Announcement

Collapse
No announcement yet.

ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৭ ➤ মুরতাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তনির বিধান; বিয়ের উপর রিদ্দার প্রভাব এবং আসলি কাফের ও মুরতাদের বিধানের মাঝে পার্থক্য:

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৭ ➤ মুরতাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তনির বিধান; বিয়ের উপর রিদ্দার প্রভাব এবং আসলি কাফের ও মুরতাদের বিধানের মাঝে পার্থক্য:

    মুরতাদের সম্পদের বিধান:
    মুরতাদ মুসলিম থাকাবস্থায় যে সম্পদ উপার্জন করেছিল, তা তার মুসলিম ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টিত হবে। আর মুরতাদ হওয়ার পরের অর্জিত সম্পদ থেকে মুসলিম ওয়রিসরা মিরাস পাবে না। বরং তা মুসলিমদের ‘ফাই’ হিসেবে বাইতুল মালে জমা হবে। -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৪৬ (দারুল হাদীস); ফাতহুল কাদীর: ৬/৭০ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৪৭ (দারুল ফিকর)
    আলী বিন আবু তালিব রাদি. থেকে বর্ণিত হয়েছে,
    عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، «أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ جَعَلَ مِيرَاثَ الْمُرْتَدِّ لِوَرَثَتِهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ». –رواه الدارمي (3117) والطحاوي في شرح معاني الآثار (5298) ابن أبي شيبة (32035) وعبد الرزاق (10139)
    “আবু আমর শাইবানী রহ. বলেন, আলী বিন আবু তালিব রাদি. মুরতাদের মীরাস তার মুসলিম ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করে দেন” –সুনানে দারেমী: ৩১১৭; শরহে মাআনিল আসার: ৫২৯৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ: ৩২০৩৫; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১০১৩৯
    মুরতাদের সম্পদের ব্যাপারে অনুরূপ মত ইবনে মাসঊদ রাদি. থেকেও বর্ণিত আছে তিনি বলেন,
    مِيرَاثُهُ لِوَرَثَتِهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ. –رواه عبد الرزاق (10143) والطحاوي في شرح معاني الآثار (5301) عن الحكم بن عتيبة، عن ابن مسعود. ورواه ابن أبي شيبة (32033) والطحاوي في شرح معاني الآثار (5300) عن القاسم بن عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود، عن جده عبد الله بن مسعود. والحكم والقاسم كلاهما لم يدركا ابن مسعود، فالحديث مرسل.
    “মুরতাদের সম্পদ তার মুসলিম ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করা হবে” –মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ: ৩২০৩৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১০১৪৩; শরহে মাআনিল আসার: ৫৩০০, ৫৩০১
    মুরতাদকে হত্যা করার সময় ওয়ারিসদের মধ্য হতে যারা জীবিত থাকবে, তারাই ওয়ারিস হিসেবে ধর্তব্য হবে তবে হত্যা করার আগে যদি সে দারুল হারবে পালিয়ে যায়, তাহলে যখন কাযীর পক্ষ থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ফয়সালা আসবে, তখন থেকে তাকে মৃত ধরা হবে সুতরাং তার ওয়ারিসদের মধ্য হতে যারা তখন জীবিত থাকবে, তাদের মাঝে মীরাস বণ্টন করা হবে -তাবয়ীনুল হাকায়েক: ৩/২৮৬ (আমীরিয়্যাহ-বুলাক); ফাতহুল কাদীর: ৬/৭২ (ইলমিয়্যাহ); আল-বাহরুর রায়েক: ৫/১৪১ (দারুল কিতাবিল ইসলামী)
    উল্লেখ্য, মুরতাদ দারুল হারবে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কাযীর পক্ষ থেকে ফয়সালা আসার আগে যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে ফিরে আসে, তাহলে সমস্থ সম্পদ তার মালিকানায় বহাল থাকবে। আর যদি কাযী কর্তৃক ফয়সালার পরে ইসলাম গ্রহণ করে ফিরে আসে, তাহলে ওয়ারিসদের হাতে অবশিষ্ট থাকা সম্পদ তাদের সন্তুষ্টিতে কিংবা কাযীর ফয়সালার ভিত্তিতে ফেরত নিতে পারবে। আর যে সম্পদ তারা বিক্রয়, হেবা কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে তাদের মালিকানা থেকে বের হয়ে গেছে, তা ফেরত নিতে পারবে না। -শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৫/১৫৭ (ইলমিয়্যাহ); তাবয়ীনুল হাকায়েক: ৩/২৮৮ (আমীরিয়্যাহ-বুলাক); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৫০ (দারুল ফিকর)

