Announcement

Collapse
No announcement yet.

চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কী মন্দের ভালোতে ভোট দিতে হবে?

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কী মন্দের ভালোতে ভোট দিতে হবে?

    ছোটোবেলা থেকেই কম্পিউটারের উপর একটা অন্যরকম আগ্রহ ছিলো, শুরুর দিকে আগ্রহটা ছিলো মূলত গেইম খেলার জন্য, ক্লাস সিক্স-সেভেনে যখন পড়ি, তখন নিয়মিত স্কুলে যেতাম শুধুমাত্র বন্ধুদের সাথে গেইম বিষয়ে আলাপ করার জন্য। এভাবে চলতে চলতে এক সময় আমি এবং আমার সব বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম, আমরা যেই গেইম গুলো খেলি, সেগুলো অতটা ভালো না, আমাদের নিজেদেরই নতুন গেইম তৈরী করতে হবে।

    আমরা কম্পিউটার গেইম তৈরী করতে গিয়ে প্রথম যেই প্রশ্নের সম্মুখীন হলাম, তা হলো—কম্পিউটার গেইম কীভাবে তৈরী করতে হয়? কী দিয়ে তৈরী করতে হয়? এই প্রশ্নের উত্তর অনেক খোজাখুজির পর আমরা জানতে পারলাম; গেইম মূলত প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে তৈরী করতে হয়। সেই সময় আমার গেইম খেলার নেশাটা ধীরে ধীরে প্রোগ্রামিং শেখার নেশায় রূপান্তরিত হয়। তখন প্রোগ্রামার হওয়ার অনেক ইচ্ছা ছিলো, ক্লাস এইট থেকে টেনের বেশ বড় একটা সময় এসব শেখার পিছনেই দিয়েছিলাম, সেসময় ভাবতাম বড় হয়ে সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ার হবো, এখন যদিও বড় হয়ে গেছি তবে সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ার হওয়া আর সম্ভব হয়নি কিন্তু ইচ্ছাটা এখনো আছে।

    সেসময় প্রোগ্রামিং জগতের অনেক বিষয় নাড়াচাড়া করে দেখেছিলাম, সেরকমই একটা বিষয় ছিলো 'লুপ' আর অন্য আরেকটি বিষয় ছিলো 'ফাংশন'।

    প্রথমে লুপের কনসেপ্টটা বোঝার চেষ্টা করি।

    মনে করেন, আপনি গল্ফ খেলছেন। আপনার সামনে একটা বল, দূরে একটা গর্ত (হোল)। আপনার লক্ষ্য, বলটা গর্তে ফেলা। এখন কী করবেন?

    আপনি একবার মারলেন — বল এগোল।
    আবার মারলেন — আরও এগোল।
    আবার মারলেন — প্রায় কাছে।
    আবার মারলেন — গর্তে পড়ে গেল

    যতক্ষণ বল গর্তে না পড়ছে, ততক্ষণ মারতে থাকতে হবে। এই যে “যতক্ষণ গর্তে না পড়ছে, ততক্ষণ একই কাজ করতে থাকা”—এই ধারণাটাই হচ্ছে লুপ। একটু সহজ করে বললে, লুপ মানে—একটা কাজ বারবার করা, কিন্তু একটা শর্ত আছে, শর্ত পূরণ হলে থামতে হবে। এই লুপ গুলোকে প্রয়োজন অনুসারে ফিনাইট এবং ইনফিনাইট করা যায়। ফিনাইট মানে হচ্ছে যার শেষ আছে, একটা কাজ বারবার হবে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময় বা শর্ত পূরণ হলে থেমে যাবে। আর ইনফিনাইট মানে হচ্ছে যার কোনো শেষ নেই, কাজ চলতেই থাকবে, কিন্তু থামার শর্ত কখনোই পূরণ হবে না।

    এবার ফাংশনের কনসেপ্টটা বোঝার চেষ্টা করি।

    খুব সহজভাবে বললে, ফাংশন হচ্ছে, একটা ছোট কাজের মেশিন, ডাক দিলে সে নির্দিষ্ট কাজ করে দেয়। মনে করেন একটা ফাংশন আছে, যার নাম 'চা মেকার'—ঐ ফাংশনকে যদি ডাক দেওয়া হয়, তাহলে সে প্রথমে পানি গরম করবে, চা পাতা দিবে, ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে কাপে ঢালবে, চিনি দিবে, অতপর চামচ দিয়ে নেড়ে পরিবেশন করবে। অর্থাৎ তাকে ধাপে ধাপে চা বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল নির্দেশনা দেওয়া লাগবে না, শুধু চা মেকার বলে ডাক দিলেই সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চা বানিয়ে পরিবেশন করবে।

    আশা করি, লুপ আর ফাংশনের বিষয়টা বুঝেছেন। আসেন এবার আমরা একটা ফাংশন তৈরী করি, যার নাম "গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কর"। এই ফাংশনের কাজ হচ্ছে—ভোট হবে, ভোট গণনা হবে, ফল ঘোষণা হবে, সরকার গঠন হবে, তারপর সবাই নিজের কাজে ফিরে যাবে, দেশ চলতে থাকবে, পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন হবে। এখন এই ফাংশনটাকে আমরা একটা ইনফিনাইট লুপের ভিতর দিয়ে দিব।

