আল আকসা তোমাকে ডাকছে
┇Shaikh Tamim Al Adnani ┇
┇Shaikh Tamim Al Adnani ┇

ﺑِﺴْــــــــــــــــﻢِﷲِﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِﺍلرَّﺣِﻴﻢ ️
প্রিয় উপস্থিতি! হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নাম শুনলেই যেন আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একজন জালিম শাসকের চেহারা যার হাত রঞ্জিত হয়েছে সাহাবা, তাবেঈদের রক্তে। তবে এটাও তো সত্য যে একজন মুসলিম নারীর ফরিয়াদ তার পাষাণ হৃদয়েও কাঁপন ধরিয়ে ছিল। মুহাম্মাদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের কাহিনী আমরা জানি। তাকে এ যুদ্ধে পাঠিয়ে ছিলেন জালিম হাজ্জাজ-ই।
আব্বাসীয় খলিফা মু'তাসিম। একজন মুসলিম নারী খৃষ্টানদের দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন তিনি ওয়া মুতাসিম! মু'তাসিম বাঁচাও, মু'তাসিম বাঁচাও বলে চিৎকার করে ওঠেন। তার আহাজারি মু'তাসিমের কানে পৌঁছা মাত্রই সিংহাসন ছেড়ে লাব্বাইকা “ইয়া উখতা, লাব্বাইকা ইয়া উখতা, হে বোন আমি উপস্থিত, হে বোন আমি উপস্থিত।” বলে তিনি গর্জে ওঠেন। শপথ করেন শত্রুর কবল থেকে তাকে উদ্ধার না করে তিনি স্ত্রীর সংস্পর্শে যাবেন না।
ইতিহাস সাক্ষী, তৎকালীন খৃষ্টানদের গর্ব অপ্রতিরোধ্য আমুরিয়া দূর্গ ধুলোয় গুড়িয়ে মুসলিম বন্দী নারীকে উদ্ধার করে তবেই তিনি
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
আধুনিক যুদ্ধের কুশলী বীর সালাহউদ্দীন আইউবী রহঃ এর ইতিহাস পড়ে দেখুন, আল আকসা নাপাক জায়ানাবাদ আগ্রাসন থেকে মুক্ত করার জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করছেন।
পুরো বিশ্বের সম্মিলিত কুফফার শক্তি মরণপণ করে হামলে পড়েছিল, যে কোন মুল্যে বাইতুল মুকাদ্দাসের দখল রুখতে হবে। কিন্তু বীর সালাহউদ্দীন মুজাহিদ বাহিনীকে কাতার বদ্ধ করে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, আল্লাহর কসম! আমি বাইতুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করব। পৃথিবী সাক্ষী, হিত্তিনের রণাঙ্গনে তাঁর জানবাজ বাহিনী কুফফারদের কীভাবে নাকানিচুবানি খাইয়েছেন।
উসমানি খিলাফতের অন্তিম অবস্থায় শেষ খলিফা আব্দুল মজিদ রহ. এর কাছে বাস্তুহারা ইহুদীরা যখন ফিলিস্তিনে একখন্ড ভূমির আবদার নিয়ে আসে তখন তিনি নখের আঘাতে সামান্য মাটি তুলে তাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আল্লাহর কসম! আমার প্রাণ থাকতে এইটুকু মাটিও তোমাদের দিব না।
প্রিয় উম্মাহ্! এই ঘটনা গুলো সামনে রাখুন। আর আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে দেখুন।
চেচনিয়া, বসনিয়া হয়ে আফগান, কাশ্মীর, ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, আরাকানে উম্মার কত-শত কন্যা-জয়ার আব্রু লুন্ঠিত হয়েছে। দজলা, ফোরাতের পানি লাল হয়েছে। ঝিলাম নদীর খরশ্রোতে কত কাশ্মীরী বোনের বিভৎস লাশ ভেসে বেড়িয়েছে। নাফ নদীতে আমাদের নির্যাতিত মা-বোনদের লাশ ভেসে আসছে। কিন্তু একজন জালিম হাজ্জাজ কিংবা মু'তাসিমের হুংকার শুনা যায় না!
আল আকসা ইহুদীদের দখলে। আল কুদসকে তারা নিজেদের অবৈধ রাষ্টের রাজধানী ঘোষনা করছে। মুসলিম নামধারী তাগুত শাসকদের সহযোগীতায় তারা জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে ঘোষনা করেছে। এর পরও আমরা নিরব, নিথর!
প্রিয় উম্মাহ্! এই কলঙ্ক আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে যদি না আমরা ফিরে যাই জিহাদের পথে। হ্যাঁ। জিহাদই পথই একমাত্র মুক্তি দিতে পারে আমাদের। এটা নিন্দা আর মিছিলের সময় নয়। সেই সীমা বহু আগেই তারা পেড়িয়ে গেছে। এখন কথা হবে তরবারির ভাষায়। যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে সেখানেই তাদের হত্যা করা হবে। যতক্ষণ না আল আকসার মিনারে কালেমার পতাকা উড়ছে।
হে উম্মার তরুন যুবারা! খেলাধুলায় আর কত মজে থাকবে? গা ঝাড়া দিয়ে ওঠ, বাইতুল মুকাদ্দসের জন্য। জীবন দেয়ার শপথ নাও। আরকান, কাশ্মীরকে মুক্ত করার শপথ নাও।
পরিশেষে উম্মার দরদী বীর শায়েখ ওসামা রহিমাহুল্লাহ এর ভাষায় বলি,
সেই মহান আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, যিনি বিশাল আসমানকে খুটি বিহীন শুন্যের উপর উঠিয়ে রেখেছেন। আমেরিকা এবং যারা আমেরিকাতে বসবাস করে তারা শান্তির কল্পনাও করতে পারবে না যতক্ষণ না আমরা ফিলিস্তিনে বাস্তবিক ভাবেই শান্তিতে বসবাস করি এবং সকল কাফির বাহিনী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র ভূমি থেকে চিরতরে বিতাড়িত হয়।
Comment