যিন্দীকের সংজ্ঞা:
যিন্দীক মূলত অনারবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, পরকালে অবিশ্বাসী এবং এ পৃথিবীকে চিরস্থায়ী ও অনন্তকালে বিশ্বাসী। -তাহযীবুল লুগাহ: ৯/২৯৮ (দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরবী); লিসানুল আরব: ১০/১৪৭ (দারু সাদির)
তবে পরিভাষায় যিন্দীক শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে:
এক. যে নিজেকে মুমিন হিসেবে প্রকাশ করে; কিন্তু অন্তরে এমন কিছু বিশ্বাস লালন করে, যা সর্বসম্মতিক্রমে কুফুর এবং সে তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। যিন্দীকের মূল ব্যবহার এ অর্থেই অধিক হয়ে থাকে।
দুই. যে নিজেকে মুমিন হিসেবে দাবি করে; তবে এমন কিছু বিশ্বাস লালন করে, যা উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে কুফুর এবং সে উক্ত কুফুরি বিশ্বাস প্রকাশ করে।
-শরহুল মাকাসিদ: ২/২৬৯ (নুমানিয়া-পাকিস্তান); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৪২ (দারুল ফিকর); ইকফারুল মুলহিদীন: ৩৭ (দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়া); আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৭/১০৪, ১০৫ (ওয়াযারাতুল আওকাফ)
যিন্দীকের বিধান:
যিন্দীকের হুকুম মুরতাদের ন্যায়ই। তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। তবে প্রথম অর্থের যিন্দীককে হত্যা করার আগে তাওবা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। বরং বন্দি করার পরে তাওবা করলেও হত্যা থেকে রেহাই পাবে না। পক্ষান্তরে বন্দি করার আগে তাওবা করে আত্মসমর্পণ করলে তাকে হত্যা করা যাবে না।
তবে দ্বিতীয় অর্থের যিন্দীকের হুকুম পুরোপুরি মুরতাদের ন্যায়; হত্যা করার আগে তাওবা করার প্রতি আহ্বান করা হবে এবং সংশয় দূর করার জন্য সুযোগ চাইলে তিনদিন পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হবে। সর্বোপরি তাওবা করলে হত্যা করা হবে না। -আল-এ’তেসাম: পৃ: ১৪৫ (দারু ইবনিল জাওযী); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৪২ (দারুল ফিকর)
উল্লেখ্য, শাফেয়ী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত এবং হান্বলী মাযহাবের এক বর্ণনা অনুযায়ী যিন্দীকের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে এবং তাকে হত্যা করা হবে না। তাই মুসলিম শাসক সর্বদিক বিবেচনা করে যদি হত্যা না করা উচিৎ মনে করেন, তাহলে এর অবকাশ রয়েছে। -রাওযাতুত তালিবীন: ১০/৭৫ (আল-মাকতাবুল ইসলামী); আশ-শারহুল কাবীর: ১১/১১৪ (ইলমিয়্যাহ); আল-মুগনী: ৯/৬ (মাকতাবাতুল কাহেরা); কাশশাফুল কিনা: ৬/১১৭ (ইলমিয়্যাহ)
যিন্দীক ও মুরতাদের মাঝে বিধানগত পার্থক্য:
যিন্দীক ও মুরতাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পার্থক্য হচ্ছে—
এক. মুরতাদকে তাওবার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে; পক্ষান্তরে যিন্দীককে তাওবার সুযোগ দেওয়া হবে না।
দুই. মুরতাদ মহিলা হলে তাকে হত্যা করা হবে না; বরং আমৃত্যু বন্দি রাখা হবে। পক্ষান্তরে যিন্দীক মহিলা হলে তাকে হত্যা করা হবে। -আহসানুল ফাতাওয়া: ৬/৩৮৮
মুরতাদ ও আসলি কাফেরের মাঝে যে পার্থক্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তা যিন্দীক ও আসলি কাফেরের মাঝেও বিদ্যমান।
কাদিয়ানী, শিয়া, রাফেযীদের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, কুফুরি বিশ্বাস লালন করা সত্বেও নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয়কারী শুধু মরতাদ নয়; বরং যিন্দীকও বটে। তাই কাদিয়ানী, শিয়া, রাফেযী, দেওয়ানবাগীসহ যারা কুফুরি বিশ্বাস লালন করা সত্বেও নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেয়, তারা আসলি কাফের বা মুরতাদ নয়; বরং তারা যিন্দীক। ইসলামে তাদের একমাত্র বিধান হচ্ছে, তাওবা করে ইসলাম গ্রহন না করলে হত্যা করা হবে। যিম্মি কিংবা দ্বিতীয় শ্রেণী পরিচয় দিয়ে দারুল ইসলামে তাদের অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই। -আহসানুল ফাতাওয়া: ৬/৩৫৯
আগের পর্ব:
ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৭ ➤ মুরতাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তনির বিধান; বিয়ের উপর রিদ্দার প্রভাব এবং আসলি কাফের ও মুরতাদের বিধানের মাঝে পার্থক্য:
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A7%8D%E0%A6%AF
