Announcement

Collapse
No announcement yet.

মুসলিম মানেই কুফরের ত্রাস, মুসলিম মানেই যালীমের নির্ঘুম রাত

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • মুসলিম মানেই কুফরের ত্রাস, মুসলিম মানেই যালীমের নির্ঘুম রাত

    মুসলিম মানেই কুফরের ত্রাস, মুসলিম মানেই যালীমের নির্ঘুম রাত || আবু বাকর আল-হিনদী

    ইসলামের ইতিহাসে মুসলিম উমমাহ কখনোই এতো দীর্ঘ সময় ধরে অধঃপতিত ছিল না। কখনোই মুসলিম উমমাহর বীর সন্তানেরা মা বোনদের উপর হায়েনার পৈশাচিক নির্যাতন দেখেও নীরব দর্শক সেজে ছিল না। মুসলিম উমমাহ যুদ্ধবাজ জাতি। তাদের মহাগ্রন্থ আল-কুরআন শিখায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে। তাই তো তাদের দেহে বয়ে যায় বীর বিক্রমের শোণিত ধারা।

    মুসলিম মানেই কুফরের ত্রাস। মুসলিম মানেই যালীমের নির্ঘুম রাত। মুসলিম মানেই রক্তাক্ত তলোয়ার। মুসলিম মানেই সাইমুম। মুসলিম মানেই তপ্ত লাভা। মুসলিম মানেই ধর্ষকের বুকের খঞ্জর। মুসলিম মানেই আশিকে রসূল। মুসলিম মানেই শাহাদাহ আর খিলাফাহর তরে নিবেদিত তেজদীপ্ত প্রাণ।

    কিন্তু বিগত এক শতাব্দী যাবত মুসলিম উমমাহর বীর সন্তানদের কী হলো? তাদের টগবগে রক্ত কে শীতল করে দিল? কে শেখাল তাদের শত্রুর সামনে মাথা নত করে বাঁচতে? কে শেখাল জঙ্গী না হয়ে শান্তিপ্রিয়তার আদর্শ ধারণ করতে? কে শেখাল খঞ্জর ছেড়ে তাসবীহ হাতে লয়ে ঝপতে? কে শেখাল তাদের মাযলুমের আর্তচিৎকার শুনে নির্বাক বসে থাকতে?

    হে মুসলিম উমমাহ! তোমাদের এ অধঃপতনের কারণ অন্য কিছু নয়। তোমাদের এ অধঃপতন এত দীর্ঘ হয়েছে কারণ তোমাদের সামনে কুরআনের বিকৃত অর্থ করা হয়েছে। আর তোমরা এটাকে হিকমাহ ভেবে নিয়েছ। তোমাদের সামনে কুরআনের এক অংশ আনা হয়েছে আর অন্য এক অংশকে ছুপিয়ে রাখা হয়েছে। আর তোমরা এটাকে সাময়িক স্ট্র‍্যাটেজি ভেবে নিয়েছ। তোমাদের সামনে হাদীসের অর্থকে ভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, আর তোমরা তার বৈধতা দিয়েছ। তাবৎ পৃথিবীর সন্ত্রাসীরা তোমাদের জিহাদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আর তোমরা তা মেনে নিয়েছ। তোমরা ভয়ে প্রকম্পিত থেকেছ কিন্তু সতর্কতা আর নিরাপত্তার সাথে নাবীর আনিত জিহাদের দাওয়াত চালিয়ে যেতো পারো নি? তোমরা নাবাবী মানহাজ ছেড়ে মনগড়া মানহাজের পিছু ছুটেছ।

    তবে সালাম সে সকল মুসলিম বীর মুজাহিদের। যারা হাকের মশাল নিয়ে দেপান্তরে ছুটে বেড়িয়েছে। উমমাহকে তার নাবাবী পথের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। যুগে যুগে পৌঁছে দিয়েছে খঞ্জর আর তলোয়ারের শিক্ষা। যারা প্রকম্পিত করেছে কুফরের মসনদ। যারা বাতিলের বুকে হেনেছে আঘাত। যারা কভু জঙ্গী আর সন্ত্রাসীর ট্যাগে পিছু হটে নি। যারা উদ্যাম তলোয়ার তুলে বলেছে আমরা কুফরের যমদূত। আমরা মুসলিম উমমাহর জন্য রহমত। হে বীর মুজাহিদ! সালাম তোমাদের হাজার সালাম। সালাম তোমাদের হাজার সালাম।



    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 1 day ago.

