Announcement

Collapse
No announcement yet.

উগ্র মতাদর্শ বৃদ্ধির বিপদ আমরা কী বুঝতে পারছি?

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • উগ্র মতাদর্শ বৃদ্ধির বিপদ আমরা কী বুঝতে পারছি?

    উগ্র মতাদর্শ বৃদ্ধির বিপদ
    আমরা কী বুঝতে পারছি
    ?
    ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদকীয় ও মতামত পৃষ্ঠায় একটা মতামতধর্মী নিবন্ধ প্রকাশিত হয়; যার শিরোনাম, "উগ্র মতাদর্শ বৃদ্ধির বিপদ আমরা কী বুঝতে পারছি?" এবং এই নিবন্ধের লেখক হলেন আলতাফ রাসেল, যিনি যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পিএইচডি পর্যায়ের গবেষক। উক্ত নিবন্ধে বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয়ে আলাপ উঠেছে, সেই নিবন্ধটা আপনারা পুরোটা পড়ে দেখতে পারেন দৈনিক সমকাল পত্রিকার ওয়েবসাইট, ই-পেপার অথবা প্রিন্ট কপি থেকে। সেখানে তিনি যা বলার চেষ্টা করেছেন তার মূল বিষয়বস্তু অনেকটা এরকম—

    ১) গত আড়াই দশকে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে—তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থার নীরব অথচ শক্তিশালী উত্থান। প্রবন্ধের লেখক আলতাফ রাসেলের মতে, এই উগ্র মতাদর্শের ঢেউ কেবল রাজনীতির মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন আমাদের শিক্ষাঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এমনকি প্রবাসীদের মনস্তত্ত্বকেও প্রভাবিত করছে এবং তিনি ধর্মীয় উগ্রপন্থার এই উত্থানকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আর এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন যেমন হঠাৎ করে ঘটে না—বরং দশকের পর দশক ধরে ধীরে ধীরে সংঘটিত হয় এবং আমরা অনেক সময় তা উপেক্ষা করি—ঠিক তেমনি উগ্র মতাদর্শও ধীরে ধীরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রবেশ করছে: শিক্ষা, রাজনীতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রবাসী সমাজে। অথচ আমরা এর বিস্তারকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছি না। এই অবহেলা অব্যাহত থাকলে একসময় এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এটি সমাজকে এমনভাবে ডুবিয়ে দিবে, যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তন উপকূলীয় অঞ্চল গুলোকে ডুবিয়ে দিচ্ছে।

    ২) উক্ত নিবন্ধে লেখক আলতাফ রাসেল বলছেন, তার ভরসা ছিলো পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত নতুন প্রজন্মের উপর কিন্তু উচ্চশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ আজ পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেয়ে উগ্র ধর্মীয় ডানপন্থার দিকে বেশি ঝুঁকছে এবং তাদের অনেকেই ভারতবিরোধিতার জন্য পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতার আকাঙ্খা পোষণ করছে; কিন্তু এই মানসিকতাকে লেখক 'হতাশাজনক এবং আত্মঘাতী' বলে অভিহিত করেছেন এবং এটাকে তিনি বাঙালির 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন' মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করার শামিল বলে মনে করছেন। এছাড়া লেখক অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানিয়েছেন যে, আধুনিক পোশাক বা উচ্চতর ডিগ্রি নিলেই মানুষ আধুনিক হয় না। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী বা পরিচালকরাও উগ্রবাদী মানসিকতাকে প্রশ্রয় দেয়, তবে সেই শিক্ষা বৈশ্বিক মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।

    ৩) বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একাংশ কেন উগ্রবাদকে সমর্থন করছে—এ নিয়ে উক্ত নিবন্ধে লেখক গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আলতাফ রাসেলের মতে, যারা প্রবাসে থেকে দেশে উগ্রবাদের উত্থান সমর্থন করছেন, তারা উপলব্ধি করতে পারছেন না যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বা নারীর অধিকার খর্ব হলে তার প্রতিক্রিয়া পশ্চিমা সমাজেও পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত যার ভুক্তভোগী হবে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়। তাঁর যুক্তি হলো, কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতি নয়, সাংস্কৃতিক অগ্রগতিও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য সমানভাবে জরুরি। উদাহরণ হিসেবে তিনি চীনের কথা উল্লেখ করেছেন—পশ্চিমাদের সঙ্গে চীনের যতই প্রতিযোগিতা বা দ্বন্দ্ব থাকুক না কেন, সেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদ অনুপস্থিত থাকার কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

