গত কিছুদিন আগে স্কুলের শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়া হয়েছে, যদিও সব বিষয়ের বই এখনও দেওয়া হয়নি। জুলাই পরবর্তী সময়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরাকরের তত্বাবধানে পূর্বের হাসিনা আমলের বই গুলোরই পরিমার্জিত সংস্করণ প্রদান করা হয়েছে এবং এমনটা দাবি করা হচ্ছে যে জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের গন আকাঙ্খার সাথে উক্ত পরিমার্জন সামঞ্জস্যপূর্ণ। তো সেই সামঞ্জস্যতার স্বরূপ দেখার আগ্রহ থেকেই এ বছরে প্রদান কৃত বইগুলো দেখার প্রয়োজন অনুভব করেছিলাম এবং সেই প্রয়োজন পূরণের তাগিদেই ক্লাস নাইন-টেনের কিছু বই পেজ উল্টিয়ে উল্টিয়ে দেখেছিলাম।
ক্লাস নাইন-টেনের ইংরেজি বইয়ের Unit One এর শিরোনাম দেখেছিলাম Sense of Self যার বাংলা অর্থটা অনেকটা এমন হওয়া উচিত 'নিজেকে নিয়ে নিজের ধারণা বা আত্মপরিচয়ের অনুভূতি', আমরা যখন পড়াশোনা করেছিলাম তখন এই Unit ছিলো না। তখন ঐটা দেখার পর আমার চিন্তা জগতে যেটা এসেছিলো তা হলো 'এবছরে এটা যুক্ত করা হয়েছে'—এর বেশি অন্য কিছু তখন আমার ভাবনায় আসেনি এবং আমি পেজ উল্টিয়ে চলে গিয়েছিলাম।
উপরের এই বর্ণনাটা ফালতু লাগতে পারে, তবে—গতকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ কয়েকজন সচেতন মুসলিম নাগরিকের পোস্টের ফলশ্রুতিতে জানতে পারলাম, ক্লাস নাইন-টেনের ইংরেজি বইয়ে নতুন যুক্ত হওয়া Unit One যার শিরোনাম 'Sense of Self'—প্রচন্ডরকম সমস্যাজনক, যেটা কোনো ভাবেই সহনীয় না। নিজেকে নিয়ে নিজের ধারণা বা আত্মপরিচয়ের অনুভূতি নামক ইউনিট থেকে এই শতাব্দীর এবং মানবজাতির ইতিহাসে দেখা মিলে এরকম আবর্জনা সমূহের মধ্য থেকে সর্ব নিকৃষ্ট আবর্জনা সমকামীতার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং এরকম কিছু থাকতে পারে সেটা দেখার জন্যই আমি বইগুলো নাড়াচাড়া করেছিলাম কিন্তু আমার সচেতনতার মাত্রা অতটা বেশি ছিলো না, যার কারণে এই বিষয়টা আমার থেকে এড়িয়ে যায়।
তাই এখন আমি ভাবছি—বিষয়টা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম তারপরও তা আমার নজর এড়িয়ে গেছে। তাহলে আমাদের ছোটো ভাই-বোন, যারা এই বইটা পড়বে, তাদের তো এই সম্পর্কে আদৌও অতটা পরিষ্কার ধারণা নেই, তারা কী এই ধূর্ততা ধরতে পারবে?
ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা বলেন, হেজেমনি অর্জন বলেন বা অন্য কিছু—এগুলো যেসকল বিষয়ের উপর ভর করে হাসিল করা হয়, তার মধ্যে শিক্ষাব্যাবস্থা অন্যতম একটা স্তম্ভ। আপনাদের মনে থাকার কথা, ২০১৫-২০১৬ সালের দিকে বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায়, চিঠি-পত্র, ডায়লগ (ইত্যাদি) প্রশ্ন করা হতো এভাবে যে—সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ এ সম্পর্কে আমাদের করণীয় কী (ইত্যাদি), এই ধরনের প্রশ্ন করা হতো এবং শিক্ষার্থীরা মার্ক তোলার নেশায় এ বিষয় গুলোর উপর পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখত, যা অবচেতন ভাবেই তাদের চিন্তাজগতে ইসলামবিদ্বেষের বীজ বপন করে দিয়েছিলো। তাই পাঠ্যপুস্তকের ভিতরকার ছোটো থেকে ছোটো বিষয় যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলোর ব্যাপারে অবহেলা করা যাবে না।
একটু চিন্তা করে দেখুন, বাংলাদেশের লিবারেল এবং সেকুলাররা কতটা উগ্র। গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে এই সমকামিতার ইস্যু নিয়ে কতটা আলাপ, আলোচনা, আন্দোলন হলো কিন্তু এই উগ্রবাদীরা এক বারের জন্যও ব্রেক চাপেনি বরং আরও দ্রুত গতিতে প্যাডেল করা আরম্ভ করছে। ভাবখানা এমন যে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যেই জন আক্রোশ দেখা যাচ্ছে তা তাদের চোখেই পড়েনি। নিউটনের একটা বিখ্যাত সূত্র আছে, "প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া থাকে।" নিউটনের দেওয়া সূত্রের বাস্তবতাটা রাজনীতি, আন্দোলন এবং সংগ্রামের ক্ষেত্রেও বেশ প্রাসঙ্গিক। তাই নিজের স্থিতি বজায় রাখতে যথোপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে না পারলে ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আর যত দ্রুত সম্ভব নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে, অর্থাৎ প্রতিক্রিয়ার বদলে ক্রিয়ার আসনে আসীন হতে হবে।
এখন, এই পরিস্থিতিতে এসে, আমাদের বুঝতে হবে, এদের সাথে সহাবস্থান কোনোভাবেই সম্ভব না, আপনি চাইলেও তারা চায় না, তারা অসাম্প্রদায়িকতারও আলাপ যখন করে তখন আলোচনার টেবিলে আপনাকে রাখে না। যেই সংসারে স্ত্রী বলে—তুই আমাকে তালাক দে, আমি তোর ভাত খাবো না, সেই সংসারে সুখ ফিরিয়ে আনার প্রথমিক এবং উপযুক্ত উপায় হলো তালাক দিয়ে দেওয়া। প্রিয় ভাইয়েরা এটা বাস্তবতা যে, তারা আপনাদের এবং আমাদের পছন্দ করে না, তারা আমাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, প্রচন্ডরকম ঘৃণা। আজ আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ এতটাই কমে গেছে যে এত বিপুল পরিমাণ ঘৃণা আমাদের চোখে ধরা পড়ে না, আফসোস।
তাই ভাই আমাদের সতর্ক হতে হবে—তারা তাদের আদর্শের ক্ষেত্রে কতটা সৎ কতটা কঠোর আর আমরা? আপসকামীতা যেন আমাদের রক্তে রক্তে মিশে আছে, আত্মমর্যাদাশীল হতে হবে ভাই, নিজেদের আদর্শের প্রতি সৎ থাকতে হবে, কঠোর হতে হবে এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা রাখতে হবে। সমকামীতার যেই বিষয় এটার প্রতি অবহেলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না, পাশাপাশি এ বিষয়টাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির ময়দানে বেশ ভালো ভাবে জল ঘোলা করা যাবে এবং সেটা আমাদের করতে হবে এবং আমরা করব ইনশাআল্লাহ।
ক্লাস নাইন-টেনের ইংরেজি বইয়ের Unit One এর শিরোনাম দেখেছিলাম Sense of Self যার বাংলা অর্থটা অনেকটা এমন হওয়া উচিত 'নিজেকে নিয়ে নিজের ধারণা বা আত্মপরিচয়ের অনুভূতি', আমরা যখন পড়াশোনা করেছিলাম তখন এই Unit ছিলো না। তখন ঐটা দেখার পর আমার চিন্তা জগতে যেটা এসেছিলো তা হলো 'এবছরে এটা যুক্ত করা হয়েছে'—এর বেশি অন্য কিছু তখন আমার ভাবনায় আসেনি এবং আমি পেজ উল্টিয়ে চলে গিয়েছিলাম।
উপরের এই বর্ণনাটা ফালতু লাগতে পারে, তবে—গতকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ কয়েকজন সচেতন মুসলিম নাগরিকের পোস্টের ফলশ্রুতিতে জানতে পারলাম, ক্লাস নাইন-টেনের ইংরেজি বইয়ে নতুন যুক্ত হওয়া Unit One যার শিরোনাম 'Sense of Self'—প্রচন্ডরকম সমস্যাজনক, যেটা কোনো ভাবেই সহনীয় না। নিজেকে নিয়ে নিজের ধারণা বা আত্মপরিচয়ের অনুভূতি নামক ইউনিট থেকে এই শতাব্দীর এবং মানবজাতির ইতিহাসে দেখা মিলে এরকম আবর্জনা সমূহের মধ্য থেকে সর্ব নিকৃষ্ট আবর্জনা সমকামীতার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং এরকম কিছু থাকতে পারে সেটা দেখার জন্যই আমি বইগুলো নাড়াচাড়া করেছিলাম কিন্তু আমার সচেতনতার মাত্রা অতটা বেশি ছিলো না, যার কারণে এই বিষয়টা আমার থেকে এড়িয়ে যায়।
তাই এখন আমি ভাবছি—বিষয়টা সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম তারপরও তা আমার নজর এড়িয়ে গেছে। তাহলে আমাদের ছোটো ভাই-বোন, যারা এই বইটা পড়বে, তাদের তো এই সম্পর্কে আদৌও অতটা পরিষ্কার ধারণা নেই, তারা কী এই ধূর্ততা ধরতে পারবে?
ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা বলেন, হেজেমনি অর্জন বলেন বা অন্য কিছু—এগুলো যেসকল বিষয়ের উপর ভর করে হাসিল করা হয়, তার মধ্যে শিক্ষাব্যাবস্থা অন্যতম একটা স্তম্ভ। আপনাদের মনে থাকার কথা, ২০১৫-২০১৬ সালের দিকে বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায়, চিঠি-পত্র, ডায়লগ (ইত্যাদি) প্রশ্ন করা হতো এভাবে যে—সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ এ সম্পর্কে আমাদের করণীয় কী (ইত্যাদি), এই ধরনের প্রশ্ন করা হতো এবং শিক্ষার্থীরা মার্ক তোলার নেশায় এ বিষয় গুলোর উপর পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখত, যা অবচেতন ভাবেই তাদের চিন্তাজগতে ইসলামবিদ্বেষের বীজ বপন করে দিয়েছিলো। তাই পাঠ্যপুস্তকের ভিতরকার ছোটো থেকে ছোটো বিষয় যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলোর ব্যাপারে অবহেলা করা যাবে না।
একটু চিন্তা করে দেখুন, বাংলাদেশের লিবারেল এবং সেকুলাররা কতটা উগ্র। গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে এই সমকামিতার ইস্যু নিয়ে কতটা আলাপ, আলোচনা, আন্দোলন হলো কিন্তু এই উগ্রবাদীরা এক বারের জন্যও ব্রেক চাপেনি বরং আরও দ্রুত গতিতে প্যাডেল করা আরম্ভ করছে। ভাবখানা এমন যে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যেই জন আক্রোশ দেখা যাচ্ছে তা তাদের চোখেই পড়েনি। নিউটনের একটা বিখ্যাত সূত্র আছে, "প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া থাকে।" নিউটনের দেওয়া সূত্রের বাস্তবতাটা রাজনীতি, আন্দোলন এবং সংগ্রামের ক্ষেত্রেও বেশ প্রাসঙ্গিক। তাই নিজের স্থিতি বজায় রাখতে যথোপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে না পারলে ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আর যত দ্রুত সম্ভব নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে, অর্থাৎ প্রতিক্রিয়ার বদলে ক্রিয়ার আসনে আসীন হতে হবে।
এখন, এই পরিস্থিতিতে এসে, আমাদের বুঝতে হবে, এদের সাথে সহাবস্থান কোনোভাবেই সম্ভব না, আপনি চাইলেও তারা চায় না, তারা অসাম্প্রদায়িকতারও আলাপ যখন করে তখন আলোচনার টেবিলে আপনাকে রাখে না। যেই সংসারে স্ত্রী বলে—তুই আমাকে তালাক দে, আমি তোর ভাত খাবো না, সেই সংসারে সুখ ফিরিয়ে আনার প্রথমিক এবং উপযুক্ত উপায় হলো তালাক দিয়ে দেওয়া। প্রিয় ভাইয়েরা এটা বাস্তবতা যে, তারা আপনাদের এবং আমাদের পছন্দ করে না, তারা আমাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, প্রচন্ডরকম ঘৃণা। আজ আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ এতটাই কমে গেছে যে এত বিপুল পরিমাণ ঘৃণা আমাদের চোখে ধরা পড়ে না, আফসোস।
তাই ভাই আমাদের সতর্ক হতে হবে—তারা তাদের আদর্শের ক্ষেত্রে কতটা সৎ কতটা কঠোর আর আমরা? আপসকামীতা যেন আমাদের রক্তে রক্তে মিশে আছে, আত্মমর্যাদাশীল হতে হবে ভাই, নিজেদের আদর্শের প্রতি সৎ থাকতে হবে, কঠোর হতে হবে এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা রাখতে হবে। সমকামীতার যেই বিষয় এটার প্রতি অবহেলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না, পাশাপাশি এ বিষয়টাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির ময়দানে বেশ ভালো ভাবে জল ঘোলা করা যাবে এবং সেটা আমাদের করতে হবে এবং আমরা করব ইনশাআল্লাহ।
Comment