"জাতিসংঘ" বনাম "বোর্ড অব পিস", নতুন দিগন্তে পৃথিবী!!
জাতিসংঘের বিকল্প নাকি ট্রাম্পের ক্ষমতার মঞ্চ? ‘বোর্ড অব পিস’ আসলে কী এবং কীভাবে চলবে এই নতুন গোষ্ঠী। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ শান্তির মঞ্চ নাকি ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র? সদস্যপদ, অর্থের শর্ত ও জাতিসংঘের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব মঞ্চে।
বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে নতুন এক নাম ঘুরছে জোর চর্চায়—‘বোর্ড অব পিস’। শান্তি রক্ষার প্রতিশ্রুতি, অথচ সদস্যপদের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ, আর সর্বেসর্বা এককভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প—এই তিনটি উপাদানই যথেষ্ট কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি করতে। ঠিক কী এই ‘বোর্ড অব পিস’? এটি কি জাতিসংঘের বিকল্প শক্তিকেন্দ্র, নাকি আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্ব রাজনীতির নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কূটনৈতিক মহলে।
‘বোর্ড অব পিস’ ঠিক কী? কী ভাবে কাজ করবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই নতুন গোষ্ঠী:
‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) হল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত একটি নতুন আন্তর্জাতিক মঞ্চ, যার ঘোষিত লক্ষ্য বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের দ্রুত সমাধান। তবে এটি জাতিসংঘের মতো কোনও প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা নয়; বরং আমেরিকার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ।
বোর্ড অব পিস’ কী? -এই বোর্ড মূলত একটি আমন্ত্রণভিত্তিক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী। যেসব দেশের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ এবং যাদের “শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি”-র প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছে, তাদেরই এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রথমে তিন বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্যপদ মিলবে। পরে চাইলে ১০০ কোটি ডলার অনুদানের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়া যাবে—যা এই বোর্ডকে অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার থেকে একেবারেই আলাদা করে তুলেছে।
কী ভাবে কাজ করবে এই বোর্ড? ‘বোর্ড অব পিস’-এর কাজের কাঠামো মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—
১. সংঘাত চিহ্নিতকরণ:
বিশ্বের যে সব অঞ্চলে যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘর্ষ বা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হবে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, শুরুটা হবে গাজ়া সংকট দিয়ে।
২. মধ্যস্থতা ও চাপ সৃষ্টি:
বোর্ডে থাকা দেশগুলির কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করা হবে। প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতি, আলোচনা বা সমঝোতার রূপরেখা তৈরি করবে এই গোষ্ঠী।
৩. পুনর্গঠন ও নজরদারি:
কোনও অঞ্চলে সংঘাত কমলে বা থামলে, সেখানে শান্তি বজায় রাখতে আর্থিক সাহায্য, পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক নজরদারির ভূমিকা নেবে বোর্ড।
কার হাতে থাকবে ক্ষমতা?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয় হল—এই বোর্ডের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতেই। বোর্ডের সিদ্ধান্ত, অগ্রাধিকার এবং কৌশল নির্ধারণে তাঁর প্রভাবই হবে শেষ কথা। রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার ক্ষেত্রে সদস্যপদের জন্য কোনও অর্থনৈতিক শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগটি কেবল গাজা যুদ্ধ–পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি কার্যত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি গভীর চ্যালেঞ্জ। জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো যখন এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করে, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় সমস্যাটি কেবল গাজা বা মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক আইন এবং ছোট রাষ্ট্রগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রসঙ্গ জড়িত। এটা জাতিসংঘ কেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার অবমূল্যায়ন।
বোর্ড অফ পিস’ ও বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ: ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য সম্ভাব্য হুমকি!
