Announcement

Collapse
No announcement yet.

আল-ই'দাদ || দ্বিতীয় প্রকার ও শরয়ী হুকুম —২য় পর্ব।

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • আল-ই'দাদ || দ্বিতীয় প্রকার ও শরয়ী হুকুম —২য় পর্ব।

    আমরা গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম ই'দাদের পরিচয় এবং ই'দাদের প্রথম প্রকার (নৈতিক প্রস্তুতি) নিয়ে।

    এই পর্বে আমরা ই'দাদের দ্বিতীয় প্রকার এবং উভয় প্রকার ই'দাদের হুকুম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ, এই পর্বে ই'দাদের হুকুম নিয়ে সামান্য কিছু আলোচনা হবে। পরবর্তী পর্বে বাকিটুকু'র আলোচনা শেষ করা হবে ইনশাআল্লাহ ওয়ামা তাওফিক্বি ইল্লা বিল্লাহ।

    ২। ই'দাদে মাদ্দীঃ তথা বৈষয়িক প্রস্তুতি তা হলোঃ-

    গোটা পৃথিবীতে আল্লাহর কালিমা'কে বুলন্দির লক্ষ্যে প্রত্যেকে নিজ নিজ সাধ্য মোতাবেক (সঠিক ভাবে) শরীর চর্চার মাধ্যমে নিজেকে গঠন করা এবং প্রাথমিক সকল বৈষয়িক শক্তির সরঞ্জামাদির উপর পরিপূর্ণ পারদর্শী হওয়া।

    -যাতে করে তার এই জিহাদী পথে চলার সময় আগত সকল মারহালা ও পরিস্থিতি সহ্য করার সক্ষমতা অর্জন হয়, অতঃপর পর্যায়ক্রমে একসময় অস্ত্রশস্ত্র সরঞ্জামাদি ইত্যাদির কারিগরি শিল্পে পৌঁছতে পারে, এ সকল বিষয়গুলো "ই'দাদে মাদ্দী" (বৈষয়িক প্রস্তুতি) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

    পূর্বে উল্লেখিত উভয় প্রকার "ই'দাদ" (নৈতিক, বৈষয়িক) এর শরয়ী বিধানঃ-

    উভয় প্রকারের ই'দাদ গ্রহণ করা প্রত্যেকের উপর সাধ্য মোতাবেক ওয়াজিব।

    আর ইহা দু কারণেঃ

    প্রথমতঃ এই ই'দাদ এর ব্যাপারে সরাসরি শরয়ী নস (নির্দেশনা) রয়েছে -যা ওয়াজিব সাব্যস্ত করে।

    যেমনটি আল্লাহ তালার কালামে বিদ্যমান।

    وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَاتُظْلَمُونَ

    অর্থাৎ "তোমরা তাদের (কাফেরদের) সাথে মোকাবেলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহ ও তোমাদের শত্রুদের'কে ভীতসন্ত্রস্ত করবে এবং তাদেরকে ব্যাতিত অন্যদেরকেও যাদেরকে তোমরা জানো না, আর আল্লাহর রাস্তায় তোমরা যা খরচ করবে সেটার পরিপূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।" (সূরা আনফাল আঃ/৬০)

    উপরোক্ত আয়াতে اعدوا (আ'ইদ্দু) শব্দটি আদেশসূচক বাক্য -যা ওয়াজিব (বাধ্যকতা) সাব্যস্ত করে, যেহেতু এটি স্বয়ং আল্লাহ পাকের নির্দেশ।

    আয়াতে বর্ণিত "قوة" (কুওয়্যাহ) শব্দ দ্বারা ই'দাদের উভয় প্রকার তথা নৈতিক ও বৈষয়িক প্রস্তুতি উদ্দেশ্য।

    হাদীস শরীফেও এসেছেঃ

    عن عقبة بن عامر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على المنبر يقول: {أعدوا لهم ما استطعتم من قوة}؛ ألا إن القوة الرمي، ألا إن القوة الرمي، إلا إن القوة الرمي

    "হযরত উকবাহ ইবনে আমের (রাদিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) কে -মিম্বরে আরোহন অবস্থায় -বলতে শুনেছি। তিনি বললেনঃ তোমরা কাফেরদের বিরুদ্ধে যথাসাধ্য শক্তি অর্জন করো। তবে জেনে রেখো, নিশ্চয়ই নিক্ষেপ করাই শক্তি, নিশ্চয়ই নিক্ষেপ করাই শক্তি, নিশ্চয়ই নিক্ষেপ করাই শক্তি।" (মুসলিম হাঃ/১৯১৭)