    পরিশেষে নিবন্ধটির সারকথা হলো, আমরা যদি ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ভাবমূর্তি ধরে রাখতে ব্যর্থ হই, তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে।

    উপরে যা উল্লেখ করলাম, সেটাই হলো দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদকীয় ও মতামত পৃষ্ঠায় প্রকাশিত—"উগ্র মতাদর্শ বৃদ্ধির বিপদ আমরা কী বুঝতে পারছি?" নামক নিবন্ধের মূল বক্তব্য। এখন আমরা যদি সেই বক্তব্যের ভিতর ফুটে ওঠা চিন্তাকে শুধু একজন ব্যাক্তির চিন্তা ভেবে এড়িয়ে যায়, সেটা খুব একটা ভালো কাজ হবে না। মূলত লিবারেল ধর্মের অনুসারী অধিকাংশ মানুষই ঐ একই চিন্তা লালন করে। আমাদের শত্রুরা আমাদের সম্পর্কে কী ভাবছে, সেটা জানার চেষ্টা করা, বোঝার চেষ্টা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

    প্রথমত, যেই বিষয়টা বুঝতে হবে, সেটা হলো—উপরোক্ত চিন্তা লালনকারী লিবারেল ফ্যানাটিকদের কাছে উগ্রতা হচ্ছে দ্বীন ইসলাম এবং এর সাথে সম্পর্কিত সব কিছু। এজন্যই গণতন্ত্রের সকল রীতিনীতি প্রকৃত গণতান্ত্রিক দল সমূহের থেকেও যত্নের সাথে পালনকারী এদেশের ইসলামপন্থী গণতান্ত্রিক দলসমূহ তাদের কাছে উগ্র ডান। আর এখান থেকে আমাদের জন্য যেটা শিক্ষণীয় আছে, সেটা হলো—
    ...

    وَلَنْ تَرْضٰى عَنْكَ الْيَهُوْدُ وَلَا النَّصٰرٰى حَتّٰى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ۗ قُلْ اِنَّ هُدَى اللّٰهِ هُوَ الْهُدٰى ۗ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ اَهْوَآءَهُمْ بَعْدَ الَّذِيْ جَآءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ۙ مَا لَـكَ مِنَ اللّٰهِ مِنْ وَّلِيٍّ وَّلَا نَصِيْرٍ

    "ইয়াহূদী ও নাসারারা তোমার প্রতি রাজী হবে না যে পর্যন্ত না তুমি তাদের ধর্মের আদর্শ গ্রহণ কর। বল, ‘আল্লাহর দেখানো পথই প্রকৃত সুপথ এবং তুমি যদি জ্ঞান আসার পরেও এদের ইচ্ছে অনুযায়ী চল, তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর ক্রোধ হতে রক্ষা করার মত কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না’।"

    (২/১২০)
    ...

    ইসলামপন্থী গণতান্ত্রিক দলসমূহ যত সুন্দরভাবেই গণতন্ত্রের রীতিনীতি মেনে চলুক না কেন, লিবারেল ফ্যানাটিকরা তাদের প্রতি রাজি হবে না, যতক্ষণ না তারা সকলেই লিবারেলিজমকে আঁকড়ে ধরবে। যার প্রমাণ আমরা লিবারেলদের কাজকর্ম দেখেই বুঝতে পারি, তারা আইডেন্টিটি পলিটিক্সের বিনাশ চায়, তাদের মতে আইডেন্টিটি পলিটিক্সের কারণে সমাজে বিভেদ হয়, বিশৃঙ্খলা হয়; এজন্য তারা সমাজের সকলের জন্য একটা কমন আইডেন্টিটি চায় এবং সেটা হলো লিবারেলিজম। তাদের ভাষায় কমন আইডেন্টিটি ইসলাম হলে সমস্যা, কারণ তা সমাজের ভিন্ন মতাদর্শিক মানুষদের উপর অনেক কিছু চাপিয়ে দিবে কিন্তু কমন আইডেন্টিটি লিবারেলিজম হলে নাকি কোনো সমস্যা নেই। অথচ লিবারেল আইডেন্টিটির ভিত্তি যে মানব জাতির অস্তিত্বের প্রধান অংশটিকেই অস্বীকার করার উপর প্রতিষ্ঠিত তা তাদের চোখে পড়ে না। লিবারেলদের কাছে লিবারেলিজম শ্রেষ্ঠ তাই তারা কমন আইডেন্টিটি হিসেবে লিবারেলিজমকে চাই কিন্তু যাদের কাছে ইসলাম শ্রেষ্ঠ, তারা যদি কমন আইডেন্টিটি হিসেবে ইসলামকে চায়, তখন নিজেদের উদার-সহনশীল দাবিকারী লিবারেলরাই তাদেরকে উগ্র বলে।

    দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ লিবারেলদের মতে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী বা পরিচালকরাও উগ্রবাদী মানসিকতাকে তথা ইসলামকে প্রশ্রয় দেয়, তবে সেই শিক্ষা বৈশ্বিক মানদণ্ডে তথা পশ্চিমা মানদন্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। এই কথাটা আমার কাছে বেশ মজাদার লেগেছে।

    জ্ঞান কী? এটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে দেখবেন অনেক রকমের আলোচনা আছে, আমারও এটা নিয়ে কৌতুহল ছিলো, কোনটা জ্ঞান, কোনটা জ্ঞান না, এটা কীভাবে বুঝব। আমার এই প্রশ্নের তৃপ্তিদায়ক একটা উত্তর পেয়েছিলাম আস সাহাব মিডিয়া (উপমহাদেশ) থেকে প্রকাশিত, উস্তাদ আহমেদ ফারুক রহ. এর একটা দারস থেকে। সেই দারসে উস্তাদ আহমেদ ফারুক রহ. বলছিলেন ইলম সম্পর্কে, ইলম কী? কোন বিষয়গুলো ইলম বলে গণ্য হবে? কোনগুলো হবে না? এটা আমরা কীভাবে বুঝব?

    এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে তিনি যা বলেছিলেন, সেটা অনেকটা এরকম—আমরা যদি লক্ষ্য করি, তাহলে আমরা দেখব, আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো করি; তার কোনোটিই উদ্দেশ্যহীন না, প্রতিটা কাজেরই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য থাকে, উদ্দেশ্যহীনতা কাজের অপূর্ণতাকে নির্দেশ দেয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের সৃষ্টি করেছেন, এবং এটার পিছনেও একটা উদ্দেশ্য রয়েছে, যা তিনি আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন—
    ...

    وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَا لْاِ نْسَ اِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ

    "আমি জ্বিন ও মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ‘ইবাদাত করবে।"

    (৫১/৫৬)
    ...

    অর্থাৎ, আমাদের অস্তিত্বের পিছনের মূল উদ্দেশ্য, মূল মাকসাদ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার ইবাদত করা। তাই, এমন বিষয় যা আমাদের অস্তিত্বের পিছনের উদ্দেশ্য পূরণে সাহায্য করে, সেগুলো সবই হচ্ছে ইলম। আর এমন কিছু যা আমাদের অস্তিত্বের পিছনের উদ্দেশ্য পূরণে বাঁধা সৃষ্টি করে, সেগুলো ইলম না।

    এজন্য আমি ব্যাক্তিগত ভাবে জ্ঞানকে দুনিয়াবি এবং আখিরাতি ক্যাটাগরিতে ভাগ না করে, ইলম নাকি ইলম না সেই ক্যাটাগরিতে ভাগ করতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কেননা, বোমা বানানোর জ্ঞানকে সাধারণত দুনিয়াবি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয় কিন্তু বোমা বানানোর জ্ঞানও ইলম হতে পারে যদি সেটা আমাদের অস্তিত্বের মাকসাদ পূরণের কাজে ব্যাবহৃত হয়। আবার অনেক মানুষ এমন আছে যারা কুরআনের হাফেজ, ইসলামের বিভিন্ন শাস্ত্র সম্পর্কে ভালো জানাশোনা আছে কিন্তু সে তাগুত্বের গোলাম; এক্ষেত্রে তার ইসলাম সম্পর্কে জানাশোনা, তার অস্তিত্বের মাকসাদ পূরণে সাহায্য করছে না, যদিও আমরা 'সেই জানাশোনাকে' আখিরাতি জ্ঞানের ক্যাটাগরিতেই রেখে থাকি।

