সম্প্রতি ঢাকার ধামরাই উপজেলায় একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্বামীকে বেঁধে রেখে সাত জন হিন্দু এক মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করেছে। নাউজুবিল্লাহ! এত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেল, কিন্তু মিডিয়াগুলোতে এ নিয়ে কোনো সংবাদ নেই। তথাকথিত সুশীলদের কোনো বিবৃতি নেই। ইসলামকে পুঁজি করে রাজনীতি করা গণতন্ত্রপন্থী ইসলামি দলগুলোর এ ঘটনায় কোনো প্রতিবাদ নেই। সবখানে চলছে ভয়ানক নিরবতা, যেন কিছুই ঘটে নি।
কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, উপরের ঘটনাটির ব্যাপারে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি; ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই হয়তো সুশীল শ্রেণি ও মডারেট মুসলিম দলগুলো নিশ্চুপ। না ভাই, আপনি ভুল বুঝছেন। তারা কস্মিনকালেও এর প্রতিবাদ করবে না। এমনকি ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলেও না। কারণ তারা তাদের মস্তিষ্ক বিদেশি এম্বাসিগুলোতে বর্গা দিয়ে দিয়েছে। তারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংকের লোভে নিজেদের স্বকীয়তা ও ইসলামী মূল্যবোধকে অকাতরে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে এর অসংখ্য প্রমাণ জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।
২২ জুন ২০২৫। নোয়াখালীতে একজন মাদ্রাসা ছাত্রীকে এক মালাউন হিন্দু প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে, অতঃপর একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। অনেকগুলো প্রধান গণমাধ্যমেও সংবাদ আসে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই গণতন্ত্রপন্থী ইসলামি দলগুলো, কিংবা তাদের প্রধান কিংবা উঁচু পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মী এর ন্যূনতম প্রতিবাদ করেননি। ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দেননি।
এই ঘটনা তো গুজব ছিল না। সত্যতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিল না। তবে কেন তারা প্রতিবাদ জানায়নি?
এবার হয়তো ভাবছেন, ঐ ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো তো রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। তাদের অনেক কাজ। তাই সব ইস্যুতে কথা বলার মতো সময় তাদের নেই। কিন্তু আপনার এই চিন্তাটিও ভুল। অভিশপ্ত হিন্দু কর্তৃক মুসলিম নারীদের সম্ভ্রমহানীর ঘটনায় তারা প্রতিবাদ না জানালেও, এর উলটো হলে ঠিকই তারা সরব হোন। বিচারের দাবিতে বিবৃতি দিতে একটুও দেরি করেন না। এমনকি সেটা গুজব হলেও।
২৯ জুন ২০২৫। কুমিল্লায় এক হিন্দু নারীকে কয়েকজন লোক সঙ্ঘবদ্ধভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। পুরো দেশে এ নিয়ে প্রতিবাদ হয়। পরে শুনলাম ঐ ধর্ষিতা নারী নাকি ২/৩ দিন পর তার ধর্ষকদের ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও উঠিয়ে নিয়েছেন। পরে কয়েকটি সূত্র জানায় যে, পরকীয়া সংক্রান্ত একটি বিরোধের জের ধরে নাকি ঐ নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছিল। পুরো দেশে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় ঐ নারী আসল ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। তাই দুই দিন পরেই তিনি ইউ-টার্ন নিয়ে নেন।
কিন্তু ঐ ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার সাথে সাথেই মডারেইট ইসলামি দলগুলো কড়া বিবৃতি দেয়। বিচার চেয়ে ফেইসবুক গরম করে ফেলে। এবং এর জন্য তারা ঘটনাটির ফ্যাক্ট চ্যাকিং এর অপেক্ষা করেন নি। গুজব হওয়া না হওয়ার তোয়াক্কা করেন নি। কারণ ভিক্টিম এখানে অন্য ধর্মের। তাই নিজেকে সুশীল প্রমাণ করার এই তো সুযোগ।
ভিক্টিম হিন্দু নারী হলে যে প্রতিবাদ জানানো যাবে না, সেটা বলছি না। আমরা প্রত্যেক অন্যায়ের বিরুদ্ধে। জুলুম যার সাথেই হোক আমরা এর নিন্দা জানাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, কোনো মালাউন কর্তৃক মুসলিম নারী লাঞ্চিত হলে তারা কেন এভাবে প্রতিবাদ জানায় না। একজন মুসলিম নারীর ইজ্জতের দাম কি তাদের কাছে মুশরিক নারীদের চেয়েও কম? কেবলমাত্র ভোটে জেতা ও বিদেশীদেরকে খুশি রাখতে গিয়ে এভাবেই কি ইসলামকে বিসর্জন দিতে হবে? আল ইয়াযু বিল্লাহ!
বাস্তবতা হলো, পশ্চিমা গণতন্ত্র ও লিবারেলিজমকে অনুসরণ করলে এভাবেই মুসলমানদের আবেগ ভোঁতা হয়ে যায়। ইমানি জোজবা ও গায়রত আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যায়। তাওহিদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে পুরো পৃথিবী ধাপিয়ে বেড়ানো জাতি একটা সময় ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুদের করুণার ভিখারি হয়ে যায়। আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে যুগের ফেরাউনদের সন্তুষ্টি অর্জন করাই তাদের জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে যায়।
গণতন্ত্র, সেক্যুলারিজম ও লিবারেলিজমে বুঁদ হয়ে থাকা আমার প্রিয় মুসলিম ভাই! একটিবার নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করে দেখুন, এ কেমন সিস্টেমে আপনি ডুবে আছেন যা একজন মুসলিম ধর্ষিতা নারীর আর্তচিতকার শুনেও ধর্ষক মালাউনদের বিরুদ্ধে হুংকার দিতে আপনাকে বাঁধা দেয়? আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, কীভাবে আপনার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে?
