
এছাড়া তাঁর সংশ্রব আমার ঈমানী ও চিন্তার পরিশুদ্ধির উপকরণ হয়েছিল। সুমধুর কণ্ঠে প্রতিদিন তিলাওয়াতের অভ্যাস তাঁর ছিল। এমনটা খুব কমই হত যে, তিলাওয়াত করতে গিয়ে তাঁর চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়নি। অথচ তখনও আমার তিলাওয়াতের ঐ অবস্থাই ছিল যা সাধারণ দ্বীনদারদের হয়ে থাকে। রমযানুল মোবারকে এক খতম তিলাওয়াত করতাম আর বাকি সারা বছরে কয়েক পারা তিলাওয়াত করতাম, তাও পরিপূর্ণভাবে পড়া হত না।
একবারের ঘটনা আমি যখন কয়েকদিন যাবৎ নিয়মিত তিলাওয়াত করতে পারিনি। তিনি আমাকে বললেন, “কুরআন ব্যতীত জীবিত থাকার কল্পনা কিভাবে করা যেতে পারে?”
সুন্নতের গুরুত্ব এবং মনোযোগের সাথে অযু করা আমি তাঁর থেকেই শিখেছি। তাছাড়া তাঁর নামায....এটা তো ছিল আরেক বিরল ব্যাপার। এতে তাঁর বিশেষ বিশেষ আয়াত তিলাওয়াত করা, লম্বা লম্বা সিজদা-রুকুগুলো উল্লেখ করার মতো। এগুলো ছাড়াও নামাযে তিনি কখনই এদিক সেদিক দৃষ্টি দিতেন না (তাঁর সম্পর্কে এটা আমার ধারণা, বাকি আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন)। নামাযরত অবস্থায় সাধারণত তিনি কামরায় কি হচ্ছে তা বলতে পারতেন না।
বেশি বেশি সালাম দেয়া এবং আগে আগে সালাম দেয়ার চেষ্টা করার আমল তাঁর থেকেই শিখেছি। শহরে জীবন-যাপনের কারণে ঘরের লোকদের মাঝে পরস্পর একে অপরকে এক রুম থেকে অন্য রুমে যেতে সালাম দেয়ার অভ্যাস আমার ছিল না। অথচ সাহাবায়ে কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুর অবস্থা ছিল এমন- তাঁরা রাস্তায় চলতে গিয়ে যদি দুই ব্যক্তির মাঝে একটি গাছও অতিক্রম করার পর পুনরায় দেখা হত, তাহলেও একে অপরকে পুনরায় সালাম দিতেন। আলহামদুলিল্লাহ মুজাহিদদের মাঝে অধিক সালাম দেয়ার গুরুত্ব রয়েছে।
এমনিভাবে রাতে শোয়ার পূর্বে নিজের উপর (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে) সুন্নতি ফুঁক দিয়ে শোয়া এবং তা গুরুত্ব সহকারে পালন করা তাঁর কাছ থেকেই শিখেছি। দৈনন্দিন সুন্নত আমলগুলোর পাবন্দি করার চেষ্টা করা- উদহারণস্বরূপ কোনো ছোট কাজও বিসমিল্লাহ পড়া ব্যতীত না করা, হেলান দিয়ে খানা না খাওয়া ইত্যাদিও তাঁর সোহবতে থেকেই শিখেছি।
Comment