    লিবারেলরাও এরকমই বলতে চাচ্ছে, তাদের মতে পশ্চিমা শিক্ষা ব্যাবস্থায় যদি কেউ পড়াশোনা করে এবং লিবারেলিজমের বিরুদ্ধাচারণ করে, ইসলামকে ধারণ করে, তাহলে তাদের সেই শিক্ষা বৈশ্বিক মানদণ্ডে অর্থাৎ পশ্চিমা মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।

    বেশ মজাদার না ব্যাপারটা?

    তৃতীয়ত, লিবারেলদের বিশ্বাস ইসলাম সংখ্যালঘুদের এবং নারীদের অধিকার খর্ব করে অথচ লিবারেলিজম যে সংখ্যাগরিষ্ঠদেরই অধিকার খর্ব করে সেটা তাদের দৃষ্টিগোচর হয়না। আর নারীদের অধিকার? গতকালই তো সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর হিজাব-নিকাব সম্পর্কে কীরকম অশ্লীল মন্তব্য করেছে আপনারা তা দেখেছেন, কয়জন লিবারেলকে বলতে দেখেছেন যে এমনটা বলা ঠিক হয়নি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিবারেলদের হৈচৈ কেমন ছিলো?

    সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর কোনো এক বইয়ে আমি একটা চমৎকার লাইন পেয়েছিলাম, সেটা আমি আমার খাতায় লিখে রেখেছিলাম, কোন বইয়ে পড়েছিলাম সেটা মনে নেই; কথাটা ছিলো অনেকটা এরকম—শব্দের উদ্ভাবকের কাছে সেই শব্দের একটা নির্দিষ্ট পারিভাষিক অর্থ থাকে, যা থেকে সেই শব্দকে পৃথক করা সম্ভব না।

    তাই আমরা যখন কোনো লিবারেলকে সংখ্যালঘু, নারী অধিকার, মানবতা ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করতে দেখব তখন আমাদের সতর্ক এবং সচেতন হতে হবে; কেননা ঐ শব্দগুলো শুনে আমরা যা বুঝছি, তারা তা বোঝাচ্ছে না। তাদের কাছে ঐ শব্দগুলোর নির্দিষ্ট পারিভাষিক অর্থ রয়েছে। সংখ্যালঘু বলতে আমরা হয়তো বুঝি সংখ্যায় কম কিন্তু লিবারেলরা তা বোঝায় না।

    গণতান্ত্রিক ভাবে “জনতার খেয়াল-খুশির” শাসন প্রতিষ্টা হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসনের জন্ম দেয় এবং নিকট অতীতে এরকম অহরহই ঘটেছে যেখানে গণতান্ত্রিক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে শাসক সংখ্যালঘুর উপর জাতিগত নিধন চালিয়েছে।

    এই বাস্তবতা গণতান্ত্রিক তাত্ত্বিকদের সামনে একটি গুরুতর সংকট তৈরি করে। সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন যে ন্যায়ের নিশ্চয়তা দেয় না—এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা গণতন্ত্রকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করে এবং যার ফলশ্রুতিতে লিবারেল ডেমোক্রসির উদ্ভব হয়। যেখানে গণতন্ত্র কতটা সহীহ হয়েছে তা নির্ভর করবে সেখানকার সংখ্যালঘুরা কতটা সুখে-শান্তিতে আছে তার উপর এবং এই সুখ-শান্তির অর্থও আমাদের নিতে হবে লিবারেলিজম থেকে।

    তাই লিবারেলরা যখন সংখ্যালঘু, নারী অধিকারের কথা বলে তখন সেটা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বলে। এখন আপনি যদি শরীয়াহ শাসনের অধীনে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করেন, নারীদের অধিকার দেন এবং তারাও বাস্তবিক অর্থে সন্তুষ্ট ও নিরাপদ থাকে; তারপরও লিবারেলরা আপনার প্রতি নমনীয় হবে না, কেননা তাদের মাকসাদ তো ছিলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সমাজে লিবারেল চেতনার প্রসার ঘটানো। অর্থাৎ বিরোধটা কেবল ফলাফল (সংখ্যালঘু বা নারীর সুখ-নিরাপত্তা) নিয়ে নয়, বরং সেই ফলাফল অর্জনের দর্শন ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে।

