Announcement

Collapse
No announcement yet.

"এ জামাআহ্ যদি কোন ফাঁদ হয়" তাহলে কি হবে?

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • "এ জামাআহ্ যদি কোন ফাঁদ হয়" তাহলে কি হবে?

    "এ জামাআহ্ যদি কোন ফাঁদ হয়" তাহলে কি হবে?







    উল্লিখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো:

    (ক) কোন প্রমাণ ছাড়া শুধু মাত্র সন্দেহ করে আল্লাহ তাআলার একটি ফারদ বিধান থেকে দূরে থাকাটা হচ্ছে স্পষ্ট শাইতনের ধোকা।
    আমরা জানি যে, ইসলামে সাক্ষী প্রমাণ ছাড়া কোন অপবাদ গ্রহণযোগ্য নয়, বরং সাক্ষী প্রমাণ ছাড়া যদি কেউ কোন অপবাদ আরোপ করে তাহলে অপবাদ আরোপকারী নিজেই কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। তাহলে কোন সাক্ষী প্রমাণ ছাড়া কিভাবে একজন মুমিন ব্যক্তি মুজাহিদদেরকে সন্দেহ করতে পারে? এবং কিভাবে সেই সন্দেহকে কেন্দ্র করে আল্লাহ্'র একটি ফারদ বিধান "জিহাদ" থেকে দূরে থাকতে পারে??

    (খ) এবার হয়তো কারো মনে এই প্রশ্নও আসতে পারে যে, ঠিকাছে ধরে নিলাম এই জামাআহ্ হাক্ক জামাআহ্, কিন্তু যদি সত্যিই পরবর্তীতে আমরা ফাঁদে পড়ি তাহলে কি হবে?

    উত্তর:

    সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৫৫৩,
    عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «لَمْ يَكُنْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يصَلِّي فِي قومِهِ حَتَّى قُتِلَ السَّبْعُونَ مِنْهُمْ فَلَمَّا قُتِلُوا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمْ قُنُوتًا شَهْرًا يَدْعُو لَهُمْ وَيَلْعَنُ مَنْ قَتَلَهُمْ»






    আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন:

    "রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার সাহাবীদের একত্রিত করে নামাজ পড়াতেন না যতক্ষণ না ৭০ জন ক্বারী সাহাবী হত্যা হয়ে যান। যখন তারা নিহত হলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের জন্য এক মাস পর্যন্ত কুনুৎ (বিশেষ দোয়া) পাঠ করলেন, তাদের জন্য দোয়া করলেন এবং যারা তাদের হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অভিশাপ পাঠ করলেন।"

    হাদিসের ব্যাখ্যা:

    এই হাদিসটি সেই সময়ের ঘটনা বর্ণনা করছে, যখন ৭০ জন ক্বারী সাহাবী যাদেরকে কুরআন শিখানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল, তারা একটি আক্রমণের শিকার হয়ে নিহত হন। এই ঘটনা ঘটে, বিশেষত হুনাইন যুদ্ধের পর এবং এটি একটি শোকাবহ মুহূর্ত ছিল রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্য। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এক মাস ধরে কুনুতে নাজেলাহ পাঠ করেন, যেখানে তিনি ঐ সাহাবীদের জন্য দোয়া করেছিলেন এবং হত্যাকারী কাফেরদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করেছিলেন।

    উল্লিখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাঃ ৭০ জন কারীকে কোরান শিখানোর উদ্দেশ্যে পাঠান, কিন্তু তাঁরা কাফেরদের ফাঁদে পড়েন, এবং নিহত হোন।
    আজ পর্যন্ত কোন আলেম কি বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাঃ এই হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী?!! (নাউজুবিল্লাহ)

    ঐ ঘটনায় ৭০ জন সাহাবী ফাঁদে পরে নিহত হওয়ার পরেও যেহেতু এটা নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই? একই ভাবে, বর্তমানে জিহাদের কাজে গিয়েও যদি কেউ কোন ফাঁদে পড়ে সেটার জন্যও কেউ দায়ী নয়। বাস্তবতা হলো আমরা কেউ জানি না ভবিষ্যতে কি ঘটবে, ভবিষ্যত শুধু মাত্র আল্লাহ তায়ালাই জানেন। আমাদের কাজ হচ্ছে বর্তমানে আমাদের দায়িত্ব কি, সেটা পালন করা, শরিয়াহ্ এই মূহুর্তে আমাদেরকে কি বলে? আমরা সেটাই পালন করবো, ভবিষ্যতে কি হবে সেটা আমরা কেউ জানি না।

    আমরা জানি প্রতিনিয়ত রোডে গাড়ি এক্সিডেন্ট হচ্ছে, তাহলে কি আমরা গাড়িতে চড়বো না? আমরা কি দ্বীনি কাজে বের হবোনা? এগুলো তো অবাস্তব চিন্তা এবং মারাত্মক শয়তানের ধোকা।