এক. ১৯৪৫ সালের পর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার মূল ভিত্তি ছিল জাতিসংঘ। এর সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাতিসংঘ ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি ন্যূনতম সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছিল। ‘বোর্ড অফ পিস’–এর চার্টার যদি সত্যিই জাতিসংঘকে বাইপাস করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দাবি করে, তবে সেটি কার্যত বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পরিবর্তে একধরনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক ক্লাব শাসন প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয়।
ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি একটি বড় হুমকি, কারণ জাতিসংঘে তারা অন্তত ভোট, কূটনৈতিক জোট এবং আন্তর্জাতিক আইনকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ‘বোর্ড অফ পিস’–এর মতো কাঠামোতে সিদ্ধান্ত হবে মূলত অর্থ, সামরিক শক্তি ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে যেখানে ছোট রাষ্ট্রগুলোর কণ্ঠ প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
দুই. ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিশ্বরাজনীতির বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা:
ট্রাম্প নিজে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিক। আধুনিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, ব্যক্তি নয়। কিন্তু ট্রাম্পের রাজনৈতিক দর্শন বরাবরই উল্টো তিনি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও দরকষাকষিকে প্রাধান্য দেন।
যদি একজন ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধান আন্তর্জাতিক শান্তি ও যুদ্ধোত্তর শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা হন, তবে ভবিষ্যতে অন্য বড় শক্তির নেতারাও একই দাবি তুলতে পারেন। এতে বিশ্বব্যবস্থা ধীরে ধীরে নিয়মভিত্তিক (rules-based order) থেকে ব্যক্তিভিত্তিক (personality-driven order) ব্যবস্থায় রূপ নেবে যা ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।
তিন. অর্থের বিনিময়ে বৈধতা‘(১ বিলিয়ন ডলারের) সদস্যপদ:
এই বোর্ডে তিন বছরের জন্য বিনামূল্যে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি ভয়ংকর নজির স্থাপন করে যেখানে শান্তি, শাসন ও বৈধতা অর্থের পণ্যে পরিণত হয়।
ছোট ও দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে এ ধরনের অর্থনৈতিক শর্ত পূরণ করা অসম্ভব। ফলে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ধনী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এটি ঔপনিবেশিক যুগের এক আধুনিক সংস্করণ যেখানে সামরিক দখলের বদলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শর্ত আরোপ করা হয়।
চার. নির্বাচিত নয়, আমন্ত্রিত শাসন:
সার্বভৌমত্বের সংকট ‘বোর্ড অফ পিস’ গাজায় অস্থায়ী শাসন তত্ত্বাবধান করবে এমন প্রস্তাব সরাসরি একটি জনগোষ্ঠীর স্ব–নিয়ন্ত্রণের অধিকার (right to self-determination) প্রশ্নবিদ্ধ করে। আজ গাজা, কাল অন্য কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল। ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে যদি কোনো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংঘাত দেখা দেয়, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো একই যুক্তিতে সেখানে ‘আন্তর্জাতিক বোর্ড’ বসিয়ে দিতে পারে। এতে সার্বভৌমত্ব আর অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বিবেচিত হবে না বরং শক্তিধরদের অনুমতির বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
পাঁচ. শাস্তিমূলক কূটনীতি ও বাণিজ্যিক অস্ত্রায়ন এর উদ্যোগ:
ফ্রান্সের প্রত্যাখ্যানের পর ট্রাম্প যে ২০০% ট্যারিফের হুমকি দিয়েছেন, তা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় রাজনৈতিক মতভেদের শাস্তি অর্থনৈতিকভাবে দেওয়া হবে। যদি ইউরোপের মতো শক্তিশালী অর্থনীতিও এ ধরনের হুমকির মুখে পড়ে, তবে ছোট রাষ্ট্রগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমেয়। এ ধরনের শাস্তিমূলক কূটনীতি ছোট দেশগুলোকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখবে। তারা বাধ্য হবে শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রস্তাবে ‘না’ বলার আগে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করতে। এটি কার্যত রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের একটি বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি করবে।
ছয়. স্বার্থভিত্তিক জোট ও দ্বৈত মানদণ্ড:
বোর্ডে রাশিয়া, বেলারুশ, হাঙ্গেরির মতো রাষ্ট্রগুলোর আমন্ত্রণ এবং একই সঙ্গে ‘শান্তি”র দাবি একটি বড় দ্বন্দ্ব তৈরি করে। এটি দেখায় যে নৈতিকতা বা আন্তর্জাতিক আইন নয়, বরং ভূরাজনৈতিক স্বার্থই সদস্য নির্বাচনের মূল মানদণ্ড। ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য এর অর্থ হলো আজ আপনি গুরুত্বপূর্ণ হলে অন্তর্ভুক্ত, কাল অপ্রয়োজনীয় হলে উপেক্ষিত। এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।
সাত. দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক প্রভাব:
এই উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে ভবিষ্যতে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার কোনো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে একই ধরনের ‘বোর্ড’ গঠনের পথ খুলে যাবে। জাতিসংঘ ধীরে ধীরে একটি প্রতীকী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, আর বাস্তব ক্ষমতা চলে যাবে অনানুষ্ঠানিক, অর্থনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মগুলোর হাতে। ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য এর অর্থ আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় কমে যাওয়া, শক্তিধর রাষ্ট্রের ইচ্ছার উপর অতিনির্ভরশীলতা এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ক্রমাগত সংকুচিত হওয়া।
পরিশেষে বলতে যায়, ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগটি প্রথম দেখায় শান্তি ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও গভীরে এটি একটি নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার নীলনকশা। জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের প্রত্যাখ্যান তাই কেবল কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং একটি সতর্ক সংকেত।
জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ এনএইচকে-কে বলেছেন যে বোর্ড অফ পিস চালু করার পেছনে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে বহু নেতা সন্দেহ পোষণ করছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ নামক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষক মায়া আঙ্গার বলেন, "গাজা সম্পর্কিত বিষয়গুলো মোকাবিলা করার জন্য বোর্ডটির নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন রয়েছে, তবে এর বাইরে প্রসারিত হওয়ার জন্য অনুমোদন নেই। এটি স্পষ্টতই একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অবস্থানকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করছে।"
আঙ্গার আরও বলেন যে ট্রাম্প এমন একটি সংস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছেন যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এবং এই বোর্ড তাকে সেই সিদ্ধান্তগুলোর উপর "ভেটো ক্ষমতা" প্রদান করবে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে যদি যথেষ্ট সংখ্যক দেশ এই বোর্ডে যোগ দেয়, তাহলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারাবে। তিনি এও জানান যে কিছু দেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, এবং অংশগ্রহণ না করা দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া দেখান, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, তাদের অনেকেই মনে করেন এই বোর্ডে যোগদান তাদের জাতীয় স্বার্থে যাবে না।
জাতিসংঘের সঙ্গে সংঘাত কেন?
