Announcement

Collapse
No announcement yet.

তালেবান কী আসলেই কবরপূজারী সূফি? একটি দালিলিক বিশ্লেষণ,,,,

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • তালেবান কী আসলেই কবরপূজারী সূফি? একটি দালিলিক বিশ্লেষণ,,,,

    আস সালামু আলাইকুম,,,,

    আপনারা যারা দাওলার মিডিয়াগুলোতে নিয়মিত ভিজিট করেন তারা হয়তো খেয়াল করবেন যে তারা বেশিরভাগ সময়ই তাদের পোস্ট/লিখাগুলোতে তালেবানকে "সুফি", "কবরপূজারী" ইত্যাদি বলে উল্লেখ করে।

    সেগুলোর সাথে তারা আবার কয়েকটি ছবিও জুরে দেয়, যেগুলোতে দেখা যায় যে কোনো ব্যক্তি পাঞ্জাবী-পাগড়ি পড়ে কবরের সামনে দাড়িয়ে হাত তুলে দুয়া করছে, কবরের পাশে নামাজ পড়ছে, কবরের পাশে কবরবাসীর মাগফেরাতের জন্য কান্না করছে, ইত্যাদি-ইত্যাদি।

    তাদের কাছে তালিবদের সুফি/কবরপূজারী প্রমাণ করার জন্য এরকম প্রচুর ছবি+ভিডিও রয়েছে।

    তবে তারা এমন কোনো ছবি বা ভিডিও দেখাতে পারবে না যেটাতে কোনো ব্যক্তি কবরকে সিজদাহ্ করছে বা কবরে ফুল দিচ্ছে।

    এ-ও দেখাতে পারবে না তালিবদের নেতৃস্থানীয় কে-ও এসবের অনুমতি দিয়েছে। এ-ও দেখাতে পারবে না যে কোনো তালিবান নেতা কবরে সিজদাহ্ দিচ্ছেন।

    তারা যদি এটা দেখাতে পারে তবেই শুধু পুরো তালিবদের বেদাতি এবং কবরপূজারী সূফী বলা যাবে। নয়তো এটা ব্যক্তিগত গোনাহ্ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর সাথে তালিবানের দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনোপ্রকার সম্পর্ক নেই। এই বিষয় নিয়ে পোস্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ বুদ্ধিমানেরা মাত্রই এসব 'মিসিং পয়েন্ট' ধরে ফেলতে পারবে।

    তবে একটা বিষয়ে তাদের মিথ্যাচারকে আপনাদের সামনে পরিষ্কার করে দেয়া জরুরী মনে করছি। আর তা হলো মোল্লা ওমর (রহঃ) এর কবর।

    মোল্লা ওমর (রহ) এর কবরকে জিয়ারতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পরে তো তাদের যেন ঈদ এসেছে!

    "দেখো, দেখো! তালিবরা এখন মোল্লা ওমরের (রহ) পূজা করবে!" , "মোল্লা ওমর (রহ) হয়তো স্ব-জাতির এই করুণ অবস্থা দেখে কবরে দীর্ঘ শ্বাস ফেলছেন" , "এই মূর্তাদের দল (!) এখন সম্মানিত মোল্লা ওমর (রহ) এর কবরকে নাপাক করবে।" এরকম অনেক কথা তারা তাদের "শায়েখ"দের থেকে গিলে আসে আর সরলমনা মুসলিমদের সামনে উগড়ে দেয়।

    তারা তালেবদের গালি দিয়ে তাদের নফসের খায়েশাত পূরণ করতে এবং সরলমনা মুসলিমদের দলে ভিড়ানোর জন্য কোমর বেধে মাঠে নেমেছে।

    এই বিষয়ে অনেকদিন ধরেই কিছু লেখার নিয়ত ছিলো। কিন্তু সুযোগ হয়ে ওঠেনি। আজকে এক দাওলার ফ্যানবয়ের জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়ে এই বিষয়ে কলম ধরতে বাধ্য হলাম।

    যাইহোক, তাদের এই ছবি এবং ভিডিওগুলো যে ভিত্তিহীন তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। জ্ঞানী দেখামাত্র এই মিথ্যাচার বুঝে ফেলবে।

    তবে তারা মোল্লা ওমর(রহ) এর কবর জিয়ারতের জন্য উন্মুক্ত করার বিরুদ্ধে একটি হাদিস পেশ করে, যেটাকে আপনাদের কাছে ব্যখ্যা করা জরুরী মনে করছি। এটা দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চায় যে মোল্লা ওমর (রহঃ) এর কবর মোবারককে এভাবে উন্মুক্ত করা জায়েজ নেই!

