উইঘুর মুসলিমদের উপর হান চাইনিজরা যখন বিভিন্ন ইস্যু দাঁড় করিয়ে রি-এডুকেশন ক্যাম্পে বন্দি করা শুরু করেছিল, উগ্রবাদী ট্যাগ দিয়ে নির্যাতনের স্টিমরোলার চালাচ্ছিল, তখনও একদল তথাকথিত ইসলামিক স্কলার ও শায়েখ চীনের কমিউনিস্ট সরকারের পক্ষ নিয়েছিল। আপোষ ও সমঝোতার লক্ষ্যে এবং ইসলামকে শান্তির ধর্ম প্রমাণ করতে দ্বীনের বিধি-বিধানকে নিজেদের ইচ্ছামতো কাটছাঁট করে ইসলামকে একটি আচারসর্বস্ব ধর্মে পরিণত করেছিল। ঐসব স্কলাররা ভেবেছিল, তাদের এই তোষামোদিতে নাস্তিক হানরা খুশি হয়ে তাদেরকে আরামে থাকতে দিবে। মুসলমানদের উপর নির্যাতন বন্ধ করে জামাই আদর শুরু করবে। কিন্তু তাদের ধারনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চাইনিজ সরকার এই তেলবাজির সাময়িক প্রতিদান দিলেও, প্রয়োজন শেষে ঠিকই তাদেরকে বন্দি শিবিরে চালান করেছে। ব্যবহৃত টিস্যুর মতো ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।
যুগে যুগে মডারেইট শায়েখ ও স্কলাররা এরকম পরিণতিই বরণ করে আসছে। তবুও তাদের শিক্ষা হয় না। তারা আল্লাহর শত্রুদের সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহর বিধানকে পরিবর্তন করে ফেলে। তারা বেমালুম ভুলে যায় মহান আল্লাহর অমোঘ বাণী— ‘ইয়াহুদ-নাসারারা আপনার প্রতি ততক্ষণ খুশি হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্ম গ্রহণ না করেন।’
খালকে কুরআনের মাসআলায় ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ চাইলে হেকমতের দোহাই দিয়ে বেঁচে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি দ্বীনের ব্যাপারে বিন্দু মাত্র ছাড় দিতে রাজি হন নি। অটল থেকেছেন। পরিণতিতে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেছেন, তবে মুসলিম উম্মাহ তাঁকে আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। অপরদিকে যেসব আলেম আপস করেছিলেন, তাদের কাউকেই ইতিহাস মনে রাখে নি।
বর্ণিত আছে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এর সময়ে অনেক আলেম শাসকদের সন্তুষ্ট করতে তাদের সেন্টিমেন্ট বুঝে ফতোয়া ডেলিভারি করতো। অপরদিকে স্বয়ং এই শাসকরাই শাইখুল ইসলামকে খুশি করার জন্য, উনাকে তাদের পক্ষে রাখার জন্য সব চেষ্টা ব্যয় করত। তবুও তিনি আপস করতেন না। সুবহানাল্লাহ! দ্বীনের ব্যাপারে উনার এই আপসহীন মনোভাবের কারণে সমর্থক এবং সমালোচক সকলেই তাঁকে বিশ্বাস করত। রাহিমাহুল্লাহ!