যিন্দীক মূলত অনারবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, পরকালে অবিশ্বাসী এবং এ পৃথিবীকে চিরস্থায়ী ও অনন্তকালে বিশ্বাসী। -তাহযীবুল লুগাহ: ৯/২৯৮ (দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরবী); লিসানুল আরব: ১০/১৪৭ (দারু সাদির)
তবে পরিভাষায় যিন্দীক শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে:
এক. যে নিজেকে মুমিন হিসেবে প্রকাশ করে; কিন্তু অন্তরে এমন কিছু বিশ্বাস লালন করে, যা সর্বসম্মতিক্রমে কুফুর এবং সে তা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। যিন্দীকের মূল ব্যবহার এ অর্থেই অধিক হয়ে থাকে।
দুই. যে নিজেকে মুমিন হিসেবে দাবি করে; তবে এমন কিছু বিশ্বাস লালন করে, যা উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে কুফুর এবং সে উক্ত কুফুরি বিশ্বাস প্রকাশ করে।
-শরহুল মাকাসিদ: ২/২৬৯ (নুমানিয়া-পাকিস্তান); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৪২ (দারুল ফিকর); ইকফারুল মুলহিদীন: ৩৭ (দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়া); আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৭/১০৪, ১০৫ (ওয়াযারাতুল আওকাফ)
যিন্দীকের বিধান:
যিন্দীকের হুকুম মুরতাদের ন্যায়ই। তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। তবে প্রথম অর্থের যিন্দীককে হত্যা করার আগে তাওবা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। বরং বন্দি করার পরে তাওবা করলেও হত্যা থেকে রেহাই পাবে না। পক্ষান্তরে বন্দি করার আগে তাওবা করে আত্মসমর্পণ করলে তাকে হত্যা করা যাবে না।
তবে দ্বিতীয় অর্থের যিন্দীকের হুকুম পুরোপুরি মুরতাদের ন্যায়; হত্যা করার আগে তাওবা করার প্রতি আহ্বান করা হবে এবং সংশয় দূর করার জন্য সুযোগ চাইলে তিনদিন পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হবে। সর্বোপরি তাওবা করলে হত্যা করা হবে না। -আল-এ’তেসাম: পৃ: ১৪৫ (দারু ইবনিল জাওযী); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৪২ (দারুল ফিকর)
উল্লেখ্য, শাফেয়ী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত এবং হান্বলী মাযহাবের এক বর্ণনা অনুযায়ী যিন্দীকের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে এবং তাকে হত্যা করা হবে না। তাই মুসলিম শাসক সর্বদিক বিবেচনা করে যদি হত্যা না করা উচিৎ মনে করেন, তাহলে এর অবকাশ রয়েছে। -রাওযাতুত তালিবীন: ১০/৭৫ (আল-মাকতাবুল ইসলামী); আশ-শারহুল কাবীর: ১১/১১৪ (ইলমিয়্যাহ); আল-মুগনী: ৯/৬ (মাকতাবাতুল কাহেরা); কাশশাফুল কিনা: ৬/১১৭ (ইলমিয়্যাহ)
যিন্দীক ও মুরতাদের মাঝে বিধানগত পার্থক্য:
যিন্দীক ও মুরতাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পার্থক্য হচ্ছে—
এক. মুরতাদকে তাওবার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে; পক্ষান্তরে যিন্দীককে তাওবার সুযোগ দেওয়া হবে না।
দুই. মুরতাদ মহিলা হলে তাকে হত্যা করা হবে না; বরং আমৃত্যু বন্দি রাখা হবে। পক্ষান্তরে যিন্দীক মহিলা হলে তাকে হত্যা করা হবে। -আহসানুল ফাতাওয়া: ৬/৩৮৮
মুরতাদ ও আসলি কাফেরের মাঝে যে পার্থক্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তা যিন্দীক ও আসলি কাফেরের মাঝেও বিদ্যমান।
কাদিয়ানী, শিয়া, রাফেযীদের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, কুফুরি বিশ্বাস লালন করা সত্বেও নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয়কারী শুধু মরতাদ নয়; বরং যিন্দীকও বটে। তাই কাদিয়ানী, শিয়া, রাফেযী, দেওয়ানবাগীসহ যারা কুফুরি বিশ্বাস লালন করা সত্বেও নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেয়, তারা আসলি কাফের বা মুরতাদ নয়; বরং তারা যিন্দীক। ইসলামে তাদের একমাত্র বিধান হচ্ছে, তাওবা করে ইসলাম গ্রহন না করলে হত্যা করা হবে। যিম্মি কিংবা দ্বিতীয় শ্রেণী পরিচয় দিয়ে দারুল ইসলামে তাদের অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই। -আহসানুল ফাতাওয়া: ৬/৩৫৯
আগের পর্ব:
ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৭ ➤ মুরতাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তনির বিধান; বিয়ের উপর রিদ্দার প্রভাব এবং আসলি কাফের ও মুরতাদের বিধানের মাঝে পার্থক্য:
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A7%8D%E0%A6%AF