    আজকে ইনশাআল্লাহ তাদের পেশকৃত সেই হাদিসটিরই দালিলিক বিশ্লেষণ করব। আল্লাহ তৌফিক দিন।

    তাদের পেশকৃত হাদিসটি হলো,,,,

    باب مَا جَاءَ فِي تَسْوِيَةِ الْقُبُورِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، أَنَّ عَلِيًّا، قَالَ لأَبِي الْهَيَّاجِ الأَسَدِيِّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَنْ لاَ تَدَعَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَهُ وَلاَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ أَنْ يُرْفَعَ الْقَبْرُ فَوْقَ الأَرْضِ ‏.‏ قَالَ الشَّافِعِيُّ أَكْرَهُ أَنْ يُرْفَعَ الْقَبْرُ إِلاَّ بِقَدْرِ مَا يُعْرَفُ أَنَّهُ قَبْرٌ لِكَيْلاَ يُوطَأَ وَلاَ يُجْلَسَ عَلَيْهِ
    অর্থঃ- পরিচ্ছেদঃ ৫৬. কবরকে সমান করা ১০৪৯। আবু ওয়াইল (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবুল হাইয়ায আলা-আসাদীকে আলী (রাঃ) বললেন, আমি এমন এক কাজের দায়িত্ব দিয়ে তোমাকে পাঠাব যে কাজ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়াম আমাকে পাঠিয়ে ছিলেন। কোন ধরণের উচু কবরকে সমান না করে ছাড়বে না এবং কোন প্রতিকৃতি না ভেঙ্গে রাখবে না।

    হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
    বর্ণনাকারীঃ আবূ ওয়াইল (রহঃ)
    পুনঃনিরীক্ষণঃ সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত) ৮/ জানাযা (كتاب الجنائز عن رسول الله ﷺ) সহীহ, আল আহকাম (২০৭) ইরওয়া (৭৫৯), তাহজীরুস সাজিদ (১৩০) , মুসলিম।

    (জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।)

    আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেন। ভূমি হতে কবর অধিক উচু করাকে তারা মাকরুহ মনে করেন।

    এখন প্রশ্ন হলো যে, এ হাদিস দ্বারা কি মুসলিম-অমুসলিম সকলের উঁচু কবর সমতল করতে আদেশ করা হয়েছে?

    না, ঐ আদেশটি শুধুমাত্র মুসলিমদের অধিভুক্ত কাফের-মুশরিকদের কবরের জন্য।

    উক্ত হাদীসে সমতল করতে হবে এমন কবরের যেসব বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে তা হলো- কবরটি উঁচু হবে এবং তার আশেপাশে মূর্তিও থাকবে। {সুনানে আবু দাউদ, ৩২১৮}

    এটি মূলত তৎকালীন আরবের কাফের-মুশরিকদের কবরের বৈশিষ্ট্য যা অন্য হাদীস থেকেও বোঝা যায়।

    একদা উম্মু হাবীবা (রা.) ও উম্মু সালামা (রা.) হাবশায় তাঁদের দেখা একটা গির্জার কথা বলেছিলেন, যাতে বেশ কিছু মূর্তি ছিল। তাঁরা উভয়ে বিষয়টি নবীজি (সাঃ) এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন:

    “তাদের(কাফের-মুশরিকদের) অবস্থা ছিল এমন যে, কোন সৎ লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মসজিদ বানাতো। আর তার ভিতর ঐ লোকের মূর্তি তৈরি করে রাখতো।” {সহীহ বুখারী, ৪২৭, ৪১৫ (ইসলামিক ফা.)}

    যখন নবীজি(সাঃ) সাহাবীদের নিয়ে মদীনায় গমন করেন তখন সেখানে মসজিদ নির্মাণের জন্য বনু নাজ্জারের কাছ থেকে বাগান কিনেন যেখানে মুশরিকদের কবর ছিল। এই কবরগুলো নবীজির নির্দেশে সমতল করা হয়েছিল। {সহীহ বুখারী, ৩৯৩২}

    অর্থাৎ, তিনি মূলত মুসলিমদের অধিভুক্ত অঞ্চলের মুশরিকদের কবরকে সমতল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) একটি হাদীসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তার সুপ্রসিদ্ধ 'ফাতহুল বারী' তে লিখেছেন,

    “আম্বিয়ায়ে কেরাম ও তাদের অনুসারীদের কবর ব্যতীত। কারণ তাদের কবর ভাঙ্গার ও খনন করার মধ্যে তাদের প্রতি অসম্মান হবে। তবে মুশরিকরা এর ব্যতিক্রম, কারণ তাদের জন্য পবিত্রতা নেই।"
    {ফাতহুল বারী ফি শরহে সহীহ বুখারী}

    এছাড়াও, সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো নবীজি(সাঃ) এর নিজের রওযা। কারণ, তা উটের পিঠের মতো উঁচু ছিল এবং এর চারদিকে বেষ্টনীও ছিল।

