অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নামে "LGBT তথা সমকামী" অন্তর্ভুক্তিকে "রাষ্ট্রীয় নীতি, শিক্ষা বা প্রশাসনিক স্তরে" অঙ্গীভূত করার পাঁয়তারা!!
আধুনিক বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ ও তার বিভিন্ন সংস্থা এই ধারণাকে শান্তি, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক শাসনের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ইতিবাচক দিক হচ্ছে এটি বৈষম্য কমায়, প্রতিনিধিত্ব বাড়ায় এবং সংঘাত হ্রাসে সহায়ক হয়। তবে ইসলামী মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে আশঙ্কা দেখা দেয় তখনই, যখন এই অন্তর্ভুক্তির ধারণা নৈতিক নিরপেক্ষতার নামে এমন বিষয়কে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি সাধারণত প্রতিষ্ঠিত হয় অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার (Inclusive Political Processes) মাধ্যমে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিসর সম্প্রসারিত হয়। এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো সমাজের সব শ্রেণি ও গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
UNDP তাদের Inclusive Political Processes বিষয়ক কার্যক্রমে উল্লেখ করেছে যে, অঞ্চলভেদে বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় তারা স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করে এবং বৈষম্যের শিকার ও প্রান্তিক (marginalized) গোষ্ঠীর জন্য রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ ও সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। আবার UNDP-এর অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে LGBTI তথা সমকামী জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাজনীতি কখনোই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে না যতক্ষণ না তাদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে ‘প্রান্তিক’ সমকামী গোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। কোন সমাজ বা রাষ্ট্র কতটুকু সমকামী বা LGBT অন্তর্ভুক্তিমূলক সেটা পরিমাপের জন্য UNDP-র ৫১ টি সূচক রয়েছে যাকে LGBTI Inclusion Index বলা হয়। এই সূচকসমূহ রাষ্ট্রে সমকামিতার বৈধতাই কেবল নিশ্চিত করে না; শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সুযোগ প্রদানসহ কোটার মাধ্যমে সংসদেও তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
৯০ শতাংশের বেশি মূসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের ইসলামী সমাজে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নামে LGBT
তথা সমকামী অন্তর্ভুক্তিকে রাষ্ট্রীয় নীতি, শিক্ষা বা প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ করা হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হবে।
কাজেই ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি’-র মতো পশ্চিমা পরিভাষার মুখস্ত ব্যবহার এবং পশ্চিমা মডেলের অন্ধ অনুকরণ পরিহার করে ধর্মীয় মূল্যবোধে উজ্জীবিত আমাদের সমাজের জন্য প্রয়োজন এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো, যেখানে ন্যায়, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক শান্তি রক্ষা পাবে, কিন্তু একই সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধের মৌলিক সীমারেখাও অক্ষুন্ন থাকবে।
সংগৃহীত:
Comment