দ্বিতীয় অবস্থা; দলবদ্ধ মুরতাদের শাস্তি:
মুরতাদদের দ্বিতীয় অবস্থা হচ্ছে, দলবদ্ধভাবে মুরতাদ হওয়া। যদ্দরুণ তাদের উপর রিদ্দার স্বাভাবিক হুকুম প্রয়োগ করে হত্যা করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তাদের ব্যাপারে হুকুম হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হবে। -কিতাবুল আসল: ৭/৫০৮ (ওয়াযারাতুল আওকাফ); আল-কাফী লিল-হাকিম: (আসফার); আশ-শারহুল কাবীর আল-মুকনি’: ১০/১০৩ (দারুল কিতাবিল আরবী)
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,
“(হে রাসূল!) আপনি (জিহাদে না গিয়ে) পিছনে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিন, অচিরেই তোমাদেরকে এমন এক শক্তিধর জাতির বিরুদ্ধে (জিহাদ করতে) ডাকা হবে, যাদের সাথে তোমরা যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে।” –সূরা ফাতহ: ১৬
রাফে’ বিন খাদীজ রাদি. বলেন,
“আল্লাহর কসম! আমরা অতীতে এ আয়াত তিলাওয়াত করতাম —‘অচিরেই তোমাদেরকে এমন এক শক্তিধর জাতির বিরুদ্ধে (জিহাদ করতে) ডাকা হবে’— অতচ আমরা জানতাম না, তারা কারা। কিন্তু যখন আবু বকর রাদি. আমাদেরকে বানু হানীফা গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য আহ্বান করলেন, তখন জানতে পারলাম যে, তারাই আয়াতে উল্লেখিত জাতি।” -তাফসীরে সা’লাবী: ৯/৪৬ (দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরবী); তাফসীরে ইবনে আতিয়্যাহ: ৫/১৩২ (ইলমিয়্যাহ); তাফসীরে কুরতুবী: ১৬/২৭২ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ) [1]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পরে যখন আরবের অনেকে মুরতাদ হয়ে গেল, তখন আবু বকর রাদি. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্ণিত হয়েছে,
“আবু হুরাইরা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন এবং আবু বকর রাদি. খলিফা হলেন, তখন আরবের কিছু লোক মুরতাদ হয়ে গেল। (তখন আবু বকর রাদি. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিলে) উমর রাদি. বললেন, আপনি কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আদেশ করা হয়েছে, যেন মানুষের সাথে যুদ্ধ করি; যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয়—আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই। যে ব্যক্তি উপরিউক্ত বিষয়ের সাক্ষ্য দিবে, সে নিজের জান ও মাল আমার থেকে রক্ষা করে নিল। তবে ইসলামের ন্যায়সঙ্গত কোনো কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। এবং তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে ন্যস্ত।’ তখন আবু বকর রাদি. বললেন, আল্লাহর কসম! যারা নামাজ ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম! তারা যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যে ছাগল-ছানা আদায় করত, যদি তা আমার কাছে আদায় করতে অস্বীকার কলে, তাহলেও এটা আদায় না করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তখন উমর রাদি. বললেন, আল্লাহর কসম! তখন আমি বুঝতে পারলাম, আল্লাহ আবু বকরের অন্তরকে সত্যের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, আর আমি নিশ্চিত হলাম যে তাঁর সিদ্ধান্তই সঠিক।” –সহীহ বুখারী: ১৩৯৯; সহীহ মুসলিম: ২০
যুদ্ধ করে যখন তাদেরকে পরাজিত করা হবে, তখন তাদের উপর রিদ্দার স্বভাবিক হুকুম প্রয়োগ করা হবে।
আগের পর্ব:
ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৫ ➤ শাতিমে রাসূলকে হত্যা করা প্রসঙ্গ:
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A7%8D%E0%A6%97
মুরতাদদের দ্বিতীয় অবস্থা হচ্ছে, দলবদ্ধভাবে মুরতাদ হওয়া। যদ্দরুণ তাদের উপর রিদ্দার স্বাভাবিক হুকুম প্রয়োগ করে হত্যা করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তাদের ব্যাপারে হুকুম হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হবে। -কিতাবুল আসল: ৭/৫০৮ (ওয়াযারাতুল আওকাফ); আল-কাফী লিল-হাকিম: (আসফার); আশ-শারহুল কাবীর আল-মুকনি’: ১০/১০৩ (দারুল কিতাবিল আরবী)
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,
قُلْ لِلْمُخَلَّفِينَ مِنَ الْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَى قَوْمٍ أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ -سورة الفتح: 16
“(হে রাসূল!) আপনি (জিহাদে না গিয়ে) পিছনে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিন, অচিরেই তোমাদেরকে এমন এক শক্তিধর জাতির বিরুদ্ধে (জিহাদ করতে) ডাকা হবে, যাদের সাথে তোমরা যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে।” –সূরা ফাতহ: ১৬
