Announcement

Collapse
No announcement yet.

ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৪ ➤ মুরতাদকে হত্যা করা হদ নাকি তা’যীর এবং মুরতাদ হত্যার দায়িত্ব কার:

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৪ ➤ মুরতাদকে হত্যা করা হদ নাকি তা’যীর এবং মুরতাদ হত্যার দায়িত্ব কার:

    মুরতাদকে হত্যা করা হদ নাকি তা’যীর:
    মূলত মুরতাদের শাস্তি-স্বরূপ হত্যা করা হদ বা তা’যীর—কোনোটিই নয় কেননা:
    এক. হদ কিংবা তা’যীর মূলত ইসলামি অনুশাসন মেনে দারুল ইসলামে অবস্থানকারীদের ব্যাপারে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি। দারুল হারবে অবস্থানকারী কিংবা দারুল ইসলামে অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়
    এ কারণে ফিকহের কিতাবসমূহে হুদুদের অধ্যায়ের পরে জিহাদের অধ্যায় আলোচনা করা হয়েছে এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হুদুদের সম্পর্ক হচ্ছে মুসলিমদের সাথে; আর জিহাদের সম্পর্ক কাফেরদের সাথে আর মুসলিম সংশ্লিষ্ট মাসআলার আলোচনা কাফের সংশ্লিষ্ট মাসআলার আগে হওয়াটাই যুক্তিসংগত -গায়াতুল বায়ান: ৮/২০১ (দারুয যিয়া); ফাতহুল কাদীর: ৫/৪১৭ (ইলমিয়্যাহ)
    যিম্মি ও মুস্তামিন ইসলামি বিধিবিধান মেনে দারুল ইসলামে বসবাস করার কারণে তাদের উপর কিঞ্চিত ইসলামের বিধান প্রয়োগ হয় বিধায়, কিছু ক্ষেত্রে তাদের উপরও হদ বা তা’যীর আসে অন্যথায় মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কাফেরের উপর হদ কিংবা তা’যীর আসে না আর মুরতাদ যিম্মি কিংবা মুস্তামিন নয়, তাই তার উপর শাস্তি হদ-তা’যীর—কোনোটির অন্তর্ভুক্ত হবে না।
    এ জন্য ফুকাহায়ে কেরাম মুরতাদের আলোচনা ‘হুদুদ’ অধ্যায়ে না করে, ‘জিহাদ’ অধ্যায়ে করেছেন
    দুই. কেউ মুরতাদ হলে সে হারবি হয়ে যায় এজন্য কিছু ক্ষেত্র ছাড়া মৌলিকভাবে তার উপর হারবি কাফেরের বিধিবিধান আরোপ হয় ফলশ্রুতিতে, নতুন করে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া; মহিলা হলে হত্যা করা ইত্যাদি অনেক বিধানের ক্ষেত্রে মুরতাদের উপর হারবি কাফেরের অনুরূপ বিধান আরোপ হয়ে থাকে -মাবসূতে সারাখসী: ১০/১০৯ (দারুল মা’রেফা); ফাতহুল কাদীর: ৬/৬৭ (ইলমিয়্যাহ)
    আর ফুকাহায়ে কেরাম হারবি কাফের হত্যা করাকে হদ কিংবা তা’যীর হিসেবে বিবেচনা করেননি সুতরাং মুরতাদের শাস্তিও হদ কিংবা তা’যীর বিবেচ্য হবে না।
    তিন. হদ কাযী বা শাসকের কাছে প্রমাণিত হওয়ার পরে মাফ পাওয়ার সুযোগ নেই পক্ষান্তরে কাযী বা শাসকের কাছে মুরতাদের রিদ্দাহ প্রমাণিত হওয়ার পরেও তাওবা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে এবং আর তাকে হত্যা করা যাবে না -মাবসূতে সারাখসী: ১০/১১০ (দারুল মা’রেফা)[1]
    উপরিউক্ত বিষয় সমূহ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, মুরতাদকে হত্যা করা হদ কিংবা তা’যীর—কোনোটি নয় আল্লাহু আ’লাম

    মুরতাদ হত্যার দায়িত্ব কার:
    মুসলিম শাসক থাকাবস্থায় মুরতাদের শাস্তির দায়িত্ব তার উপরই বর্তাবে অন্যদের দায়িত্ব হচ্ছে, কেউ মুরতাদ হলে তাকে ইমামের কাছে ন্যস্ত করা -আল-ইখতিয়ার: ৪/১৪৯ (মাতবাআতুল হালাবী); ফাতহুল কাদীর: ৬/৬৭ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২২৬ (দারুল ফিকর)
    কিন্তু মুসলিম শাসক যদি শরয়ী কোনো কারণ ছাড়াই মুরতাদের শাস্তি কার্যকর না করেন কিংবা মুসলিমদের শরয়ী শাসকই না থাকেন, তাহলে উক্ত দায়িত্ব মুসলিম জামাআতের উপর বর্তাবে। বিজ্ঞ আলেমদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুসলিম জামাআত তা কার্যকর করবে। -গিয়াসুল উমাম: ৩৮৭ (মাকতাবাতু ইমামিল হারামাইন); ফাতাওয়ায়ে বাযযাযিয়া: ৩/১৭২ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/১৭৫ (দারুল ফিকর)
    তবে মুসলিম শাসক থাকাবস্থায় যদি সাধারণ কেউ শাসকের অনুমতি ছাড়া প্রমাণিত মুরতাদকে হত্যা করে, তাহলে তার উপর কেসাস, দিয়ত, কাফফারা—কিছুই আসবে না তবে ইমামের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার কারণে ইমাম তাকে উপযোগী শাস্তি দিতে পারবেন -আল-ইখতিয়ার: ৪/১৪৯ (মাতবাআতুল হালাবী); ফাতহুল কাদীর: ৬/৬৭ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২২৬ (দারুল ফিকর)

    [1] المبسوط للسرخسي (10/ 110)
    فإنه بعد ما ظهر سببها عند الإمام لا تسقط بالتوبة، وحد قطاع الطريق لا يسقط بالتوبة بل توبته برد المال قبل أن يقدر عليه، فلا يظهر السبب عند الإمام بعد ذلك.

    ​আগের পর্ব:
    ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৩ ➤ মুরতাদকে হত্যা করার জন্য শর্ত:

    - https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A7%8D%E0%A6%A4

  • #2
    আল্লাহ ইলম ও আমলে বরকত দান করুন। আমীন
    এই সিরিজটা কত পর্বে শেষ হতে পারে মুহতারাম আহমাদ হানযালা ভাই
    ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

    Comment

    Working...
    X