    অর্থাৎ শক্তি হলো -স্ব স্ব যুগের সর্বাধুনিক -নিক্ষেপন হাতিয়ারের মাধ্যমে লক্ষ্য স্থির করার মধ্যেই -তাই বলা যায় যে, বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র হল হাদিসে বর্ণিত "আল কুওয়্যাহ" (শক্তি) এর বাস্তবিক উদাহরণ।

    উপরোক্ত বৈষয়িক ই'দাদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে (আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে) রাসূল (সাঃ) বলেনঃ

    مَن علم الرمي ثم تركه فليس منا أو قد عصي

    "যে নিক্ষেপণ শিক্ষা করল অতঃপর তা ছেড়ে দিল সে আমাদের দলভুক্ত নয় অথবা সে অপরাধ করলো।" (মুসলিম হাঃ/১৯১৯)

    উল্লেখিত হাদীসটি ধমকি স্বরূপ বর্ণিত হয়েছে -যা দ্বারা সুস্পষ্ট ভাবে (বৈষয়িক) প্রস্তুতি গ্রহণ করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়।

    অতএব পিস্তল, বন্দুক, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ইত্যাদির মাধ্যমে নিক্ষেপ কারাও "রমী'র অন্তর্ভুক্ত এবং যত প্রকারের নিক্ষেপ করার হাতিয়ার রয়েছে -সবকটিই হাদিসে বর্ণিত "রমি" এর অন্তর্ভুক্ত।

    তাই সকল মুসলিমের উপর আবশ্যক প্রত্যেকে নিজ নিজ সাধ্য অনুযায়ী রমি/নিক্ষেপণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা।

    তদ্রূপ অপর এক হাদীসে এসেছে, রাসূল (সঃ) বলেনঃ

    المؤمن القوي خير من المؤمن الضعيف وفي كلٍّ خير، واحرص على ما ينفعك

    "শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন এর চেয়ে উত্তম, তবে প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে আর যেটা উপকারী সেটার প্রতিই তুমি আগ্রহী হও।" (মুসলিম হাঃ/২৬৬৪)

    উপরোক্ত হাদিসে "শক্তিশালী" শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে -এর দ্বারা ইমানী ও রুহানি শক্তিও উদ্দেশ্য হতে পারে আবার শারিরীক শক্তিও উদ্দেশ্য হতে পারে, আর এটা তো আগের হাদিস গুলো থেকে স্পষ্টই যে, নিক্ষেপণই হলো শক্তির উৎস...

    অতএব শক্তিশালী মু'মিন হতে হলে নিক্ষেপণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা লাগবে। মোটকথা সমার্থ অনুযায়ী প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ অর্জন করে শক্তি অর্জন করা।

    দ্বিতীয়তঃ ই'দাদ যেমন সত্তাগত একটি ওয়াজিব ঠিক সেটা অন্য আরেকটি ফরজ আদায় করার মাধ্যমও বটে, আর তা হলো; জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহ।

    আর উসূলবিদদের সর্বস্বীকৃত নীতি হলোঃ

    ما لا يتم الواجب الا به فهو واجب

    অর্থাৎ কোন ওয়াজিব বিষয়ের পরিপূর্ণতা যে বিষয়ের উপর স্থগিত থাকে ঐ জিনিসটিও ওয়াজিব হয়ে যায়।

    যেমন; নামাজের ফরজিয়্যাত আদায় করতে হলে তার শর্তসমূহ পুরা করা লাগবে অর্থাৎ ওযু সহ বিভিন্ন প্রকারের পবিত্রতা ইত্যাদি... তো নামাজের ফরজিয়্যাত আদায়ের ভিত্তি যেহেতু তার শর্ত সমূহ -তাই নামাজের যেই বিধান হবে তদ্রূপ তার সর্তগুলোর-ও একই বিধান হবে (উভয়টি ফরজ)

    অতএব জিহাদ ফরজ ইবাদত আর এই ফরজ আদায় করা স্থগিত থাকে ই'দাদ তথা প্রস্তুতির উপর -তাই উল্লেখিত মূলনীতির আলোকে বলা যায় "জিহাদ যেরকম ফরজ তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাও ফরজ" কেননা প্রস্তুতি ব্যতীত জিহাদ চলবেই না।