    রাসুলুল্লাহ সাঃ যেমন জানতেন না ৭০ জন সাহাবীর সাথে কি ঘটবে, কিন্তু তিনি তাদেরকে দ্বীনি কাজে ঠিকই পাঠিয়েছেন।
    তেমনি ভাবে আমরাও জানিনা ভবিষ্যতে কি হবে, কিন্তু তবুও আমরা জিহাদের কাজে এগিয়ে যাবো। তাছাড়াও জিহাদের ময়দানে গুম, খুন, পঙ্গু হওয়া, বন্দী হওয়া, এগুলো একেবারে স্বাভাবিক বিষয়, যাঁরা বলবে যে আমরা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে চাই? তাঁরা এই আশংকা নিয়েই জিহাদের কাজে এগিয়ে যেতে হবে। আর যারা বলবে যে, আমরা গুম, খুন, বন্দী, পঙ্গু হতে চাই না, তাদের জন্য এই পথে আসার কোন প্রয়োজন নেই, ইসলাম তাদেরকে ছাড়াই বিজয় হবে বি'ইজনিল্লাহ্।


    মূলতঃ আপনি যদি ভুল তরিকায় অবিশ্বস্ত কারো মাধ্যমে বা অনলাইন কোনো আইডির মাধ্যমে জিহাদী জামায়াতে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেন তাহলে তো ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা থাকবেই। কিন্তু যদি আপনি সহীহ তরিকায়, মুজাহিদদের নির্দেশিত পথে জিহাদে যুক্ত হন। আপনার আত্মীয় বা একান্ত আপন বা পূর্ণ বিশ্বস্ত কারো মাধ্যমে যুক্ত হন। তাহলে ইনশা আল্লাহ ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না।
    দুনিয়াবি বিষয়ে আমরা কত ফিকির করি, হক্ব জামাআত প্রাপ্তির জন্যেও আমাদের ফিকিরবান হতে হবে, আল্লাহর কাছে অন্তর থেকে কায়মনোবাক্যে দুআ করে যেতে হবে,সত্য তালাশে আগ্রহী হতে হবে, কুরআন হাদিসে বর্ণিত হক্বের গুণাবলী উক্ত জামাআতের মাঝে আছে কি না তা খেয়াল করতে হবে, দলের আকিদা ও মানহাজ কী তা জেনে নিতে হবে পাশাপাশি দুআ ও ইস্তেখারা তো জারি রাখতেই হবে। এতে করে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আপনাকে হেফাজত করবেন এবং আপনাকে তার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে নিবেন।


    সুতরাং উসুল মানলে তো এখানে প্রতারিত হওয়ার কিছু নেই। বাকি থাকল- এ পথে অনেক ঝুঁকি আছে। দ্বীনের কাজে ঝুঁকি থাকবেই। আল্লাহর রাস্তায় আঘাত আসবেই। এটাকে এড়িয়ে তো কেউ দ্বীন কায়েমের কাজ করা সম্ভব হবে না।​

    - সঙকলন: আফিফ আমিরি (গফারনি রববি)


    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 1 day ago.

  • #2
    ফিরে দেখা সোনালী অতীত ★
    খুবই সুন্দর আলোচনা

    হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণের তৌফিক দাও।
    হে আল্লাহ! তোমার হুকুম গুলো রাসূলের আদর্শ অনুযায়ী বাস্তবায়নের তৌফিক দাও।
    কারণ
    তুমি তো বলেছ

    لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰہِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰہَ وَالۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَذَکَرَ اللّٰہَ کَثِیۡرًا ؕ

    (আল আহ্‌যাব-২১)

    যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।​

    হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে হেদায়েত দাও।
    হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দ্বীনের জন্য কবুল কর।
    হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শহীদী মৃত্যু দান কর।
    আমীন।

    Comment


    • #3
      মূলতঃ আপনি যদি ভুল তরিকায় অবিশ্বস্ত কারো মাধ্যমে বা অনলাইন কোনো আইডির মাধ্যমে জিহাদী জামায়াতে যোগ দেয়ার চেষ্টা করেন তাহলে তো ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা থাকবেই। কিন্তু যদি আপনি সহীহ তরিকায়, মুজাহিদদের নির্দেশিত পথে জিহাদে যুক্ত হন। আপনার আত্মীয় বা একান্ত আপন বা পূর্ণ বিশ্বস্ত কারো মাধ্যমে যুক্ত হন। তাহলে ইনশা আল্লাহ ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না।
      দুনিয়াবি বিষয়ে আমরা কত ফিকির করি, হক্ব জামাআত প্রাপ্তির জন্যেও আমাদের ফিকিরবান হতে হবে, আল্লাহর কাছে অন্তর থেকে কায়মনোবাক্যে দুআ করে যেতে হবে,সত্য তালাশে আগ্রহী হতে হবে, কুরআন হাদিসে বর্ণিত হক্বের গুণাবলী উক্ত জামাআতের মাঝে আছে কি না তা খেয়াল করতে হবে, দলের আকিদা ও মানহাজ কী তা জেনে নিতে হবে পাশাপাশি দুআ ও ইস্তেখারা তো জারি রাখতেই হবে। এতে করে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আপনাকে হেফাজত করবেন এবং আপনাকে তার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে নিবেন।