আজকে যারা উদারপন্থা ও ইসলামকে সহজ করার নাম করে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরয বিধানগুলোকে নিয়ে খেলা করছেন, সমঝোতার নামে দ্বীনের শত্রুদের স্বরে কথা বলছেন, ওয়াল্লাহি, অচিরেই এমন দিন আসবে যখন আপনাদের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ধুলোর সাথে মিশে যাবে। ইতিহাসের ফুটনোটেও আপনাদের জায়গা হবে না। উদারপন্থা দিয়ে ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টা শতাব্দী কাল অতিবাহিত করে ফেলেছে। তবুও বিজয়ের কোনো নাম নিশানা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই উম্মাহর যুবা-তরুনরা আস্তে আস্তে সঠিক পথের দিশা পেয়ে যাচ্ছে। জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এর স্পৃহা বুকে লালন করছে। এই জাগরণ কেউ রুখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।
দ্বীনকে পরিপূর্ণ ভাবে মানতে চাওয়া যেসব আলেম ও দা'ইয়িকে আজ চরমপন্থি ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে, জঙ্গি মৌলবাদী বলে না-মানুষ বানিয়ে তাদের রক্ত হালাল করার পায়তারা করা হচ্ছে, ওয়াল্লাহি, এমন এক দিন আসবে, যখন এসব গুরাবাদের তাকবীর ধ্বনিতে দিল্লি আর ওয়াশিংটন কেঁপে ঊঠবে। তারাই মুসলমানদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। উম্মাহর প্রতিটি সদস্য তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। প্রত্যেক মুসলিম ও অমুসলিম নারী তাদের ছায়াতলেই নিজেদের নিরাপত্তা খুঁজে পাবে। এসব মহান মুজাহিদ ও দা'ইয়িগণের বীরত্বগাঁথা নিয়ে হাজার হাজার পৃষ্টার গল্প-উপন্যাস রচিত হবে ইনশাআল্লাহ।
এবার কিছু আত্মসমালোচনা করা যাক—
বাংলাদেশের চলমান তাওহিদ বনাম সেক্যুলারিজমের এই মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে অনেক আলেম ও স্কলার না বুঝে জাতে উঠার জন্য তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদেরকে চরমপন্থি ট্যাগ দিয়ে শত্রু পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে তারা যেহেতু এখনো ফরিদ মাসুদের পর্যায়ে পৌঁছে যান নি, তাই তাদের সংশোধনের সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। বিশুদ্ববাদী আলেম ও দা'ইয়িদের উচিত তাদের সাথে একান্তে আলোচনা করা। তাদের ভ্রান্তিগুলো ধরিয়ে দেওয়া। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, এই দেশে ইসলাম প্রচারে তাদেরও অনেক অবদান আছে। অবদান ভুলে গিয়ে এভাবে কেবল কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তাদেরকে দূরে ঠেলে দেওয়া ঠিক হবে না। তাদের ভুলগুলোকে উম্মাহর সামনে স্পষ্ট করে দিতে হবে। তবে সেটা যেন হয় ভদ্র ও মার্জিত ভাষায়। কোনোভাবেই অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও যাচ্ছেতাই ট্যাগিং দেওয়া উচিত নয়। দুঃখজনকভাবে এই প্রবণতা ইদানীং অনেক তাওহিদবাদী দা'ইয়ি ভাইয়ের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাওহিদ ও শিরকের অনাগত লড়াইয়ে মুসলমানদের ঐক্য অনেক বেশি প্রয়োজন। সমস্ত কঠোরতা সম্মুখ ময়দানের জন্য রিজার্ভ রেখে দাওয়াতে নম্রভাষী ও কৌশলী হতে হবে। দেশের অধিকাংশ জনগণ খুব বেশি যুক্তি-তর্ক বুঝে না। তারা কেবল দেখে কোন আলেমের আচরণ কেমন। এতেই তারা যা বুঝার বুঝে নেয়। তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
১২ রামাদ্বান, ১৪৪৬ হিজরি
১৩ মার্চ, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
যুগে যুগে মডারেইট শায়েখ ও স্কলাররা এরকম পরিণতিই বরণ করে আসছে। তবুও তাদের শিক্ষা হয় না। তারা আল্লাহর শত্রুদের সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহর বিধানকে পরিবর্তন করে ফেলে। তারা বেমালুম ভুলে যায় মহান আল্লাহর অমোঘ বাণী— ‘ইয়াহুদ-নাসারারা আপনার প্রতি ততক্ষণ খুশি হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্ম গ্রহণ না করেন।’
খালকে কুরআনের মাসআলায় ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ চাইলে হেকমতের দোহাই দিয়ে বেঁচে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি দ্বীনের ব্যাপারে বিন্দু মাত্র ছাড় দিতে রাজি হন নি। অটল থেকেছেন। পরিণতিতে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেছেন, তবে মুসলিম উম্মাহ তাঁকে আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। অপরদিকে যেসব আলেম আপস করেছিলেন, তাদের কাউকেই ইতিহাস মনে রাখে নি।
বর্ণিত আছে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এর সময়ে অনেক আলেম শাসকদের সন্তুষ্ট করতে তাদের সেন্টিমেন্ট বুঝে ফতোয়া ডেলিভারি করতো। অপরদিকে স্বয়ং এই শাসকরাই শাইখুল ইসলামকে খুশি করার জন্য, উনাকে তাদের পক্ষে রাখার জন্য সব চেষ্টা ব্যয় করত। তবুও তিনি আপস করতেন না। সুবহানাল্লাহ! দ্বীনের ব্যাপারে উনার এই আপসহীন মনোভাবের কারণে সমর্থক এবং সমালোচক সকলেই তাঁকে বিশ্বাস করত। রাহিমাহুল্লাহ!
