আসেন ভাই, খুব সহজ একটা হিসাব করি—এমন হিসাব, যেটা বুঝতে বড় কোনো বিদ্যা লাগবে না, শুধু একটু থেমে ভাবতে হবে।
ধরেন, কোনো এক ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার অশেষ দয়া, অনুগ্রহ ও ক্ষমায় জান্নাতী বলে ঘোষিত হলো। মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, হাশর, মিজান এবং পুলসিরাতের ভয়াবহ পরীক্ষা ও হিসাব-নিকাশ পেরিয়ে সে জান্নাতের সুশীতল ছায়ায় প্রবেশ করল। সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছে এমন সব নিয়ামত—যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি, কোনো মানুষের হৃদয় যা কল্পনাও করতে পারেনি। সে জান্নাতের ফল ভোগ করছে, ঝর্ণার পানি পান করছে, শান্তি ও নিরাপত্তার এক চিরস্থায়ী জীবনে বসবাস করছে।
এখন আমরা যদি সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে বলি—ভাই, তোমার জান্নাতের এই নিয়ামতগুলোর একটু অংশ আমাদেরও দাও, তখন কি সে পারবে আমাদের তার ভোগকৃত নিয়ামত সমূহের সামান্য অংশের ভাগ দিতে? ইচ্ছে থাকলেও কি আদৌ তা সম্ভব হবে?
এবার উল্টো চিত্রটা কল্পনা করি।
ধরেন, কোনো এক ব্যক্তি জাহান্নামী বলে ঘোষিত হলো, তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হলো। চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ধরল জাহান্নামের আজাব এবং প্রতিটা মুহূর্ত সেখানে সে অসীম যন্ত্রণার সাক্ষী হতে লাগল। এখন যদি সে বলে—আমার এই আজাবের সামান্য অংশ তোমরা নিয়ে নাও, আমরা কি সেটা নিতে রাজি হবো?
উভয়ক্ষেত্রেই উত্তর একটাই—না।
এই দুই চিত্র আমাদের কী শেখায়, ভাই?
এটাই শেখায়—এই জায়গায় এসে আমাদের একটু “স্বার্থপর” হতে হবে, দুনিয়ার অর্থে না বরং আখিরাতের অর্থে। স্রোতে গা ভাসালে চলবে না। কারণ দিন শেষে—আমার হিসাব আমি দেবো, আমার আমলের ফল আমি ভোগ করবো, ভালো হোক বা মন্দ—দুটোর দায়ই আমার।
সেদিন আমার সংগঠন এসে বলবে না—“ইয়া আল্লাহ, ও আমাদের লোক ছিল।” আমার বড় ভাইয়েরা এসে বলবে না—“ওর হয়ে আমরাই জবাব দিচ্ছি।” আমার পোস্টে লাইক দেওয়া, কমেন্ট করা, বাহবা দেওয়া মানুষগুলোও বলবে না—“ইয়া রব, ও যা করেছে আমরা তার দায় নিচ্ছি।”
সেদিন আমি একা দাঁড়াবো আমার রবের সামনে। আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কথা বলবে। আমার হাত, পা, চোখ, কান সাক্ষ্য দেবে। আমার নিয়ত, আমার সিদ্ধান্ত, আমার কাজ—সবকিছুর হিসাব আমাকেই দিতে হবে। যদি আমরা এই উপলব্ধিটুকু হৃদয়ের গভীরে জায়গা দিতে পারি, যদি আমরা বুঝতে পারি যে, আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোটা একান্তই ব্যক্তিগত একটি মুহূর্ত—তাহলে, ইনশাআল্লাহ, এই বোধটাই নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হবে।
মুনীর হাজারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেশ কিছু অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং আরও অনেক ব্যাক্তি রয়েছে, যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে নির্দিষ্ট একটা কমিউনিটির বিরুদ্ধে বেশ ভালো রকমের লেখালেখি করেন। ঐ সকল ভাইদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—
দেখেন ভাই, এই দুনিয়াতে এসেছি, কিছুদিন থেকে আবার চলে যাবো, আমরা এই দুনিয়াতে এসেছি মূলত পরীক্ষা দেওয়ার জন্য, আমরা সবাই পরীক্ষার ভিতর রয়েছি, প্রতিটা কৃতকর্মের হিসাব কিন্তু দিতে হবে, তাই ভাইয়েরা এতটুকু মাথায় রাইখেন, আপনাদের করা প্রতিটা কাজের যেই পরিণতি আসবে তার পুরো দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে এবং এর জন্য আল্লাহর সামনে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে, জবাব টা প্রস্তুত রাইখেন।
আর আমাদের ভাইদের উদ্দেশ্য বলতে চায়—আমি দেখেছি আমাদের অনেক ভাই এসব ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে ফেলেন, তাদের কথার জবাব দিতে গিয়ে বাজে শব্দের ব্যাবহার করে ফেলেন, যা কখনোই কাম্য নয়। "তারা সীমালঙ্ঘন করছে আমরা সীমালঙ্ঘন না করলে কীভাবে হবে"—এটাতো সঠিক চিন্তা না ভাই, সচেতনতা কাম্য।
ধরেন, কোনো এক ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার অশেষ দয়া, অনুগ্রহ ও ক্ষমায় জান্নাতী বলে ঘোষিত হলো। মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, হাশর, মিজান এবং পুলসিরাতের ভয়াবহ পরীক্ষা ও হিসাব-নিকাশ পেরিয়ে সে জান্নাতের সুশীতল ছায়ায় প্রবেশ করল। সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছে এমন সব নিয়ামত—যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি, কোনো মানুষের হৃদয় যা কল্পনাও করতে পারেনি। সে জান্নাতের ফল ভোগ করছে, ঝর্ণার পানি পান করছে, শান্তি ও নিরাপত্তার এক চিরস্থায়ী জীবনে বসবাস করছে।
এখন আমরা যদি সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে বলি—ভাই, তোমার জান্নাতের এই নিয়ামতগুলোর একটু অংশ আমাদেরও দাও, তখন কি সে পারবে আমাদের তার ভোগকৃত নিয়ামত সমূহের সামান্য অংশের ভাগ দিতে? ইচ্ছে থাকলেও কি আদৌ তা সম্ভব হবে?