    সুফিয়ান তাম্মার (রা.) বলেছেন,

    “আমি নবী (সাঃ) এর ক্ববরকে উটের পিঠের ন্যায় উঁচু দেখেছি।”
    {সহীহ বুখারী, ১৩৯০(ই.ফা. ১৩০৮), মিশকাতুল মাসাবীহ-১৬৯৫,}

    এছাড়াও ইমাম শাফিঈ বলেন,

    "কবর উচু করাকে আমি মাকরূহ বলে মনে করি। তবে এটুকু উচু তো অবশ্য করতে হবে যাতে করে লোকেরা বুঝে এটা কবর। এর ফলে কবরের উপর দিয়ে তারা চলাফিরা করবে না এবং এর উপর বসবে না।"

    নবীজি (সাঃ) যদি মুসলিমদের উঁচু কবরকে সমতল করার নির্দেশ দিতেন, তাহলে কি সাহাবায়ে কেরাম তাঁর রওযা উঁচু রাখতেন? সালাফগণ কী কবর উঁচু করতে বলতেন?

    ওহে খারেজীর দল! এখন কী তোমরা এসব সম্মানিত সাহাবাদেরও মূর্তাদ আখ্যায়িত করবে? এই শ্রেষ্ঠ প্রজন্মকে কবরপূজারী সূফী বলবে?

    মোল্লা ওমর (রহঃ) এর কবরকেও তো এই পরিমাণই উঁচু করা হয়েছে যাতে দেখে বোঝা যায় যে এটা কবর। আমরা তো সালাফদের কথামতোই কাজ করেছি।ওহে খারেজীর দল! তোমরা না দাবি কর তোমরা সালাফি?

    তোমাদের কোন সালাফ মোল্লা ওমর (রহঃ) এর মতো সম্মানিতদের কবরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে বলেছেন?

    তোমরা কি চাও যে আমরা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ) এর কথা না মেনে বাড়াবাড়ি করে ওমর (রহঃ) এর কবরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেই যাতে লোকজন এর উপর দিয়ে চলাচল করে এবং একে অপমান করে?

    এই দাওলার দুলালেরা সম্ভবত সৌদির ওয়াহাবী নাজদিদের থেকে এরকম উগ্র চিন্তাধারা আমদানি করেছে।

    সৌদী সালাফীদের উগ্রতা ও শিরক-সন্ত্রাস সম্পর্কে শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ) এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন,,,,,

    “এই জামাতের মাঝে খানিকটা উগ্রতা আছে। এই উগ্রতা স্বাভাবিকভাবেই তারা মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এর লেখালেখি থেকে লাভ করেছে। তার যুগ থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে এই উগ্রতার চর্চা হয়ে আসছে। আমরা আগে শুনতাম যে, এই নাজদিরা মুসলিম জনসাধারণকে 'কাফের' বলে কিংবা তাদেরকে অন্যরা 'খাওয়ারেজ' বলে থাকে ইত্যাদি। অতঃপর আমি নিজে যখন তাদের এলাকাগুলোতে ভ্রমণ করলাম, নাজদিদের মাঝে এই উগ্রতা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল। তাদের উগ্রতা কোন পর্যায়ের এটা বোঝানোর জন্য একটা বিষয়ই উল্লেখ যথেষ্ট। কেউ যদি কেবল এমন উপায়ে তাওয়াসসুল করে, (যাকে আমরা আলবানি ধারার আহলে হাদিস বলি), তারা একে বলে দেয় যে, এটা কুফর বা শিরক। ঠুস করেই কুফর কিংবা শিরক বলে দেয়া তো উচিত না। বরং আমাদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখতে হবে, তাদের উদ্দেশ্য কী? তারা কী বোঝায়? অন্যথায় আমাদের তো মুসলিমদের শ্রেষ্ঠ ইমামদের একজন মুহাম্মদ বিন আলী আল শাওকানীকে কাফের কিংবা মুশরিক বলতে হবে। তোমরা কী জানো যে, তিনি তাওয়াসসুলকে জায়েয বলতেন?”

    আশা করি এই দাওলার মিথ্যাচার আপনাদের সামনে স্পষ্ট হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে খারেজীদের ফিতনা হতে রক্ষা করুক। আমীন, ইয়া রাব্বীল আল-আমীন।

  • #2
    একমাত্র খারিজী দাওলা তথাকথিত সালাফি আহলুল মাদখালীরা ছাড়া কেউ "তালেবানদের সুফি বা মাজারপুজারী এগুলো বলে না।। এরা আসলেই হিংসাত্মক কারণে এইসব মিথ্যা তহমত দেয়, যে তালিবান হ্যান ত্যান।।
    সর্বোত্তম আমল হলো
    আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং মহান মহীয়ান
    আল্লাহর পথে জিহাদ করা।নাসায়ী,শরীফ

    Comment

    Working...
    X