    অতএব যে ব্যাক্তি জিহাদ করতে চায় তার অবশ্যই অবশ্যই ই'দাদ গ্রহণ করা লাগবেই। যে ব্যাক্তি জিহাদ করতে ইচ্ছুক কিন্তু তার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করল না সে ঐ ব্যক্তির মত যে কোন কিছু অনুসন্ধান করতে চায় -কিন্ত সে পর্যন্ত পৌঁছানোর লক্ষ্যে কোনো উপায়-উপকরণে'র ব্যবস্থা করে না। তাহলে তার ব্যাপারে বলা হবে "সে একজন মিথ্যুক ও ধোকাবাজ!" -সে মূলত জিহাদ করতে চায় না, তার জিহাদের কোন ইচ্ছা নেই -যদিও সে হাজার বার মুখে দাবি করুক না কেন "আমি জিহাদ করতে ইচ্ছুক, আমি মুজাহিদ হতে চায়।"

    এই কোয়ালিটির লোকদের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ পাক কুরআনুল কারিমে বলেনঃ

    وَلَوْ أَرَادُواْ ٱلْخُرُوجَ لَأَعَدُّواْ لَهُۥ عُدَّةً وَلَٰكِن كَرِهَ
    ٱللَّهُ ٱنۢبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَقِيلَ ٱقْعُدُواْ مَعَ ٱلْقَٰعِدِينَ

    অর্থাৎ "যদি তাদের যুদ্ধে বের হওয়ার সৎ ইচ্ছাই থাকতো তাহলে তারা এর জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতো -কিন্তু তাদের বের হওয়াটা'কে আল্লাহ তালা অপছন্দ করেছেন বিধায় পিছনে বসে থাকা ব্যক্তিদের সাথে তাদের'কে-ও বসিয়ে দিয়েছেন।" (সূরা তাওবা আঃ/৪৬)

    যেমনটি (বর্তমান) বিশ্বাসঘাতক পুতুল আরব সরকারগুলি -যারা ফিলিস্তিনে "বনু সাহয়ুন" এর ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের সীমালঙ্ঘন এবং তাগুতদের জুলুম-অত্যাচারের সামনে দুর্বলতা ও অক্ষমতা প্রকাশ করলো, তারা এসকল জালিমদের মুখোমুখি হতে পারলো না এবং একটু বিবৃতিও দিতে পারলো না। এমনকি ফিলিস্তিনের নির্যাতিত দুর্বল অসহায় সন্তানদের সাহায্যে পর্যন্ত এগিয়ে আসতে তারা অক্ষম!

    আমরা তাদের বলবো "তোমরা মিথ্যুক তোমরা হাজার বার মিথ্যা বলেছো তোমরা যদি জিহাদ করার ও স্বাধীনতা অর্জন করার ইচ্ছে থাকতো -তাহলে অবশ্যই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে জিহাদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে।"

    -কিন্তু তোমাদের শাসন বহু বছর অতিক্রম করেছে অথচ প্রত্যেক বছর তোমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা আগের বছরের চেয়েও কয়েকগুণ বেড়েই চলছে, কোন উন্নতি নেই -তাই আমরা নিশ্চিন্তে বুঝতে পারলাম তোমরা কোন জিহাদ চাও না এবং নিজেদের স্বাধীনতা-ও চাও না! শুধু তাই নয় তোমরা এসবের চিন্তা ভাবনাও করো না.. শুধু চিন্তা...

    তোমরা নিজেদের উপর ও তোমাদের সরলমনা জনগোষ্ঠীর উপর মিথ্যাচার করেছো যখনই তারা আজাদীর স্লোগান উঠিয়েছে এবং প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়েছে।


    চলবে ইনশাআল্লাহ....

  • #2
    জাঝাকাল্লাহ খায়রান চালিয়ে যান ভাইসাব।

    আল্লাহ আপনাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন আমিন।
    সমস্ত ভাইবোন ইদাদের দিকে উদ্বুদ্ধ হোন।
    সর্বোত্তম আমল হলো
    আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং মহান মহীয়ান
    আল্লাহর পথে জিহাদ করা।নাসায়ী,শরীফ

    Comment

    Working...
    X