Announcement

Collapse
No announcement yet.

ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ১৪ ➤ জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত:

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ১৪ ➤ জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত:

    জিহাদের শর্ত:

    জিহাদের শর্ত প্রথমত দুই প্রকার; জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত এবং জিহাদ বৈধ হওয়ার শর্ত
    জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত আবার দুই প্রকার; ব্যাপক জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত এবং ময়দানের জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত
    ময়দানের জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত আবার দুই প্রকার; দিফায়ী জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত এবং ইকদামী জিহাদ ফরয হওয়ার শর্ত।
    জিহাদ বৈধ হওয়ার শর্ত আবার দুই প্রকার; দিফায়ী জিহাদ বৈধ হওয়ার শর্ত এবং ইকদামী জিহাদ বৈধ হওয়ার শর্ত
    নিম্নে ধারাবাহিকভাবে সকল প্রকার শর্ত নিয়ে আলোচনা করা হলো।

    এক. ব্যাপক জিহাদ ফরয হওয়ার জন্য শর্ত:

    এখানে ‘ব্যাপক জিহাদ’ বলতে ময়দানের জিহাদ এবং জান, মাল, যবান, মতামত—এক কথায় সামগ্রিকভাবে সকল প্রকারের জিহাদ বুঝানো হয়েছে। উক্ত প্রকার জিহাদ ফরয হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে;

    ১. মুসলিম হওয়া:

    জানা কথা, জিহাদ একটি এবাদত; বরং মহান এবাদতসমূহের একটি আর দুনিয়াবি বিধিবিধানের ক্ষেত্রে কাফেরের উপর কোনো ধরনের এবাদত ওয়াজিব হয় না সুতরাং অন্যান্য এবাদতের মত জিহাদও কাফেরের উপর ওয়াজিব নয়, এ ব্যাপারে ইমামদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই -ফাতহুল কাদীর: ৫/৪৫২ (ইলমিয়্যাহ)
    কুরআন ও হাদীসে মুমিনদেরকে লক্ষ্য করে জিহাদের আদেশ করা হয়েছে; কাফেরদেরকে জিহাদের আদেশ করা হয়নি
    আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,
    يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ-سورة الأنفال: 65










    “হে নবী, আপনি মুমিনদেরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করুন।” –সূরা আনফাল: ৬৫
    অন্যত্র এরশাদ হয়েছে,
    وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ -سورة التوبة: 122










    “আর মুমিনদের জন্য উচিৎ নয় যে, তারা সবাই (অভিযানে) বের হয়ে যাবেবরং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি ছোট দল বের হবে, যাতে বাকিরা দ্বীনের বুঝ অর্জন করতে থাকবে এবং আপন জাতিকে ফিরে আসার পর ভয় দেখাবে, যাতে তারা বাঁচতে পারে।” –সূরা তাওবা: ১২২
    সুতরাং কাফেররা কোনো প্রকারের জিহাদের মুখাতাব নয়। এমনকি মুসলিম ভূখণ্ড শত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হলে যিম্মী কাফেরদের উপর প্রতিহত করা শরয়ীভাবে আবশ্যক নয়। অবশ্য ইমাম প্রয়োজন মনে করলে প্রজা হিসেবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তাদেরকে জিহাদে বের হওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারবেন। -কিতাবুল উম্ম: ৪/২৭৬ (দারুল মা’রেফা); শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৩/৪৩ (ইলমিয়্যাহ)

    ২. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া:

    ব্যাপক জিহাদ ফরয হওয়ার জন্য আরেকটি শর্ত হচ্ছে, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। ইমামদের সর্বসম্মতিক্রমে নাবালকের উপর জিহাদ ফরয নয় -আল-ইকনা: ১/৩৩৫ (আল-ফারূকুল হাদীসিয়্যাহ); মারাতিবুল ইজমা: ১১৯ (ইলমিয়্যাহ)
    হাদীসে এসেছে,
    عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: "رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّغِيرِ حَتَّى يَكْبُرَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ أَوْ يُفِيقَ". –رواه النسائي (3432) وأبو داود (4398) وابن ماجه (2041) وأحمد (24694) والحاكم (2350). وقال الحاكم رحمه الله: هذا حديث صحيح على شرط مسلم.اهــــ وقال الزيلعي رحمه الله في نصب الراية ط مؤسسة الريان (4/ 162): ولم يعله الشيخ في الإمام بشيء، وإنما قال: هو أقوى إسنادا من حديث علي.اهــــ وقال ابن الملقن رحمه الله في البدر المنير ط دار الهجرة (3/ 226): إسناده حسن، بل صحيح متصل كلهم علماء.اهــــ