০৩ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, উপরের ঘটনাটির ব্যাপারে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি; ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই হয়তো সুশীল শ্রেণি ও মডারেট মুসলিম দলগুলো নিশ্চুপ। না ভাই, আপনি ভুল বুঝছেন। তারা কস্মিনকালেও এর প্রতিবাদ করবে না। এমনকি ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলেও না। কারণ তারা তাদের মস্তিষ্ক বিদেশি এম্বাসিগুলোতে বর্গা দিয়ে দিয়েছে। তারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংকের লোভে নিজেদের স্বকীয়তা ও ইসলামী মূল্যবোধকে অকাতরে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। ইতোমধ্যে এর অসংখ্য প্রমাণ জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।
২২ জুন ২০২৫। নোয়াখালীতে একজন মাদ্রাসা ছাত্রীকে এক মালাউন হিন্দু প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে, অতঃপর একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। অনেকগুলো প্রধান গণমাধ্যমেও সংবাদ আসে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই গণতন্ত্রপন্থী ইসলামি দলগুলো, কিংবা তাদের প্রধান কিংবা উঁচু পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মী এর ন্যূনতম প্রতিবাদ করেননি। ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দেননি।
এই ঘটনা তো গুজব ছিল না। সত্যতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ ছিল না। তবে কেন তারা প্রতিবাদ জানায়নি?
এবার হয়তো ভাবছেন, ঐ ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো তো রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। তাদের অনেক কাজ। তাই সব ইস্যুতে কথা বলার মতো সময় তাদের নেই। কিন্তু আপনার এই চিন্তাটিও ভুল। অভিশপ্ত হিন্দু কর্তৃক মুসলিম নারীদের সম্ভ্রমহানীর ঘটনায় তারা প্রতিবাদ না জানালেও, এর উলটো হলে ঠিকই তারা সরব হোন। বিচারের দাবিতে বিবৃতি দিতে একটুও দেরি করেন না। এমনকি সেটা গুজব হলেও।
২৯ জুন ২০২৫। কুমিল্লায় এক হিন্দু নারীকে কয়েকজন লোক সঙ্ঘবদ্ধভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। পুরো দেশে এ নিয়ে প্রতিবাদ হয়। পরে শুনলাম ঐ ধর্ষিতা নারী নাকি ২/৩ দিন পর তার ধর্ষকদের ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও উঠিয়ে নিয়েছেন। পরে কয়েকটি সূত্র জানায় যে, পরকীয়া সংক্রান্ত একটি বিরোধের জের ধরে নাকি ঐ নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছিল। পুরো দেশে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় ঐ নারী আসল ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। তাই দুই দিন পরেই তিনি ইউ-টার্ন নিয়ে নেন।
কিন্তু ঐ ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার সাথে সাথেই মডারেইট ইসলামি দলগুলো কড়া বিবৃতি দেয়। বিচার চেয়ে ফেইসবুক গরম করে ফেলে। এবং এর জন্য তারা ঘটনাটির ফ্যাক্ট চ্যাকিং এর অপেক্ষা করেন নি। গুজব হওয়া না হওয়ার তোয়াক্কা করেন নি। কারণ ভিক্টিম এখানে অন্য ধর্মের। তাই নিজেকে সুশীল প্রমাণ করার এই তো সুযোগ।
ভিক্টিম হিন্দু নারী হলে যে প্রতিবাদ জানানো যাবে না, সেটা বলছি না। আমরা প্রত্যেক অন্যায়ের বিরুদ্ধে। জুলুম যার সাথেই হোক আমরা এর নিন্দা জানাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, কোনো মালাউন কর্তৃক মুসলিম নারী লাঞ্চিত হলে তারা কেন এভাবে প্রতিবাদ জানায় না। একজন মুসলিম নারীর ইজ্জতের দাম কি তাদের কাছে মুশরিক নারীদের চেয়েও কম? কেবলমাত্র ভোটে জেতা ও বিদেশীদেরকে খুশি রাখতে গিয়ে এভাবেই কি ইসলামকে বিসর্জন দিতে হবে? আল ইয়াযু বিল্লাহ!
বাস্তবতা হলো, পশ্চিমা গণতন্ত্র ও লিবারেলিজমকে অনুসরণ করলে এভাবেই মুসলমানদের আবেগ ভোঁতা হয়ে যায়। ইমানি জোজবা ও গায়রত আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যায়। তাওহিদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে পুরো পৃথিবী ধাপিয়ে বেড়ানো জাতি একটা সময় ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুদের করুণার ভিখারি হয়ে যায়। আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে যুগের ফেরাউনদের সন্তুষ্টি অর্জন করাই তাদের জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে যায়।
গণতন্ত্র, সেক্যুলারিজম ও লিবারেলিজমে বুঁদ হয়ে থাকা আমার প্রিয় মুসলিম ভাই! একটিবার নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করে দেখুন, এ কেমন সিস্টেমে আপনি ডুবে আছেন যা একজন মুসলিম ধর্ষিতা নারীর আর্তচিতকার শুনেও ধর্ষক মালাউনদের বিরুদ্ধে হুংকার দিতে আপনাকে বাঁধা দেয়? আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, কীভাবে আপনার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে?
اللَّهُمَّ أَرِنَا الحَقَّ حَقًّا وَارْزُقْنَا اتِّبَاعَهُ، وَأَرِنَا البَاطِلَ بَاطِلًا وَارْزُقْنَا اجْتِنَابَهُ
০৩ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
Comment