Announcement

Collapse
No announcement yet.

স্মৃতিময় সোনালী অতীত! || গুরাবার প্রেমে গুণীজনের গীত

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • স্মৃতিময় সোনালী অতীত! || গুরাবার প্রেমে গুণীজনের গীত

    অতীতের সে সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করুন, যে সময়টায় আপনার কাছে মনে হয়েছিল, এই বন্ধন ছিঁড়ে যাবার নয়! অতীতের সেই অবস্থার সাথে আপনার এখনকার অবস্থা তুলনা করুন।
    হয়েছেটা​ কী বলুন তো! সময় পেরিয়েছে আর আপনি পাল্টেছেন, ঈমানের শিখা আপনার অন্তরে ধীরে ধীরে নিভে গেছে! ফলে, চারপাশের জাহিলিয়াতে আপনি উষ্ণতা খুঁজেছেন। আপনার ভাল-মন্দের জ্ঞান পরিণত হয়েছে অর্থহীন মরীচিকায়। সেই দিনটিতে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য বানান, যে দিনটি সালাফদের যুগের জন্য স্মৃতিকাতরতাময় ছিল।
    ইবনে রজব রহ. একবার লিখেছেন, "মানুষের মূল্য তার বাসনার সমান।যার বাসনা হলো দুনিয়া, তার চেয়ে সস্তা কেউ নেই। দুনিয়া তো একেই নীচ, যে একে পেতে যায় সে আরও নীচ। একজন সালাফ বলেছেন,
    'হৃদয় সবসময় কিছু না কিছুর চারপাশে ভেসে বেড়ায়; কোনো হৃদয় ওড়ে আরশ ঘিরে, কোনোটা আবর্জনা ঘিরে...' আর যার বাসনা 'আল্লাহ', সে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি। কারণ, তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে মহান।"

    যদি আপনি আসলেই এমন হতে পারেন, তবে ভবিষ্যৎ জীবনে আপনার মর্যাদা আরও বাড়বে। উমার বিন আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ খলিফা হওয়ার পর উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নাতি সালিম রহিমাহুল্লাহ'র কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছিলেন, "উমার রাঃ কীভাবে কী করতেন তার বর্ণনা দিন, যাতে আমিও একই কাজ করতে পারি।" সালিম রহ. জবাব দিলেন, "আপনি যদি উমারের মতো কাজ করতে পারেন, তাহলে আপনি উমারের চেয়ে উত্তম হবেন। কারণ, আপনি যে যুগে বাস করছেন, সেটা উমারের যুগ নয়। আর সমসাময়িক লোকেরা উমারের সমসাময়িক লোকদের মত নয়।"এরপর তিনি তার জামানার সব আলিমের কাছে একই অনুরোধ করলেন।সকলেই ঠিক সালিমের মতোই উত্তর দিয়েছিলেন।
    এর ব্যাখ্যায় আল-কুরতুবি রহ. লিখেছেন, "সময় যখন প্রতিকূল হয়,জ্ঞানী ও ধার্মিক মানুষগুলো যখন হারিয়ে যায়, মুমিনরা যখন দূর্বল হয়, ফাসিকরা যখন সবল হয়, দ্বীন যখন তার সূচনালগ্নের মতো অপরিচিত হয়ে পড়ে, আর এই দ্বীনকে ধারণ করা জ্বলন্ত অঙ্গার ধরে রাখার মতো কঠিন পড়ে__তখন উম্মাহর শেষের যুগের মানুষগুলোর ঈমান ও নেক আমল প্রথম যুগের মানুষদের ঈমান-আমলের মতো দামি হয়ে যায়। একমাত্র ব্যতিক্রম হলেন, বদর আর হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারীগণ। এভাবে যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবে সে এই সত্যটি উপলব্ধি করতে পারবে। আল্লাহ যাকে চান, তাকে সাহায্য করেন।"


    ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ যুগে উমার বিন আব্দুল আযীয রহ. কে যদি​ সালিম রহিমাহুল্লাহ এই কথা বলে থাকেন, তাহলে ১৩০০ বছর পরের স্মৃতিকাতরদের উদ্দেশ্যে তিনি কী বলতেন? তিনি বুঝেই উঠতে পারতেন না যে, কী বলতে হবে। এর বদলে হয়ত তিনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দুয়া করতে বসে যেতেন। ঠিক এই কাজটিই ইবনুল কায়িম রহিমাহুল্লাহ করেছেন তাঁর 'কাসিদা নুনিয়্যাহ" কবিতায়:

    হে রব! তারা গুরাবা তোমার সাহায্যপ্রার্থী, আর তুমি দয়ালু মেহেরবান;
    হে রব! তারা মাযলুম তারা ছাড়া, যাদের আছে প্রচণ্ড ঈমান;
    সব ছেড়ে তারা করেছে তোমার সন্তুষ্টি সন্ধান
    দুনিয়ায় যখন তাদের ছিল এরই প্রয়োজন; তারা চেয়েছে তোমার কাছে নিরাপত্তাবিধান
    যা সকল সমস্যার দেয় সমাধান; তারা বেছে নিয়েছে ওহীর বিধান
    করেনি ভিত্তিহীন মতাদর্শের অনুসরণ;
    হে রব! দৃঢ় রাখো তাদের ঈমান, সংশয়গ্রস্তদের যেন তারা দেখাতে পারে পথ; অস্বীকারকারীদের উপর তাদের করো বিজয়দান
    যারা সত্যকে মানে ও জ্ঞানবান; আহলুস সুন্নাহর সাহায্যকারীদের ঘটাও উত্থান
    যুগে যুগে তাদের কষ্টের করো অবসান; নেতা বানাও তাদের, যারা তাকওয়াবান
    ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাস তাদের করো দান; তোমার আদেশেই হোক তাদের পথের সন্ধান
    দূর হোক মানবরচিত মিথ্যে আহবান; সত্যের মাধ্যমে দাও তাদের সম্মান
    দাও মহাবিজয়, তুমিই তো কর্তৃত্ববান; গুনাহ মাফ করো তাদের, উচ্চ করো অবস্থান, তুমিই তো শান্তিদাতা, মহা ক্ষমতাবান; সব প্রশংসা তোমারই তরে কুরবান
    যে প্রশংসা তোমায় সন্তুষ্ট করে, অফুরান অফুরান; ভরিয়ে দেয় যা জমিন ও আসমান
    প্রশংসা তোমার সারা কাল, সারা দিনমান; তোমার রাসূল মুহাম্মাদকে জানাই সালাম ও সম্মান
    তোমার নিরঙ্কুশ সন্তুষ্টি তিনি যেন পান; আরও যেন পান তাঁর অনুসারী সাহাবী ও যুগে যুগে আগত বুজুর্গান......




    -মজলুম কারাবন্দী তারিক মেহান্না ফাক্কাল্লাহু আসরাহু এর লেখা থেকে সংগৃহীত।

    ​​​
    "আমরা তাওবা করার পূর্বে মরতে চাই না এবং মৃত্যু সামনে আসার পরে তাওবা করতে চাই না"
    আবু হাযেম রহ.

  • #2
    আমিন ইয়া রব্বাল আলামীন।

    Comment

    Working...
    X