    “আয়েশা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন রাসূল বলেন, তিন ধরনের ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় বালক থেকে যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং পাগল থেকে যতক্ষণ না সে বুঝমান বা সুস্থ হয়” –সুনানে নাসায়ী: ৩৪৩২; সুনানে আবু দাউদ: ৪৩৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪১ হাদীসের মান সহীহ
    অন্য এক হাদীসে এসেছে,
    عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «عَرَضَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ فِي الْقِتَالِ، وَأَنَا ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً، فَلَمْ يُجِزْنِي، وَعَرَضَنِي يَوْمَ الْخَنْدَقِ، وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً، فَأَجَازَنِي» -رواه مسلم (1868) والبخاري (2664)










    “ইবনে উমর রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— উহুদের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যু্দ্ধের জন্য পেশ করেন। তখন আমার বয়স চৌদ্দ বছর ছিল। তাই রাসূল আমাকে যুদ্ধের অনুমতি দেননি। পরবর্তীতে খন্দকের যুদ্ধে পেশ করেন। তখন আমার বয়স পনের ছিল। তাই আমাকে অনুমতি দেন।” -সহীহ মুসলিম: ১৮৬৮; সহীহ বুখারী: ২৬৬৪

    . বিবেকবান হওয়া:

    পাগল শরীয়তের অন্যান্য বিধানের মত জিহাদেরও মুকাল্লাফ নয়, তাই তার উপর কোনো প্রকার জিহাদ ফরয নয়। -আল-ইখতিয়ার: ৪/১১৮ (ইলমিয়্যাহ)
    হাদীসে এসেছে,
    عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: "رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّغِيرِ حَتَّى يَكْبُرَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ أَوْ يُفِيقَ". –رواه النسائي (3432) وأبو داود (4398) وابن ماجه (2041) وأحمد (24694) والحاكم (2350). وقال الحاكم رحمه الله: هذا حديث صحيح على شرط مسلم.اهــــ وقال الزيلعي رحمه الله في نصب الراية ط مؤسسة الريان (4/ 162): ولم يعله الشيخ في الإمام بشيء، وإنما قال: هو أقوى إسنادا من حديث علي.اهــــ وقال ابن الملقن رحمه الله في البدر المنير ط دار الهجرة (3/ 226): إسناده حسن، بل صحيح متصل كلهم علماء.اهــــ










    “আয়েশা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন রাসূল বলেন, তিন ধরনের ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় বালক থেকে যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং পাগল থেকে যতক্ষণ না সে বুঝমান বা সুস্থ হয়” –সুনানে নাসায়ী: ৩৪৩২; সুনানে আবু দাউদ: ৪৩৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪১ হাদীসের মান সহীহ

    যাদের উপর ব্যাপক জিহাদ ফরয:

    সুতরাং যার মধ্যে উপর্যুক্ত তিনটি শর্ত পাওয়া যাবে, তার উপর ব্যাপক অর্থের জিহাদ ফরয। তাই মহিলা, বয়োবৃদ্ধ, যুদ্ধ করতে অক্ষম ইত্যাদি যাদের উপর ময়দানের জিহাদ ফরয নয়, তাদের উপরও ব্যাপক অর্থের জিহাদ ফরয।
    আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,
    لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنْفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِنْ سَبِيلٍ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ -سورة التوبة: 91