এবার উল্টো চিত্রটা কল্পনা করি।
ধরেন, কোনো এক ব্যক্তি জাহান্নামী বলে ঘোষিত হলো, তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হলো। চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ধরল জাহান্নামের আজাব এবং প্রতিটা মুহূর্ত সেখানে সে অসীম যন্ত্রণার সাক্ষী হতে লাগল। এখন যদি সে বলে—আমার এই আজাবের সামান্য অংশ তোমরা নিয়ে নাও, আমরা কি সেটা নিতে রাজি হবো?
উভয়ক্ষেত্রেই উত্তর একটাই—না।
এই দুই চিত্র আমাদের কী শেখায়, ভাই?
এটাই শেখায়—এই জায়গায় এসে আমাদের একটু “স্বার্থপর” হতে হবে, দুনিয়ার অর্থে না বরং আখিরাতের অর্থে। স্রোতে গা ভাসালে চলবে না। কারণ দিন শেষে—আমার হিসাব আমি দেবো, আমার আমলের ফল আমি ভোগ করবো, ভালো হোক বা মন্দ—দুটোর দায়ই আমার।
সেদিন আমার সংগঠন এসে বলবে না—“ইয়া আল্লাহ, ও আমাদের লোক ছিল।” আমার বড় ভাইয়েরা এসে বলবে না—“ওর হয়ে আমরাই জবাব দিচ্ছি।” আমার পোস্টে লাইক দেওয়া, কমেন্ট করা, বাহবা দেওয়া মানুষগুলোও বলবে না—“ইয়া রব, ও যা করেছে আমরা তার দায় নিচ্ছি।”
সেদিন আমি একা দাঁড়াবো আমার রবের সামনে। আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কথা বলবে। আমার হাত, পা, চোখ, কান সাক্ষ্য দেবে। আমার নিয়ত, আমার সিদ্ধান্ত, আমার কাজ—সবকিছুর হিসাব আমাকেই দিতে হবে। যদি আমরা এই উপলব্ধিটুকু হৃদয়ের গভীরে জায়গা দিতে পারি, যদি আমরা বুঝতে পারি যে, আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোটা একান্তই ব্যক্তিগত একটি মুহূর্ত—তাহলে, ইনশাআল্লাহ, এই বোধটাই নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হবে।
মুনীর হাজারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেশ কিছু অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং আরও অনেক ব্যাক্তি রয়েছে, যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে নির্দিষ্ট একটা কমিউনিটির বিরুদ্ধে বেশ ভালো রকমের লেখালেখি করেন। ঐ সকল ভাইদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—
দেখেন ভাই, এই দুনিয়াতে এসেছি, কিছুদিন থেকে আবার চলে যাবো, আমরা এই দুনিয়াতে এসেছি মূলত পরীক্ষা দেওয়ার জন্য, আমরা সবাই পরীক্ষার ভিতর রয়েছি, প্রতিটা কৃতকর্মের হিসাব কিন্তু দিতে হবে, তাই ভাইয়েরা এতটুকু মাথায় রাইখেন, আপনাদের করা প্রতিটা কাজের যেই পরিণতি আসবে তার পুরো দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে এবং এর জন্য আল্লাহর সামনে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে, জবাব টা প্রস্তুত রাইখেন।
আর আমাদের ভাইদের উদ্দেশ্য বলতে চায়—আমি দেখেছি আমাদের অনেক ভাই এসব ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে ফেলেন, তাদের কথার জবাব দিতে গিয়ে বাজে শব্দের ব্যাবহার করে ফেলেন, যা কখনোই কাম্য নয়। "তারা সীমালঙ্ঘন করছে আমরা সীমালঙ্ঘন না করলে কীভাবে হবে"—এটাতো সঠিক চিন্তা না ভাই, সচেতনতা কাম্য।
Comment