    মুরতাদের সন্তান-সন্তনির বিধান:
    মুরতাদের সন্তানদের মধ্য হতে যারা প্রাপ্তবয়স্ক, তাদের কৃতকৃর্মের ভিত্তিতে তাদের ঈমান ও কুফুর নির্ণয় হবে। তারা ইসলাম গ্রহণ করে থাকলে মুসলিম ধরা হবে; অন্যথায় কাফের হিসেবে বিবেচ্য হবে। -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৩৬০ (দারুল হাদীস); রদ্দুল মুহতার: ৪/১৭৪ (দারুল ফিকর); মুনতাদাল আসইলাহ: সুওয়াল নং: ২৯৬০
    আর যারা এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাদের মধ্য হতে যে মা-বাবা ‍মুরতাদ হওয়ার আগে জন্মগ্রহণ করেছিল, সে মুসলিম হিসেবে বহাল থাকবে; যতক্ষণ না তার থেকে কোনো কুফুরি কাজ প্রকাশ পায় কিংবা মা-বাবার সাথে সেও দারুল হারবে চলে যায়। আর যে সন্তান মা-বাবা মুরতাদ হওয়ার পরে জন্মগ্রহণ করেছে, সে মা-বাবার অনুগামি হয়ে মুরতাদ হিসেবে ধর্তব্য হবে। তবে কেউ নিজে ইসলাম গ্রহণ করলে, সে মুসলিম হিসেবে ধর্তব্য হবে। -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৫০ (দারুল হাদীস); ফাতহুল কাদীর: ৬/৮৫ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৫৬ (দারুল ফিকর)

    বিয়ের উপর রিদ্দার প্রভাব:
    স্বামী-স্ত্রীর মধ্য হতে কোনো একজন মুরতাদ হয়ে গেলে সাথে সাথে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাই একজন মুরতাদ ও অপরজন মুসলিম থাকাবস্থায় তাদের জন্য একসাথে সংসার করা কোনো অবস্থায় জায়েয নয় পক্ষান্তরে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একসাথে মুরতাদ হলে বিয়ে বিচ্ছেদ হবে না। সুতরাং পরবর্তীতে উভয়ে আবার ইসলাম গ্রহণ করলে নতুন বিয়ে ছাড়াই তারা সংসার করতে পারবে। -মাবসূতে সারাখসী: ৫/৪৯ (দারুল মা’রেফা); বাদায়েউস সানায়ে: ৩/৬০৯ (দারুল হাদীস); রদ্দুল মুহতার: ৩/১৯৩, ১৯৬ (দারুল ফিকর)

    আসলি কাফের ও মুরতাদের বিধানের মাঝে পার্থক্য:
    আসলি কাফের ও মুরতাদ মূল বিষয় —তথা কুফুর— -এ এক হওয়ার কারণে অধিকাংশ মাসআলায় তাদের বিধানও এক-অভিন্ন। তবে কিছু মাসআলায় উভয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি মাসআলা হচ্ছে—
    এক. আসলি কাফেরের সাথে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে যিম্মাচুক্তির সুযোগ রয়েছে। পক্ষান্তরে মুরতাদের সাথে যিম্মাচুক্তির কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং আসলি কাফের যিম্মাচুক্তি গ্রহণ করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আর জিহাদ করা বৈধ থাকে না। পক্ষান্তরে মুরতাদ যিম্মাচুক্তি গ্রহণ করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ বলবৎ রাখা হবে।
    দুই. আসলি কাফের বন্দি হলে তার ব্যাপারে “কাফের বন্দীদের বিধান” অধ্যায়ে উল্লেখিত পাঁচটি অধিকারের যেকোনো একটি গ্রহণ করার সুযোগ আছে। পক্ষান্তরে মুরতাদকে –নির্দিষ্ট শর্ত পাওয়া গেলে- হত্যা করা ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ নেই।
    তিন. আসলি কাফেরের কাছে দাওয়াত পৌঁছার পর চিন্তা-ভাবনার সুযোগ চাইলে, তাকে অবকাশ দেওয়া ওয়াজিব নয়; বরং তৎক্ষণাৎ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েয আছে। পক্ষান্তরে মুরতাদ চিন্তা-ভাবনার সুযোগ চাইলে তিনদিন পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া ওয়াজিব। [1]


    [1] উপরিউক্ত মাসআলাসমূহ আপন জায়গায় দলীলসহ আলোচনা করা হয়েছে। এখানে শুধু পার্থক্য দেখানোর জন্য ইঙ্গিত দেওয়া হলো।

    ​আগের পর্ব:
    ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৬ ➤ দলবদ্ধ মুরতাদের শাস্তি:

    - https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%A4%E0%A6%BF

  • #2
    মাশাআল্লাহ ভাই, আল্লাহ আপনার ইলমী খেদমাতকে কবুল করুন। আমীন
    ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

    Comment


    • #3
      খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
      আপনি আপনার আলোচনা চালিয়ে যান ইনশাআল্লাহ

      Comment


      • #4
        Originally posted by আবু যুবাইর View Post
        মাশাআল্লাহ ভাই, আল্লাহ আপনার ইলমী খেদমাতকে কবুল করুন। আমীন
        আমীন। আপনাদের উৎসাহ ও দোয়ায় এ পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছি। আল্লাহ তাআলা আমাকে, আপনাদেরকে এবং সকল ভাইকে কবুল করুন। আমীন।

        Comment

        Working...
        X