    “দূর্বল, অসুস্থ এবং তাদের কোনো অপরাধ নেই, যাদের (যাতায়াত) খরচের সামর্থ নেই; যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কল্যাণকর আচরণ করবেনেককারদের উপর কোনো আপত্তি নেই। আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাশীল দয়ালু।” –সূরা তাওবা: ৯১
    উপর্যুক্ত আয়াতে অক্ষমরা জিহাদের দায়িত্ব থেকে নিস্পত্তি পাওয়ার জন্য শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কল্যাণকর আচরণ করা অন্যথায় অক্ষমরাও জিহাদের দায়িত্ব থেকে নিস্পত্তি পাবে না
    ইমাম আবু বকর জাসসাস রহ. বলেন,
    وكان عذر هؤلاء ومدحهم بشريطة النصح لله ورسوله؛ لأن من تخلف منهم وهو غير ناصح لله ورسوله، بل يريد التضريب والسعي في إفساد قلوب من بالمدينة لكان مذموما مستحقا للعقاب. ومن النصح لله تعالى: حث المسلمين على الجهاد وترغيبهم فيه والسعي في إصلاح ذات بينهم ونحوه مما يعود بالنفع على الدين، ويكون مع ذلك مخلصا لعمله من الغش؛ لأن ذلك هو النصح.اهـــــ -احكام القرآن (3/ 186) ط. العلمية










    “এদের ওযরের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রশংসা করা হয়েছিল এই শর্তে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কল্যাণকামিতার আচরণ করবে। কেননা তাদের মধ্য থেকে যে পিছিয়ে থাকবে এবং সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কল্যাণকামী নয়; বরং সে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মদীনাবাসীদের অন্তরে ফিতনা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, তাহলে সে অবশ্যই নিন্দিত এবং শাস্তির উপযুক্ত হবে
    আল্লাহর সাথে কল্যাণকামিতার অন্তর্ভুক্ত হলো—মুসলিমদেরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করা, তাদেরকে এতে আগ্রহী করে তোলা, পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্য সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা এবং এমন সব কাজে আত্মনিয়োগ করা যা দ্বীন (ও জিহাদ)-এর জন্য কল্যাণকর। এর পাশাপাশি এসব কাজ হতে হবে সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে; প্রতারণা ও কপটতা থেকে মুক্ত হয়ে কেননা এটাই প্রকৃত কল্যাণকামিতা।” -আহকামুল কুরআন: ৩/১৮৬ (ইলমিয়্যাহ)
    সারকথা হচ্ছে, যারা সরাসরি যুদ্ধ করার সক্ষমতা রাখে না, তাদের উপর ময়দানের জিহাদ ছাড়া ব্যাপক অর্থের জিহাদ করা ফরয। সুতরাং এমন লোক মুজাহিদদের শুশ্রা করা, সেবা করা, রান্না পাকানো, নসিহত করা, জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করা, জিহাদের সংবাদ প্রচার করা, ফতোয়া দেওয়া, যুদ্ধের পলিসি ঠিক করা, পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদিসহ আরো অনেকভাবে জিহাদের কাজে সহায়তা করতে পারেন
    বরং বর্তমানে অস্ত্রের উন্নতির কারণে অনেক শারিরিকভাবে অক্ষম লোকও জিহাদ করতে সক্ষম; যাতে শারিরিক শক্তির প্রয়োজন পড়ে না, বরং যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে যা চালানো হয় তাই আমীর উপযুক্ত মনে করলে তাদেরকে উপযুক্ত কাজে লাগাতে পারে -ফিকহুল জিহাদ লিদদিময়াতী: ৪৫



    ​আগের পর্ব:
    ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ১৩ ➤ যবান দ্বারা জিহাদের বিধান এবং নফসের সাথে জিহাদ:

    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 5 days ago.

  • #2
    আল্লাহ তাআলা আপনার মেহনতগুলো কবুল করুন, আমীন
    বছর ফুরিয়ে যাবে এতো রিসোর্স আছে https://gazwah.net সাইটে

    Comment


    • #3
      আল্লাহ এই সিরিজ পর্বগুলোকে কবুল করুন। উম্মাহর জন্য উপকারী বানান। আমীন
      ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

      Comment


      • #4
        ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যান ইনশাআল্লাহ। বারাকাল্লাহ ফিকা

        Comment

        Working...
        X