বিশ্বে শান্তি রক্ষার দায়িত্ব এত দিন মূলত United Nations-এর হাতেই ছিল। তাই প্রশ্ন উঠছে—জাতিসংঘ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ‘বোর্ড অব পিস’ কেন?
বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে:
✓এটি জাতিসংঘ ভূমিকাকে দুর্বল করতে পারে।
✓আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগে আমেরিকার একক প্রভাব বাড়াতে পারে।
✓“অর্থের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদ” ধারণা বৈষম্য তৈরি করতে পারে।
✓সমর্থকদের যুক্তি আবার উল্টো—জাতিসংঘ অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে ধীর, সেখানে ‘বোর্ড অব পিস’ দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে।
✓বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার একক প্রভাব বাড়তে পারে।
✓জাতিসংঘ বিলুপ্তি ও বিশ্বে বিভিন্ন অঞ্চলিক জোট বৃদ্ধি পাবে।
✓আমেরিকার ও ইউরোপের সম্পর্কে ফাটল ও NATO ভেঙে পড়তে পারে।
✓বিশ্ব ব্যবস্থা "ধনী ও শক্তিশালী" রাষ্ট্রগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে এবং তুলনা মূলক দূর্বল রাষ্ট্রগুলোর অধিকার হরণ আইনের বৈধতা পাবে।
এই কারণেই ‘বোর্ড অব পিস’ শুধু একটি শান্তি উদ্যোগ নয়, বরং ভূরাজনৈতিক ক্ষমতার নতুন পরীক্ষাগার বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের জন্য এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় হুমকি হলো; নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ক্ষয়, সার্বভৌমত্বের দুর্বলতা এবং অর্থ ও শক্তির কাছে ন্যায়বিচারের, মানবিক অধিকার ও নৈতিক মর্যাদার পরাজয়!
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
وَ لَا تَحۡسَبَنَّ اللّٰهَ غَافِلًا عَمَّا یَعۡمَلُ الظّٰلِمُوۡنَ اِنَّمَا یُؤَخِّرُهُمۡ لِیَوۡمٍ تَشۡخَصُ فِیۡهِ الۡاَبۡصَارُ مُهۡطِعِیۡنَ مُقۡنِعِیۡ رُءُوۡسِهِمۡ لَا یَرۡتَدُّ اِلَیۡهِمۡ طَرۡفُهُمۡ وَ اَفۡـِٕدَتُهُمۡ هَوَآءٌ
“তুমি কখনও মনে করো না যে, জালিমরা যা করছে সে বিষয়ে মহান আল্লাহ উদাসীন। আসলে তিনি সেদিন পর্যন্ত তাদের অবকাশ দেন, যেদিন সব চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। ভীত-বিহ্বল চিত্তে আকাশের দিকে চেয়ে তারা ছুটাছুটি করবে, আতঙ্কে তাদের নিজেদের দিকেও ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে (ভয়ানক) উদাস।”(সুরা ইবরাহিম:৪২-৪৩)
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
وَكَمْ قَصَمْنَا مِن قَرْيَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَأَنشَأْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا آخَرِينَ
“আমি কত জনপদের ধ্বংস সাধন করেছি যার অধিবাসীরা ছিল জালিম (কাফের-মুশরিক) এবং তাদের পর সৃষ্টি করেছি অন্য জাতি।” [সূরা আম্বিয়া: ১১]
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
وَلَوۡلَا دَفۡعُ اللّٰہِ النَّاسَ بَعۡضَہُمۡ بِبَعۡضٍ ۙ لَّفَسَدَتِ الۡاَرۡضُ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ ذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ
অর্থ-আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের কতকের মাধ্যমে কতককে প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ত। কিন্তু আল্লাহ জগতসমূহের প্রতি অতি অনুগ্রহশীল। (আল বাকারা:২৫১)
এভাবেই একদিন বিশ্ব মড়ালদের (মোড়ল) দম্ভ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পৃথিবীতে মহান আল্লাহ তায়ালা(র) শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। মুমিনগণ হবে আনন্দিত, বিশ্বের প্রতিটি জনপদে প্রবাহিত হবে শান্তির সুমহান ঝর্না।
সংগৃহীত
Comment