আজকে যারা উদারপন্থা ও ইসলামকে সহজ করার নাম করে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরয বিধানগুলোকে নিয়ে খেলা করছেন, সমঝোতার নামে দ্বীনের শত্রুদের স্বরে কথা বলছেন, ওয়াল্লাহি, অচিরেই এমন দিন আসবে যখন আপনাদের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ধুলোর সাথে মিশে যাবে। ইতিহাসের ফুটনোটেও আপনাদের জায়গা হবে না। উদারপন্থা দিয়ে ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টা শতাব্দী কাল অতিবাহিত করে ফেলেছে। তবুও বিজয়ের কোনো নাম নিশানা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই উম্মাহর যুবা-তরুনরা আস্তে আস্তে সঠিক পথের দিশা পেয়ে যাচ্ছে। জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এর স্পৃহা বুকে লালন করছে। এই জাগরণ কেউ রুখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।
দ্বীনকে পরিপূর্ণ ভাবে মানতে চাওয়া যেসব আলেম ও দা'ইয়িকে আজ চরমপন্থি ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে, জঙ্গি মৌলবাদী বলে না-মানুষ বানিয়ে তাদের রক্ত হালাল করার পায়তারা করা হচ্ছে, ওয়াল্লাহি, এমন এক দিন আসবে, যখন এসব গুরাবাদের তাকবীর ধ্বনিতে দিল্লি আর ওয়াশিংটন কেঁপে ঊঠবে। তারাই মুসলমানদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। উম্মাহর প্রতিটি সদস্য তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। প্রত্যেক মুসলিম ও অমুসলিম নারী তাদের ছায়াতলেই নিজেদের নিরাপত্তা খুঁজে পাবে। এসব মহান মুজাহিদ ও দা'ইয়িগণের বীরত্বগাঁথা নিয়ে হাজার হাজার পৃষ্টার গল্প-উপন্যাস রচিত হবে ইনশাআল্লাহ।
এবার কিছু আত্মসমালোচনা করা যাক—
বাংলাদেশের চলমান তাওহিদ বনাম সেক্যুলারিজমের এই মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে অনেক আলেম ও স্কলার না বুঝে জাতে উঠার জন্য তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদেরকে চরমপন্থি ট্যাগ দিয়ে শত্রু পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে তারা যেহেতু এখনো ফরিদ মাসুদের পর্যায়ে পৌঁছে যান নি, তাই তাদের সংশোধনের সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। বিশুদ্ববাদী আলেম ও দা'ইয়িদের উচিত তাদের সাথে একান্তে আলোচনা করা। তাদের ভ্রান্তিগুলো ধরিয়ে দেওয়া। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, এই দেশে ইসলাম প্রচারে তাদেরও অনেক অবদান আছে। অবদান ভুলে গিয়ে এভাবে কেবল কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তাদেরকে দূরে ঠেলে দেওয়া ঠিক হবে না। তাদের ভুলগুলোকে উম্মাহর সামনে স্পষ্ট করে দিতে হবে। তবে সেটা যেন হয় ভদ্র ও মার্জিত ভাষায়। কোনোভাবেই অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও যাচ্ছেতাই ট্যাগিং দেওয়া উচিত নয়। দুঃখজনকভাবে এই প্রবণতা ইদানীং অনেক তাওহিদবাদী দা'ইয়ি ভাইয়ের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাওহিদ ও শিরকের অনাগত লড়াইয়ে মুসলমানদের ঐক্য অনেক বেশি প্রয়োজন। সমস্ত কঠোরতা সম্মুখ ময়দানের জন্য রিজার্ভ রেখে দাওয়াতে নম্রভাষী ও কৌশলী হতে হবে। দেশের অধিকাংশ জনগণ খুব বেশি যুক্তি-তর্ক বুঝে না। তারা কেবল দেখে কোন আলেমের আচরণ কেমন। এতেই তারা যা বুঝার বুঝে নেয়। তাই দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
إن أصبتُ فمن الله، وإن أخطأتُ فمن نفسي ومن الشيطان
১২ রামাদ্বান, ১৪৪৬ হিজরি
১৩ মার্চ, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
Comment