    এবার একটু থেমে চিন্তা করে দেখুন তো, এটাই কী বাস্তবতা না? কেউ কী আছে এটাকে অস্বীকার করার? না কেউ নেই। এটা সত্য, যা স্বীকার করতে সকলেই বাধ্য।

    অনেকে যুক্তি দেন এভাবে, যে—"ধরা যাক, একটি আসনে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—একজন জালেম, অসৎ ও দুর্নীতিবাজ; ক্ষমতায় গেলে সে মানুষের উপর জুলুম করবে। আরেকজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও জনগণের সেবায় আন্তরিক; নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর উপকার হবে। এমতাবস্থায় আপনার কী করা উচিত? আপনার কি উচিত নয়, ওই জালেম ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো? আপনার কি উচিত নয়, এলাকাবাসীকে জুলুমের হাত থেকে বাঁচানো?"

    ভাই আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যে ঐ জালেম ব্যাক্তিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিচ্ছে এবং আপনাকে দুই জনের যেকোনো একজনকে বেছে নিতে বাধ্য করছে—তার বিরুদ্ধে আপনি কেন কথা বলছেন না?

    জালেমকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ এবং যেকোনো একজনকে বেছে নিতে বাধ্য করছে মূলত ঐ ইনফিনাইট লুপ এবং ফাংশন। আমরা তো ঐ ইনফিনাইট লুপ এবং ফাংশনটাকেই ভেঙে দেওয়ার কথা বলছি আর আপনারা তাদের বশ্যতা স্বীকার করে নিচ্ছেন। তাহলে জালেম ব্যাক্তির বিরুদ্ধে দাড়িয়ে এলাকাবাসীকে জুলুমের হাত থেকে বাচানোর ক্ষেত্রে কাদের অবস্থান সঠিক, যৌক্তিক, উপযুক্ত?

    এরকম পরিস্থিতিতে, জালেমের হাত থেকে বাচার একমাত্র উপায় হচ্ছে ঐ ইনফিনাইট লুপকে ভেঙে দেওয়া এবং এই লুপকে দুইভাবে ভাঙা যাবে, সরাসরি (প্রত্যক্ষভাবে) আমেরিকার সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে অথাবা আড়ালে (পরোক্ষভাবে) আমেরিকার সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে, যদিও এ পথের চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করার জন্য আমেরিকার সাথে সরাসরিই সংঘাতে যেতে হবে তবে এক্ষেত্রে গুছিয়ে ওঠার জন্য তুলনামূলকভাবে একটু বেশিই সময় পাওয়া যাবে।

    আর এই পরোক্ষ পন্থাটা হচ্ছে ইনফিনাইট লুপের ভিতরকার ফাংশনটাকে অকার্যকর করে দেওয়া, অর্থাৎ নির্বাচন, ভোট এবং সরকারকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া, তাদের (নির্বাচন, ভোট এবং সরকার) এবং জনসাধারণের ভিতরে দূরত্ব বৃদ্ধি করা। এই দূরত্ব যত বাড়বে ততই এদেশের মুসলিমরা শক্তিশালী হবে, ইনশাআল্লাহ।

    প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, এখন আমাদের ভেবে দেখতে হবে, আমরা কী জালেমের বিরুদ্ধে এবং মাজলুমের পক্ষে সত্যিই দাড়াতে চাই কিনা, যদি চান তাহলে গণতন্ত্রের সাথে নিজের সম্পর্ক ছিন্ন করুন এবং দীর্ঘ পথে হাটার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হন, বাকি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার ইচ্ছাধীন।

    আর যদি গণতন্ত্রের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করেন তাহলে, মন্দের ভালোর গীত, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম গাইতেই থাকবে, কেননা এটা হচ্ছে ইনফিনাইট লুপ; এর কোনো শেষ নেই। বিশ্বাস না হলে, পাঁচ বছর অপেক্ষা করেন, দেখবেন যারা গণতন্ত্রের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না, তারা চতুর্দশ জতীয় সংসদ নির্বাচনেও মন্দের ভালোর কথা তারা বলতে থাকবে।

  • #2
    মাশাআল্লাহ আখী, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার লেখনীর মাঝে বারাকাহ দিন, অপেক্ষায় ছিলাম কোন ভাই বহু ঈশ্বরবাদ এই কালপিট ধর্ম সম্পর্কে কিছু আলোচনা করুক! আপনি আমার মনের তামান্না অনেক সুন্দরভাবে পূরণ করে দিলেন। বারাকাল্লাহু ফী আমালিক!

    মুহতারাম মুনশি আবদুর রহমান ভাই, উসমান হাদি ভাই, সাব্বির আহমাদ ভাই, যুবায়ের ভাইসহ অন্যান্য প্রিয় ভাইদের কাছেও এসব বিষয়ে কিছু লেখার অনুরোধ রইলো!
    "আমরা তাওবা করার পূর্বে মরতে চাই না এবং মৃত্যু সামনে আসার পরে তাওবা করতে চাই না'​
    আবু হাযেম রহ

    Comment

    Working...
    X