এক লক্ষ ফলোয়ারের মাইলফলক অতিক্রম করায় আল ফিরদাউস মিডিয়া–কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা
আলহামদুলিল্লাহ!
আমাদের সকলের প্রিয় আল ফিরদাউস মিডিয়ার ফেইসবুক পেজ খুব শীঘ্রই এক লক্ষ ফলোয়ারের মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে। একজন সাধারণ দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে এই অর্জনে আমি সত্যিই আনন্দিত। দ্বীনের কথা ও উম্মাহর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সুন্দরভাবে মানুষের মাঝে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা আল্লাহ তাআলা আরও বরকতময় করুন। আল ফিরদাউস মিডিয়া যেভাবে দ্বীন, জিহাদ ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আশা করি ভবিষ্যতেও তারা আরও সুন্দর, উপকারী ও দায়িত্বশীল কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন এই প্ল্যাটফর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইখলাস দান করেন, নিরাপত্তা দান করেন এবং হক ও কল্যাণের কথা প্রচার করার তাওফিক দান করেন। অভিনন্দন ও শুভকামনা রইল এক লক্ষের এই সুন্দর মাইলফলকের জন্য।
২০২২ কিংবা ২০২৩ সালের কথা। তখন আল ফিরদাউস মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা খুব বেশি ছিল না—হয়তো চার হাজার, কিংবা সাত হাজারের মতো। নিয়মিত যেসব ভিডিও আপলোড হতো, সেগুলোও খুব বেশি ভিউ পেত না। তবে সাপ্তাহিক বুলেটিনের আলাদা একটা দর্শকশ্রেণি ছিল; গড়ে প্রায় দশ হাজারের মতো ভিউ হতো প্রতিটি বুলেটিনে।
আমি একটাও মিস করতাম না। প্রতিটা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। কাশ্মীর, আরাকান, উইঘুর, ফিলিস্তিন—উম্মাহর এমন কত অজানা সংবাদই না থাকত সেই বুলেটিনে! অনেক সময় শুনতে শুনতে চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যেত।
এভাবেই চলছিল।
একদিন আল ফিরদাউস মিডিয়া থেকে সম্ভবত ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের “কুশটেপা খাল” নিয়ে একটি ভিডিও আপলোড করা হলো। ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ছিল আনুমানিক পনেরো মিনিট (যতসম্ভব)। হঠাৎ করেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। খুব দ্রুত চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়তে শুরু করে—৬২, ৬৫ কিংবা ৭০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল বলে মনে আছে। তারপর একদিন হঠাৎ লক্ষ করলাম, আর কোনো ভিডিও সামনে আসছে না। না সাপ্তাহিক বুলেটিন, না সাধারণ কোনো ভিডিও। সার্চ দিয়েও চ্যানেলটা আর খুঁজে পেলাম না।
তখনই বুঝতে পারলাম, কী হয়েছে।
খুব খারাপ লেগেছিল সেদিন। এর কিছুদিন পর দেখি উম্মাহ নিউজ চ্যানেলটাও আর নেই। তখন মনটা আরও বেশি খারাপ হয়ে গেল। এরপর থেকে আমি টেলিগ্রামে আল ফিরদাউস মিডিয়া–কে ফলো করতে শুরু করি। তখন তারা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ফটোকার্ড পোস্ট করত। কিছুদিন পর খেয়াল করলাম, টেলিগ্রাম চ্যানেলেও আর কোনো আপডেট আসছে না। পরে জানতে পারলাম, তারা চ্যানেলের অ্যাকসেস হারিয়েছে এবং নতুন চ্যানেল খোলা হয়েছে। এরই মাঝে আরেকবার ইউটিউব চ্যানেল চালু করা হয়েছিল, কিন্তু সেটিও বেশিদিন টিকেনি।
এতকিছুর মাঝে ফেইসবুক পেইজটা টিকে যায়। আর আজ সেই পেইজই এক লক্ষ ফলোয়ারের মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ।
আল ফিরদাউস মিডিয়া কর্তৃপক্ষের অবশ্যই তাদের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সুদূরপ্রসারী ভাবনা রয়েছে। তারা নিশ্চয়ই সময়, পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তবে একজন সাধারণ দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমারও কিছু ব্যক্তিগত চিন্তা ও আবেদন রয়েছে, যা আন্তরিকতার জায়গা থেকেই বলতে চাই।
এক কথায় বললে, আমি চাই—আল ফিরদাউস মিডিয়া আমাদের উপমহাদেশের মুসলিমদের কন্ঠস্বর হয়ে উঠুক। হ্যাঁ, স্বীকার করছি—এমনটা বলা সহজ, বাস্তবায়ন করা কঠিন। তবে, চেষ্টা করলে ক্ষতি কী?
১) শুধু বাংলা ভাষাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে—হিন্দি, উর্দু, আরবি এবং ইংরেজিতে এর কার্যক্রম শুরু করা হোক।
২) শুধু সংবাদ প্রকাশ এবং প্রচারে সীমাবদ্ধ না থেকে; ইতিহাসের বয়ান নির্মাণের জন্য সংবাদ সংরক্ষণের দিকেও মনোযোগ দেওয়া।
৩) কাজের ব্যাপকতা বাড়ানো। নিয়মিত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, ডকুমেন্টারি, সংক্ষিপ্ত ভিডিও ও সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করা।
৪) বিভিন্ন অঞ্চলের (উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা) রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামরিক পরিস্থিতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী মাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া।
৫) একটা সক্রিয় দর্শকশ্রেণী গড়ে তোলার পিছনে মনোযোগ দেওয়া। 'আমরাই আমাদের মিডিয়া' এধরনের একটা বয়ান প্রচার করে দর্শকদের সাথে নিজেদের সম্পর্ক উন্নত করা।
৬) ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল ও মিডিয়া প্রেজেন্টেশনের দিকগুলো আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া। বিশেষ করে ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, ফটোকার্ড, ভিডিও প্রোডাকশন ও গ্রাফিক্যাল উপস্থাপনাকে আরও পরিপাটি, আধুনিক ও আকর্ষণীয় করা।
ইত্যাদি।
পরিশেষে বলতে চাই, আল ফিরদাউস মিডিয়া আরও এগিয়ে যাক, আরও বিস্তৃত হোক তাদের কল্যাণমুখী কার্যক্রম। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের কাজের মধ্যে বারাকাহ দান করুন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে হেফাজত করুন এবং হক ও সচেতনতার এই প্রচেষ্টাকে কবুল করে নিন।
Comment