রাফে’ বিন খাদীজ রাদি. বলেন,
وَاللَّهِ لَقَدْ كُنَّا نَقْرَأُ هَذِهِ الْآيَةَ فِيمَا مَضَى"سَتُدْعَوْنَ إِلى قَوْمٍ أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ"، فَلَا نَعْلَمُ مَنْ هُمْ، حَتَّى دَعَانَا أَبُو بَكْرٍ إِلَى قِتَالِ بَنِي حَنِيفَةَ، فَعَلِمْنَا أَنَّهُمْ هُمْ.اهــــ -تفسير الثعلبي (9/ 46)، ط. دار إحياء التراث العربي؛ تفسير ابن عطية (5/ 132)، ط. العلمية؛ تفسير القرطبي (16/ 272)، ط. دار الكتب المصرية
“আল্লাহর কসম! আমরা অতীতে এ আয়াত তিলাওয়াত করতাম —‘অচিরেই তোমাদেরকে এমন এক শক্তিধর জাতির বিরুদ্ধে (জিহাদ করতে) ডাকা হবে’— অতচ আমরা জানতাম না, তারা কারা। কিন্তু যখন আবু বকর রাদি. আমাদেরকে বানু হানীফা গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য আহ্বান করলেন, তখন জানতে পারলাম যে, তারাই আয়াতে উল্লেখিত জাতি।” -তাফসীরে সা’লাবী: ৯/৪৬ (দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরবী); তাফসীরে ইবনে আতিয়্যাহ: ৫/১৩২ (ইলমিয়্যাহ); তাফসীরে কুরতুবী: ১৬/২৭২ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ) [1]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পরে যখন আরবের অনেকে মুরতাদ হয়ে গেল, তখন আবু বকর রাদি. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ العَرَبِ، فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ؟ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَمَنْ قَالَهَا فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ. فَقَالَ: وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ المَالِ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا. قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ قَدْ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الحَقُّ» -رواه البخاري (1399) ومسلم (20)
“আবু হুরাইরা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন এবং আবু বকর রাদি. খলিফা হলেন, তখন আরবের কিছু লোক মুরতাদ হয়ে গেল। (তখন আবু বকর রাদি. তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিলে) উমর রাদি. বললেন, আপনি কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে আদেশ করা হয়েছে, যেন মানুষের সাথে যুদ্ধ করি; যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয়—আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই। যে ব্যক্তি উপরিউক্ত বিষয়ের সাক্ষ্য দিবে, সে নিজের জান ও মাল আমার থেকে রক্ষা করে নিল। তবে ইসলামের ন্যায়সঙ্গত কোনো কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। এবং তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে ন্যস্ত।’ তখন আবু বকর রাদি. বললেন, আল্লাহর কসম! যারা নামাজ ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। কেননা, যাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম! তারা যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যে ছাগল-ছানা আদায় করত, যদি তা আমার কাছে আদায় করতে অস্বীকার কলে, তাহলেও এটা আদায় না করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তখন উমর রাদি. বললেন, আল্লাহর কসম! তখন আমি বুঝতে পারলাম, আল্লাহ আবু বকরের অন্তরকে সত্যের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, আর আমি নিশ্চিত হলাম যে তাঁর সিদ্ধান্তই সঠিক।” –সহীহ বুখারী: ১৩৯৯; সহীহ মুসলিম: ২০
যুদ্ধ করে যখন তাদেরকে পরাজিত করা হবে, তখন তাদের উপর রিদ্দার স্বভাবিক হুকুম প্রয়োগ করা হবে।
ـ[1] قال القاضي محمد ثناء الله الفاني فتي (1225 هــــ): قال الزهري ومقاتل وجماعة: هم بنو حنيفة أهل اليمامة وأصحاب مسيلمة الكذاب. قال رافع بن خديج: كنا نقرأ هذه الآية ولا نعلم من هم حتى دعى أبو بكر الصديق رضي الله عنه إلى قتال بنى حنيفة، فعلمنا أنهم هم، وهذا قول أكثر المفسرين، ورحجه البيضاوي بقرينة قوله تعالى تُقاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ يعنى بكون أحد الأمرين: إما المقاتلة أو الإسلام لا غير، كما يدل عليه قراءة "أو يسلموا"، فان "أو" حينئذ بمعنى "ألى أن"، ولا شك أن مشركى العرب والمرتدين هم الذين لا يقبل منهم إلا الإسلام أو السيف.اهــــ -التفسير المظهري (9/ 22) وينظر: تفسير البيضاوي (5/ 129)
আগের পর্ব:
ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৫ ➤ শাতিমে রাসূলকে হত্যা করা প্রসঙ্গ:
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A7%8D%E0%A6%97