      সুতরাং উসুল মানলে তো এখানে প্রতারিত হওয়ার কিছু নেই। বাকি থাকল- এ পথে অনেক ঝুঁকি আছে। দ্বীনের কাজে ঝুঁকি থাকবেই। আল্লাহর রাস্তায় আঘাত আসবেই। এটাকে এড়িয়ে তো কেউ দ্বীন কায়েমের কাজ করা সম্ভব হবে না।​
      খুব সুন্দরভাবে বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন মাশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদেরকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন
      ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

      Comment


      • #4
        আমরা জানি প্রতিনিয়ত রোডে গাড়ি এক্সিডেন্ট হচ্ছে, তাহলে কি আমরা গাড়িতে চড়বো না? আমরা কি দ্বীনি কাজে বের হবোনা? এগুলো তো অবাস্তব চিন্তা এবং মারাত্মক শয়তানের ধোকা।
        মাশাআল্লাহ মুহতারাম afif amiri ভাই! অনেক সুন্দর লিখেছেন, আল্লাহ আপনার জবান ও কলমকে উম্মাহ'র খেদমতের জন্য কবুল করুন।
        তবে এখানে যে, গাড়ি এক্সিডেন্ট এর সাথে দ্বীনি পথে ভুল মানহাজ ও তাগুতি ফাঁদে পড়ার বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে, এ পথে এতটাও এক্সিডেন্ট ঘটে না, বর্তমানে যা শুরু হয়েছে রাস্তাঘাটে! আল্লাহ আমাদের মুসলিম ভাইবোনদের জান-মাল হেফাজতে রাখুন, তাদেরকে পরিপূর্ণ ঈমান নিয়ে কবরে যাওয়ার তাওফিক দিন। আমীন!
        তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে, এখানে তুলনা দেয়া যেতে পারে, রেললাইনে কাটা পড়া মানুষদের সাথে, সেখানেও কিন্তু মানুষ মারা পড়ে, তবুও কী আমরা প্রয়োজনে রেলপথ অতিক্রম করি না! হ্যাঁ করি, তবে ডানে-বামে খেয়াল রেখে সতর্কতার সাথে, আর যারা ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে, বেশিরভাগই নিজেদের বেখেয়ালি ও অসতর্কতার কারণে মারা পড়ে। দুয়েকটা ব্যতিক্রমী ঘটনা বাদ দিয়ে।

        অবশ্য কেউ যদি বধির হয়, চোখেও কম দেখে যেমন কিছুদিন আগে এক বৃদ্ধা মহিলা ট্রেনে কাটা পড়লো, যিনি চোখে ঝাপসা দেখতেন আবার কানেও শুনতেন না তেমন,
        এর সাথে উদাহরণ হতে পারে , ওই সকল ভাইয়েরা যারা জিহাদের বুঝকে মুজাহিদ উলামা-উমারাগণের থেকে না নিয়ে নিজের নফসের কথা মতই বুঝ গ্রহণ করে চলতে থাকে, নিজে যা বুঝে তাকেই সবচেয়ে হক মনে করে। এই রকম উজবে আক্রান্ত কম বুঝের (নাকি বেশি বুঝের) ভাইয়েরাও বিপদে পড়ে যান। আল্লাহ হেফাজত করুন।
        ওয়াল্লাহু তাআলা আ'লাম!

        বিপদ একটা হলো: নিরাপত্তা নষ্ট করে তাগুতের ফাঁদে পড়া; যার কারণে দুনিয়াতে কাজের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাওয়া ।
        অনুরূপভাবে আরেকটা বিপদ হলো: ভুল মানহাজ গ্রহণ করে নিজের মেহনত ভুল পথে খরচ করা। এটা আরও বড় বিপদ! কেননা, তাগুত তো শুধু আমাদের দুনিয়াই নিতে পারবে, কিন্তু যদি ভুল পথে কষ্ট করে যাই, তাহলে তো আখেরাতে আমরা নিজেরাও ধ্বংস, আমার আহ্বানে যারা ভুল পথে হাঁটবে তারাও ধ্বংস। আর নিশ্চয়ই , আখেরাতের ক্ষতিই চূড়ান্ত ক্ষতি।

        হে আমাদের রব! আমাদেরকে সিরাতে মুস্তাকিমে পরিচালিত করুন।
        আমীন, ইয়া রাঊফু, ইয়া রাহীম!
        Last edited by Munshi Abdur Rahman; 20 hours ago.
        "আমরা তাওবা করার পূর্বে মরতে চাই না এবং মৃত্যু সামনে আসার পরে তাওবা করতে চাই না"
        আবু হাযেম রহ.

        Comment

        Working...
        X