Announcement

Collapse
No announcement yet.

এখনো সময় আছে। চাইলেই পরিবর্তন হওয়া সম্ভব, পরিবর্তন করা সম্ভব; প্রয়োজন আমাদের স্বদিচ্ছা।

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • এখনো সময় আছে। চাইলেই পরিবর্তন হওয়া সম্ভব, পরিবর্তন করা সম্ভব; প্রয়োজন আমাদের স্বদিচ্ছা।

    মানুষের কাছে থেকে কাজের স্বীকৃতি এবং কৃতিত্ব পাওয়ার আকাঙ্খা কখনোই আমাদের ক্ষতি ছাড়া উপকার করবে না, আর এরকম আকাঙ্খা থাকা মূলত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার সাথে আমাদের সম্পর্কের দূরত্বই প্রকাশ করে। যদি আমরা সৎ হতাম তাহলে নিজেদের সকল কাজের বিনিময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার কাছ থেকেই পাওয়ার আশা রাখতাম।

    দুনিয়ার কে আমার কাজের স্বীকৃতি দিল, আর কে দিল না—এটা যদি আমার নিত্যদিনের চিন্তার বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে তা কী প্রকাশ করে? এটাই প্রকাশ করে যে, আমার নিয়ত এখনো বিশুদ্ধ হয়নি; আমার কাজে ইখলাস নেই। অথচ বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইখলাস ছাড়া যুদ্ধের ময়দানে বীরদর্পে যুদ্ধ করতে করতে মৃত্যুবরণ করলেও তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না; শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করা যাবে না; সেই ত্যাগেরও কোনো মূল্য থাকবে না। সেখানে আমি কীভাবে আশা করতে পারি যে, বিশুদ্ধ নিয়ত ও ইখলাস ছাড়া আমার সামান্য কয়েকশো শব্দে লেখা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কোনো মূল্য থাকবে?

    চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর এই ভূখণ্ডের মুসলিমরা যে সুবর্ণ সুযোগের সম্মুখীন হয়েছে, এমন সুযোগ হয়তো এর আগে কখনোই আসেনি। তাই এই মুহূর্তে যদি আমরা আশানুরূপ কাজ করতে ব্যর্থ হই, তবে তা হবে অত্যন্ত লজ্জাজনক। আর গত দুই বছরের ঘটনাপ্রবাহের দিকে সততার সঙ্গে তাকালে এটাই বলতে হয় যে, আমাদের সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পরিমাণই বেশি। এই সুদীর্ঘ সময়ে আমাদের অনেক কিছুই করার ছিল, করার সামর্থ্যও ছিল; কিন্তু যা ছিল না, তা হলো সদিচ্ছা। তবে এসময়ে আমরা যে সামান্য কাজটুকুও করতে পেরেছি, সেটিও এখন নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। আর এর মূল কারণ হলো আমাদের অসততা, আনুগত্যের অভাব, স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা এবং নেতৃত্ব লাভের বাসনা।

    গত দুই বছরের মধ্যে ইসলামপন্থী বলয়ের মধ্যে বিভেদ পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বাত্মকভাবে ফুটে উঠেছে; এমনটা হওয়া কখনোই কাম্য ছিল না। যেই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বিভেদ গড়ে উঠেছে সেগুলোও কোনো যৌক্তিক বিষয় না। সিজার নাকি নরমাল, টিকা দিবো নাকি দিবো না—এগুলো কী আকিদার বিষয়? তাওহীদের বিষয়? মানহাজের বিষয়? আমার জানামতে তো না, তাহলে এগুলো কে কেন্দ্র করে কেন বিভেদ সৃষ্টি হলো?

    এর দায়ভার কে নিবে?

    আমাদেরকেই নিতে হবে, আমাদের অপরিপক্কতাই এর জন্য দ্বায়ী। আমাদেরকে ভুল স্বীকার করতে হবে, আমাদের স্বীকার করতে হবে, আমরা এমনসব বিষয় নিয়ে কোন্দল সৃষ্টি করেছি যা আদৌও সেরকম গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। আবার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য বিভিন্ন ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট কেন্দ্রিক যেই আলাপ উঠেছে, সেখানে আমরা যেরকম আলোচনা করছি তারও কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    না আমরা রাজনীতির ময়দানে ভালো করতে পারছি, না দাওয়াতী আর না প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে আমাদের উন্নতি হচ্ছে। আমরা জাতীয় কোনো বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করতে পারছি না, দাওয়াতী কাজে আমাদের চরম অবহেলা আর প্রতিষ্ঠানিক কাজকে তো আমরা দুনিয়া নিয়ে ব্যাস্ততা বলে অভিহিত করছি।

    নরসিংদীর রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও লুটের শিকার হয়ে নিহত বাকপ্রতিবন্ধী ববি বেগমকে নিয়ে আমাদের কোনো আলোচনা নাই, নৈতিক দিক থেকেও নাই, রাজনৈতিক দিক থেকেও নাই, বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকেও নাই। কয়টা মসজিদের মিম্বর থেকে ববি বেগমের অসহায়ত্ব সম্পর্কে মুসল্লিদের জানানো হবে?

    গত দুই বছর ধরে সেকুরার এবং লিবারেল মিডিয়া মাদ্রাসার বিরুদ্ধে যেই সংঘবদ্ধ ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে সে সম্পর্কে আমরা কতটা বেখায়াল তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। দোষ তো শুধু সেকুলার আর লিবারেল মিডিয়ার না, দোষ আমাদেরও আছে। সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে আমরা কী প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ব্যাবস্থা নিয়েছি? ৬৪ টা জেলায় ৬৪ টা মানসম্পন্ন মাদ্রাসা নেই, এর দায়ভার কী আলেম সমাজের উপর বর্তায় না? মহিলা মাদ্রাসার ব্যাপারে আলেম সমাজের সুদীর্ঘ কোনো পরিকল্পনা তো দৃশ্যমান হয়না, কিন্তু কেন? প্রতিটা কাজেই আমাদের এত অবহেলা কেন? এগুলো কী গুরুত্বপূর্ণ কাজ না?

    আমার কাছে তো আজকাল মনেহয়, এই ভূখন্ডে অস্ত্র সহজলভ্য না, এটাও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি বিশেষ করুণা। নয়তো আমরা হয়তো ইরাক এবং সিরিয়ার থেকেও ভয়াবহ ফিতনা উম্মাহকে উপহার দিতাম।

    তবে...

    এখনো সময় আছে। চাইলেই পরিবর্তন হওয়া সম্ভব, পরিবর্তন করা সম্ভব; প্রয়োজন আমাদের স্বদিচ্ছা।

  • #2
    আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে আত্মসমালোচনা করার তাওফীক দান করুন। ব্যক্তি, দল বা স্বীকৃতির চেয়ে দীন, ইখলাস ও উম্মাহর বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার তাওফীক দিন। মতপার্থক্য যেন বিভেদে রূপ না নেয়, বরং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে প্রজ্ঞা, ন্যায় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কল্যাণের কাজে এগিয়ে যেতে পারি। আমীন।

    Comment

    Working...
    X