অবদান:

    – হযরত আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করে মক্কার প্রবেশদ্বার খুলে দেন
    – হযরত খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তিন দিক দিয়ে প্রবেশ করেন
    – হযরত বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কা’বার ছাদে উঠে আযান দেন — যা ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত
    – রাসূল ﷺ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে হাজারো মক্কাবাসী ইসলাম গ্রহণ করেন

    ৮. গাজওয়ায়ে হুনাইন (৮ম হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: মক্কা বিজয়ের পরপরই হাওয়াযিন ও সাকিফ গোত্র আক্রমণ করে। প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর রাসূল ﷺ অবিচল থেকে বিজয় অর্জন করেন।

    সাহাবীদের অবদান:

    – অনেক সাহাবি প্রথমে পিছু হটলেও রাসূল ﷺ-এর ডাকে ফিরে এসে যুদ্ধ করেন
    – হযরত আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উচ্চস্বরে সাহাবিদের ডেকে ফিরিয়ে আনেন
    – হযরত আবু সুফিয়ান বিন হারিস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলের খচ্চর ধরে পাশে থাকেন

    ৯. গাজওয়ায়ে তাবুক (৯ম হিজরি)

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সর্ববৃহৎ অভিযান। ৩০,০০০ সৈন্য নিয়ে রওনা হন। রোমানরা মুখোমুখি না হয়ে পিছু হটে।

    সাহাবীদের অবদান:

    – হযরত উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একাই ১০,০০০ সৈন্যের রসদ ও সরঞ্জামের ব্যয় বহন করেন
    – হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সমস্ত সম্পদ দান করেন
    – হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর অর্ধেক সম্পদ দান করেন
    – হযরত আবু খায়সামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দেরিতে হলেও একা পায়ে হেঁটে বাহিনীতে যোগ দেন

    এছাড়াও রাসূল ﷺ-এর যুগে আরো অনেক যুদ্ধ হয়েছে এবং একেকটা যুদ্ধ ছিল ইসলাম ও মুসলিমদের টিকে থাকার লড়াই। এসব যুদ্ধ করা ব্যতীত আজকের মুসলিম উম্মত কল্পনা করা যায় না।

    বদরের সেই ৩১৩ জন নিঃস্ব মুসলিম থেকে শুরু করে তাবুকের ৩০,০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনী — প্রতিটি পদক্ষেপে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) – মুজাহিদিনে উম্মত নিজেদের জীবন, সম্পদ ও পরিবার উৎসর্গ করেছেন কেবলমাত্র আল্লাহর দ্বীনকে টিকিয়ে রাখার জন্য। তাঁদের এই ত্যাগ ও কুরবানি না হলে আজ পৃথিবীর বুকে ইসলামের আলো হয়তো এভাবে ছড়িয়ে পড়ত না।

    তাই আজকের প্রতিটি মুসলিমের উচিত এই বীর সাহাবিদের জীবন ও আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। কেননা তাঁদের রক্ত ও ঘামের বিনিময়েই আমরা আজ — “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” — এই কালিমা উচ্চারণ করতে পারছি।

    আর আজও সেই সাহাবায়ে কিরামের যোগ্য উত্তরসরীরা ইসলাম ও মুসলিমদের টিকিয়ে রাখার জন্য জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গ দেওয়া, সহায়তা করা ও তাদেরকে দুয়ায় স্মরণ করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।
    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org
Working...
X