Announcement

Collapse
No announcement yet.

ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ১৯ ➤ কাফেরের প্রকারভেদ এবং হারবি কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদ:

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ১৯ ➤ কাফেরের প্রকারভেদ এবং হারবি কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদ:

    কাফেরের প্রকারভেদ:
    যার ঈমান নেই, সে হচ্ছে কাফের। সুতরাং এটি একটি ব্যাপক শব্দ। এর ভিতরে সকল ধরনের কাফের অন্তর্ভুক্ত। তবে এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ধরনের কাফেরকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়ে থাকে। সংক্ষেপে এর বিবরণ হচ্ছে—
    এক. মুআত্তিল (নাস্তিক): যে স্রষ্টা (আল্লাহ)-র অস্তিত্ব স্বীকার করে না।
    দুই. মুশরিক: যে আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে; কিন্তু তাঁর সাথে ব্যক্তি, ফেরেশতা, জিন কিংবা অন্য কোনো জড়বস্তুকে শরিক সাব্যস্ত করে।
    তিন. আহলে কিতাব: যে পূর্ববর্তী কোনো নবী ও আসমানি কিতাবে বিশ্বাস করে।
    চার. মুনাফিক: যে বাস্তবে ঈমান গ্রহণ করেনি; তবে পার্থিব কিছু স্বার্থে মুখে ঈমানের স্বীকৃতি দেয় এবং নিজেকে মুমিন হিসেবে প্রকাশ করে।
    পাঁচ. মুরতাদ: যে ঈমান গ্রহণ করার পরে কাফের হয়ে যায়।
    ছয়. যিন্দিক: যিন্দিকের দুটি সংজ্ঞা রয়েছে:
    ক. যে নিজেকে মুমিন হিসেবে প্রকাশ করে; কিন্তু অন্তরে এমন কিছু বিশ্বাস লালন করে, যা সর্বসম্মতিক্রমে কুফর এবং সে তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
    খ. যে নিজেকে মুমিন হিসেবে দাবি করে; তবে এমন কিছু বিশ্বাস লালন করে, যা উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে কুফর এবং সে উক্ত কুফুরি বিশ্বাস প্রকাশ করে। কাদিয়ানিরা উক্ত দ্বিতীয় প্রকারের যিন্দিক।
    সাত. মুস্তামিন: যে কাফের মুসলিম কর্তৃক আমান তথা নিরাপত্তা চুক্তি গ্রহণ করে দারুল ইসলামে প্রবেশ করেছে।
    আট. মুআহিদ: মুসলিমদের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আবদ্ধ কাফের সম্প্রদায়ের প্রত্যেক সদস্যই মুআহিদ।
    নয়. যিম্মি: মুসলিমদের সাথে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে যিম্মা চুক্তিতে আবদ্ধ কাফের।
    দশ. হারবি কাফের: মুসলিমদের সাথে যিম্মাচুক্তি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কিংবা নিরাপত্তা চুক্তি—কোনো ধরনের চুক্তিতে নেই, এমন কাফের। সে হিসেবে উপরিউক্ত মুস্তামিন, মুআহিদ ও যিম্মি ছাড়া বাকি সকল প্রকার কাফের ‘হারবি কাফের’-এর অন্তর্ভুক্ত।
    -শরহুল মাকাসিদ: ২/২৬৮ (নুমানিয়া-পাকিস্তান); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৪২ (দারুল ফিকর); ইকফারুল মুলহিদীন: ৩৭ (দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়া); আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৭/১০৪, ১০৫ (ওয়াযারাতুল আওকাফ)

    উল্লেখ্য, নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি যেহেতু স্থায়ী হয় না, তাই নিরাপত্তা বা যুদ্ধবিরতি চুক্তিবদ্ধ কাফেরের ব্যাপারেও ফুকাহায়ে কেরাম অনেক সময় ‘হারবি কাফের’ শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। তবে আমাদের আলোচনায় ‘হারবি কাফের’ দ্বারা মূল সংজ্ঞা (মুসলিমদের সাথে কোনো ধরনের চুক্তিতে আবদ্ধ নয়, এমন কাফের) উদ্দেশ্য। -মাবসূতে সারাখসী: ১০/৮৮ (দারুল মা’রেফা); ফাতহুল কাদীর: ৫/৪৪৭ (ইলমিয়্যাহ)