    তবে লিবারেলদের একটা ভালে গুণ আছে আর তা হলো—তারা গ্রহণযোগ্যতা চায় পশ্চিমের কাছ থেকে কেননা তারা পশ্চিমকে রব মানে। অথচ আমরা? আমরা তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাকে রব মানি কিন্তু আমরা কী এটা ভেবে দেখি যে, আমাদের কাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কিনা? তাঁর নির্দেশ মোতাবেক হচ্ছে কিনা?

    সর্বশেষ বিষয় হচ্ছে, আমরা যত চেষ্টায় করি না কেন, আমরা তাদের খুশি করতে পারব না, যতক্ষণ না আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের ধর্মের অনুসারী হয়ে যায়। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলে দিয়েছেন যে, আল্লাহর দেখানো পথই প্রকৃত সুপথ, তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কোন পথে হাঁটব।
    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 4 days ago.

  • #2

    "উদাহরণ হিসেবে তিনি চীনের কথা উল্লেখ করেছেন—পশ্চিমাদের সঙ্গে চীনের যতই প্রতিযোগিতা বা দ্বন্দ্ব থাকুক না কেন, সেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদ অনুপস্থিত থাকার কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি।"

    কারণ
    পশ্চিমা ও চীনাদের রব তো এক।
    রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
    الكفر ملة واحدة
    সকল কাফের এক।
    আল্লাহ তাআলা বলেন
    وَلَا یَزَالُوۡنَ یُقَاتِلُوۡنَکُمۡ حَتّٰی یَرُدُّوۡکُمۡ عَنۡ دِیۡنِکُمۡ اِنِ اسۡتَطَاعُوۡا ؕ وَمَنۡ یَّرۡتَدِدۡ مِنۡکُمۡ عَنۡ دِیۡنِہٖ فَیَمُتۡ وَہُوَ کَافِرٌ فَاُولٰٓئِکَ حَبِطَتۡ اَعۡمَالُہُمۡ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۚ وَاُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ

    (আল বাকারা-২১৭)


    বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।



    "আমরা যদি ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ভাবমূর্তি ধরে রাখতে ব্যর্থ হই, তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে।"

    তোমাদের কথা সত্য, তোমরা ঘোর অন্ধকারের অপেক্ষা করতে থাকো।
    কারণ
    আল্লাহ তাআলা বলেন
    اِنَّا نَحۡنُ نَرِثُ الۡاَرۡضَ وَمَنۡ عَلَیۡہَا وَاِلَیۡنَا یُرۡجَعُوۡنَ ٪

    (মারইয়াম-৪০)

    আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী হব পৃথিবীর এবং তার উপর যারা আছে তাদের এবং আমারই কাছে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে।

    হে প্রগতিশীল! ভাবমূর্তি ধরে রাখতে হলে তোমাদের জন্য উচিত, তোমরা আল্লাহর জমিন থেকে সরে অন্য কোথাও গিয়ে তোমাদের প্রগতিশীল ভাবমূর্তি ধরে রাখা।
    আল্লাহর জমিনে থাকবে আবার আল্লাহর বিরোধিতা করবে, এটাতো হতেই পারে না।
    এরপর ও পারতেছো এজন্য যে, মুসলমানরা তাদের মূল থেকে সরে যাওয়ার কারণে।
    বহু লাঞ্চিত ও অপমানিত হওয়ার পর এখন তারা মূলে ফিরে আসা শুরু করে দিয়েছে। এখন তোমাদের জন্য দুইটি সূরত হয়তো আল্লাহর অনুসারী হয়ে যাও, অথবা শাস্তির জন্য অপেক্ষা করতে থাকো।​

    হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ঈমানের হিফাজত কর।
    শহীদদের সাথে অন্তর্ভুক্ত কর। আমীন। আমীন।

    Comment

    Working...
    X