  • #2
    তোমাদের এ অধঃপতন এত দীর্ঘ হয়েছে
    কারণ
    1.তোমাদের সামনে কুরআনের বিকৃত অর্থ করা হয়েছে। আর তোমরা এটাকে হিকমাহ ভেবে নিয়েছ।
    2. তোমাদের সামনে কুরআনের এক অংশ আনা হয়েছে আর অন্য এক অংশকে ছুপিয়ে রাখা হয়েছে। আর তোমরা এটাকে সাময়িক স্ট্র‍্যাটেজি ভেবে নিয়েছ। 3.তোমাদের সামনে হাদীসের অর্থকে ভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, আর তোমরা তার বৈধতা দিয়েছ।
    4.তাবৎ পৃথিবীর সন্ত্রাসীরা তোমাদের জিহাদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আর তোমরা তা মেনে নিয়েছ।
    5.তোমরা ভয়ে প্রকম্পিত থেকেছ কিন্তু সতর্কতা আর নিরাপত্তার সাথে নাবীর আনিত জিহাদের দাওয়াত চালিয়ে যেতো পারো নি?
    6. তোমরা নাবাবী মানহাজ ছেড়ে মনগড়া মানহাজের পিছু ছুটেছ।
    হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে হেদায়েত দাও।
    হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দাও।

    হে আল্লাহ! উক্ত হাদীসের মিসদাক আমাদেরকে বানান।

    وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والذي نفسي بيده لولا أن رجالا من المسلمين لا تطيب أنفسهم أن يتخلفوا عني ولا أجد ما أحملهم عليه ما تخلفت عن سرية تغزو في سبيل الله والذي نفسي بيده لوددت أن أقتل في سبيل الله ثم أحيى ثم أقتل ثم أحيى ثم أقتل ثم أحيى ثم أقتل»


    ৩৭৯০। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন সেই পবিত্র সত্তার শপথ করিয়া বলিতেছি, যাহার মুঠের মধ্যে আমার প্রাণ। যদি কিছুসংখ্যক মু'মিন-মুসলমান এমন না হইত, যাহারা আমার সঙ্গে জেহাদে অংশ গ্রহণ না করাকে আদৌ পছন্দ করিবে না, অথচ তাহাদের সকলকে আমি সওয়ারী জন্তুও সরবরাহ করিতে পারিতেছি না, এই অবস্থা না হইলে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত কোন ক্ষুদ্র সেনাদল হইতেও আমি দূরে থাকিতাম না। যাঁহার হাতে আমার প্রাণ। সেই মহান সত্তার শপথ করিয়া বলিতেছি, আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় বস্তু হইল, আমি আল্লাহর পথে নিহত হই অতঃপর জীবন লাভ করি। আবার নিহত হই, আবার জীবন লাভ করি এবং আবার নিহত হই, তারপরও পুনরায় জীবন লাভ করি। পরে আবার পুনরায় নিহত হই। – মোত্তাঃ


    হাদীসের ব্যাখ্যা:
    রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে অগ্রগামী দেখিলে সাহাবীগণ সকলে অধিক উৎসাহিত হইয়া সকলেই জেহাদে যাইতে চাহিতেন। এমতাবস্থায় যুদ্ধের সাজসরঞ্জাম যথেষ্ট পরিমাণে না থাকায় সকলের পক্ষে জেহাদে অংশ গ্রহণ করা সম্ভবপর হইত না। ইহাতে তাহাদের মনে কষ্ট হইত। আবার সকলের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জেহাদের প্রস্তুতি নেওয়াও উম্মতের পক্ষে কঠিন হইত। এতদ্ভিন্ন শহর-নগরকে অরক্ষিত ফেলিয়া রাখিয়া সকলের যুদ্ধের ময়দানে চলিয়া যাওয়াও অযৌক্তিক। তাই হুযূর (ﷺ) অধিক আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও অনেক জেহাদ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন নাই। ফলে এই আকাংখার দ্বারা জেহাদ ও শাহাদতের উচ্চ মর্যাদা বুঝান হইয়াছে যেন সক্ষম মুসলমানেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জেহাদে অংশগ্রহণ করে।

    —মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ৩৭৯০
    Last edited by Rakibul Hassan; 16 hours ago.

    Comment

    Working...
    X