    হারবি কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদ:
    ইসলাম উপরিউক্ত সকল প্রকার হারবি কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদের আদেশ করেছে
    وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ فَإِنِ انْتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ -سورة الأنفال: 39


    “তোমরা কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো, যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয়ে যায় এবং দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। অতঃপর তারা যদি বিরত হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত।” –সূরা আনফাল: ৩৯

    ইমাম আবু বকর জাসসাস রহ. (৩৭০ হি.) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,
    وقوله تعالى: {ويكون الدين كله لله} يدل على وجوب قتال سائر أصناف أهل الكفر إلا ما خصه الدليل من الكتاب والسنة.اهـــــ أحكام القرآن للجصاص ط. العلمية (3/ 65)


    “আল্লাহ তাআলার বাণী- “এবং দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়”—উক্ত আয়াত প্রমাণ করে যে, সকল প্রকার কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ফরয। তবে কুরআন ও সুন্নাহর দলীলের ভিত্তিতে যাদেরকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তাদের ব্যাপার ভিন্ন” –আহকামুল কুরআন: ৩/৬৫ (ইলমিয়্যাহ)

    উপরিউক্ত আয়াতের অধীনে নেজামুদ্দীন নিশাপুরী রহ. (৮৫০ হি.) বলেন,
    وقد مر تفسيره في سورة البقرة إلا أنه زاد هاهنا لفظة كُلُّهُ في قوله وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ لأن القتال هاهنا مع جميع الكفار وهناك كان مع أهل مكة فحسب.اهـــــ تفسير النيسابوري ط. العلمية (3/ 398)، وكذا في روح المعاني ط. العلمية (1/ 472)


    “উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা সূরা বাকারায় গত হয়েছে। তবে এখানে وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ— বাক্যে ‘كُلُّهُ’ (সম্পূর্ণরূপে) শব্দটি বাড়ানো হয়েছে। কেননা, এখানে (সূরা আনফালে) যুদ্ধের বিধান সকল কাফেরের ব্যাপারে এসেছে; আর ওখানে (সূরা বাকারায়) তা কেবল মক্কাবাসীদের ব্যাপারে ছিল।” –তাফসীরে নাইসাপূরী: ৩/৩৯৮ (ইলমিয়্যাহ)
    আরো দেখুন: রূহুল মাআনী: ১/৪৭২ (ইলমিয়্যাহ)


    হাদীসে এসেছে,
    عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلاَةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّ الإِسْلاَمِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ». –رواه البخاري (25) ومسلم (22)


    “ইবনে উমর রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে আদেশ করা হয়েছে, যেন মানুষের সাথে যুদ্ধ করি; যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয়—আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই ও মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রাসূল; নামায কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে। যখন তা আদায় করবে, তারা নিজেদের জান ও মাল আমার থেকে রক্ষা করে নিল। তবে ইসলামের ন্যায়সঙ্গত কোনো কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। এবং তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে ন্যস্ত।” -সহীহ বুখারী: ২৫, সহীহ মুসলিম: ২২

    উল্লেখ্য, মৌলিক জিহাদে সকল প্রকার হারবি কাফেরের বিধান এক-অভিন্ন তবে শাখাগত কিছু ক্ষেত্রে একে অপর থেকে মাসআলাগত পার্থক্য রয়েছে যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে ইনশাআল্লাহ।


    আগের পর্ব:

    ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ১৮ ➤ ইকদামী জিহাদ বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত:​
    - https://dawahilallah.com/forum/%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%AB%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE/%E0%A6%86%E0%A6%B2-%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6/214412-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A 6%B2-%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A7%E0%A7%AE-%E2%9E%A4-%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A 7%80-%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%A7-%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E2%80%8B
    Last edited by Rakibul Hassan; 3 hours ago.

  • #2
    মা শা আল্লাহ, সুন্দর আলোচনা। আল্লাহ তা’আলা লেখককে উত্তম বিনিময় দান করেন, আমীন।

    Comment

    Working...
    X